
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:৫০
জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরই মধ্যে ৭ দফার ভিত্তিতে সনদের চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবার রাতেই দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এ সনদে স্বাক্ষর করবেন—প্রতিটি দলকে এমন দুজন নেতার নাম আজ শনিবারের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। তবে জুলাই সনদ ঘোষণা করার চেয়ে তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ ও জটিলতা রয়েই গেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতাকে দায়ী করছে দলগুলো। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দিনব্যাপী আলোচনা হলেও তাতে জটিলতা কাটেনি। যদিও ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ভাষ্যে সব মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
এর আগে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ঐকমত্য কমিশন। পরে আবারও একটি চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া দলগুলোকে দেওয়া হয়। এর পরে ২৯টি দল লিখিতভাবে তাদের মতামত কমিশনে পাঠায়। দলগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতে কমিশন দুই দফায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। কিন্তু সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দল তিন ধরনের পদ্ধতির কথা বলেছে। সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে এবং এনসিপি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন চায়। এ নিয়ে আগামী রোববার দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা হবে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
দফায় দফায় আলোচনা শেষে সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এখন তাতে স্বাক্ষর করলে এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না রাজনৈতিক দলগুলো।
স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবারই রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতসহ (নোট অব ডিসেন্ট) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এ চূড়ান্ত খসড়ায়।
এ ছাড়া সনদের চূড়ান্ত খসড়ার পটভূমি এবং অঙ্গীকারনামায় বেশকিছু বিষয়ে ভাষা ও শব্দগত পরিবর্তন হয়েছে। নতুন বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচনসহ পরবর্তী বিভিন্ন ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্থান পেয়েছে, যা আগে ছিল না। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই। এ ছাড়া কখন সনদ স্বাক্ষরিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যেসব বিকল্প পদ্ধতি আলোচনায়: জানা গেছে, কোন রাজনৈতিক দল কোন উপায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়, তা গত বৃহস্পতিবারের আলোচনার শুরুতে তুলে ধরে ঐকমত্য কমিশন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কমিশন কী পরামর্শ পেয়েছে, সেগুলোও উপস্থাপন করা হয়।
সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে লিখিতভাবে মোটাদাগে ছয়টি সুপারিশ পেয়েছে কমিশন। সেগুলো হলো—পূর্ণাঙ্গ সনদ বা এর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বাস্তবায়ন, গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। ওই বৈঠকে ঐকমত্য কমিশন জানায়, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো (ভিন্নমতসহ) চারভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।
সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য: বিএনপিসহ কিছু দলের অভিমত হলো—সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার আগামী সংসদ ছাড়া বাস্তবায়নের কোনো আইনি পথ নেই। বিএনপির মতে, সাংবিধানিক আদেশ জারি বা গণভোটের মতো প্রস্তাবগুলো অগ্রহণযোগ্য। এখনই এই সনদ কার্যকর হলে দেশে দুটি সংবিধান চলমান থাকবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কিছু দল চায় জুলাই সনদের একটি আইনি ভিত্তি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এর বাস্তবায়ন। গত বৃহস্পতিবার দলগুলো তাদের পৃথক মতামত আবারও তুলে ধরে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সাধারণভাবে এগুলো অগ্রহণযোগ্য। দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা আছে। এই ধারাবাহিকতা না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব অবৈধ হয়ে যাবে।
জামায়াত ও এনসিপির প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গণপরিষদ হয় নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য কিংবা সংবিধানের মূল কাঠামো ও চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু এখন সংবিধান আছে। জিয়াউর রহমানের আমলে প্রোক্লেমেশন জারির মাধ্যমে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়নি।
তখন সংবিধান স্থগিত ছিল। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে ‘প্রোক্লেমেশন’ (ঘোষণা) জারি করা হয়েছিল। এগুলোর বৈধতা দেওয়া হয়েছিল পরবর্তী সংসদে। প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার কারও নেই। তা ছাড়া সনদ এখন বাস্তবায়ন করা হলে দুটি সংবিধান চলার মতো অবস্থা হবে। কোনো নাগরিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে আদালত প্রশ্ন করবেন, সংবিধান কে পরিবর্তন করল, কীভাবে করল, এই এখতিয়ার কারও আছে?
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের পরামর্শ হলো, সব দল এখন এই অঙ্গীকারনামায় সই করবে। আগামী সংসদে সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার জন্য দলগুলো যার যার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে। যারাই সংসদে যাবে, তারা এটার বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই সনদকে লঙ্ঘন করে ভবিষ্যতে কোনো দলের রাজনীতি করার সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না। সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর জবাব তারা দিতে পারবেন না বরং তারা অঙ্গীকার করতে পারবেন। আর এখন সনদ বাস্তবায়নের কোনো আইনগত ভিত্তি বের করা গেলে বিএনপি তাতে একমত হবে।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কার আগামী সংসদের হাতে ছেড়ে দিলে গণঅভ্যুত্থানের প্রতি অবিচার করা হবে। নামমাত্র সংস্কার হলে হবে না। এর আইনি ভিত্তি লাগবে। তার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
গতকাল তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই সংকট রয়ে গেছে। তবে হাতে এখনো যে সময় আছে আমরা পর্যালোচনা করছি। দেখা যাক কমিশন কী উদ্যোগ নেয়। কেননা, এখানে সরকারেরও দুর্বলতা আছে। তিনি বলেন, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালেও বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে, যেটার ভিত্তিতে গণভোট হয়েছে। বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। গণভোটের মাধ্যমেও হতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে হলে সেটা টেকসই হবে।
যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে আমরা এতদিন এটা কী করলাম—সবকিছু অর্থহীন হয়ে যাবে, সবকিছু বিফলে যাবে। বিপ্লবটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। বিপ্লবকে ধ্বংস করে পুরোনো ধারায় ফিরে গেলে রাষ্ট্র বিপদে পড়বে, নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়বে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেদিন বলেছি, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর টেকসই বাস্তবায়নের একমাত্র পথ নতুন সংবিধান। যদি পুরোনো সংবিধানই ঘষামাজা করা হয় এবং এটা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই। আইনগতভাবে এটা যেভাবে কার্যকর করা দরকার আমরা চাই সেভাবেই কার্যকর হোক। কোনোটা রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্স দ্বারা, কোনোটা জাতীয় সংসদের দ্বারা এবং এমনভাবে করতে হবে যাতে টেকসই এবং আইনসম্মত হয়। আমরা সেভাবেই চিন্তা করছি এবং সেভাবেই বাস্তবায়ন চাই।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমান সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় কঠিন ও সাংঘর্ষিক হবে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে এতে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটবে, যা জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়। পাশাপাশি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সাধারণ কোনো সংসদ জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে পারবে না। সংবিধানের ভিত্তিমূল পরিবর্তনে আইনি বৈধতা দিতে হলে গণভোট অথবা গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক মাইলফলক, যদি এটিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাবাদী সমঝোতার বাইরে নিয়ে গিয়ে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা যায়। অন্যথায় এটি শুধু ইতিহাসের আরেকটি ব্যর্থ দলিলে পরিণত হবে।
তাই এ মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দায়িত্ব পড়েছে কথায় নয়, কাজে দেখানোর, যাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই কার্যকরের উপায় বের করতে হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরই মধ্যে ৭ দফার ভিত্তিতে সনদের চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবার রাতেই দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এ সনদে স্বাক্ষর করবেন—প্রতিটি দলকে এমন দুজন নেতার নাম আজ শনিবারের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। তবে জুলাই সনদ ঘোষণা করার চেয়ে তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ ও জটিলতা রয়েই গেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতাকে দায়ী করছে দলগুলো। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দিনব্যাপী আলোচনা হলেও তাতে জটিলতা কাটেনি। যদিও ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ভাষ্যে সব মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
এর আগে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ঐকমত্য কমিশন। পরে আবারও একটি চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া দলগুলোকে দেওয়া হয়। এর পরে ২৯টি দল লিখিতভাবে তাদের মতামত কমিশনে পাঠায়। দলগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতে কমিশন দুই দফায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। কিন্তু সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দল তিন ধরনের পদ্ধতির কথা বলেছে। সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে এবং এনসিপি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন চায়। এ নিয়ে আগামী রোববার দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা হবে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
দফায় দফায় আলোচনা শেষে সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এখন তাতে স্বাক্ষর করলে এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না রাজনৈতিক দলগুলো।
স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবারই রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতসহ (নোট অব ডিসেন্ট) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এ চূড়ান্ত খসড়ায়।
এ ছাড়া সনদের চূড়ান্ত খসড়ার পটভূমি এবং অঙ্গীকারনামায় বেশকিছু বিষয়ে ভাষা ও শব্দগত পরিবর্তন হয়েছে। নতুন বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচনসহ পরবর্তী বিভিন্ন ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্থান পেয়েছে, যা আগে ছিল না। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই। এ ছাড়া কখন সনদ স্বাক্ষরিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যেসব বিকল্প পদ্ধতি আলোচনায়: জানা গেছে, কোন রাজনৈতিক দল কোন উপায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়, তা গত বৃহস্পতিবারের আলোচনার শুরুতে তুলে ধরে ঐকমত্য কমিশন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কমিশন কী পরামর্শ পেয়েছে, সেগুলোও উপস্থাপন করা হয়।
সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে লিখিতভাবে মোটাদাগে ছয়টি সুপারিশ পেয়েছে কমিশন। সেগুলো হলো—পূর্ণাঙ্গ সনদ বা এর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বাস্তবায়ন, গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। ওই বৈঠকে ঐকমত্য কমিশন জানায়, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো (ভিন্নমতসহ) চারভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।
সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য: বিএনপিসহ কিছু দলের অভিমত হলো—সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার আগামী সংসদ ছাড়া বাস্তবায়নের কোনো আইনি পথ নেই। বিএনপির মতে, সাংবিধানিক আদেশ জারি বা গণভোটের মতো প্রস্তাবগুলো অগ্রহণযোগ্য। এখনই এই সনদ কার্যকর হলে দেশে দুটি সংবিধান চলমান থাকবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কিছু দল চায় জুলাই সনদের একটি আইনি ভিত্তি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এর বাস্তবায়ন। গত বৃহস্পতিবার দলগুলো তাদের পৃথক মতামত আবারও তুলে ধরে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সাধারণভাবে এগুলো অগ্রহণযোগ্য। দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা আছে। এই ধারাবাহিকতা না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব অবৈধ হয়ে যাবে।
জামায়াত ও এনসিপির প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গণপরিষদ হয় নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য কিংবা সংবিধানের মূল কাঠামো ও চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু এখন সংবিধান আছে। জিয়াউর রহমানের আমলে প্রোক্লেমেশন জারির মাধ্যমে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়নি।
তখন সংবিধান স্থগিত ছিল। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে ‘প্রোক্লেমেশন’ (ঘোষণা) জারি করা হয়েছিল। এগুলোর বৈধতা দেওয়া হয়েছিল পরবর্তী সংসদে। প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার কারও নেই। তা ছাড়া সনদ এখন বাস্তবায়ন করা হলে দুটি সংবিধান চলার মতো অবস্থা হবে। কোনো নাগরিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে আদালত প্রশ্ন করবেন, সংবিধান কে পরিবর্তন করল, কীভাবে করল, এই এখতিয়ার কারও আছে?
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের পরামর্শ হলো, সব দল এখন এই অঙ্গীকারনামায় সই করবে। আগামী সংসদে সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার জন্য দলগুলো যার যার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে। যারাই সংসদে যাবে, তারা এটার বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই সনদকে লঙ্ঘন করে ভবিষ্যতে কোনো দলের রাজনীতি করার সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না। সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর জবাব তারা দিতে পারবেন না বরং তারা অঙ্গীকার করতে পারবেন। আর এখন সনদ বাস্তবায়নের কোনো আইনগত ভিত্তি বের করা গেলে বিএনপি তাতে একমত হবে।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কার আগামী সংসদের হাতে ছেড়ে দিলে গণঅভ্যুত্থানের প্রতি অবিচার করা হবে। নামমাত্র সংস্কার হলে হবে না। এর আইনি ভিত্তি লাগবে। তার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
গতকাল তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই সংকট রয়ে গেছে। তবে হাতে এখনো যে সময় আছে আমরা পর্যালোচনা করছি। দেখা যাক কমিশন কী উদ্যোগ নেয়। কেননা, এখানে সরকারেরও দুর্বলতা আছে। তিনি বলেন, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালেও বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে, যেটার ভিত্তিতে গণভোট হয়েছে। বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। গণভোটের মাধ্যমেও হতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে হলে সেটা টেকসই হবে।
যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে আমরা এতদিন এটা কী করলাম—সবকিছু অর্থহীন হয়ে যাবে, সবকিছু বিফলে যাবে। বিপ্লবটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। বিপ্লবকে ধ্বংস করে পুরোনো ধারায় ফিরে গেলে রাষ্ট্র বিপদে পড়বে, নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়বে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেদিন বলেছি, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর টেকসই বাস্তবায়নের একমাত্র পথ নতুন সংবিধান। যদি পুরোনো সংবিধানই ঘষামাজা করা হয় এবং এটা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই। আইনগতভাবে এটা যেভাবে কার্যকর করা দরকার আমরা চাই সেভাবেই কার্যকর হোক। কোনোটা রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্স দ্বারা, কোনোটা জাতীয় সংসদের দ্বারা এবং এমনভাবে করতে হবে যাতে টেকসই এবং আইনসম্মত হয়। আমরা সেভাবেই চিন্তা করছি এবং সেভাবেই বাস্তবায়ন চাই।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমান সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় কঠিন ও সাংঘর্ষিক হবে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে এতে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটবে, যা জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়। পাশাপাশি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সাধারণ কোনো সংসদ জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে পারবে না। সংবিধানের ভিত্তিমূল পরিবর্তনে আইনি বৈধতা দিতে হলে গণভোট অথবা গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক মাইলফলক, যদি এটিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাবাদী সমঝোতার বাইরে নিয়ে গিয়ে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা যায়। অন্যথায় এটি শুধু ইতিহাসের আরেকটি ব্যর্থ দলিলে পরিণত হবে।
তাই এ মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দায়িত্ব পড়েছে কথায় নয়, কাজে দেখানোর, যাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই কার্যকরের উপায় বের করতে হবে।

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৫
যানজট এড়িয়ে যাতায়াত ব্যবস্থার আরও অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, বিদ্যমান যমুনা সেতু সংকীর্ণ চার লেনের হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিরসনে যমুনা নদীর ওপর একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুর তিনটি অ্যালাইনমেন্টের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা এবং গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত করিডোর।
সরকারি দলের সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় চারবার, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় দুবার এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় একবার বাড়ানো হয়। প্রকল্পভিত্তিক অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান বলেও জানান তিনি।
এই সংসদ সদস্যের অন্য এক প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম জানান, এডিবি প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান-২০৪০ অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে ৪৯৬.৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেন এবং ১০২ কিলোমিটার মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে চলমান কোনো প্রকল্পই ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত নেই।
তিনি বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় বর্তমানে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলো হলো- এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট, এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট।
সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় সারাদেশে মোট মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪ লেন মহাসড়ক ৮৮৩ দশমিক ৬১ কিলোমিটার, ৬ লেন ১০ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার এবং ৮ লেন মহাসড়ক ১৭ দশমিক ৩৪৭ কিলোমিটার।
কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটি কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়, আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ফিটনেসবিহীন যানও মহাসড়কে চলাচল করে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণ হয়। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে মোকাবিলা করছি।
যানজট এড়িয়ে যাতায়াত ব্যবস্থার আরও অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, বিদ্যমান যমুনা সেতু সংকীর্ণ চার লেনের হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিরসনে যমুনা নদীর ওপর একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুর তিনটি অ্যালাইনমেন্টের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা এবং গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত করিডোর।
সরকারি দলের সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় চারবার, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় দুবার এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় একবার বাড়ানো হয়। প্রকল্পভিত্তিক অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম চলমান বলেও জানান তিনি।
এই সংসদ সদস্যের অন্য এক প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম জানান, এডিবি প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান-২০৪০ অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে ৪৯৬.৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেন এবং ১০২ কিলোমিটার মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে চলমান কোনো প্রকল্পই ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত নেই।
তিনি বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় বর্তমানে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলো হলো- এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট, এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট।
সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় সারাদেশে মোট মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪ লেন মহাসড়ক ৮৮৩ দশমিক ৬১ কিলোমিটার, ৬ লেন ১০ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার এবং ৮ লেন মহাসড়ক ১৭ দশমিক ৩৪৭ কিলোমিটার।
কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ঈদের ছুটি কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়, আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ফিটনেসবিহীন যানও মহাসড়কে চলাচল করে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণ হয়। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে মোকাবিলা করছি।

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৯
দেশে যখন ৩০০ টাকায় কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে, তখন আমদানি দেখানো হয়েছে ২৮ টাকায়। মাত্র ৩৩ টাকা কেজি দরে আপেল আমদানি দেখানো হয়। পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠান গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ অস্বাভাবিক কম দর দেখিয়ে এভাবে ভারত থেকে ১২৫ কোটি টাকার আমদানি করেছে।
গত তিন বছর ধরে যে প্রতিষ্ঠান থেকে বেশির ভাগ আমদানি দেখানো হয়, সেটি মূলত শাড়ি-গহনা বিক্রেতা। বিষয়টি এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নজর এড়ালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। অর্থ পাচার সন্দেহে এখন পুরো ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূলত তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসব আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখায় ১৭৪টি এলসির বিপরীতে আমদানি দেখানো হয় ৮৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ফল। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪৬টি এলসির বিপরীতে ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আমদানি হয়েছে।
আর ইসলামী ব্যাংক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১টি এলসির বিপরীতে ৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সমমূল্যের আমদানি করেছে। ইসলামী ব্যাংক পরবর্তী সময়ে আর এলসি না খোলায় স্ট্যান্ডার্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের অনিয়ম উদ্ঘাটন করে শাস্তির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাথমিকভাবে তিন বছরে গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের মোট ২৩১টি এলসির বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৩ লাখ ডলারের আমদানির তথ্য পেয়েছে।
এ বিষয়ে গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মজিবুর রহমান বলেন, ভারত থেকে তিনি ২৭ সেন্ট দরে আমদানি করেছিলেন। তবে শুল্ককর পরিশোধ, পরিবহণ খরচ এবং ২৫ শতাংশ মতো ড্যামারেজ হিসাব করে দেশের বাজারে বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে ওই সময় দেশের বাজারে তিনি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে আপেল বিক্রি করেছিলেন।
তার দাবি, হুন্ডিতে কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। ভারতে শুল্ক কর্তৃপক্ষ আছে। আবার বাংলাদেশে অন্তত ৭০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন করা হয়। ব্যাংক বাজার যাচাই করে এরপর এলসি ইস্যু করে। সুতরাং কম বা বেশি দর দেখানোর সুযোগ নেই।
ভারতের ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের দরের তথ্য সরবরাহকারী সাইট ‘নাপান্টার’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২১ আগস্ট আপেলের সর্বনিম্ন দর ছিল ১৭০ টাকা কেজি। আর সর্বোচ্চ ছিল ১৯০ টাকা কেজি। ওইদিন মানভেদে কাঁচামরিচের কেজি ৬৭ থেকে ১২০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা দরে। এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আপেল সর্বনিম্ন ৭০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন করবে। টমেটো ও কাঁচামরিচ শুল্কায়ন করতে হবে অন্তত ৫০ সেন্ট ধরে।
গত বছরের আগস্টে দেশের বাজারে আপেল ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মৌসুম না হওয়ায় দেশের বাজারে তখন প্রতি কেজি টমেটোর দর ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। কাঁচামরিচের দর অস্বাভাবিক বেড়ে ঢাকার বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় উঠেছিল বলে জানা গেছে।
কাঁচামরিচ আমদানির জন্য আলাদাভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। সাধারণভাবে দেশে উৎপাদন বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ দর বেড়ে গেলে তখন আমদানির অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। গত বছরের আগস্টে দর বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমোদন দেয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আপেলসহ যে কোনো ফল আমদানিতে ১৩৬ শতাংশ শুল্ক কর দিতে হয়। আর কাঁচামরিচ ও টমেটোতে নির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারিত নেই। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় শুল্ক আরোপ করা হয়। গত বছরের আগস্টে প্রতি কেজিতে শুল্ক নেওয়া হয়েছিল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি নেওয়া হয়।
গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ গত বছরের ৩ আগস্ট ভারতের সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে ৫৪ হাজার ৩৯৫ ডলারের পণ্য আমদানির এলসি খোলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতি কেজি আপেল ২৭ সেন্ট বা ৩৩ টাকা এবং টমেটো ও কাঁচামরিচ ২৩ সেন্ট বা ২৮ টাকায় আমদানি দেখানো হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম হওয়ায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সন্দেহ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত এবং ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট এক কোটি ২ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের পণ্য আমদানি করে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্যমান ১২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি। এসব আমদানির অধিকাংশ পশ্চিমবঙ্গের সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে। এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে দেখা যাচ্ছে, তারা মূলত শাড়ি, থ্রি-পিস, ইমিটেশন জুয়েলারি বিক্রি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজের ‘ডিউ ডিলিজেন্স রিপোর্ট’ থেকে নিশ্চিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি আসলে ফল বা শাকসবজি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা গার্মেন্টস ও ফ্যাশনেবল গহনা বিক্রি করে। এ বিষয়ে আমদানিকারক মজিবুর রহমানের বক্তব্য–সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ এখন ফলের ব্যবসা করে। আগে হয়তো করত না।
বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কাছে পাঠানো চিঠিতে অনেক কম দরে আমদানির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আবার যে প্রতিষ্ঠান থেকে ওই আমদানি দেখানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি অন্য খাতের ব্যবসায়ী বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের আইআরসিতে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ২০ ও ৫০ কোটি টাকার আমদানি স্ল্যাব নির্ধারিত থাকলেও আমদানি কীভাবে ২৬ কোটি ৪০ লাখ এবং ৮৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার পণ্য আমদানির সুযোগ পেলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছেও আমদানি সীমা লঙ্ঘন এবং বাজার মূল্যের তুলনায় অনেক কম দরে ফলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক জবাবে জানিয়েছে, ভারতে ফলের অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কম দরে আমদানি সম্ভব হয়েছে। আবার আমদানি করা ফল ছোট মানের এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট ছিল। এসব কারণে কম দরে আমদানি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যা সন্তোষজনক মনে হয়নি।
আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী, আমদানির করার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দর এবং পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যাংক এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনেশুনে বাজার মূল্যের চেয়ে কম এবং নষ্ট বা নিম্নমানের পণ্য আমদানি করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কম দরে আমদানির মাধ্যমে হুন্ডিতে অর্থ পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখানে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত।
দেশে যখন ৩০০ টাকায় কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে, তখন আমদানি দেখানো হয়েছে ২৮ টাকায়। মাত্র ৩৩ টাকা কেজি দরে আপেল আমদানি দেখানো হয়। পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠান গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ অস্বাভাবিক কম দর দেখিয়ে এভাবে ভারত থেকে ১২৫ কোটি টাকার আমদানি করেছে।
গত তিন বছর ধরে যে প্রতিষ্ঠান থেকে বেশির ভাগ আমদানি দেখানো হয়, সেটি মূলত শাড়ি-গহনা বিক্রেতা। বিষয়টি এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নজর এড়ালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। অর্থ পাচার সন্দেহে এখন পুরো ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূলত তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসব আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখায় ১৭৪টি এলসির বিপরীতে আমদানি দেখানো হয় ৮৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ফল। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪৬টি এলসির বিপরীতে ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আমদানি হয়েছে।
আর ইসলামী ব্যাংক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১টি এলসির বিপরীতে ৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সমমূল্যের আমদানি করেছে। ইসলামী ব্যাংক পরবর্তী সময়ে আর এলসি না খোলায় স্ট্যান্ডার্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের অনিয়ম উদ্ঘাটন করে শাস্তির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাথমিকভাবে তিন বছরে গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের মোট ২৩১টি এলসির বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৩ লাখ ডলারের আমদানির তথ্য পেয়েছে।
এ বিষয়ে গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মজিবুর রহমান বলেন, ভারত থেকে তিনি ২৭ সেন্ট দরে আমদানি করেছিলেন। তবে শুল্ককর পরিশোধ, পরিবহণ খরচ এবং ২৫ শতাংশ মতো ড্যামারেজ হিসাব করে দেশের বাজারে বিক্রি করেন। সব মিলিয়ে ওই সময় দেশের বাজারে তিনি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে আপেল বিক্রি করেছিলেন।
তার দাবি, হুন্ডিতে কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। ভারতে শুল্ক কর্তৃপক্ষ আছে। আবার বাংলাদেশে অন্তত ৭০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন করা হয়। ব্যাংক বাজার যাচাই করে এরপর এলসি ইস্যু করে। সুতরাং কম বা বেশি দর দেখানোর সুযোগ নেই।
ভারতের ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের দরের তথ্য সরবরাহকারী সাইট ‘নাপান্টার’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২১ আগস্ট আপেলের সর্বনিম্ন দর ছিল ১৭০ টাকা কেজি। আর সর্বোচ্চ ছিল ১৯০ টাকা কেজি। ওইদিন মানভেদে কাঁচামরিচের কেজি ৬৭ থেকে ১২০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা দরে। এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আপেল সর্বনিম্ন ৭০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন করবে। টমেটো ও কাঁচামরিচ শুল্কায়ন করতে হবে অন্তত ৫০ সেন্ট ধরে।
গত বছরের আগস্টে দেশের বাজারে আপেল ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মৌসুম না হওয়ায় দেশের বাজারে তখন প্রতি কেজি টমেটোর দর ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। কাঁচামরিচের দর অস্বাভাবিক বেড়ে ঢাকার বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় উঠেছিল বলে জানা গেছে।
কাঁচামরিচ আমদানির জন্য আলাদাভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। সাধারণভাবে দেশে উৎপাদন বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ দর বেড়ে গেলে তখন আমদানির অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। গত বছরের আগস্টে দর বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমোদন দেয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আপেলসহ যে কোনো ফল আমদানিতে ১৩৬ শতাংশ শুল্ক কর দিতে হয়। আর কাঁচামরিচ ও টমেটোতে নির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারিত নেই। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় শুল্ক আরোপ করা হয়। গত বছরের আগস্টে প্রতি কেজিতে শুল্ক নেওয়া হয়েছিল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি নেওয়া হয়।
গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ গত বছরের ৩ আগস্ট ভারতের সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে ৫৪ হাজার ৩৯৫ ডলারের পণ্য আমদানির এলসি খোলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতি কেজি আপেল ২৭ সেন্ট বা ৩৩ টাকা এবং টমেটো ও কাঁচামরিচ ২৩ সেন্ট বা ২৮ টাকায় আমদানি দেখানো হয়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম হওয়ায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সন্দেহ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের তিন বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত এবং ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট এক কোটি ২ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের পণ্য আমদানি করে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্যমান ১২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি। এসব আমদানির অধিকাংশ পশ্চিমবঙ্গের সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে। এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে দেখা যাচ্ছে, তারা মূলত শাড়ি, থ্রি-পিস, ইমিটেশন জুয়েলারি বিক্রি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজের ‘ডিউ ডিলিজেন্স রিপোর্ট’ থেকে নিশ্চিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি আসলে ফল বা শাকসবজি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা গার্মেন্টস ও ফ্যাশনেবল গহনা বিক্রি করে। এ বিষয়ে আমদানিকারক মজিবুর রহমানের বক্তব্য–সুরাইয়া এন্টারপ্রাইজ এখন ফলের ব্যবসা করে। আগে হয়তো করত না।
বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কাছে পাঠানো চিঠিতে অনেক কম দরে আমদানির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আবার যে প্রতিষ্ঠান থেকে ওই আমদানি দেখানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি অন্য খাতের ব্যবসায়ী বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজের আইআরসিতে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ২০ ও ৫০ কোটি টাকার আমদানি স্ল্যাব নির্ধারিত থাকলেও আমদানি কীভাবে ২৬ কোটি ৪০ লাখ এবং ৮৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার পণ্য আমদানির সুযোগ পেলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছেও আমদানি সীমা লঙ্ঘন এবং বাজার মূল্যের তুলনায় অনেক কম দরে ফলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক জবাবে জানিয়েছে, ভারতে ফলের অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কম দরে আমদানি সম্ভব হয়েছে। আবার আমদানি করা ফল ছোট মানের এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট ছিল। এসব কারণে কম দরে আমদানি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যা সন্তোষজনক মনে হয়নি।
আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী, আমদানির করার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দর এবং পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যাংক এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনেশুনে বাজার মূল্যের চেয়ে কম এবং নষ্ট বা নিম্নমানের পণ্য আমদানি করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কম দরে আমদানির মাধ্যমে হুন্ডিতে অর্থ পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখানে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত।

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১০
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকেরা নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। রোববার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু করেন তারা।
মিছিল নিয়ে সড়কের ওপর যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে শাহবাগে জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। এ সময় তারা ‘প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই’, ‘শ্রেণিকক্ষে যেতে চাই, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায়’, ‘দেরির বোঝা বইব না, নিয়োগ ছাড়া ফিরব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা আড়াই মাস আগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, কিন্তু আমাদের এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি এমনকি কিছু জানানো হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকেরা নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। রোববার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু করেন তারা।
মিছিল নিয়ে সড়কের ওপর যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে শাহবাগে জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। এ সময় তারা ‘প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই’, ‘শ্রেণিকক্ষে যেতে চাই, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায়’, ‘দেরির বোঝা বইব না, নিয়োগ ছাড়া ফিরব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা আড়াই মাস আগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, কিন্তু আমাদের এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি এমনকি কিছু জানানো হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.