বরিশালের রাস্তায় এখন পুলিশের টহল গাড়ি চোখে পড়ে কম। কোনো কোনো দিন পুরো থানার দায়িত্বে থাকে একটি জিপ। তবু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) বলছে, ‘সেবা থেমে নেই, চেষ্টা চলছে’।
২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিএমপি তখন সীমাবদ্ধ ছিল এক কোতোয়ালী থানায়।
সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে অপরাধের ধরণও। বর্তমানে চারটি থানা- কোতোয়ালী, কাউনিয়া, বন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু থানার সংখ্যা বাড়লেও সরকারি পরিবহনের চাকা ঘোরেনি।
বর্তমানে বিএমপির সরকারি গাড়ি ৫৮টি, অনুদানসহ গাড়ির সংখ্যা মোট ৮০টি।
এর মধ্যে রয়েছে ১টি এপিসি (জলকামান), ১টি রেকার, ১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২৭টি ডাবল কেবিন জিপ ও পিকআপ, ১৭টি অপারেশনাল গাড়ি এবং ৭৭টি মোটরসাইকেল। এই সীমিত যানবাহন দিয়েই টহল, অপরাধ দমন, মিটিং-মিছিল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। গাড়ির সংকটে পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। অনেক গাড়ি পুরনো হয়ে গেছে, কিছু আবার বিকল হয়ে পড়ে মাঝপথে।
বিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক গাড়ি সচল রাখতে কখনো কখনো অন্যটির যন্ত্রাংশ খুলে নিতে হয়।
এক এসআই বলেন, ‘রাতভর টহল দিতে হয়। আগে গাড়ি কম থাকলেও প্রয়োজনে রিকুইজিশন করা যেত। এখন রিকুইজিশনেও সমস্যা। কখনো কখনো পায়ে হেঁটে টহল দিতে হচ্ছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে সব যানবাহন সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল গাড়িগুলো দ্রুত মেরামত চলছে, পাশাপাশি নতুন গাড়ির আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। রাতে টহল কমে গেলে চুরি বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।
নগরের বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘রাতে দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে পুলিশ না পেলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। গাড়ির সংকট দ্রুত কাটুক, এটাই প্রত্যাশা।’
স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও মনে করছেন, পরিবহন ঘাটতি যেন নির্বাচনের সময় নিরাপত্তায় প্রভাব না ফেলে, তা এখন সরকারের দায়িত্ব।
বিএমপি কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল চাবিকাঠি হলো দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা। যা নির্ভর করে সচল পরিবহনের ওপর।
পরিবহনের দায়িত্বে থাকা এক সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিটি থানা ও বিট এলাকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য টহল গাড়ি থাকা দরকার। তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসেবা দুটোই সহজ হবে।
বিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত গাড়ির চাহিদা বিষয়টি হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী, নির্বাচনের আগেই কিছু যানবাহন পাওয়া যাবে।’

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৩
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

০৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:২৬
বরিশালের রাস্তায় এখন পুলিশের টহল গাড়ি চোখে পড়ে কম। কোনো কোনো দিন পুরো থানার দায়িত্বে থাকে একটি জিপ। তবু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) বলছে, ‘সেবা থেমে নেই, চেষ্টা চলছে’।
২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিএমপি তখন সীমাবদ্ধ ছিল এক কোতোয়ালী থানায়।
সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে অপরাধের ধরণও। বর্তমানে চারটি থানা- কোতোয়ালী, কাউনিয়া, বন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু থানার সংখ্যা বাড়লেও সরকারি পরিবহনের চাকা ঘোরেনি।
বর্তমানে বিএমপির সরকারি গাড়ি ৫৮টি, অনুদানসহ গাড়ির সংখ্যা মোট ৮০টি।
এর মধ্যে রয়েছে ১টি এপিসি (জলকামান), ১টি রেকার, ১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২৭টি ডাবল কেবিন জিপ ও পিকআপ, ১৭টি অপারেশনাল গাড়ি এবং ৭৭টি মোটরসাইকেল। এই সীমিত যানবাহন দিয়েই টহল, অপরাধ দমন, মিটিং-মিছিল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। গাড়ির সংকটে পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। অনেক গাড়ি পুরনো হয়ে গেছে, কিছু আবার বিকল হয়ে পড়ে মাঝপথে।
বিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক গাড়ি সচল রাখতে কখনো কখনো অন্যটির যন্ত্রাংশ খুলে নিতে হয়।
এক এসআই বলেন, ‘রাতভর টহল দিতে হয়। আগে গাড়ি কম থাকলেও প্রয়োজনে রিকুইজিশন করা যেত। এখন রিকুইজিশনেও সমস্যা। কখনো কখনো পায়ে হেঁটে টহল দিতে হচ্ছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে সব যানবাহন সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল গাড়িগুলো দ্রুত মেরামত চলছে, পাশাপাশি নতুন গাড়ির আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। রাতে টহল কমে গেলে চুরি বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।
নগরের বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘রাতে দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে পুলিশ না পেলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। গাড়ির সংকট দ্রুত কাটুক, এটাই প্রত্যাশা।’
স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও মনে করছেন, পরিবহন ঘাটতি যেন নির্বাচনের সময় নিরাপত্তায় প্রভাব না ফেলে, তা এখন সরকারের দায়িত্ব।
বিএমপি কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল চাবিকাঠি হলো দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা। যা নির্ভর করে সচল পরিবহনের ওপর।
পরিবহনের দায়িত্বে থাকা এক সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিটি থানা ও বিট এলাকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য টহল গাড়ি থাকা দরকার। তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসেবা দুটোই সহজ হবে।
বিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত গাড়ির চাহিদা বিষয়টি হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী, নির্বাচনের আগেই কিছু যানবাহন পাওয়া যাবে।’