
০৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:২৬
বরিশালের রাস্তায় এখন পুলিশের টহল গাড়ি চোখে পড়ে কম। কোনো কোনো দিন পুরো থানার দায়িত্বে থাকে একটি জিপ। তবু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) বলছে, ‘সেবা থেমে নেই, চেষ্টা চলছে’।
২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিএমপি তখন সীমাবদ্ধ ছিল এক কোতোয়ালী থানায়।
সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে অপরাধের ধরণও। বর্তমানে চারটি থানা- কোতোয়ালী, কাউনিয়া, বন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু থানার সংখ্যা বাড়লেও সরকারি পরিবহনের চাকা ঘোরেনি।
বর্তমানে বিএমপির সরকারি গাড়ি ৫৮টি, অনুদানসহ গাড়ির সংখ্যা মোট ৮০টি।
এর মধ্যে রয়েছে ১টি এপিসি (জলকামান), ১টি রেকার, ১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২৭টি ডাবল কেবিন জিপ ও পিকআপ, ১৭টি অপারেশনাল গাড়ি এবং ৭৭টি মোটরসাইকেল। এই সীমিত যানবাহন দিয়েই টহল, অপরাধ দমন, মিটিং-মিছিল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। গাড়ির সংকটে পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। অনেক গাড়ি পুরনো হয়ে গেছে, কিছু আবার বিকল হয়ে পড়ে মাঝপথে।
বিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক গাড়ি সচল রাখতে কখনো কখনো অন্যটির যন্ত্রাংশ খুলে নিতে হয়।
এক এসআই বলেন, ‘রাতভর টহল দিতে হয়। আগে গাড়ি কম থাকলেও প্রয়োজনে রিকুইজিশন করা যেত। এখন রিকুইজিশনেও সমস্যা। কখনো কখনো পায়ে হেঁটে টহল দিতে হচ্ছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে সব যানবাহন সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল গাড়িগুলো দ্রুত মেরামত চলছে, পাশাপাশি নতুন গাড়ির আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। রাতে টহল কমে গেলে চুরি বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।
নগরের বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘রাতে দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে পুলিশ না পেলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। গাড়ির সংকট দ্রুত কাটুক, এটাই প্রত্যাশা।’
স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও মনে করছেন, পরিবহন ঘাটতি যেন নির্বাচনের সময় নিরাপত্তায় প্রভাব না ফেলে, তা এখন সরকারের দায়িত্ব।
বিএমপি কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল চাবিকাঠি হলো দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা। যা নির্ভর করে সচল পরিবহনের ওপর।
পরিবহনের দায়িত্বে থাকা এক সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিটি থানা ও বিট এলাকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য টহল গাড়ি থাকা দরকার। তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসেবা দুটোই সহজ হবে।
বিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত গাড়ির চাহিদা বিষয়টি হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী, নির্বাচনের আগেই কিছু যানবাহন পাওয়া যাবে।’
বরিশালের রাস্তায় এখন পুলিশের টহল গাড়ি চোখে পড়ে কম। কোনো কোনো দিন পুরো থানার দায়িত্বে থাকে একটি জিপ। তবু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) বলছে, ‘সেবা থেমে নেই, চেষ্টা চলছে’।
২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিএমপি তখন সীমাবদ্ধ ছিল এক কোতোয়ালী থানায়।
সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে অপরাধের ধরণও। বর্তমানে চারটি থানা- কোতোয়ালী, কাউনিয়া, বন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু থানার সংখ্যা বাড়লেও সরকারি পরিবহনের চাকা ঘোরেনি।
বর্তমানে বিএমপির সরকারি গাড়ি ৫৮টি, অনুদানসহ গাড়ির সংখ্যা মোট ৮০টি।
এর মধ্যে রয়েছে ১টি এপিসি (জলকামান), ১টি রেকার, ১টি বাস, ১টি ট্রাক, ২৭টি ডাবল কেবিন জিপ ও পিকআপ, ১৭টি অপারেশনাল গাড়ি এবং ৭৭টি মোটরসাইকেল। এই সীমিত যানবাহন দিয়েই টহল, অপরাধ দমন, মিটিং-মিছিল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। গাড়ির সংকটে পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। অনেক গাড়ি পুরনো হয়ে গেছে, কিছু আবার বিকল হয়ে পড়ে মাঝপথে।
বিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক গাড়ি সচল রাখতে কখনো কখনো অন্যটির যন্ত্রাংশ খুলে নিতে হয়।
এক এসআই বলেন, ‘রাতভর টহল দিতে হয়। আগে গাড়ি কম থাকলেও প্রয়োজনে রিকুইজিশন করা যেত। এখন রিকুইজিশনেও সমস্যা। কখনো কখনো পায়ে হেঁটে টহল দিতে হচ্ছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে সব যানবাহন সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল গাড়িগুলো দ্রুত মেরামত চলছে, পাশাপাশি নতুন গাড়ির আবেদন পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নগরবাসীর মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। রাতে টহল কমে গেলে চুরি বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।
নগরের বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘রাতে দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে পুলিশ না পেলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। গাড়ির সংকট দ্রুত কাটুক, এটাই প্রত্যাশা।’
স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও মনে করছেন, পরিবহন ঘাটতি যেন নির্বাচনের সময় নিরাপত্তায় প্রভাব না ফেলে, তা এখন সরকারের দায়িত্ব।
বিএমপি কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল চাবিকাঠি হলো দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা। যা নির্ভর করে সচল পরিবহনের ওপর।
পরিবহনের দায়িত্বে থাকা এক সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিটি থানা ও বিট এলাকায় অন্তত একটি নির্ভরযোগ্য টহল গাড়ি থাকা দরকার। তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসেবা দুটোই সহজ হবে।
বিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত গাড়ির চাহিদা বিষয়টি হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী, নির্বাচনের আগেই কিছু যানবাহন পাওয়া যাবে।’

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস