
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০৫
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিকসহ দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার সাফা বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাফা বাজারে অবস্থিত ‘মনির হোসেন সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছিল। বিশেষ করে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকের মালিক মনির হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া পি. সি. বর্মনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিকসহ দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার সাফা বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাফা বাজারে অবস্থিত ‘মনির হোসেন সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছিল। বিশেষ করে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকের মালিক মনির হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া পি. সি. বর্মনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৩৬
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২৩
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪২
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:০৮

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪২
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ এলেই একসময় ব্যস্ততায় ভরে উঠত পিরোজপুরের মৃৎশিল্প পল্লীগুলো। চৈত্র মাসজুড়ে মাটির খেলনা, সরা, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা তৈজসপত্র তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পেতেন না কারিগররা।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন প্রায় অতীত। আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাজার সংকটে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
জেলার কাউখালী উপজেলার সোনাকুড়ে প্রায় দুইশ বছর আগে শতাধিক পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে তা ছড়িয়ে পড়ে পিরোজপুর সদর, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর উপজেলায়। এক সময় প্রায় কয়েক হাজার পরিবার এই পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে শতাধিকের ঘরে।
বিশেষ করে পিরোজপুর সদর উপজেলার পালপাড়া, মুলগ্রাম ও রানীপুর এবং কাউখালীর সোনাকুড়ে এখনো কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। তবে এক সময়ের জমজমাট মৃৎশিল্প এখন নিভু নিভু প্রদীপের মতো টিকে আছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আগে মাটির তৈরি খেলনার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে দইয়ের হাঁড়ি, সরা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু তৈজসপত্র তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল ও শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, প্লাস্টিক ও বিকল্প পণ্যের দাপট এবং সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকেই উচ্চ সুদের ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে পড়ে পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।
সুমন্ত দাস নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, আগে এই কাজ করেই ভালোভাবে সংসার চলত। এখন দিন চলে না। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদলেছে। রানি অবন্তী নামে আরেক মৃৎশিল্পী বলেন, আমরা এখানে হাঁড়ি, খাঁড়া, পাড়া, পুতাসহ বিভিন্ন জিনিস মাটি দিয়ে বানাতাম। এখন প্লাস্টিক দিয়ে এসব তৈরি হওয়ায় আমাদের মাটির জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। আমরা কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছি।
পরিবেশবান্ধব এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এক সময় যেখানে পিরোজপুরে আড়াই হাজারের মতো পরিবার এই পেশায় যুক্ত ছিল, সেখানে এখন মাত্র শতাধিক পরিবার টিকে আছে। যথাযথ উদ্যোগ না নিলে শিগগিরই হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ এলেই একসময় ব্যস্ততায় ভরে উঠত পিরোজপুরের মৃৎশিল্প পল্লীগুলো। চৈত্র মাসজুড়ে মাটির খেলনা, সরা, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা তৈজসপত্র তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পেতেন না কারিগররা।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন প্রায় অতীত। আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাজার সংকটে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
জেলার কাউখালী উপজেলার সোনাকুড়ে প্রায় দুইশ বছর আগে শতাধিক পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে তা ছড়িয়ে পড়ে পিরোজপুর সদর, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর উপজেলায়। এক সময় প্রায় কয়েক হাজার পরিবার এই পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে শতাধিকের ঘরে।
বিশেষ করে পিরোজপুর সদর উপজেলার পালপাড়া, মুলগ্রাম ও রানীপুর এবং কাউখালীর সোনাকুড়ে এখনো কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। তবে এক সময়ের জমজমাট মৃৎশিল্প এখন নিভু নিভু প্রদীপের মতো টিকে আছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আগে মাটির তৈরি খেলনার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে দইয়ের হাঁড়ি, সরা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু তৈজসপত্র তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল ও শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, প্লাস্টিক ও বিকল্প পণ্যের দাপট এবং সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকেই উচ্চ সুদের ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে পড়ে পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।
সুমন্ত দাস নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, আগে এই কাজ করেই ভালোভাবে সংসার চলত। এখন দিন চলে না। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদলেছে। রানি অবন্তী নামে আরেক মৃৎশিল্পী বলেন, আমরা এখানে হাঁড়ি, খাঁড়া, পাড়া, পুতাসহ বিভিন্ন জিনিস মাটি দিয়ে বানাতাম। এখন প্লাস্টিক দিয়ে এসব তৈরি হওয়ায় আমাদের মাটির জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। আমরা কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছি।
পরিবেশবান্ধব এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এক সময় যেখানে পিরোজপুরে আড়াই হাজারের মতো পরিবার এই পেশায় যুক্ত ছিল, সেখানে এখন মাত্র শতাধিক পরিবার টিকে আছে। যথাযথ উদ্যোগ না নিলে শিগগিরই হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৪
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র পাঁচজন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যত বন্ধ, আর স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে গরুর খামার।
উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোর বেশির ভাগই অচল অবস্থায় রয়েছে। কিছু কক্ষ তালাবদ্ধ, কোথাও ধুলাবালি জমে আছে, আবার কোথাও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি কক্ষে এলোমেলোভাবে কয়েকটি বেঞ্চ পড়ে রয়েছে। পুরো বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে ওঠা গরুর খামারের কারণে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির চেয়েও গরুর গোয়ালঘরটি বেশি পরিচ্ছন্ন।
এ ছাড়া গত রোববার (১২ এপ্রিল) বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি থাকলেও ওই বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ ঘরামী জানায়, তাদের শ্রেণিতে শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। প্রথম শ্রেণিতে একজন থাকলেও অন্য শ্রেণিগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সে অভিযোগ করে, শিক্ষকরা প্রতিদিনই দেরিতে আসেন এবং আগেভাগেই চলে যান।
বিদ্যালয়ের দপ্তরির দায়িত্বে থাকা মিত নামের এক নারী বলেন, বিদ্যালয় খোলা না বন্ধ—তা তিনি জানেন না; প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি পতাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি আরও জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ভেতরে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম হাসান বলেন, ছুটির দিনে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তিনি নিজে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবেন বলেও জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা পতাকার অবমাননার শামিল। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাশে গরুর খামার ও শিক্ষার্থী স্বল্পতার বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন অব্যবস্থাপনা চললেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র পাঁচজন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যত বন্ধ, আর স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে গরুর খামার।
উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোর বেশির ভাগই অচল অবস্থায় রয়েছে। কিছু কক্ষ তালাবদ্ধ, কোথাও ধুলাবালি জমে আছে, আবার কোথাও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি কক্ষে এলোমেলোভাবে কয়েকটি বেঞ্চ পড়ে রয়েছে। পুরো বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে ওঠা গরুর খামারের কারণে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির চেয়েও গরুর গোয়ালঘরটি বেশি পরিচ্ছন্ন।
এ ছাড়া গত রোববার (১২ এপ্রিল) বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি থাকলেও ওই বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ ঘরামী জানায়, তাদের শ্রেণিতে শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। প্রথম শ্রেণিতে একজন থাকলেও অন্য শ্রেণিগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সে অভিযোগ করে, শিক্ষকরা প্রতিদিনই দেরিতে আসেন এবং আগেভাগেই চলে যান।
বিদ্যালয়ের দপ্তরির দায়িত্বে থাকা মিত নামের এক নারী বলেন, বিদ্যালয় খোলা না বন্ধ—তা তিনি জানেন না; প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি পতাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি আরও জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ভেতরে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম হাসান বলেন, ছুটির দিনে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তিনি নিজে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবেন বলেও জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা পতাকার অবমাননার শামিল। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাশে গরুর খামার ও শিক্ষার্থী স্বল্পতার বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন অব্যবস্থাপনা চললেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২৭
পিরোজপুরে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ ব্যবহার করে এক নারীর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার সাধনা ব্রিজ সংলগ্ন সাগর স্টোরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হোসনে আরা (৫৫) জানান, দুইজন অজ্ঞাত প্রতারক চক্রের সদস্য কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে বিভ্রান্ত করে। পরে তারা তথাকথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ ব্যবহার করে নগদ টাকা, সোনার কানের দুল ও গলার চেইন নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিরোজপুরে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ ব্যবহার করে এক নারীর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার সাধনা ব্রিজ সংলগ্ন সাগর স্টোরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হোসনে আরা (৫৫) জানান, দুইজন অজ্ঞাত প্রতারক চক্রের সদস্য কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে বিভ্রান্ত করে। পরে তারা তথাকথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ ব্যবহার করে নগদ টাকা, সোনার কানের দুল ও গলার চেইন নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.