ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে না ফেলায় ছাত্রদলের নেতারা ইউপি সচিবের কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভাটরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে ছাত্রদল নেতা বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্না কার্যালয়ে তালা দেন বলে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের তালা খোলা হয়নি এবং সিসিটিভি ডিভাইসটিও ফেরত দেওয়া হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল ও সচিব সুজন চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে আসেন।
তারা চেয়ারম্যানকে তার কক্ষ থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়ার জন্য তারা সচিবের কাছে যান। সচিব ফুটেজ ডিলিট করতে পারবেন না বলে জানালে ছাত্রদলের নেতারা সিসিটিভির ডিভাইস (মনিটর) নিয়ে যান।
তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারা এসেছেন এবং ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় চেয়ারম্যান সেখানে থাকতে পারবেন না।
এদিকে চেয়ারম্যান বুলবুলকে হেনস্তার প্রতিবাদে ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখসহ এলাকাবাসী প্রতিবাদ মিছিল করেন। ভাটরা বাজারে রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে এ প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় জাহিদ শেখকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে ছাত্রদল নেতা বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্নাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবার (১৪ মার্চ) ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দল্টা বাজার ভূঁইয়া বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ইফতার মাহফিল করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং ইফতার মাহফিলের বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না।
ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস বলেন, সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছি। এখনো ছাত্রদলের নেতারা ডিভাইসটি ফেরত দেননি। ফুটেজ ডিলিট না করায় তারা ডিভাইসটি নিয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল বলেন, আমি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই। এরপরও ছাত্রদলের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এসে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। আমাকে কার্যালয় থেকে বের করে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারা এসেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, তিনদিন আগে ভাটরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টি করেছে। এজন্য আমরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে এলাকার লোকজন সেখানে তালা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ কে নিয়েছে, তা খোঁজ নেওয়া হবে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ফোন এসেছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। সচিবের কক্ষ থেকে যেহেতু ডিভাইস নেওয়া হয়েছে, সে ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের কক্ষের তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে থানায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।
বরিশাল টাইমস

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩০
গাজীপুরে আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে বিস্ফোরক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সিটিএসবির উপকমিশনার মহিউল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার আদালতে হাজিরা শেষে ৩০ আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে ফিরছিল প্রিজন ভ্যানটি। বিকেলে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে টয়লেটে নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকের চেষ্টা করলেও ল মহাসড়কের বাইমাইল এলাকার ময়লার ভাগাড়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাজা বিস্ফোরক আইনের মামলায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দি ছিলেন।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
গাজীপুরে আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে বিস্ফোরক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সিটিএসবির উপকমিশনার মহিউল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার আদালতে হাজিরা শেষে ৩০ আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে ফিরছিল প্রিজন ভ্যানটি। বিকেলে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে টয়লেটে নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকের চেষ্টা করলেও ল মহাসড়কের বাইমাইল এলাকার ময়লার ভাগাড়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাজা বিস্ফোরক আইনের মামলায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দি ছিলেন।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৫৮
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে না ফেলায় ছাত্রদলের নেতারা ইউপি সচিবের কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভাটরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে ছাত্রদল নেতা বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্না কার্যালয়ে তালা দেন বলে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের তালা খোলা হয়নি এবং সিসিটিভি ডিভাইসটিও ফেরত দেওয়া হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল ও সচিব সুজন চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে আসেন।
তারা চেয়ারম্যানকে তার কক্ষ থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়ার জন্য তারা সচিবের কাছে যান। সচিব ফুটেজ ডিলিট করতে পারবেন না বলে জানালে ছাত্রদলের নেতারা সিসিটিভির ডিভাইস (মনিটর) নিয়ে যান।
তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারা এসেছেন এবং ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় চেয়ারম্যান সেখানে থাকতে পারবেন না।
এদিকে চেয়ারম্যান বুলবুলকে হেনস্তার প্রতিবাদে ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখসহ এলাকাবাসী প্রতিবাদ মিছিল করেন। ভাটরা বাজারে রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে এ প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় জাহিদ শেখকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে ছাত্রদল নেতা বাবুর নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম মুন্নাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবার (১৪ মার্চ) ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দল্টা বাজার ভূঁইয়া বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ইফতার মাহফিল করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং ইফতার মাহফিলের বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না।
ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস বলেন, সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছি। এখনো ছাত্রদলের নেতারা ডিভাইসটি ফেরত দেননি। ফুটেজ ডিলিট না করায় তারা ডিভাইসটি নিয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল বলেন, আমি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই। এরপরও ছাত্রদলের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এসে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। আমাকে কার্যালয় থেকে বের করে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তারা এসেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, তিনদিন আগে ভাটরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টি করেছে। এজন্য আমরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে এলাকার লোকজন সেখানে তালা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ কে নিয়েছে, তা খোঁজ নেওয়া হবে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ফোন এসেছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। সচিবের কক্ষ থেকে যেহেতু ডিভাইস নেওয়া হয়েছে, সে ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের কক্ষের তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে থানায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।
বরিশাল টাইমস
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৬
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৪
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৫
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৭