Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:৪৪
বিদেশ যেতে না পেরে ক্ষোভে মাইক ভাড়া করে এলাকাবাসীকে গালাগাল করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক যুবক। সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান গ্রামে। ওই যুবকের নাম সারোয়ার হোসেন রাব্বি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাব্বি বিভিন্ন এনজিও ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কেউ সহযোগিতা না করায় তাঁর মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নেয়। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে তিনি ৫০০ টাকা খরচ করে একটি মাইক ভাড়া নিয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে এলাকাবাসীকে গালাগাল করেন।
পরে সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। ভিডিওতে রাব্বি অভিযোগ করেন, তিন-চার মাস ধরে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মাত্র ১ লাখ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাঁর ভিসা ও মেডিকেল সনদের মেয়াদ (৩০ অক্টোবর) শেষ হতে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সমিতির কাছে ঋণ চেয়েছেন। কেউ সহযোগিতা করেনি। ব্যাংক থেকে ঋণ চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। রাব্বি বলেন, ‘মানুষের কারণে আগেও দুবার আমার ভিসা নষ্ট হয়েছে। এবারও কেউ সাহায্য করল না। তাই রাগের মাথায় ভুল করেছি।’
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘প্রথমে ক্ষমা চাইছি। আমি অনেক খারাপ ভাষায় গালাগাল করেছি। আমি কেন এমন করেছি, শুনুন।’ রাব্বি জানান, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের কাজ করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে ভিডিওটি ভাইরাল হলে অনেকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ আবার রাব্বির মানসিক কষ্ট ও পারিবারিক চাপের প্রতি সহানুভূতিও দেখান। স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ বলেন, এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এখন চায়ের দোকান থেকে ঘরোয়া আড্ডা সব জায়গায় রাব্বির ঘটনাই আলোচনার বিষয়।
বিদেশ যেতে না পেরে ক্ষোভে মাইক ভাড়া করে এলাকাবাসীকে গালাগাল করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক যুবক। সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান গ্রামে। ওই যুবকের নাম সারোয়ার হোসেন রাব্বি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাব্বি বিভিন্ন এনজিও ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কেউ সহযোগিতা না করায় তাঁর মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নেয়। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে তিনি ৫০০ টাকা খরচ করে একটি মাইক ভাড়া নিয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে এলাকাবাসীকে গালাগাল করেন।
পরে সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। ভিডিওতে রাব্বি অভিযোগ করেন, তিন-চার মাস ধরে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মাত্র ১ লাখ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাঁর ভিসা ও মেডিকেল সনদের মেয়াদ (৩০ অক্টোবর) শেষ হতে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সমিতির কাছে ঋণ চেয়েছেন। কেউ সহযোগিতা করেনি। ব্যাংক থেকে ঋণ চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। রাব্বি বলেন, ‘মানুষের কারণে আগেও দুবার আমার ভিসা নষ্ট হয়েছে। এবারও কেউ সাহায্য করল না। তাই রাগের মাথায় ভুল করেছি।’
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘প্রথমে ক্ষমা চাইছি। আমি অনেক খারাপ ভাষায় গালাগাল করেছি। আমি কেন এমন করেছি, শুনুন।’ রাব্বি জানান, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের কাজ করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে ভিডিওটি ভাইরাল হলে অনেকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ আবার রাব্বির মানসিক কষ্ট ও পারিবারিক চাপের প্রতি সহানুভূতিও দেখান। স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ বলেন, এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এখন চায়ের দোকান থেকে ঘরোয়া আড্ডা সব জায়গায় রাব্বির ঘটনাই আলোচনার বিষয়।

১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৪৭
বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলীর (রা.) মাজারসংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের মুখে কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ বলে অবহিত করেছেন তিনি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গায়িকা।
সংশ্লিষ্ট একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে কনকচাঁপা লিখেছেন, কুমির, কুকুর, হায়েনা, বাঘ-সিংহ কেউ না। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ।
পরে স্ট্যাটাসটি দ্রুতই সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ সময় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শনার্থীদের কেউ কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।
এতে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারকা থেকে সাধারণ মানুষও। এ ঘটনাটি শুধু একটি প্রাণীর মৃত্যুই নয়; বরং সমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে খানজাহান আলী (রা.) মাজারের দক্ষিণ পাশের প্রধান ঘাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। পরে স্থানীয়রা লাঠি ছুড়ে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি দৌড়ে মূল ঘাটের দিকে যায়। সেখানে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে আঁচড় দিলে তিনি পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি দীঘির পানিতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই কুমির এসে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে চলে যায়।

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৫১
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা অনশন ভাঙেন। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অনশনরত তিনজনের মধ্যে সাদিক মনোয়ার মুনেম ও সাকিবুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনশনরত অন্যজন শেখ মুস্তাফিজ ঢামেক থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। এ সময় জুলাইয়ের শহীদ জাবিরের বাবা, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা, শহীদ সাইদুল ইসলামের বাবা, শহীদ সৈকতের বাবাসহ একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক মুনেম অনশনে বসেন। পরে সন্ধ্যায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান এবং পরদিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মুস্তাফিজ অনশনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের সঙ্গে দেখা করে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেও তারা অনশন চালিয়ে যান।
অনশনে বসার পর তাদের সঙ্গে পাবনা-১ আসনের এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন, শেরপুর-১ আসনের এমপি রাশেদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ সংহতি জানান।

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৩৩
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় কথিত পীর শামীম (জাহাঙ্গীর) ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) স্থানীয়ভাবে ‘ভণ্ডপীর’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ধর্মবিরোধী কথাবার্তা বলার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামীম রেজার ইসলামবিরোধী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
শনিবার সকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
জানা যায়, ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা তারা দেখেছেন। ভিডিওটি পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওটি দেখে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এমন কর্মকাণ্ড চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এলাকাবাসীর দাবি, সমাজে ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলীর (রা.) মাজারসংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের মুখে কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ বলে অবহিত করেছেন তিনি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গায়িকা।
সংশ্লিষ্ট একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে কনকচাঁপা লিখেছেন, কুমির, কুকুর, হায়েনা, বাঘ-সিংহ কেউ না। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ।
পরে স্ট্যাটাসটি দ্রুতই সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ সময় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শনার্থীদের কেউ কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।
এতে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারকা থেকে সাধারণ মানুষও। এ ঘটনাটি শুধু একটি প্রাণীর মৃত্যুই নয়; বরং সমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে খানজাহান আলী (রা.) মাজারের দক্ষিণ পাশের প্রধান ঘাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। পরে স্থানীয়রা লাঠি ছুড়ে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি দৌড়ে মূল ঘাটের দিকে যায়। সেখানে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে আঁচড় দিলে তিনি পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি দীঘির পানিতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই কুমির এসে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে চলে যায়।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তারা অনশন ভাঙেন। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অনশনরত তিনজনের মধ্যে সাদিক মনোয়ার মুনেম ও সাকিবুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনশনরত অন্যজন শেখ মুস্তাফিজ ঢামেক থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। এ সময় জুলাইয়ের শহীদ জাবিরের বাবা, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা, শহীদ সাইদুল ইসলামের বাবা, শহীদ সৈকতের বাবাসহ একাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক মুনেম অনশনে বসেন। পরে সন্ধ্যায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান এবং পরদিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মুস্তাফিজ অনশনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের সঙ্গে দেখা করে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেও তারা অনশন চালিয়ে যান।
অনশনে বসার পর তাদের সঙ্গে পাবনা-১ আসনের এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন, শেরপুর-১ আসনের এমপি রাশেদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী প্রমুখ সংহতি জানান।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় কথিত পীর শামীম (জাহাঙ্গীর) ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) স্থানীয়ভাবে ‘ভণ্ডপীর’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ধর্মবিরোধী কথাবার্তা বলার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামীম রেজার ইসলামবিরোধী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
শনিবার সকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
জানা যায়, ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা তারা দেখেছেন। ভিডিওটি পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওটি দেখে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এমন কর্মকাণ্ড চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এলাকাবাসীর দাবি, সমাজে ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।