যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ,বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধে হঠাৎই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত 'ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ' যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থি এবং আইনিভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
এই রায় কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এর ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির উত্থান-পতন। অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের জন্যও বড় মাথা ব্যাথার কারণ ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০২৫ সালের শুরুতেই তিনি ঘোষণা করেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে আমেরিকায় পণ্য ঢুকলে তার ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল বিনামেঘে বজ্রপাত। ভিয়েতনাম বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমমূল্য কম হলেও মার্কিন শুল্কের কারণে বাংলাদেশি পোশাকের দাম আমেরিকায় আকাশচুম্বী হয়ে যায়।
ফলে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ বা এইচঅ্যান্ডএম-এর মতো বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়।
২০২৫ সালের দোসরা এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বিভিন্ন হারে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যেটা বিশ্ব অর্থনীতিতে একধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলো। বাংলাদেশ পড়ে ৩৫ শতাংশ শুল্কের আওতায়।
শেষ পর্যন্ত দরকষাকষি শেষে উভয় পক্ষ 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড' নামে এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার ফলে বাংলাদেশের উপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ। যার বিনিময়ে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা, সয়াবিন এবং অন্তত চারটি বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হয়। তখন এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা 'অসম' এবং 'জবরদস্তিমূলক' বলে সমালোচনা করেছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক নিয়ে সম্প্রতি যে রায় দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ ব্যবহার করে শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেটি জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে হলেও আসলে ছিল অর্থনৈতিক জবরদস্তি।
এই রায়ের ফলে এতদিন ধরে বাংলদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে পাল্টা শুল্ক আরোপের চুক্তি করছিল সেটি আর কার্যকর থাকছে না। তবে পিছু হটেননি ট্রাম্প। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনিও অন্য একটি আইনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন দেশগুলোকে এখন থেকে তাদের পূর্বে আলোচনা করা শুল্ক হারের পরিবর্তে 'ধারা ১২২' এর অধীনে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে।
তিনি জানিয়েছেন, শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হলেও বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হচ্ছে না। তাই চুক্তির অধীনে যেসব বিষয়ে সম্মতি বা যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলো মেনে চলবে বলেই আশা করে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্ব বাণিজ্যে অন্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নয়, বরং কংগ্রেসের হাতেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
ট্রাম্প যে আইনের উপর ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেটি মূলত ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে, যেখানে ট্রাম্পকে এত ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। শুল্ক ইস্যুতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, এই রায় কার্যকরে প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এছাড়া যেসব বড় কোম্পানি ইতোমধ্যে বাড়তি হারে শুল্ক পরিশোধ করেছে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কিনা এমন নানা জটিলতাও রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এমন রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রায় প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি আদালতের কিছু সদস্যকে নিয়ে লজ্জিত। আমাদের দেশের স্বার্থে সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আমি তাদের নিয়ে পুরোপুরি লজ্জিত।
নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে।
ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
নিয়ম অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে যে সংশ্লিষ্ট দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস করছে কি না।
এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশটির শ্রমবাজার, শ্রমিকের কর্ম-পরিবেশ, বেতন, পরিবেশ দূষণ, নারীদের কর্ম পরিবেশ এসব বিষয়ে অনিয়ম হচ্ছে কি না সেগুলো তদন্ত করবে মার্কিন প্রশাসন। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মার্কিন আইন অনুযায়ী। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশটিকে ঘাটতি থাকা বিষয়গুলো ঠিক করতে আরও ১৫০ দিনের সময় দেওয়া হবে। তবে এই সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
এক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক আরোপ বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা না রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের স্মরণাপন্ন হতে হবে। আর যদি কোনো অনিয়ম না পাওয়া যায় তাহলে শুল্ক শূন্যের কোটায় নামিয়ে ফিরতে হবে নিয়মিত বাণিজ্য প্রক্রিয়া বা চুক্তিতে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। যদিও দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দুই দেশের ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বেশি, আমদানি কম। পাল্টা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতির এই বিষয়টিকে বড় করে সামনে এনেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, কৃষিপণ্যসহ নানা পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের আগ মুহূর্তে যে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়েছে সেটি নিয়ে খুশি হতে পারেননি বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ কিংবা ব্যবসায়ীদের কেউই।
বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি যে চুক্তি হয়েছে সেটি অসম। আমাদের প্রাপ্তির চেয়ে ক্ষয় বেশি, কঠিন কঠিন শর্ত ওখানে আছে। ট্রাম্পের ট্যারিফ শুরু থেকেই আনপ্রেডিক্টাবল, কখন কী হয় বলা যাচ্ছে না। এখন যে ১০ শতাংশ দিয়েছে সেটা আবার কয়দিন থাকে সেটাও তো অনিশ্চিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরিস্থিতি বদলেছে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের। যদিও এ নিয়ে আলোচনার সময় এখনো আসেনি বলেই মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা না করে বাংলাদেশের উচিত চুপ থেকে সময় নেওয়া। যে সমস্ত শর্তে আমরা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছি সেগুলো নিয়ে এখন আলোচনা করতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের রায় আমাদের জন্য এটা সুখবর। তবে আলোচনার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে, একইসাথে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। ট্রাম্প এখন যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এটি ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসন তাদের মতো করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তদন্ত করবে। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে সেগুলো ঠিক করা বা যথাযথ উত্তর নিয়ে প্রস্তুত থাকা। অবশ্য ১৫০ দিনের এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এতগুলো দেশের তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেবে, এটি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এতগুলো দেশে এই কম সময়ে যেসব বিষয় তদন্ত করতে হবে সেটি মার্কিন প্রশাসনের জন্যও সম্ভব না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য তো চীন এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
বরিশাল টাইমস

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের মোকাবিলা, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি আয়োজনের পেছনে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলির ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বৈঠকের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের মোকাবিলা, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি আয়োজনের পেছনে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলির ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বৈঠকের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৮
সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগ, বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস; জাহাঙ্গিরপুরী থেকে উজ্জয়ন—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিংহস্থ মেলা-২০২৮ সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদেরও একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের মধ্যে পড়েছে। মসজিদটির কিছু অংশের বয়স প্রায় ৬০০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয়। আদালত সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থ এবং সিংহস্থ মেলায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এর আগে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার ভিত্তিতে শাহী মসজিদকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আবেদনকারীদের এমন অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প নকশা গ্রহণ করা সম্ভব। মসজিদের বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বা অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।
উজ্জয়নের ঘটনা ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ কিংবা বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর উত্তর দিল্লি পৌর করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
একই বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের খারগোনে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খারগোনের এক মুসলিম নারীর বাড়ি ভাঙার ঘটনাসহ বিভিন্ন উচ্ছেদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিক্ষোভের পর অন্তত ১২৮টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব অভিযানে মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযানগুলো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। আদালত স্পষ্ট করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তাঁর সম্পত্তি ধ্বংস করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ভাঙার ঘটনায় একাধিক আবেদন ও সমালোচনার পর আদালতের এ নির্দেশনা আসে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এ ধরনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধটি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়। এটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও আদালতের আদেশসংক্রান্ত বিরোধ। তাই দুই ধরনের ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট এক নয়। তারপরও ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা, বিকল্প পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশটির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয়। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি এ ঘটনাকে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঘটলেও তাঁর সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম স্থাপনা ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সমালোচকদের বক্তব্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পৌর করপোরেশনের সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ এবং এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। ঘটনাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পৃথক ভূমিকা বিবেচনা করেই এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ অপসারণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য অন্য দিক থেকে জমি নেওয়ার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সড়ক সম্প্রসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধ তাই কেবল একটি সড়কের নকশা বা স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
মোদি আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, উজ্জয়নের ঘটনাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্স।
সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগ, বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস; জাহাঙ্গিরপুরী থেকে উজ্জয়ন—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিংহস্থ মেলা-২০২৮ সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদেরও একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের মধ্যে পড়েছে। মসজিদটির কিছু অংশের বয়স প্রায় ৬০০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয়। আদালত সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থ এবং সিংহস্থ মেলায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এর আগে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার ভিত্তিতে শাহী মসজিদকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আবেদনকারীদের এমন অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প নকশা গ্রহণ করা সম্ভব। মসজিদের বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বা অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।
উজ্জয়নের ঘটনা ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ কিংবা বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর উত্তর দিল্লি পৌর করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
একই বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের খারগোনে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খারগোনের এক মুসলিম নারীর বাড়ি ভাঙার ঘটনাসহ বিভিন্ন উচ্ছেদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিক্ষোভের পর অন্তত ১২৮টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব অভিযানে মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযানগুলো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। আদালত স্পষ্ট করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তাঁর সম্পত্তি ধ্বংস করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ভাঙার ঘটনায় একাধিক আবেদন ও সমালোচনার পর আদালতের এ নির্দেশনা আসে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এ ধরনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধটি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়। এটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও আদালতের আদেশসংক্রান্ত বিরোধ। তাই দুই ধরনের ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট এক নয়। তারপরও ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা, বিকল্প পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশটির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয়। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি এ ঘটনাকে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঘটলেও তাঁর সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম স্থাপনা ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সমালোচকদের বক্তব্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পৌর করপোরেশনের সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ এবং এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। ঘটনাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পৃথক ভূমিকা বিবেচনা করেই এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ অপসারণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য অন্য দিক থেকে জমি নেওয়ার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সড়ক সম্প্রসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধ তাই কেবল একটি সড়কের নকশা বা স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
মোদি আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, উজ্জয়নের ঘটনাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্স।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধে হঠাৎই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত 'ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ' যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থি এবং আইনিভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
এই রায় কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এর ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির উত্থান-পতন। অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের জন্যও বড় মাথা ব্যাথার কারণ ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০২৫ সালের শুরুতেই তিনি ঘোষণা করেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে আমেরিকায় পণ্য ঢুকলে তার ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল বিনামেঘে বজ্রপাত। ভিয়েতনাম বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমমূল্য কম হলেও মার্কিন শুল্কের কারণে বাংলাদেশি পোশাকের দাম আমেরিকায় আকাশচুম্বী হয়ে যায়।
ফলে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ বা এইচঅ্যান্ডএম-এর মতো বড় বড় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়।
২০২৫ সালের দোসরা এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বিভিন্ন হারে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যেটা বিশ্ব অর্থনীতিতে একধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলো। বাংলাদেশ পড়ে ৩৫ শতাংশ শুল্কের আওতায়।
শেষ পর্যন্ত দরকষাকষি শেষে উভয় পক্ষ 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড' নামে এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার ফলে বাংলাদেশের উপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ। যার বিনিময়ে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা, সয়াবিন এবং অন্তত চারটি বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হয়। তখন এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা 'অসম' এবং 'জবরদস্তিমূলক' বলে সমালোচনা করেছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক নিয়ে সম্প্রতি যে রায় দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা আইইইপিএ ব্যবহার করে শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেটি জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে হলেও আসলে ছিল অর্থনৈতিক জবরদস্তি।
এই রায়ের ফলে এতদিন ধরে বাংলদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে পাল্টা শুল্ক আরোপের চুক্তি করছিল সেটি আর কার্যকর থাকছে না। তবে পিছু হটেননি ট্রাম্প। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনিও অন্য একটি আইনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন দেশগুলোকে এখন থেকে তাদের পূর্বে আলোচনা করা শুল্ক হারের পরিবর্তে 'ধারা ১২২' এর অধীনে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে।
তিনি জানিয়েছেন, শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হলেও বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হচ্ছে না। তাই চুক্তির অধীনে যেসব বিষয়ে সম্মতি বা যেসব শর্ত রয়েছে সেগুলো মেনে চলবে বলেই আশা করে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্ব বাণিজ্যে অন্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নয়, বরং কংগ্রেসের হাতেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
ট্রাম্প যে আইনের উপর ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেটি মূলত ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে, যেখানে ট্রাম্পকে এত ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। শুল্ক ইস্যুতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, এই রায় কার্যকরে প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এছাড়া যেসব বড় কোম্পানি ইতোমধ্যে বাড়তি হারে শুল্ক পরিশোধ করেছে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কিনা এমন নানা জটিলতাও রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এমন রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রায় প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি আদালতের কিছু সদস্যকে নিয়ে লজ্জিত। আমাদের দেশের স্বার্থে সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আমি তাদের নিয়ে পুরোপুরি লজ্জিত।
নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই পথে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে।
ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
নিয়ম অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে যে সংশ্লিষ্ট দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস করছে কি না।
এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশটির শ্রমবাজার, শ্রমিকের কর্ম-পরিবেশ, বেতন, পরিবেশ দূষণ, নারীদের কর্ম পরিবেশ এসব বিষয়ে অনিয়ম হচ্ছে কি না সেগুলো তদন্ত করবে মার্কিন প্রশাসন। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মার্কিন আইন অনুযায়ী। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশটিকে ঘাটতি থাকা বিষয়গুলো ঠিক করতে আরও ১৫০ দিনের সময় দেওয়া হবে। তবে এই সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
এক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক আরোপ বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা না রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেসের স্মরণাপন্ন হতে হবে। আর যদি কোনো অনিয়ম না পাওয়া যায় তাহলে শুল্ক শূন্যের কোটায় নামিয়ে ফিরতে হবে নিয়মিত বাণিজ্য প্রক্রিয়া বা চুক্তিতে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। যদিও দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দুই দেশের ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বেশি, আমদানি কম। পাল্টা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতির এই বিষয়টিকে বড় করে সামনে এনেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, কৃষিপণ্যসহ নানা পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের আগ মুহূর্তে যে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়েছে সেটি নিয়ে খুশি হতে পারেননি বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ কিংবা ব্যবসায়ীদের কেউই।
বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি যে চুক্তি হয়েছে সেটি অসম। আমাদের প্রাপ্তির চেয়ে ক্ষয় বেশি, কঠিন কঠিন শর্ত ওখানে আছে। ট্রাম্পের ট্যারিফ শুরু থেকেই আনপ্রেডিক্টাবল, কখন কী হয় বলা যাচ্ছে না। এখন যে ১০ শতাংশ দিয়েছে সেটা আবার কয়দিন থাকে সেটাও তো অনিশ্চিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পরিস্থিতি বদলেছে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের। যদিও এ নিয়ে আলোচনার সময় এখনো আসেনি বলেই মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা না করে বাংলাদেশের উচিত চুপ থেকে সময় নেওয়া। যে সমস্ত শর্তে আমরা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছি সেগুলো নিয়ে এখন আলোচনা করতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের রায় আমাদের জন্য এটা সুখবর। তবে আলোচনার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে, একইসাথে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। ট্রাম্প এখন যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এটি ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসন তাদের মতো করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তদন্ত করবে। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে সেগুলো ঠিক করা বা যথাযথ উত্তর নিয়ে প্রস্তুত থাকা। অবশ্য ১৫০ দিনের এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এতগুলো দেশের তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেবে, এটি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এতগুলো দেশে এই কম সময়ে যেসব বিষয় তদন্ত করতে হবে সেটি মার্কিন প্রশাসনের জন্যও সম্ভব না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য তো চীন এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
বরিশাল টাইমস
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮