পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এ ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির। এর পুরো শরীরে চামড়া উঠানো। ডলফিনটি দেখার জন্য স্থানীয়সহ ঘুরতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছেন সৈকতে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত থেকে ২ কিলোমিটার পূর্বদিকে ঝাউবন এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন'র (উপরা) সদস্য কে এম বাচ্চু। তিনি বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক।
ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়, এটি সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ডলফিনের উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেমকে সুস্থ রাখে, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেয় এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও অবদান রাখে।
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (উপরা) এই অঞ্চলের মানুষদের সচেতন করতে এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ডলফিন রক্ষা মানে আমাদের উপকূলের পরিবেশ রক্ষা করা। এটি একপ্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ। যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
সমুদ্রের নীল অর্থনীতি, উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ বাংলাদেশ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক বখতিয়ার রহমান বলেন, এটি মূলত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। রক্তাক্ত দাগ থেকে দেখা যায়, নৌযান, মাছ ধরার যন্ত্র ও জেলেদের কার্যক্রমই মৃত্যুর মূল কারণ।
নদী ও মোহনার দূষিত পানি যেমন শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেল ও হুমকি সৃষ্টি করছে। গবেষকরা স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির এবং ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কুয়াকাটার জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, আমরা উপকূলজুড়ে কাজ করছি ডলফিন রক্ষায়। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৬ টি ডলফিন মৃত অবস্থায় দেখা মিলেছে সমুদ্রসৈকতে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। যাতে এই ডলফিনগুলোর মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা হয়।
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, মাত্রই আমরা খবর পেলাম। ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হয়েছে মৃত ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩২
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২২
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২০

১৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৬
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এ ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির। এর পুরো শরীরে চামড়া উঠানো। ডলফিনটি দেখার জন্য স্থানীয়সহ ঘুরতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছেন সৈকতে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত থেকে ২ কিলোমিটার পূর্বদিকে ঝাউবন এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন'র (উপরা) সদস্য কে এম বাচ্চু। তিনি বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক।
ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়, এটি সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ডলফিনের উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেমকে সুস্থ রাখে, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেয় এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও অবদান রাখে।
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (উপরা) এই অঞ্চলের মানুষদের সচেতন করতে এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ডলফিন রক্ষা মানে আমাদের উপকূলের পরিবেশ রক্ষা করা। এটি একপ্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ। যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
সমুদ্রের নীল অর্থনীতি, উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ বাংলাদেশ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক বখতিয়ার রহমান বলেন, এটি মূলত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। রক্তাক্ত দাগ থেকে দেখা যায়, নৌযান, মাছ ধরার যন্ত্র ও জেলেদের কার্যক্রমই মৃত্যুর মূল কারণ।
নদী ও মোহনার দূষিত পানি যেমন শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেল ও হুমকি সৃষ্টি করছে। গবেষকরা স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির এবং ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কুয়াকাটার জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, আমরা উপকূলজুড়ে কাজ করছি ডলফিন রক্ষায়। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৬ টি ডলফিন মৃত অবস্থায় দেখা মিলেছে সমুদ্রসৈকতে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। যাতে এই ডলফিনগুলোর মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা হয়।
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, মাত্রই আমরা খবর পেলাম। ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হয়েছে মৃত ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৩
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭