দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, নদী পারাপারের ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে অবশেষে বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে গলাচিপাবাসীর বহুল কাঙ্ক্ষিত রাবনাবাদ সেতু। লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াছিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের (জেড–৮৮০৬) ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল হক নুর, এমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদ হোসেন চৌধুরী এবং পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন প্রমূখ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ হলে জনভোগান্তি লাঘব হবে। সরকারের লক্ষ জনগণকে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করা, এখানকার অর্থনীতেকে প্রাণচাঞ্চল্য করা, কর্মজীবী মানুষ তারা যাতে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে ও উৎপাদিত পন্য সহজে পরিবহন করতে পারে। উপজেলা থেকে জেলা ও রাজধানীর সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ হতে পারে—সেটাইতো একটা উন্নয়ন এবং ইনফেস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট। তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে এটা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সেটা বিবেচনা করে এই প্রকল্পটা নেয়া হয়েছে। রাবনাবাদ সেতুটি সরকার মনে করেছে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা আমূল পরিবর্তন ঘটাবে—এটা মানুষের একটা ডিমান্ড। সেটা বিবেচনা করে সরকার প্রকল্প নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন হতে চলছে। আমরা আশা করছি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে দাবি ও ভোগান্তি সেটির অবসান হতে চলছে। এটাই হচ্ছে একটা জনবান্ধন সরকারের কাজ এবং নির্বাচিত সরকারের দ্বায়িত্ব।
আসনটির সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে সংসদ সদস্য যিনি আছেন, তিনি এ ব্যাপারে সচেষ্ট; তিনি এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্খা ধারণ করেন, অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান। মন্ত্রী আরও বলেন, এখন সরকার রয়েছে, নির্বাচিত সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে, জবাবদিহিতা রয়েছে, জনকল্যাণ ও জনআকাঙ্খা প্রতিষ্ঠার দ্বায়িত্ব রয়েছে। সেই জায়গা থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা চেষ্টা করছি—কাজ উদ্বোধন করলাম, দ্রুত কাজ হবে এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে বলে আমাদের অঙ্গিকার থাকছে।
সরকারের কর্মতৎপরতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'দেখবেন মাত্র ২৫ দিনের একটি সরকার সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। যার যে দায়িত্ব আছে সেটা পালন করার জন্য চেষ্টা করছে,জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে,জনগণের প্রত্যাশা ও দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে।এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। '
ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরিবহনে এই ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে আগে যে রেশনিং পদ্ধতিটা ছিল সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। আমার ধারণা হচ্ছে, সরকার পর্যায়ক্রমে এই তেল সরবরাহটা নিশ্চিত করতে তৎপর আছে। এটা শুধু জাতীয় সমস্যা নয় আন্তর্জাতিক সংকট। এ সঙ্কট শুধু আমাদের না সব জায়গায় আছে। জ্বালানী তেলে আমাদের থেকেও বিপদজনক জায়গায় আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র'
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, সচিব ও চিফ ইন্জিনিয়ার সাহেব বিষয়টি জানে। সেতুটি নির্মাণের জন্য গত এক বছর ধরে কতবার তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেছি। আজকে ধন্যবাদ জানাই মন্ত্রী মহোদয় নিজে এসেছেন এত ব্যস্ততার মধ্যে। গলাচিপা- দশমিনাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাকে আপ্যায়ন করতে পারলে ভালো লাগতো, যেহেতু রমজান মাস আমরা তাকে আপ্যায়ন করতে পারেনি। আশা করি সেতুর কাজ সমাপ্ত হলে সেতুর উপর দিয়ে তাকে নিয়ে বাড়ি যাবো।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। সেতুটিতে মোট ১৯টি স্প্যান ও ২০টি পিয়ার থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি স্প্যান ৪২ দশমিক ৬৮ মিটার পিসি গার্ডার এবং নদীতে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ১টি ১০০ মিটার স্টিল বাউ ট্রাস স্প্যান নির্মাণ করা হবে।
সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স থাকবে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার এবং নির্মাণে মোট ২১৪টি পাইল ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে হরিদেবপুর প্রান্তে প্রায় ৫০০ মিটার এবং গলাচিপা প্রান্তে প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক থাকবে। নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে ১৬০০ মিটার। প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৭। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যৌথভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম. এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা এবং ওহিদুজ্জামান চৌধুরী (এমএনও) জেডি।
স্থানীয়দের মতে, রাবনাবাদ নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। সেতুটি চালু হলে তিন উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে ফেরিবিহীন সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে রাবনাবাদ নদী পারাপারে মানুষকে ফেরি ও ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। ফলে সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৬
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৩:২৫
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, নদী পারাপারের ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে অবশেষে বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে গলাচিপাবাসীর বহুল কাঙ্ক্ষিত রাবনাবাদ সেতু। লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াছিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের (জেড–৮৮০৬) ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল হক নুর, এমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদ হোসেন চৌধুরী এবং পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন প্রমূখ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ হলে জনভোগান্তি লাঘব হবে। সরকারের লক্ষ জনগণকে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করা, এখানকার অর্থনীতেকে প্রাণচাঞ্চল্য করা, কর্মজীবী মানুষ তারা যাতে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে ও উৎপাদিত পন্য সহজে পরিবহন করতে পারে। উপজেলা থেকে জেলা ও রাজধানীর সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ হতে পারে—সেটাইতো একটা উন্নয়ন এবং ইনফেস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট। তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে এটা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সেটা বিবেচনা করে এই প্রকল্পটা নেয়া হয়েছে। রাবনাবাদ সেতুটি সরকার মনে করেছে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা আমূল পরিবর্তন ঘটাবে—এটা মানুষের একটা ডিমান্ড। সেটা বিবেচনা করে সরকার প্রকল্প নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন হতে চলছে। আমরা আশা করছি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে দাবি ও ভোগান্তি সেটির অবসান হতে চলছে। এটাই হচ্ছে একটা জনবান্ধন সরকারের কাজ এবং নির্বাচিত সরকারের দ্বায়িত্ব।
আসনটির সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে সংসদ সদস্য যিনি আছেন, তিনি এ ব্যাপারে সচেষ্ট; তিনি এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্খা ধারণ করেন, অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চান। মন্ত্রী আরও বলেন, এখন সরকার রয়েছে, নির্বাচিত সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে, জবাবদিহিতা রয়েছে, জনকল্যাণ ও জনআকাঙ্খা প্রতিষ্ঠার দ্বায়িত্ব রয়েছে। সেই জায়গা থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা চেষ্টা করছি—কাজ উদ্বোধন করলাম, দ্রুত কাজ হবে এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে বলে আমাদের অঙ্গিকার থাকছে।
সরকারের কর্মতৎপরতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'দেখবেন মাত্র ২৫ দিনের একটি সরকার সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। যার যে দায়িত্ব আছে সেটা পালন করার জন্য চেষ্টা করছে,জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে,জনগণের প্রত্যাশা ও দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে।এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। '
ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরিবহনে এই ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে আগে যে রেশনিং পদ্ধতিটা ছিল সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। আমার ধারণা হচ্ছে, সরকার পর্যায়ক্রমে এই তেল সরবরাহটা নিশ্চিত করতে তৎপর আছে। এটা শুধু জাতীয় সমস্যা নয় আন্তর্জাতিক সংকট। এ সঙ্কট শুধু আমাদের না সব জায়গায় আছে। জ্বালানী তেলে আমাদের থেকেও বিপদজনক জায়গায় আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র'
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, সচিব ও চিফ ইন্জিনিয়ার সাহেব বিষয়টি জানে। সেতুটি নির্মাণের জন্য গত এক বছর ধরে কতবার তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেছি। আজকে ধন্যবাদ জানাই মন্ত্রী মহোদয় নিজে এসেছেন এত ব্যস্ততার মধ্যে। গলাচিপা- দশমিনাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাকে আপ্যায়ন করতে পারলে ভালো লাগতো, যেহেতু রমজান মাস আমরা তাকে আপ্যায়ন করতে পারেনি। আশা করি সেতুর কাজ সমাপ্ত হলে সেতুর উপর দিয়ে তাকে নিয়ে বাড়ি যাবো।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। সেতুটিতে মোট ১৯টি স্প্যান ও ২০টি পিয়ার থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি স্প্যান ৪২ দশমিক ৬৮ মিটার পিসি গার্ডার এবং নদীতে নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ১টি ১০০ মিটার স্টিল বাউ ট্রাস স্প্যান নির্মাণ করা হবে।
সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স থাকবে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার এবং নির্মাণে মোট ২১৪টি পাইল ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে হরিদেবপুর প্রান্তে প্রায় ৫০০ মিটার এবং গলাচিপা প্রান্তে প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক থাকবে। নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে ১৬০০ মিটার। প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৭। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যৌথভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম. এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা এবং ওহিদুজ্জামান চৌধুরী (এমএনও) জেডি।
স্থানীয়দের মতে, রাবনাবাদ নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। সেতুটি চালু হলে তিন উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে ফেরিবিহীন সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে রাবনাবাদ নদী পারাপারে মানুষকে ফেরি ও ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। ফলে সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।