
০১ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪২
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বুড়িরচর এলাকায় মমিন মসজিদসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে প্রায় ৪০০ ফুট হেরিংবোন রাস্তার ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সেচ প্রকল্পের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। রাস্তার ইট তুলে ফেলায় রোগীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার জানান, ‘প্রায় ২০ বছর আগে স্থানীয় হাওলাদার বাড়ির সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মরহুম মতিউর রহমান বেপারীর সুপারিশে সেচ প্রকল্পের একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে ড্রেনটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় তা এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে নতুন সেচ প্রকল্পের আওতায় মমিন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে থেকে পাইপ নেওয়া হচ্ছে। পাইপের মুখ স্কুল মাঠের দিকে, এরপর মসজিদের পুকুর—পানি কোথায় যাবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক কালাম হাওলাদার বলেন, ‘মমিন মসজিদ দেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম নিদর্শন। এটি সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, মসজিদকে পুঁজি করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রতিবছর বিভিন্ন দপ্তর থেকে বরাদ্দ আনেন। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও জানান, ‘ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি থাকাকালে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মসজিদের নামে বাথরুম নির্মাণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আনা হয়। অথচ আগে থেকেই সেখানে বাথরুম ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে প্রাইমারি স্কুল থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ২০০ ফুট হেরিংবোন রাস্তার বরাদ্দ এলেও মাত্র ১০০ ফুট কাজ করা হয়। পরে বাকি অংশের জন্য ধানীসাফা ইউনিয়ন প্রশাসকের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে বর্তমান সদস্য খোকনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক মাসের মাথায় সেচ প্রকল্পের পাইপ বসানোর জন্য পুরো রাস্তার ইট তুলে ফেলা হয়। রাস্তার দু’পাশে পাইপ বসানোর জায়গা থাকলেও তা ব্যবহার না করে ইচ্ছামতো কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদের প্রভাবে প্রায় এক মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের রাস্তা তুলে রাখা হয়েছে। এতে রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবাসন প্রকল্প নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছানোর মাধ্যমে তিনি অর্থ লাভ করেন।’
কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক মমিন বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন তিনি ক্লিনিকে রোগী দেখেন। যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার ইট তুলে ফেলা ঠিক হয়নি।’
গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইসমাইল খলিফা) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মমিন মসজিদকে পুঁজি করে সরকারি বরাদ্দ এনে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রাস্তা সরকারি নয়। আর সরকারি হলেও সেচ প্রকল্পের বিএডিসির ইঞ্জিনিয়ার রাজু সাহেব রাস্তার ইট সরিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে মসজিদকে পুঁজি করে বরাদ্দ এনে নিয়মমাফিক কাজ না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।’
পিরোজপুর বিএডিসির ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু বলেন, ‘রাস্তার ইট সরানোর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।’
২নং ধানীসাফা ইউনিয়নের প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ও জনসাধারণের সুবিধার জন্য রাস্তাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কেন পরিষদের রাস্তা নষ্ট করা হলো, তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।’
বরিশাল টাইমস
ছবি: বরিশাল টাইমস
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বুড়িরচর এলাকায় মমিন মসজিদসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে প্রায় ৪০০ ফুট হেরিংবোন রাস্তার ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সেচ প্রকল্পের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। রাস্তার ইট তুলে ফেলায় রোগীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার জানান, ‘প্রায় ২০ বছর আগে স্থানীয় হাওলাদার বাড়ির সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মরহুম মতিউর রহমান বেপারীর সুপারিশে সেচ প্রকল্পের একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে ড্রেনটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় তা এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে নতুন সেচ প্রকল্পের আওতায় মমিন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে থেকে পাইপ নেওয়া হচ্ছে। পাইপের মুখ স্কুল মাঠের দিকে, এরপর মসজিদের পুকুর—পানি কোথায় যাবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক কালাম হাওলাদার বলেন, ‘মমিন মসজিদ দেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম নিদর্শন। এটি সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, মসজিদকে পুঁজি করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রতিবছর বিভিন্ন দপ্তর থেকে বরাদ্দ আনেন। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও জানান, ‘ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি থাকাকালে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মসজিদের নামে বাথরুম নির্মাণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আনা হয়। অথচ আগে থেকেই সেখানে বাথরুম ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে প্রাইমারি স্কুল থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ২০০ ফুট হেরিংবোন রাস্তার বরাদ্দ এলেও মাত্র ১০০ ফুট কাজ করা হয়। পরে বাকি অংশের জন্য ধানীসাফা ইউনিয়ন প্রশাসকের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে বর্তমান সদস্য খোকনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক মাসের মাথায় সেচ প্রকল্পের পাইপ বসানোর জন্য পুরো রাস্তার ইট তুলে ফেলা হয়। রাস্তার দু’পাশে পাইপ বসানোর জায়গা থাকলেও তা ব্যবহার না করে ইচ্ছামতো কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদের প্রভাবে প্রায় এক মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের রাস্তা তুলে রাখা হয়েছে। এতে রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবাসন প্রকল্প নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছানোর মাধ্যমে তিনি অর্থ লাভ করেন।’
কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক মমিন বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন তিনি ক্লিনিকে রোগী দেখেন। যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার ইট তুলে ফেলা ঠিক হয়নি।’
গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইসমাইল খলিফা) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মমিন মসজিদকে পুঁজি করে সরকারি বরাদ্দ এনে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রাস্তা সরকারি নয়। আর সরকারি হলেও সেচ প্রকল্পের বিএডিসির ইঞ্জিনিয়ার রাজু সাহেব রাস্তার ইট সরিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে মসজিদকে পুঁজি করে বরাদ্দ এনে নিয়মমাফিক কাজ না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।’
পিরোজপুর বিএডিসির ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু বলেন, ‘রাস্তার ইট সরানোর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।’
২নং ধানীসাফা ইউনিয়নের প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ও জনসাধারণের সুবিধার জন্য রাস্তাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কেন পরিষদের রাস্তা নষ্ট করা হলো, তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।’
বরিশাল টাইমস

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৪৪
পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিদ্যালয় চলাকালে এক শিক্ষিকাকে বেতের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ছেলেদের খেলাধুলার জার্সি খুঁজে না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার ও সহকারী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আসমা আক্তার বেতের লাঠি দিয়ে হালিমা সুলতানাকে সজোরে কয়েকটি আঘাত করেন।
ঘটনার সময় অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এ ঘটনায় উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানা গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, ‘কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হালিমা সুলতানা আমাকে মারতে এলে আত্মরক্ষার্থে আমি তাকে দুই-তিনটি আঘাত করেছি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ জিয়ানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিদ্যালয় চলাকালে এক শিক্ষিকাকে বেতের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ছেলেদের খেলাধুলার জার্সি খুঁজে না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার ও সহকারী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আসমা আক্তার বেতের লাঠি দিয়ে হালিমা সুলতানাকে সজোরে কয়েকটি আঘাত করেন।
ঘটনার সময় অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এ ঘটনায় উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানা গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, ‘কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হালিমা সুলতানা আমাকে মারতে এলে আত্মরক্ষার্থে আমি তাকে দুই-তিনটি আঘাত করেছি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ জিয়ানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০৪
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় দাখিল পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বরত দুই কক্ষ পরিদর্শক এবং কেন্দ্র সচিবের এক সহকারীকে কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শাহাবুদ্দিন সিনিয়র কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে গণিত (১০৮) পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র সচিব ও ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জানান, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী মো. মাসুম বিল্লাহ উপজেলার আল গাযযালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই কক্ষ পরিদর্শক সহকারী অধ্যাপক পরিতোষ সমদ্দার, সহকারী শিক্ষক ছগির হোসেন এবং কেন্দ্র সচিবের সহকারী মো. এমদাদুল হককে কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় দাখিল পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বরত দুই কক্ষ পরিদর্শক এবং কেন্দ্র সচিবের এক সহকারীকে কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শাহাবুদ্দিন সিনিয়র কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে গণিত (১০৮) পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র সচিব ও ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জানান, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী মো. মাসুম বিল্লাহ উপজেলার আল গাযযালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই কক্ষ পরিদর্শক সহকারী অধ্যাপক পরিতোষ সমদ্দার, সহকারী শিক্ষক ছগির হোসেন এবং কেন্দ্র সচিবের সহকারী মো. এমদাদুল হককে কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৫
পিরোজপুরের নেছারাবাদে জন্ম নিয়েছে হাত-পাবিহীন এক নবজাতক। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত অর্ধেক। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। এমনকি সন্তানকে অন্যত্র দিয়ে দিতে কিংবা ফেলে আসারও নির্দেশ দেন তিনি।
তবে স্বামীর সেই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার। বিষয়টি রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেসন্তানটির জন্ম হয়। শিশুটির পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
প্রসূতি লিজা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সব ধরনের চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাসও তার সার্জন ফি গ্রহণ করেননি।
লিজা আক্তারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ২২ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায়নি। তার দুই পা ও একটি হাত নেই। এ কারণে আমার স্বামী তাকে ফেলে আসতে বলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানকে কখনো ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে না রাখলেও আমি আমার সন্তানকে ছাড়ব না। আমি তাকে মানুষ করে তুলব।’
লিজা আরও বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমি মারা গেলে আমার সন্তানকে কে দেখবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হতে পারে।’
নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দিনমজুর এই নারী ও নবজাতকের অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের সার্জন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রীতিশ বিশ্বাস, সহযোগী ডাক্তার মোস্তফা কাউসার, অজ্ঞানের ডাক্তার নাসরিন রহমান খান। এই তিনজনের অপারেশন টিমটি তাদের অপারেশন চার্জ মানবিক কারণে ফ্রি করে দিয়েছেন এবং হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করেছি।’
অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, ‘জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির শারীরিক ত্রুটি আমাদেরও মর্মাহত করেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আমি আমার সার্জন ফিও মওকুফ করেছি।’
একদিকে বাবার নির্মম অস্বীকৃতি, অন্যদিকে মায়ের অটুট ভালোবাসা—এই নবজাতকের জন্ম যেন সমাজের সামনে এক মানবিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। এখন সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে শিশুটির ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভরসা।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে জন্ম নিয়েছে হাত-পাবিহীন এক নবজাতক। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত অর্ধেক। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। এমনকি সন্তানকে অন্যত্র দিয়ে দিতে কিংবা ফেলে আসারও নির্দেশ দেন তিনি।
তবে স্বামীর সেই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার। বিষয়টি রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেসন্তানটির জন্ম হয়। শিশুটির পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
প্রসূতি লিজা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সব ধরনের চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাসও তার সার্জন ফি গ্রহণ করেননি।
লিজা আক্তারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ২২ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায়নি। তার দুই পা ও একটি হাত নেই। এ কারণে আমার স্বামী তাকে ফেলে আসতে বলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানকে কখনো ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে না রাখলেও আমি আমার সন্তানকে ছাড়ব না। আমি তাকে মানুষ করে তুলব।’
লিজা আরও বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমি মারা গেলে আমার সন্তানকে কে দেখবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হতে পারে।’
নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দিনমজুর এই নারী ও নবজাতকের অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের সার্জন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রীতিশ বিশ্বাস, সহযোগী ডাক্তার মোস্তফা কাউসার, অজ্ঞানের ডাক্তার নাসরিন রহমান খান। এই তিনজনের অপারেশন টিমটি তাদের অপারেশন চার্জ মানবিক কারণে ফ্রি করে দিয়েছেন এবং হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করেছি।’
অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, ‘জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির শারীরিক ত্রুটি আমাদেরও মর্মাহত করেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আমি আমার সার্জন ফিও মওকুফ করেছি।’
একদিকে বাবার নির্মম অস্বীকৃতি, অন্যদিকে মায়ের অটুট ভালোবাসা—এই নবজাতকের জন্ম যেন সমাজের সামনে এক মানবিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। এখন সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে শিশুটির ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভরসা।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৪৪
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৩১
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৫
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:০৯