
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৭
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মিছিল করেছেন হাজারও মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী’ দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে এই মিছিল করা হয়।
একই দিনে নিউইয়র্কে কয়েক শ মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন।বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘ঘটতে থাকা গণহত্যা’ও রাষ্ট্রীয় ‘সন্ত্রাস’র এর মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভরত ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ বলেন, এভাবে গণহারে মানুষ হত্যা ভীষণভাবে মর্মান্তিক। অনেক বিক্ষোভকারীর মতো তিনিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, কিছু বিক্ষোভকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার দাবিও তোলেন। খামেনি গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন।
গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে মিশ্র বার্তা দেন ট্রাম্প। প্রথমে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে আবার বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না- এমন আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরে অনেক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান দেন। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শাহের সন্তান রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে আছেন।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিকে ইরানি নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পর সেই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের বর্ণনা দিয়েছে ‘গণহত্যা’ হিসেবে।
নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু যাচাই করেছে। এসব তথ্য তারা ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্বাধীন সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছে।
তবে সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ও ইরানি কর্তৃপক্ষও এখনো নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানায়নি।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মিছিল করেছেন হাজারও মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী’ দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে এই মিছিল করা হয়।
একই দিনে নিউইয়র্কে কয়েক শ মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন।বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘ঘটতে থাকা গণহত্যা’ও রাষ্ট্রীয় ‘সন্ত্রাস’র এর মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভরত ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ বলেন, এভাবে গণহারে মানুষ হত্যা ভীষণভাবে মর্মান্তিক। অনেক বিক্ষোভকারীর মতো তিনিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, কিছু বিক্ষোভকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার দাবিও তোলেন। খামেনি গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন।
গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে মিশ্র বার্তা দেন ট্রাম্প। প্রথমে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে আবার বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না- এমন আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরে অনেক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান দেন। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শাহের সন্তান রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে আছেন।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিকে ইরানি নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পর সেই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের বর্ণনা দিয়েছে ‘গণহত্যা’ হিসেবে।
নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু যাচাই করেছে। এসব তথ্য তারা ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্বাধীন সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছে।
তবে সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ও ইরানি কর্তৃপক্ষও এখনো নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানায়নি।
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫১
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৯
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৬
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৬

৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫১
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। এটি শুধু ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; বরং আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জটিল সমন্বয়ে গঠিত। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের প্রধান দেশ হিসেবে গণ্য করে, যেখানে ইরান শিয়াদের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধর্মীয় বিভাজনকে প্রায়শই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে, যেমন- ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ বা লেবাননের হিজবুল্লাহ। সৌদি আরবও প্রয়োজনমত এই প্রক্সি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের ছায়া যুদ্ধ চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাতের গুরুত্ব আছে। সৌদি আরব ও ইরান উভয়ই তেল ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। যুদ্ধ ও উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়, আঞ্চলিক বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চালানো হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৫ সালে ইরানের সীমিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এই চুক্তিকে সমর্থন করেনি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে ইরানের পারমাণবিক অর্জন সৌদি আরবের জন্য সর্বদা একটি সম্ভাব্য বিপদ।
বৈশ্বিক প্রভাবও দ্বন্দ্বকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যকর, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে। চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উভয় দেশের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরান চায় সৌদি আরবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক, যেখানে সৌদি আরব চায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের শক্তি ও প্রভাব কমানো হোক। এটি কেবল সামরিক লড়াই নয়; এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়।
সৌদি আরব-ইরান দ্বন্দ্বের মূল উৎস কেবল ধর্মীয় বিভাজন নয়; এটি আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবের জটিল সমন্বয়। প্রক্সি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা দুই দেশকেই তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। এটি শুধু ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; বরং আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জটিল সমন্বয়ে গঠিত। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের প্রধান দেশ হিসেবে গণ্য করে, যেখানে ইরান শিয়াদের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধর্মীয় বিভাজনকে প্রায়শই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে, যেমন- ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ বা লেবাননের হিজবুল্লাহ। সৌদি আরবও প্রয়োজনমত এই প্রক্সি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের ছায়া যুদ্ধ চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাতের গুরুত্ব আছে। সৌদি আরব ও ইরান উভয়ই তেল ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। যুদ্ধ ও উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়, আঞ্চলিক বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চালানো হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৫ সালে ইরানের সীমিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এই চুক্তিকে সমর্থন করেনি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে ইরানের পারমাণবিক অর্জন সৌদি আরবের জন্য সর্বদা একটি সম্ভাব্য বিপদ।
বৈশ্বিক প্রভাবও দ্বন্দ্বকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যকর, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে। চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উভয় দেশের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরান চায় সৌদি আরবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক, যেখানে সৌদি আরব চায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের শক্তি ও প্রভাব কমানো হোক। এটি কেবল সামরিক লড়াই নয়; এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়।
সৌদি আরব-ইরান দ্বন্দ্বের মূল উৎস কেবল ধর্মীয় বিভাজন নয়; এটি আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবের জটিল সমন্বয়। প্রক্সি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা দুই দেশকেই তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ইসফাহান শহরের একটি গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বাঙ্কার বাস্টার বোমা হলো বিশেষ ধরনের শক্তিশালী পেনিট্রেটর অস্ত্র, যা মাটির গভীরে বা পুরু কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ বোমার মতো এটি মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয় না; বরং প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়। এই বোমাগুলোর শক্ত ধাতব আবরণ কংক্রিট ও পাথর ভেদ করতে সক্ষম এবং এতে এমন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময় বা গভীরতা অতিক্রম করার পর বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এত মারাত্মক হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর গভীর ভেদক্ষমতা এবং ভেতরে বিস্ফোরণের ক্ষমতা। এটি কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটির স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিস্ফোরণটি ভেতরে ঘটায় প্রচণ্ড চাপ, তাপ এবং শকওয়েভ সীমাবদ্ধ স্থানে আটকে থেকে বহুগুণ বেশি ধ্বংস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ধরনের অবকাঠামো সাধারণ বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন হওয়ায় বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণত আকাশ হামলা থেকে নিরাপদ থাকে, কিন্তু এই বিশেষ বোমা সেই নিরাপত্তা ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি ইসফাহান শহরের বাইরে মাউন্ট সোফেহ-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কথিতভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবহার নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছিল। জার্মানির বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের শেষ অবস্থানও ছিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব বাঙ্কার আরও জটিল ও শক্তিশালী হয়েছে, ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহারও বেড়েছে।
বলা হয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর অস্ত্র, যা বিশেষভাবে ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের মতো দেশগুলো যখন তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে, তখন এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ইসফাহান শহরের একটি গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বাঙ্কার বাস্টার বোমা হলো বিশেষ ধরনের শক্তিশালী পেনিট্রেটর অস্ত্র, যা মাটির গভীরে বা পুরু কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ বোমার মতো এটি মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয় না; বরং প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়। এই বোমাগুলোর শক্ত ধাতব আবরণ কংক্রিট ও পাথর ভেদ করতে সক্ষম এবং এতে এমন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময় বা গভীরতা অতিক্রম করার পর বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এত মারাত্মক হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর গভীর ভেদক্ষমতা এবং ভেতরে বিস্ফোরণের ক্ষমতা। এটি কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটির স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিস্ফোরণটি ভেতরে ঘটায় প্রচণ্ড চাপ, তাপ এবং শকওয়েভ সীমাবদ্ধ স্থানে আটকে থেকে বহুগুণ বেশি ধ্বংস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ধরনের অবকাঠামো সাধারণ বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন হওয়ায় বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণত আকাশ হামলা থেকে নিরাপদ থাকে, কিন্তু এই বিশেষ বোমা সেই নিরাপত্তা ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি ইসফাহান শহরের বাইরে মাউন্ট সোফেহ-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কথিতভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবহার নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছিল। জার্মানির বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের শেষ অবস্থানও ছিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব বাঙ্কার আরও জটিল ও শক্তিশালী হয়েছে, ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহারও বেড়েছে।
বলা হয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর অস্ত্র, যা বিশেষভাবে ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের মতো দেশগুলো যখন তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে, তখন এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৬:১৯
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোররাত ৩টার দিকে পানামার পতাকাবাহী 'পিভিটি সোলানা' জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পৌঁছেছে।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানী খালাস হবে। প্রয়োজনে জাহাজটিকে ডলফিন জেটিতে ভিড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়া বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ৪ এপ্রিল আরও একটি জাহাজ ভিড়তে পারে। এ নিয়ে গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছে ১৫টি জাহাজ, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৮টি জাহাজ এবং এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৯টি জাহাজ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোররাত ৩টার দিকে পানামার পতাকাবাহী 'পিভিটি সোলানা' জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পৌঁছেছে।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানী খালাস হবে। প্রয়োজনে জাহাজটিকে ডলফিন জেটিতে ভিড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়া বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ৪ এপ্রিল আরও একটি জাহাজ ভিড়তে পারে। এ নিয়ে গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছে ১৫টি জাহাজ, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৮টি জাহাজ এবং এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৯টি জাহাজ।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.