সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৬
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এ সড়কে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালামপুর আমনিয়া কামিল মাদ্রাসা, একটি নূরানি মাদ্রাসা ও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।
মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান কেরানি মাওলানা মহিবুল্লাহ সবুজ বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
লেবুখালী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সমাজসেবক রেজাউল করিম বাবুল মৃধা বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাকির হোসেন খান বলেন, “দৈনন্দিন চলাচলে এ রাস্তার দুরবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ইমদাদুল মৃধা বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের আওতাভুক্ত। সেখানে প্রায় ৮০০ ফুট রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আগামী জুন মাসে বাজেট এলে কোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১৬
সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"