
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১৬
সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"
সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"

০৬ জুন, ২০২৬ ১৫:১০
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস করতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন বড় বোন। এ খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ৩১ মে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত কাজ করতে গিয়ে কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী এলাকার এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় ইলেকট্রিশিয়ান ফোরকান হাওলাদার। এমন অভিযোগে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফোরকানের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ইলেকট্রিশিয়ানকে আটক করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
তবে এ ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাজানো ষড়যন্ত্র বলে স্থানীয়সহ আটক ব্যক্তির পরিবার দাবি করছেন। ফোরকানের স্ত্রী রেহেনার অভিযোগ, ফোন করে ডেকে নিয়ে কোনো কিছু না বলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতুড়িসহ লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তার স্বামীকে আহত করে তার ননদ বাড়ির লোকজন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী ননদ তার স্বামীর চেয়ে বয়সে অন্তত ১৩ বছরের বড়।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তার ননদ পরিবার ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় তার স্বামী ফোরকানের কাছ থেকে। পরে ইলেকট্রনিকস বিভিন্ন মালমাল নিয়ে আরও ২৫ হাজার টাকা দেনা করে। কিন্তু এসব টাকা ফেরত চাইলেই টালবাহানা শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে ননদের মেয়ে জামাতাকে ইয়াবাকাণ্ডে ধরিয়ে দেয় আমার স্বামী। এরপরই ওই পরিবার কৌশলে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দিয়ে এখন উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করছে।
আটক ফোরকানের ছোট ভাই কালাম জানান, ৫ ওয়াক্ত নামাজি একজন মানুষকে ডেকে নিয়ে অহেতুক মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল। মূলত টাকা না দেওয়া আর জামাইয়ের শোধ নিতে তার শাশুড়ি মান সম্মান হারানোর জন্য জঘন্য এই অপবাদ দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ আর পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য কৌশলে একজনকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণের বিষয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে অভিযোগকারীরা।
অপরদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফকরুল বলেন, আমি ভাইবোনের বিষয় শুনে ওই নারীর স্বামীকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর ফোন দিয়ে তিনি আমাকে সরাসরি বলেন ১০ লাখ টাকা দিলেই মামলা তুলে নেবে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী নারীর স্বামী ফকু বিশ্বাস বলেন, আমরা কোনো টাকা চাইনি। অন্য একজন এ কথা বলেছিল। আর কোনো ঘটনা মিথ্যা না।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য আর কিছু বলতে পারব না। সঠিক বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণচেষ্টা মামলা আপস করতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন বড় বোন। এ খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ৩১ মে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত কাজ করতে গিয়ে কলাপাড়া পৌরশহরের বাদুরতলী এলাকার এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় ইলেকট্রিশিয়ান ফোরকান হাওলাদার। এমন অভিযোগে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফোরকানের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ইলেকট্রিশিয়ানকে আটক করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
তবে এ ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাজানো ষড়যন্ত্র বলে স্থানীয়সহ আটক ব্যক্তির পরিবার দাবি করছেন। ফোরকানের স্ত্রী রেহেনার অভিযোগ, ফোন করে ডেকে নিয়ে কোনো কিছু না বলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতুড়িসহ লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তার স্বামীকে আহত করে তার ননদ বাড়ির লোকজন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী ননদ তার স্বামীর চেয়ে বয়সে অন্তত ১৩ বছরের বড়।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তার ননদ পরিবার ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় তার স্বামী ফোরকানের কাছ থেকে। পরে ইলেকট্রনিকস বিভিন্ন মালমাল নিয়ে আরও ২৫ হাজার টাকা দেনা করে। কিন্তু এসব টাকা ফেরত চাইলেই টালবাহানা শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে ননদের মেয়ে জামাতাকে ইয়াবাকাণ্ডে ধরিয়ে দেয় আমার স্বামী। এরপরই ওই পরিবার কৌশলে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দিয়ে এখন উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করছে।
আটক ফোরকানের ছোট ভাই কালাম জানান, ৫ ওয়াক্ত নামাজি একজন মানুষকে ডেকে নিয়ে অহেতুক মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল। মূলত টাকা না দেওয়া আর জামাইয়ের শোধ নিতে তার শাশুড়ি মান সম্মান হারানোর জন্য জঘন্য এই অপবাদ দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ আর পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য কৌশলে একজনকে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশজুড়ে ধর্ষণের বিষয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে অভিযোগকারীরা।
অপরদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফকরুল বলেন, আমি ভাইবোনের বিষয় শুনে ওই নারীর স্বামীকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর ফোন দিয়ে তিনি আমাকে সরাসরি বলেন ১০ লাখ টাকা দিলেই মামলা তুলে নেবে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী নারীর স্বামী ফকু বিশ্বাস বলেন, আমরা কোনো টাকা চাইনি। অন্য একজন এ কথা বলেছিল। আর কোনো ঘটনা মিথ্যা না।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলমান। আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য আর কিছু বলতে পারব না। সঠিক বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

০৬ জুন, ২০২৬ ১৩:০৯
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের চোখের পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ঘটনাটি উপজেলার মোল্লা বাড়ির পোল এলাকায় মোহন ও বিথী আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পরিবেশনের সময় অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের দাওয়াতে অতিথিদের খাবার পরিবেশন চলছিল। এ সময় ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা খাবার পরিবেশনকারী কনের চাচা রাসেল মোল্লার কাছে অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথার লড়াই একপর্যায়ে উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিথিদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পলাশ মোল্লা (২৯), জুলহাস মোল্লা (২৫) ও রাসেল মোল্লা (২২)। তাদের মধ্যে রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহত রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কনের মামা বাবলু আকন অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তবে এ বিষয়ে ছেলে পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের চোখের পাশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ঘটনাটি উপজেলার মোল্লা বাড়ির পোল এলাকায় মোহন ও বিথী আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পরিবেশনের সময় অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের দাওয়াতে অতিথিদের খাবার পরিবেশন চলছিল। এ সময় ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা খাবার পরিবেশনকারী কনের চাচা রাসেল মোল্লার কাছে অতিরিক্ত একটি মুরগির রোস্ট চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথার লড়াই একপর্যায়ে উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিথিদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পলাশ মোল্লা (২৯), জুলহাস মোল্লা (২৫) ও রাসেল মোল্লা (২২)। তাদের মধ্যে রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহত রাসেল মোল্লার বাম চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কনের মামা বাবলু আকন অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত রোস্ট চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে পক্ষের আলম প্যাদা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তবে এ বিষয়ে ছেলে পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৫ জুন, ২০২৬ ১৮:৫২
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মার্জিয়া নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের চর সুহুরী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মার্জিয়া (২০) গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা মো. আলতাফ হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে শুক্রবার গলাচিপা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও রাসেলের বন্ধু লিমনকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার।
আসামিরা হলেন স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), রাসেলের বন্ধু লিমন (২৫) রাসেলের বাবা মো. বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও মা মোসা. মাসুমা বেগম (৪৪)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের মো. রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে মার্জিয়ার প্রায় আড়াই বছর আগে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই রাসেলের বাবা বাচ্চু হাওলাদার ও মা মাসুমা বেগম প্রায়ই মার্জিয়াকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। এতে মার্জিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এদিকে, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে মাদক সেবন করে আসছিল। মার্জিয়া তার স্বামীকে মাদক সেবন ও বন্ধু লিমনের সঙ্গে মিশতে বাধা দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল মার্জিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। পরবর্তীতে মার্জিয়া বিষয়টি তার শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে জানালে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে (মার্জিয়া) বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথা শুনাত।
মামলায় আরো বলা হয়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের (রাসেলের) ঘরে আসে। তখন মার্জিয়া লিমনকে ঘরে দেখতে পেয়ে স্বামীর কাছে জানতে চায়-লিমন কেন ঘরে এসেছে? তখন রাসেল উত্তেজিত হয়ে মার্জিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথাবার্তা বলেন।
এর পর বন্ধু লিমনকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া যেতে বাধা দেয়। এ সময় রাসেল আবারও মার্জিয়াকে গালাগাল করে।
ঘটনাটি শ্বশুর ও শাশুড়িকে জানালে তারাও গালাগালসহ অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এতে অভিমানে মার্জিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা আলতাফ হোসেন গলাচিপা থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মার্জিয়া নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের চর সুহুরী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মার্জিয়া (২০) গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা মো. আলতাফ হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে শুক্রবার গলাচিপা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও রাসেলের বন্ধু লিমনকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার।
আসামিরা হলেন স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), রাসেলের বন্ধু লিমন (২৫) রাসেলের বাবা মো. বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও মা মোসা. মাসুমা বেগম (৪৪)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের মো. রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে মার্জিয়ার প্রায় আড়াই বছর আগে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই রাসেলের বাবা বাচ্চু হাওলাদার ও মা মাসুমা বেগম প্রায়ই মার্জিয়াকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। এতে মার্জিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এদিকে, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে মাদক সেবন করে আসছিল। মার্জিয়া তার স্বামীকে মাদক সেবন ও বন্ধু লিমনের সঙ্গে মিশতে বাধা দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল মার্জিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। পরবর্তীতে মার্জিয়া বিষয়টি তার শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে জানালে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে (মার্জিয়া) বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথা শুনাত।
মামলায় আরো বলা হয়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের (রাসেলের) ঘরে আসে। তখন মার্জিয়া লিমনকে ঘরে দেখতে পেয়ে স্বামীর কাছে জানতে চায়-লিমন কেন ঘরে এসেছে? তখন রাসেল উত্তেজিত হয়ে মার্জিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথাবার্তা বলেন।
এর পর বন্ধু লিমনকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া যেতে বাধা দেয়। এ সময় রাসেল আবারও মার্জিয়াকে গালাগাল করে।
ঘটনাটি শ্বশুর ও শাশুড়িকে জানালে তারাও গালাগালসহ অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এতে অভিমানে মার্জিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা আলতাফ হোসেন গলাচিপা থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১০ জুন, ২০২৬ ১৯:৫২
১০ জুন, ২০২৬ ১৭:২৪
১০ জুন, ২০২৬ ১৬:৩৭
১০ জুন, ২০২৬ ১৬:২৮