সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২২
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২০

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩০
পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে রমিজ মৃধা নামের চল্লিশোর্ধ্ব এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করে।
আহত রমিজ মৃধার স্ত্রীর অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনপরবর্তী সময় থেকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জামায়াত নেতা কামাল এবং তার ছেলে রমিজের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যার পর কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পেছন থেকে আকস্মিকভাবে রমিজ মৃধার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রমিজ মৃধার বাম হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পিঠে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
তবে রমিজ মৃধাকে কোপানো এবং চাঁদা দাবির বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কামাল ও তার ছেলের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিরাজুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ বাউফল হাসপাতালে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১৬
সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে রমিজ মৃধা নামের চল্লিশোর্ধ্ব এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করে।
আহত রমিজ মৃধার স্ত্রীর অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনপরবর্তী সময় থেকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জামায়াত নেতা কামাল এবং তার ছেলে রমিজের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যার পর কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পেছন থেকে আকস্মিকভাবে রমিজ মৃধার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রমিজ মৃধার বাম হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পিঠে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
তবে রমিজ মৃধাকে কোপানো এবং চাঁদা দাবির বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কামাল ও তার ছেলের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিরাজুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ বাউফল হাসপাতালে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬