ছবি- সংগৃহীত
বরিশালের মুলাদীতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন হাওলাদার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করেছে পুলিশ।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সালাম পন্ডিতের ছেলে নোমান পন্ডিত (৩৫), দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আক্তার ওরফে নান্নু সরদারের ছেলে আজিজুল সরদার (২৭), লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ আকনের ছেলে কাওসার আকন (৪৫) ও আলী ঘরামীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ ৪-৫ জন মিলে আল আমিন হাওলাদারকে হত্যা করেছে।
মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদার তাদের বাড়িতে যান। তারা দুজন আল আমিনকে পাওনা টাকা দেবেন বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে তারা আল আমিনকে মোটরসাইকেলে করে নোমান পন্ডিতের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন আল আমিনকে মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তারা আল আমিনকে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে ফেলে দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসিফকে মোবাইলে জানান। পরবর্তীতে তিনি লোকজন নিয়ে নোমান পন্ডিতের বাড়ির পাশ থেকে তার ভাইকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, তার ভাই এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নোমানসহ অন্যদের কাছে টাকা ফেরত চান। পরে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তারা আল আমিনকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে নিহত আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাড়ি পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ঘরামীকেও আটক করেন। শাহাবুদ্দিন ঘরামীর বিরুদ্ধে মাদকসহ প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, যুবককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল টাইমস

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:০৫
বরিশালের মুলাদীতে অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদকবিক্রেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার সকালে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের তেরচর রানার বাড়ি এলাকার জনৈক নাসিরের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে পারভেজ রাঢ়ী (৩৩) এবং মো. আজিজুল হাকিমকে (২৪) আটকে সফলতা পায় বাহিনীটি। মাদক উদ্ধার এবং আটকের বিষয়টি দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে মাদক মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় বাবুল রাঢ়ীর ছেলে পারভেজ এবং সহিদ খানের ছেলে আজিজুল হাকিম দীর্ঘদিন মাদক ক্রয়বিক্রয় করে আসছিলেন। সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের তেরচর রানার বাড়ি এলাকার জনৈক নাসিরের ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এবং তাদের কাছ থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জানান, এই ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।’
বরিশালের মুলাদীতে অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদকবিক্রেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার সকালে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের তেরচর রানার বাড়ি এলাকার জনৈক নাসিরের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে পারভেজ রাঢ়ী (৩৩) এবং মো. আজিজুল হাকিমকে (২৪) আটকে সফলতা পায় বাহিনীটি। মাদক উদ্ধার এবং আটকের বিষয়টি দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে মাদক মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় বাবুল রাঢ়ীর ছেলে পারভেজ এবং সহিদ খানের ছেলে আজিজুল হাকিম দীর্ঘদিন মাদক ক্রয়বিক্রয় করে আসছিলেন। সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের তেরচর রানার বাড়ি এলাকার জনৈক নাসিরের ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এবং তাদের কাছ থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জানান, এই ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।’

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৫
দেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের ঘাটতি থাকলেও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মক্ষম মানুষের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ প্রবাসীদের জন্যও সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের ঘাটতি রয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।”
কলেজের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বিএম কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
এ সময় কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের ঘাটতি থাকলেও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মক্ষম মানুষের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ প্রবাসীদের জন্যও সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের ঘাটতি রয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।”
কলেজের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বিএম কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
এ সময় কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:০৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
সোমবার দুপুর ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এর আগে সকাল থেকেই একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় অনশনে বসার ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। পাশাপাশি পক্ষপাতমূলক আচরণ, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে বিভাগটির যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ে মাত্র দুটি ব্যাচের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এসময়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো.নাজমুল হোসেন বলেন, আমাদের দাবি বর্তমান ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারি চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ এবং বিভাগ থেকে অপসারণ। গতকাল আমরা উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এবং সংবাদ সন্মেলন করে বলেছিলাম আজ দুপুর ১২ টার ভিতর হাফিজ আশরাফুল হককে অপসারণ না করলে আমরা অনশনে বসবো। কিন্তু উপাচার্যের দপ্তরে আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করেও কোন সমাধান নে পেয়ে প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছি। যত সময় না পর্যন্ত এই স্বৈরাচার চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুলকে অপসারণ না করবে তত সময় পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বেই রয়েছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
সোমবার দুপুর ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এর আগে সকাল থেকেই একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় অনশনে বসার ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। পাশাপাশি পক্ষপাতমূলক আচরণ, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে বিভাগটির যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ে মাত্র দুটি ব্যাচের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এসময়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো.নাজমুল হোসেন বলেন, আমাদের দাবি বর্তমান ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারি চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ এবং বিভাগ থেকে অপসারণ। গতকাল আমরা উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এবং সংবাদ সন্মেলন করে বলেছিলাম আজ দুপুর ১২ টার ভিতর হাফিজ আশরাফুল হককে অপসারণ না করলে আমরা অনশনে বসবো। কিন্তু উপাচার্যের দপ্তরে আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করেও কোন সমাধান নে পেয়ে প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছি। যত সময় না পর্যন্ত এই স্বৈরাচার চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুলকে অপসারণ না করবে তত সময় পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বেই রয়েছেন।

১৭ মে, ২০২৬ ২০:১১
বরিশালের মুলাদীতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন হাওলাদার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করেছে পুলিশ।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সালাম পন্ডিতের ছেলে নোমান পন্ডিত (৩৫), দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আক্তার ওরফে নান্নু সরদারের ছেলে আজিজুল সরদার (২৭), লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ আকনের ছেলে কাওসার আকন (৪৫) ও আলী ঘরামীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ ৪-৫ জন মিলে আল আমিন হাওলাদারকে হত্যা করেছে।
মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদার তাদের বাড়িতে যান। তারা দুজন আল আমিনকে পাওনা টাকা দেবেন বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে তারা আল আমিনকে মোটরসাইকেলে করে নোমান পন্ডিতের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন আল আমিনকে মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তারা আল আমিনকে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে ফেলে দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসিফকে মোবাইলে জানান। পরবর্তীতে তিনি লোকজন নিয়ে নোমান পন্ডিতের বাড়ির পাশ থেকে তার ভাইকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, তার ভাই এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নোমানসহ অন্যদের কাছে টাকা ফেরত চান। পরে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তারা আল আমিনকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে নিহত আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাড়ি পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ঘরামীকেও আটক করেন। শাহাবুদ্দিন ঘরামীর বিরুদ্ধে মাদকসহ প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, যুবককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল টাইমস
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬