ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামসহ দেশের ৬ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে
এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৭

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪০
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৯
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।’

০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫০
চট্টগ্রামসহ দেশের ৬ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে
এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
জীবনানন্দের জন্মভিটা থেকে কীর্তনখোলার ঢেউ, বিবির পুকুরের চা আর সুন্দরবন-৭-এর চাঁদভেজা রাত—বরিশালের সঙ্গে দুই দশকের স্মৃতির খেরোখাতা
মো. সাজেদুর রহমান সাজিদ
বরিশাল গেলে কীর্তনখোলার কাছে যেতেই হয়। ছোট ডিঙি নৌকায় কিছুক্ষণ কীর্তনখোলার বুকে ভেসে না থাকলে বরিশাল-ভ্রমণ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নদীর জলের যে কী দুর্বার আবেদন, কীর্তনখোলার কাছে না গেলে তা টেরই পাওয়া যায় না।
বৃহস্পতিবারেও তার ব্যতিক্রম হলো না। বরিশালে ঢুকেই চলে গেলাম ত্রিশ গোডাউন ঘাটে। নদীপাড়, নদীপাড় ঘেঁষে ঝকঝকে পিচঢালা রাস্তা—বরিশাল যেন নতুন করে বাংলার ভেনিস হয়ে উঠছে। শহরঘেঁষে এমন দুর্দান্ত সুন্দর একটি নদী আছে বলেই হয়তো এই শহরে জীবনানন্দ দাশের জন্ম।
এর আগেই পশ্চিম বগুড়া রোডে জীবনানন্দের জন্মভিটায় ঢুঁ মেরেছিলাম। সড়কের নাম কবির নামে রাখা হলেও বগুড়া রোডের পুরোনো নামটি এখনো মুছে যায়নি। জন্মভিটায় গড়ে উঠেছে স্মৃতি পাঠাগার। তখনও সেটি খোলার সময় হয়নি। তাই ভেতরে যাওয়ার সুযোগ হলো না। তবে সার্বিক অবস্থা দেখে মর্মাহত হয়েছি।
২০১৯ সালে শেক্সপিয়ারের জন্মভিটা দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে প্রবেশমূল্য বেশ চড়া, তবুও প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়। রয়েছে স্যুভেনির বিক্রির ব্যবস্থাও। শেক্সপিয়ারের জন্মভিটার সঙ্গে জীবনানন্দের জন্মভিটার তুলনা চলে না—এ কথা ঠিক। কিন্তু জীবনানন্দ ও তাঁর কবিতার আবেদনও যে হাজার বছরেও কমবে না, সে বিশ্বাস রাখি।
এমন একজন কবির জন্মভিটাকে কত আকর্ষণীয়ভাবেই না উপস্থাপন করা যেত! গুণীজনের কদর করতে না পারার দৃষ্টান্ত হিসেবে হয়তো কোনো একদিন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও আমাদের নাম উঠে যাবে!
বরিশাল শহরের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কুড়ি বছর পেরিয়ে গেছে। তখন সবে পড়াশোনা শেষ করেছি, টেলিকমে কাজ করি। অফিস থেকে এক মাসের জন্য বরিশালে পাঠিয়ে দিল। উত্তরের ডাঙার ছেলে এসে পড়লাম নদী-খালবেষ্টিত এই শহরে। শহরে পরিচিত বলতে তেমন কেউ নেই। দিনে এদিক-সেদিক ঘুরি, সন্ধ্যা হলে শহরে ফিরে আসি। বেশির ভাগ সময় সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে থাকতাম।
পাশেই অশ্বিনীকুমার হল। সেখানে কালচারাল প্রোগ্রাম, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ হয়। অল্প কিছু দূরেই বিবির পুকুর। পুকুর ঘিরে বাঁধানো সুন্দর হাঁটার পথ। জলও বেশ স্বচ্ছ, ময়লা-আবর্জনা নেই। এক কোণে ছিল টং দোকান। সেখানে খুব ভালো আদা-লেবু চা বানাত। সময় পেলেই টংয়ে গিয়ে বসতাম। চা খেতে খেতে দেখতাম বরিশাইল্লা মানুষ।
একবার মন চাইল, লঞ্চে করে ঢাকা ফিরব। তখন সুন্দরবন-৭ নামে অত্যাধুনিক একটি লঞ্চ চলত। শেরেবাংলা রোডে টিকিট কাটার জন্য কাউন্টার খুঁজছিলাম।
এক দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘সুন্দরবনের কাউন্টার কোন দিকে?’
তিনি জানেন না। তাঁর কাছ থেকে সরে সামনে এগোতেই দেখি, কাউন্টার একেবারে চোখের সামনে।
সামনেই কাউন্টার, অথচ জানেন না? বিষয়টি আমাকে বেশ অবাক করল। ফিরে এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম।
তিনি নির্বিকারভাবে বললেন, ‘হেইয়া জাইন্না মোর কাম কী!’
সেদিন লোকটির ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলাম। পরে বুঝেছি, এটি আসলে এক অসাধারণ কথা—এক ভিন্ন দার্শনিক তত্ত্ব। জীবনে বহু মানুষের কাছে এই দর্শনের পাঠ শুনেছি। সেই দোকানদারের কাছেই যেন তার হাতেখড়ি হয়েছিল।
সুন্দরবন-৭-এ কেবিন নিয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগে বরিশাল নদীবন্দর ছেড়ে লঞ্চটি কীর্তনখোলায় ভাসতে শুরু করল। কেবিন ছেড়ে চলে গেলাম উপরের খোলা ডেকে।
আকাশে চাঁদ। চাঁদের আলো নদীর জলে পড়ে তৈরি করেছে অপূর্ব এক দৃশ্য। কয়েকজন ছেলে গান গাইছে, সঙ্গে গিটার। কেউ গল্প করছে। রাত যত গভীর হচ্ছে, শব্দও তত কমে আসছে। নদীর বুক চিরে সুন্দরবন-৭ এগিয়ে চলেছে।
কী শীতল বাতাস! প্রচণ্ড গরমের সময়ও ঠান্ডা লাগার মতো অবস্থা। এমন পরিবেশ ছেড়ে কেবিনে ফিরতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। ডেকের ওপরই বসে থাকলাম।
আহা, ভ্রমণ কত সুন্দর হতে পারে!
এরপর আর লঞ্চে যাওয়া হয়নি। কিন্তু সেই স্মৃতির জাবর কাটতে এখনো বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢুঁ মারি।
সে সময়ের বরিশাল অনেকটাই মফস্বলের মতো ছিল। শহরটাকে বেশি আপন মনে হতো। এখন বরিশালে কসমোপলিটান ভাব এসেছে। তারপরও ভালো লাগায় ভাটা পড়েনি।
এক ফাঁকে ব্রজমোহন কলেজেও ঢুকে পড়লাম। প্রাচীন ও সুন্দর ভবনগুলো এখনো মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে। কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা মিলল জীবনানন্দ দাশ চত্বরের।
সাগরদী, বান্দ রোড, বাইপাস হয়ে নথুল্লাবাদের দিকে যাই। এর আগে সড়ক বিভাগের অফিসও নজরে পড়ে। তখন বৃষ্টির প্রকোপ বাড়ছে। দেখে-শুনে চলে গেলাম ভুরঘাটা। আমাদের বরিশাল আসার মূল কারণই ছিল সেখানে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত সেখানেও পৌঁছালাম।
ফেরার পথে অমল দা নিয়ে গেলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মভিটায়। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। পাথারিয়া বাজার পেরিয়ে পূর্ব মাইজপাড়া।
সুনীলের জন্মভিটার অবস্থা জীবনানন্দের চেয়েও খারাপ। অথচ ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতার উপমা, স্থান কিংবা চরিত্রগুলোর অনেকটাই যেন এই বাড়ির আশপাশের বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে। সঙ্গে থাকা এক ভাই কিছুটা ধারণা দিলেন, জায়গাগুলোর সঙ্গে কবিতার স্মৃতির যোগসূত্রের কথা বললেন।
ফেরার পথে পাথারিয়া বাজারের দুধ চায়ের কথা উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে। এক কাপ চা খেলাম। তারপর আরও এক কাপ হাতে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম।
ড্রাইভার কুদ্দুস তখন ঢাকার দিকে গাড়ি ছুটিয়ে চলেছেন।
পেছনে পড়ে রইল বরিশাল—কীর্তনখোলার জল, চাঁদের আলো, লঞ্চের ডেক, বিবির পুকুরের আদা-লেবু চা, জীবনানন্দের স্মৃতি আর সুনীলের জন্মভিটার নীরবতা।
শহর বদলায়, রাস্তা বদলায়, মানুষ বদলায়। কিন্তু কিছু শহর স্মৃতির ভেতর থেকে যায় আগের মতোই। বরিশাল আমার কাছে তেমনই এক শহর—যেখানে নদীর জল ছুঁয়ে গেলে পুরোনো দিনের দরজা খুলে যায়, আর কীর্তনখোলার বাতাসে ভেসে আসে জীবনের কোনো এক হারিয়ে যাওয়া সময়ের গন্ধ।
মো. সাজেদুর রহমান সাজিদ, কর্মকর্তা, সড়ক বিভাগ, ঢাকা
জীবনানন্দের জন্মভিটা থেকে কীর্তনখোলার ঢেউ, বিবির পুকুরের চা আর সুন্দরবন-৭-এর চাঁদভেজা রাত—বরিশালের সঙ্গে দুই দশকের স্মৃতির খেরোখাতা
মো. সাজেদুর রহমান সাজিদ
বরিশাল গেলে কীর্তনখোলার কাছে যেতেই হয়। ছোট ডিঙি নৌকায় কিছুক্ষণ কীর্তনখোলার বুকে ভেসে না থাকলে বরিশাল-ভ্রমণ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নদীর জলের যে কী দুর্বার আবেদন, কীর্তনখোলার কাছে না গেলে তা টেরই পাওয়া যায় না।
বৃহস্পতিবারেও তার ব্যতিক্রম হলো না। বরিশালে ঢুকেই চলে গেলাম ত্রিশ গোডাউন ঘাটে। নদীপাড়, নদীপাড় ঘেঁষে ঝকঝকে পিচঢালা রাস্তা—বরিশাল যেন নতুন করে বাংলার ভেনিস হয়ে উঠছে। শহরঘেঁষে এমন দুর্দান্ত সুন্দর একটি নদী আছে বলেই হয়তো এই শহরে জীবনানন্দ দাশের জন্ম।
এর আগেই পশ্চিম বগুড়া রোডে জীবনানন্দের জন্মভিটায় ঢুঁ মেরেছিলাম। সড়কের নাম কবির নামে রাখা হলেও বগুড়া রোডের পুরোনো নামটি এখনো মুছে যায়নি। জন্মভিটায় গড়ে উঠেছে স্মৃতি পাঠাগার। তখনও সেটি খোলার সময় হয়নি। তাই ভেতরে যাওয়ার সুযোগ হলো না। তবে সার্বিক অবস্থা দেখে মর্মাহত হয়েছি।
২০১৯ সালে শেক্সপিয়ারের জন্মভিটা দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে প্রবেশমূল্য বেশ চড়া, তবুও প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়। রয়েছে স্যুভেনির বিক্রির ব্যবস্থাও। শেক্সপিয়ারের জন্মভিটার সঙ্গে জীবনানন্দের জন্মভিটার তুলনা চলে না—এ কথা ঠিক। কিন্তু জীবনানন্দ ও তাঁর কবিতার আবেদনও যে হাজার বছরেও কমবে না, সে বিশ্বাস রাখি।
এমন একজন কবির জন্মভিটাকে কত আকর্ষণীয়ভাবেই না উপস্থাপন করা যেত! গুণীজনের কদর করতে না পারার দৃষ্টান্ত হিসেবে হয়তো কোনো একদিন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও আমাদের নাম উঠে যাবে!
বরিশাল শহরের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কুড়ি বছর পেরিয়ে গেছে। তখন সবে পড়াশোনা শেষ করেছি, টেলিকমে কাজ করি। অফিস থেকে এক মাসের জন্য বরিশালে পাঠিয়ে দিল। উত্তরের ডাঙার ছেলে এসে পড়লাম নদী-খালবেষ্টিত এই শহরে। শহরে পরিচিত বলতে তেমন কেউ নেই। দিনে এদিক-সেদিক ঘুরি, সন্ধ্যা হলে শহরে ফিরে আসি। বেশির ভাগ সময় সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে থাকতাম।
পাশেই অশ্বিনীকুমার হল। সেখানে কালচারাল প্রোগ্রাম, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ হয়। অল্প কিছু দূরেই বিবির পুকুর। পুকুর ঘিরে বাঁধানো সুন্দর হাঁটার পথ। জলও বেশ স্বচ্ছ, ময়লা-আবর্জনা নেই। এক কোণে ছিল টং দোকান। সেখানে খুব ভালো আদা-লেবু চা বানাত। সময় পেলেই টংয়ে গিয়ে বসতাম। চা খেতে খেতে দেখতাম বরিশাইল্লা মানুষ।
একবার মন চাইল, লঞ্চে করে ঢাকা ফিরব। তখন সুন্দরবন-৭ নামে অত্যাধুনিক একটি লঞ্চ চলত। শেরেবাংলা রোডে টিকিট কাটার জন্য কাউন্টার খুঁজছিলাম।
এক দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘সুন্দরবনের কাউন্টার কোন দিকে?’
তিনি জানেন না। তাঁর কাছ থেকে সরে সামনে এগোতেই দেখি, কাউন্টার একেবারে চোখের সামনে।
সামনেই কাউন্টার, অথচ জানেন না? বিষয়টি আমাকে বেশ অবাক করল। ফিরে এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম।
তিনি নির্বিকারভাবে বললেন, ‘হেইয়া জাইন্না মোর কাম কী!’
সেদিন লোকটির ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলাম। পরে বুঝেছি, এটি আসলে এক অসাধারণ কথা—এক ভিন্ন দার্শনিক তত্ত্ব। জীবনে বহু মানুষের কাছে এই দর্শনের পাঠ শুনেছি। সেই দোকানদারের কাছেই যেন তার হাতেখড়ি হয়েছিল।
সুন্দরবন-৭-এ কেবিন নিয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগে বরিশাল নদীবন্দর ছেড়ে লঞ্চটি কীর্তনখোলায় ভাসতে শুরু করল। কেবিন ছেড়ে চলে গেলাম উপরের খোলা ডেকে।
আকাশে চাঁদ। চাঁদের আলো নদীর জলে পড়ে তৈরি করেছে অপূর্ব এক দৃশ্য। কয়েকজন ছেলে গান গাইছে, সঙ্গে গিটার। কেউ গল্প করছে। রাত যত গভীর হচ্ছে, শব্দও তত কমে আসছে। নদীর বুক চিরে সুন্দরবন-৭ এগিয়ে চলেছে।
কী শীতল বাতাস! প্রচণ্ড গরমের সময়ও ঠান্ডা লাগার মতো অবস্থা। এমন পরিবেশ ছেড়ে কেবিনে ফিরতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। ডেকের ওপরই বসে থাকলাম।
আহা, ভ্রমণ কত সুন্দর হতে পারে!
এরপর আর লঞ্চে যাওয়া হয়নি। কিন্তু সেই স্মৃতির জাবর কাটতে এখনো বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢুঁ মারি।
সে সময়ের বরিশাল অনেকটাই মফস্বলের মতো ছিল। শহরটাকে বেশি আপন মনে হতো। এখন বরিশালে কসমোপলিটান ভাব এসেছে। তারপরও ভালো লাগায় ভাটা পড়েনি।
এক ফাঁকে ব্রজমোহন কলেজেও ঢুকে পড়লাম। প্রাচীন ও সুন্দর ভবনগুলো এখনো মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে। কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা মিলল জীবনানন্দ দাশ চত্বরের।
সাগরদী, বান্দ রোড, বাইপাস হয়ে নথুল্লাবাদের দিকে যাই। এর আগে সড়ক বিভাগের অফিসও নজরে পড়ে। তখন বৃষ্টির প্রকোপ বাড়ছে। দেখে-শুনে চলে গেলাম ভুরঘাটা। আমাদের বরিশাল আসার মূল কারণই ছিল সেখানে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত সেখানেও পৌঁছালাম।
ফেরার পথে অমল দা নিয়ে গেলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মভিটায়। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। পাথারিয়া বাজার পেরিয়ে পূর্ব মাইজপাড়া।
সুনীলের জন্মভিটার অবস্থা জীবনানন্দের চেয়েও খারাপ। অথচ ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতার উপমা, স্থান কিংবা চরিত্রগুলোর অনেকটাই যেন এই বাড়ির আশপাশের বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে। সঙ্গে থাকা এক ভাই কিছুটা ধারণা দিলেন, জায়গাগুলোর সঙ্গে কবিতার স্মৃতির যোগসূত্রের কথা বললেন।
ফেরার পথে পাথারিয়া বাজারের দুধ চায়ের কথা উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে। এক কাপ চা খেলাম। তারপর আরও এক কাপ হাতে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম।
ড্রাইভার কুদ্দুস তখন ঢাকার দিকে গাড়ি ছুটিয়ে চলেছেন।
পেছনে পড়ে রইল বরিশাল—কীর্তনখোলার জল, চাঁদের আলো, লঞ্চের ডেক, বিবির পুকুরের আদা-লেবু চা, জীবনানন্দের স্মৃতি আর সুনীলের জন্মভিটার নীরবতা।
শহর বদলায়, রাস্তা বদলায়, মানুষ বদলায়। কিন্তু কিছু শহর স্মৃতির ভেতর থেকে যায় আগের মতোই। বরিশাল আমার কাছে তেমনই এক শহর—যেখানে নদীর জল ছুঁয়ে গেলে পুরোনো দিনের দরজা খুলে যায়, আর কীর্তনখোলার বাতাসে ভেসে আসে জীবনের কোনো এক হারিয়ে যাওয়া সময়ের গন্ধ।
মো. সাজেদুর রহমান সাজিদ, কর্মকর্তা, সড়ক বিভাগ, ঢাকা
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।’