ভোলায় টিকাদান কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মায়ের কোলে থাকা তিন মাসের এক শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে নিয়মিত টিকা দেয়ার জন্য মা সুমাইয়া তার তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু জিদনিকে নিয়ে মালের হাট টিকাকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন।
পথে মালের হাট ব্রিজের ওপর পৌঁছালে দুই অজ্ঞাতনামা মহিলা তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। প্রথমে তারা সাধারণভাবে আলাপ জুড়ে দেয়, এরপর কৌশলে সুমাইয়ার হাতে ২০০ টাকার একটি নোট দিয়ে জানতে চায় সেটি জাল কি না।
সুমাইয়া নোটটি হাতে নেয়ার পরপরই মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে ব্রিজের ওপর পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, নোটটির সঙ্গে কোনো অজ্ঞানকারী পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সুমাইয়া জ্ঞান হারানোর সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার কোলে থাকা শিশু জিদনিকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
কিছু সময় পর স্থানীয়দের সহায়তায় সুমাইয়ার জ্ঞান ফেরে। জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন, তার কোলে থাকা শিশু আর নেই। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
শিশুটির বাবা আবদুর রব (৩৫) পেশায় একজন বিল্ডিং সাব-কন্ট্রাক্টর। তিনি তিন সন্তানের জনক। চুরি হওয়া শিশু জিদনি তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পরিবারের অন্য দুই সন্তানের মধ্যে রয়েছে ৭ বছর বয়সী ছেলে জিহাদ ও ৩ বছর বয়সী মেয়ে জিন্নাত। ছোট্ট শিশুটিকে হারিয়ে বাবা-মা ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
শিশুটির চাচা জসিম চাকলাদার বলেন, দুইজন মহিলা আমার ভাবির সঙ্গে কথা বলে ব্রিজের ওপর দাঁড় করায়। তারা ২০০ টাকার একটি নোট দেয়। নোট হাতে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর দেখা যায় শিশুটি নেই। আমরা আশপাশের সব জায়গায় খুঁজছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও শিশুটিকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জিয়া উদ্দীন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে শিশুটির পরিবার প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে ০১৭২৯৯৩০১৬২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৭
ভোলায় টিকাদান কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মায়ের কোলে থাকা তিন মাসের এক শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে নিয়মিত টিকা দেয়ার জন্য মা সুমাইয়া তার তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু জিদনিকে নিয়ে মালের হাট টিকাকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন।
পথে মালের হাট ব্রিজের ওপর পৌঁছালে দুই অজ্ঞাতনামা মহিলা তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। প্রথমে তারা সাধারণভাবে আলাপ জুড়ে দেয়, এরপর কৌশলে সুমাইয়ার হাতে ২০০ টাকার একটি নোট দিয়ে জানতে চায় সেটি জাল কি না।
সুমাইয়া নোটটি হাতে নেয়ার পরপরই মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে ব্রিজের ওপর পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, নোটটির সঙ্গে কোনো অজ্ঞানকারী পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সুমাইয়া জ্ঞান হারানোর সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার কোলে থাকা শিশু জিদনিকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
কিছু সময় পর স্থানীয়দের সহায়তায় সুমাইয়ার জ্ঞান ফেরে। জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন, তার কোলে থাকা শিশু আর নেই। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
শিশুটির বাবা আবদুর রব (৩৫) পেশায় একজন বিল্ডিং সাব-কন্ট্রাক্টর। তিনি তিন সন্তানের জনক। চুরি হওয়া শিশু জিদনি তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পরিবারের অন্য দুই সন্তানের মধ্যে রয়েছে ৭ বছর বয়সী ছেলে জিহাদ ও ৩ বছর বয়সী মেয়ে জিন্নাত। ছোট্ট শিশুটিকে হারিয়ে বাবা-মা ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
শিশুটির চাচা জসিম চাকলাদার বলেন, দুইজন মহিলা আমার ভাবির সঙ্গে কথা বলে ব্রিজের ওপর দাঁড় করায়। তারা ২০০ টাকার একটি নোট দেয়। নোট হাতে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর দেখা যায় শিশুটি নেই। আমরা আশপাশের সব জায়গায় খুঁজছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও শিশুটিকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জিয়া উদ্দীন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে শিশুটির পরিবার প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে ০১৭২৯৯৩০১৬২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।