
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ইসফাহান শহরের একটি গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বাঙ্কার বাস্টার বোমা হলো বিশেষ ধরনের শক্তিশালী পেনিট্রেটর অস্ত্র, যা মাটির গভীরে বা পুরু কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ বোমার মতো এটি মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয় না; বরং প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়। এই বোমাগুলোর শক্ত ধাতব আবরণ কংক্রিট ও পাথর ভেদ করতে সক্ষম এবং এতে এমন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময় বা গভীরতা অতিক্রম করার পর বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এত মারাত্মক হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর গভীর ভেদক্ষমতা এবং ভেতরে বিস্ফোরণের ক্ষমতা। এটি কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটির স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিস্ফোরণটি ভেতরে ঘটায় প্রচণ্ড চাপ, তাপ এবং শকওয়েভ সীমাবদ্ধ স্থানে আটকে থেকে বহুগুণ বেশি ধ্বংস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ধরনের অবকাঠামো সাধারণ বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন হওয়ায় বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণত আকাশ হামলা থেকে নিরাপদ থাকে, কিন্তু এই বিশেষ বোমা সেই নিরাপত্তা ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি ইসফাহান শহরের বাইরে মাউন্ট সোফেহ-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কথিতভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবহার নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছিল। জার্মানির বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের শেষ অবস্থানও ছিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব বাঙ্কার আরও জটিল ও শক্তিশালী হয়েছে, ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহারও বেড়েছে।
বলা হয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর অস্ত্র, যা বিশেষভাবে ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের মতো দেশগুলো যখন তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে, তখন এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ছবি- সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ইসফাহান শহরের একটি গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
বাঙ্কার বাস্টার বোমা হলো বিশেষ ধরনের শক্তিশালী পেনিট্রেটর অস্ত্র, যা মাটির গভীরে বা পুরু কংক্রিটের নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি। সাধারণ বোমার মতো এটি মাটির ওপর বিস্ফোরিত হয় না; বরং প্রথমে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হয়। এই বোমাগুলোর শক্ত ধাতব আবরণ কংক্রিট ও পাথর ভেদ করতে সক্ষম এবং এতে এমন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময় বা গভীরতা অতিক্রম করার পর বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এত মারাত্মক হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর গভীর ভেদক্ষমতা এবং ভেতরে বিস্ফোরণের ক্ষমতা। এটি কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটির স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিস্ফোরণটি ভেতরে ঘটায় প্রচণ্ড চাপ, তাপ এবং শকওয়েভ সীমাবদ্ধ স্থানে আটকে থেকে বহুগুণ বেশি ধ্বংস সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ধরনের অবকাঠামো সাধারণ বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন হওয়ায় বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণত আকাশ হামলা থেকে নিরাপদ থাকে, কিন্তু এই বিশেষ বোমা সেই নিরাপত্তা ভেঙে দিতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামলাটি ইসফাহান শহরের বাইরে মাউন্ট সোফেহ-সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কথিতভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়।
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের ব্যবহার নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছিল। জার্মানির বার্লিনে অ্যাডলফ হিটলারের শেষ অবস্থানও ছিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব বাঙ্কার আরও জটিল ও শক্তিশালী হয়েছে, ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহারও বেড়েছে।
বলা হয়, ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা আধুনিক যুদ্ধের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর অস্ত্র, যা বিশেষভাবে ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইরানের মতো দেশগুলো যখন তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে স্থানান্তর করছে, তখন এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫১
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। এটি শুধু ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; বরং আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জটিল সমন্বয়ে গঠিত। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের প্রধান দেশ হিসেবে গণ্য করে, যেখানে ইরান শিয়াদের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধর্মীয় বিভাজনকে প্রায়শই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে, যেমন- ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ বা লেবাননের হিজবুল্লাহ। সৌদি আরবও প্রয়োজনমত এই প্রক্সি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের ছায়া যুদ্ধ চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাতের গুরুত্ব আছে। সৌদি আরব ও ইরান উভয়ই তেল ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। যুদ্ধ ও উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়, আঞ্চলিক বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চালানো হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৫ সালে ইরানের সীমিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এই চুক্তিকে সমর্থন করেনি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে ইরানের পারমাণবিক অর্জন সৌদি আরবের জন্য সর্বদা একটি সম্ভাব্য বিপদ।
বৈশ্বিক প্রভাবও দ্বন্দ্বকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যকর, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে। চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উভয় দেশের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরান চায় সৌদি আরবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক, যেখানে সৌদি আরব চায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের শক্তি ও প্রভাব কমানো হোক। এটি কেবল সামরিক লড়াই নয়; এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়।
সৌদি আরব-ইরান দ্বন্দ্বের মূল উৎস কেবল ধর্মীয় বিভাজন নয়; এটি আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবের জটিল সমন্বয়। প্রক্সি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা দুই দেশকেই তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। এটি শুধু ধর্মীয় বিভাজন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; বরং আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার জটিল সমন্বয়ে গঠিত। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের প্রধান দেশ হিসেবে গণ্য করে, যেখানে ইরান শিয়াদের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ধর্মীয় বিভাজনকে প্রায়শই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
ইরান সরাসরি যুদ্ধ না করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে, যেমন- ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ বা লেবাননের হিজবুল্লাহ। সৌদি আরবও প্রয়োজনমত এই প্রক্সি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালায়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের ছায়া যুদ্ধ চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সংঘাতের গুরুত্ব আছে। সৌদি আরব ও ইরান উভয়ই তেল ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। যুদ্ধ ও উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার কারণে নয়, আঞ্চলিক বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চালানো হয়। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০১৫ সালে ইরানের সীমিত পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এই চুক্তিকে সমর্থন করেনি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে ইরানের পারমাণবিক অর্জন সৌদি আরবের জন্য সর্বদা একটি সম্ভাব্য বিপদ।
বৈশ্বিক প্রভাবও দ্বন্দ্বকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান শক্তি হিসেবে কার্যকর, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থন করে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে। চীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।
সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও উভয় দেশের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরান চায় সৌদি আরবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক, যেখানে সৌদি আরব চায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের শক্তি ও প্রভাব কমানো হোক। এটি কেবল সামরিক লড়াই নয়; এটি কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়।
সৌদি আরব-ইরান দ্বন্দ্বের মূল উৎস কেবল ধর্মীয় বিভাজন নয়; এটি আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবের জটিল সমন্বয়। প্রক্সি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা দুই দেশকেই তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাতে বাধ্য করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৬:১৯
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোররাত ৩টার দিকে পানামার পতাকাবাহী 'পিভিটি সোলানা' জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পৌঁছেছে।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানী খালাস হবে। প্রয়োজনে জাহাজটিকে ডলফিন জেটিতে ভিড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়া বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ৪ এপ্রিল আরও একটি জাহাজ ভিড়তে পারে। এ নিয়ে গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছে ১৫টি জাহাজ, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৮টি জাহাজ এবং এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৯টি জাহাজ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোররাত ৩টার দিকে পানামার পতাকাবাহী 'পিভিটি সোলানা' জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে পৌঁছেছে।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাইটারের মাধ্যমে জ্বালানী খালাস হবে। প্রয়োজনে জাহাজটিকে ডলফিন জেটিতে ভিড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়া বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ৪ এপ্রিল আরও একটি জাহাজ ভিড়তে পারে। এ নিয়ে গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছে ১৫টি জাহাজ, এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৮টি জাহাজ এবং এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছে ৯টি জাহাজ।

২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৮
পবিত্র মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ কাটার চেষ্টা করার অভিযোগে তুরস্ক থেকে আগত এক নারীকে আটক করেছে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি একটি হজ্ব কাফেলার সদস্য হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী কাবা শরিফের গায়ে থাকা পবিত্র গিলাফ থেকে একটি অংশ কাঁচি দিয়ে কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেটিকে ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুসল্লিরা বিষয়টি লক্ষ্য করে দ্রুত তাকে সতর্ক করেন। তারা তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ ধরনের কাজ শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেকেই উচ্চস্বরে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মুসল্লিদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তিনি যখন তার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তখন দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ওই নারীকে আটক করেন এবং সেখান থেকে সরিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি ঘটার সময় আশপাশে উপস্থিতদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাকে মিশরের নাগরিক বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দ্যা ইসলামিক ইনফরমেশনের প্রতিবেদক উতাইবি নিশ্চিত করেন, তিনি তুরস্কের নাগরিক এবং একটি তুর্কি হজ্ব দলের সঙ্গেই এসেছিলেন। ফলে মিশরীয় হওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।
এদিকে, আটক হওয়ার পর ওই নারীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাবা শরিফের গিলাফ ইসলামের অন্যতম পবিত্র নিদর্শন। কালো রঙের এই গিলাফ সোনালি সুতার কাজে পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা সজ্জিত থাকে, যা মুসলমানদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।
এর কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করা বা অপসারণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৌদি আরবের প্রচলিত আইনে এ ধরনের কাজ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
পবিত্র মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ কাটার চেষ্টা করার অভিযোগে তুরস্ক থেকে আগত এক নারীকে আটক করেছে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি একটি হজ্ব কাফেলার সদস্য হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী কাবা শরিফের গায়ে থাকা পবিত্র গিলাফ থেকে একটি অংশ কাঁচি দিয়ে কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেটিকে ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুসল্লিরা বিষয়টি লক্ষ্য করে দ্রুত তাকে সতর্ক করেন। তারা তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ ধরনের কাজ শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেকেই উচ্চস্বরে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মুসল্লিদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তিনি যখন তার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তখন দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ওই নারীকে আটক করেন এবং সেখান থেকে সরিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি ঘটার সময় আশপাশে উপস্থিতদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাকে মিশরের নাগরিক বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দ্যা ইসলামিক ইনফরমেশনের প্রতিবেদক উতাইবি নিশ্চিত করেন, তিনি তুরস্কের নাগরিক এবং একটি তুর্কি হজ্ব দলের সঙ্গেই এসেছিলেন। ফলে মিশরীয় হওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।
এদিকে, আটক হওয়ার পর ওই নারীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাবা শরিফের গিলাফ ইসলামের অন্যতম পবিত্র নিদর্শন। কালো রঙের এই গিলাফ সোনালি সুতার কাজে পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা সজ্জিত থাকে, যা মুসলমানদের কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।
এর কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করা বা অপসারণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৌদি আরবের প্রচলিত আইনে এ ধরনের কাজ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫১
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৯
৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৬
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৬