ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ৭ হাজার কৃষককে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোবিন্দ মন্ডল। তিনি বলেন, সরকারের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার পেয়ে আবাদ খরচ কমাতে পারবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও জানান, সময়মতো এসব উপকরণ সরবরাহের ফলে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কৃষকদের জন্য একটি বড় সহায়তা, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফলন অর্জনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মাফরুজা সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্ব কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রকল্প চালু করা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। তিনি কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং কৃষিখাতে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে এ সহায়তা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে পৌরসভায় ১০০ জন, কাচিয়া ৮৫০ জন, গঙ্গাপুরে ৭৫০ জন, সাচরায় ৮০০ জন, দেউলায় ৮০০ জন, হাসাননগরে ৪০০ জন, টবগীতে ৮৫০ জন, পক্ষীয়ায় ৮০০ জন, বড়মানিকা ৮৫০ জন এবং কুতুবায় ৮০০ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ইদ্রিস মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কৃষকরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং তারা অধিক জমিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৯
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২৩
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ৭ হাজার কৃষককে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোবিন্দ মন্ডল। তিনি বলেন, সরকারের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার পেয়ে আবাদ খরচ কমাতে পারবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও জানান, সময়মতো এসব উপকরণ সরবরাহের ফলে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কৃষকদের জন্য একটি বড় সহায়তা, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফলন অর্জনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মাফরুজা সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্ব কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রকল্প চালু করা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। তিনি কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং কৃষিখাতে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে এ সহায়তা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে পৌরসভায় ১০০ জন, কাচিয়া ৮৫০ জন, গঙ্গাপুরে ৭৫০ জন, সাচরায় ৮০০ জন, দেউলায় ৮০০ জন, হাসাননগরে ৪০০ জন, টবগীতে ৮৫০ জন, পক্ষীয়ায় ৮০০ জন, বড়মানিকা ৮৫০ জন এবং কুতুবায় ৮০০ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ইদ্রিস মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কৃষকরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং তারা অধিক জমিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।