বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতুর সব গার্ডার বসানো কাজসহ অ্যাপ্রোচ সড়কও প্রস্তুত হয়েছিল ২০২৩ সালে। তবু উপজেলার চরাদি, দুধল, কবাই, নলুয়া, ফরিদপুর, দুর্গাপাশা এই ছয় ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা বাউফল, দুমকি উপজেলার লাখ লাখ মানুষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। কারণ, সেতুর মাঝের দুটি স্প্যান না বসানোয় গোমা সেতুটি চলাচলের অযোগ্য ছিল।
অবশেষে ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় গোমা সেতুর উপরে দ্বিতীয় স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে প্রথম স্প্যানটি গত মঙ্গলবার বসানো হয়। দ্বিতীয় স্প্যানটি উঠানোর পরেই ৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা বাউফল ও দুমকি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের।
নির্মাণাধীন গোমা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পে ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৩ বছর মেয়াদের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০২০ সালের জুন মাসে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ ৪৪ ভাগ সম্পন্ন হলেও তখন উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। পরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের দফায় দফায় সভা এবং বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শনের পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতায় সেতুর সংশোধিত প্রকল্প গ্রহণ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, প্রথম প্রকল্প অনুযায়ী, মাঝ বরাবর সেতুর উচ্চতা রাখা হয়েছিল সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ৭ দশমিক ৮৬ মিটার। পিলার স্থাপনের পর বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি তুলে জানায়, এ উচ্চতায় রাঙ্গামাটি নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য উচ্চতার প্রয়োজন কমপক্ষে ১২ দশমিক ২ মিটার।
সওজ থেকে দাবি করা হয়, উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চূড়ান্ত সম্মতিপত্র নিয়েই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে নিষ্পত্তি হয়।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। নদীপথ সচল রাখার জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র দাবি অনুযায়ী, সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ১২ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতা রেখে নতুন নকশা করা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
প্রকল্পে বলা হয়েছে, বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি জেলা সড়কের ১৪ কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত দুই লেনে সেতু নির্মিত হবে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এবং সেতুর মাঝখানের ( ৩,৪) নং পিলারের গার্ডারের পরিবর্তে নতুন নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হয় স্টিলের দুটি স্প্যান।
সেতুটি নির্মাণে প্রথম প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ৫ বছর হয়েছে। সড়ক জনপথ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সেতুর( ৩,৪) নং পিলারের স্প্যান নির্মাণ কাজ শেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের সেতুটি চালু করা হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেতুর মাঝ খানে স্প্যান দুটি নির্ধারিত সময়ে বসানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেতুর স্প্যান দুটি দৃশ্যমান হয়েছে।
বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন ও জমি অধিগ্রহণের কারণে বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এখন কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ইতিমধ্যে সেতুর মাঝখানে দুটি স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে। এখন স্প্যানের মাঝখানে ঢালাই এর কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি আগামি জানুয়ারি মাসেই সেতুটি চালু করতে পারব।
উল্লেখ্য, গোমা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এসেছিল সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দেওয়া চাহিদাপত্রে (ডিও লেটার) অনুমোদনের মাধ্যমে। জাসদ নেতা মোহাম্মদ মোহসীনসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু। সেতুটি চালু হলে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াত, চিকিৎসা, বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা স্থানীয়দের।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫১
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৯
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অপেক্ষমাণ স্থানে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্যানটির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফসা বেগম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চারটি বেঞ্চে দুই শিশুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের একটি চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে শিশু দুটির পাশেই পড়ে যায়। ফ্যানটি তাদের গায়ে না লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পুরোনো ফ্যানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা রোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সব ফ্যান পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান মেরামত বা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, পুরোনো একটি ফ্যান খুলে পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। হাসপাতালের সব ফ্যানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণগুলো পরিবর্তনের জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

০৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:২৮
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতুর সব গার্ডার বসানো কাজসহ অ্যাপ্রোচ সড়কও প্রস্তুত হয়েছিল ২০২৩ সালে। তবু উপজেলার চরাদি, দুধল, কবাই, নলুয়া, ফরিদপুর, দুর্গাপাশা এই ছয় ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা বাউফল, দুমকি উপজেলার লাখ লাখ মানুষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। কারণ, সেতুর মাঝের দুটি স্প্যান না বসানোয় গোমা সেতুটি চলাচলের অযোগ্য ছিল।
অবশেষে ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় গোমা সেতুর উপরে দ্বিতীয় স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে প্রথম স্প্যানটি গত মঙ্গলবার বসানো হয়। দ্বিতীয় স্প্যানটি উঠানোর পরেই ৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা বাউফল ও দুমকি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের।
নির্মাণাধীন গোমা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পে ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৩ বছর মেয়াদের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০২০ সালের জুন মাসে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ ৪৪ ভাগ সম্পন্ন হলেও তখন উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। পরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের দফায় দফায় সভা এবং বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শনের পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতায় সেতুর সংশোধিত প্রকল্প গ্রহণ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, প্রথম প্রকল্প অনুযায়ী, মাঝ বরাবর সেতুর উচ্চতা রাখা হয়েছিল সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ৭ দশমিক ৮৬ মিটার। পিলার স্থাপনের পর বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি তুলে জানায়, এ উচ্চতায় রাঙ্গামাটি নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য উচ্চতার প্রয়োজন কমপক্ষে ১২ দশমিক ২ মিটার।
সওজ থেকে দাবি করা হয়, উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চূড়ান্ত সম্মতিপত্র নিয়েই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে নিষ্পত্তি হয়।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। নদীপথ সচল রাখার জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র দাবি অনুযায়ী, সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ১২ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতা রেখে নতুন নকশা করা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
প্রকল্পে বলা হয়েছে, বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি জেলা সড়কের ১৪ কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত দুই লেনে সেতু নির্মিত হবে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এবং সেতুর মাঝখানের ( ৩,৪) নং পিলারের গার্ডারের পরিবর্তে নতুন নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হয় স্টিলের দুটি স্প্যান।
সেতুটি নির্মাণে প্রথম প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ৫ বছর হয়েছে। সড়ক জনপথ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সেতুর( ৩,৪) নং পিলারের স্প্যান নির্মাণ কাজ শেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের সেতুটি চালু করা হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেতুর মাঝ খানে স্প্যান দুটি নির্ধারিত সময়ে বসানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেতুর স্প্যান দুটি দৃশ্যমান হয়েছে।
বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন ও জমি অধিগ্রহণের কারণে বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এখন কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ইতিমধ্যে সেতুর মাঝখানে দুটি স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে। এখন স্প্যানের মাঝখানে ঢালাই এর কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি আগামি জানুয়ারি মাসেই সেতুটি চালু করতে পারব।
উল্লেখ্য, গোমা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এসেছিল সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দেওয়া চাহিদাপত্রে (ডিও লেটার) অনুমোদনের মাধ্যমে। জাসদ নেতা মোহাম্মদ মোহসীনসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু। সেতুটি চালু হলে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াত, চিকিৎসা, বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা স্থানীয়দের।
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অপেক্ষমাণ স্থানে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্যানটির আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফসা বেগম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চারটি বেঞ্চে দুই শিশুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওপরের একটি চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে শিশু দুটির পাশেই পড়ে যায়। ফ্যানটি তাদের গায়ে না লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পুরোনো ফ্যানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা রোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় হাসপাতালের সব ফ্যান পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান মেরামত বা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, পুরোনো একটি ফ্যান খুলে পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি। হাসপাতালের সব ফ্যানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণগুলো পরিবর্তনের জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।