ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-২ আসনে (সদর-নলছিটি) বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বিজয়ী হয়েছেন।
তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে ১২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র দুজন, যা শতকরা ২ ভাগেরও কম। তাঁরা হলেন ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, জনমত জরিপ ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকে মনোনীত করেন। তাঁর চলার পথ সহজ ছিল না। জেলা বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বিরোধিতার কারণে ভোটের আগে দলীয় কর্মীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হয়েছেন।
ইসরাত সুলতানা এলাকায় ইলেন ভুট্টো নামেই পরিচিত। তাঁর প্রয়াত স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো একসময় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদের ডাকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ঝালকাঠি-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরে তাঁর মৃত্যুতে এ আসনে ২০০০ সালের উপনির্বাচনে ইলেন ভুট্টো বিএনপির প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থী আমির হোসেন আমুর কাছে পরাজিত হন। তবে এক বছরের মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ইলেন ভুট্টো আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমুকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন।
ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, ‘ঝালকাঠি সদর ও নলছিটির জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আগামীতে এলাকার উন্নয়নই হবে আমার আসল কাজ।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৬
বর্ষা এলেই জমিতে পানি জমে থাকত। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির জন্য কৃষকদের ছুটতে হতো অন্য উৎসের কাছে। পলি ও মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি খাল দিয়ে ঠিকমতো পানি চলাচল করছিল না। এতে পানি নিষ্কাশন ও সেচ দুই ক্ষেত্রেই ভোগান্তিতে ছিলেন কৃষকেরা।
দীর্ঘদিন পর খালগুলো পুনঃখনন করায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কয়েক হাজার কৃষকের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটও অনেকটা কমবে।
পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতাধীন দিয়াকুল ড্রেনেজ উপ প্রকল্পের মাধ্যমে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। পাঁচটি খালের মোট দৈর্ঘ্য ১০ দশমিক ২৫ কিলোমিটার।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পলি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতো না। ফলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতো। পুনঃখননের পর খালে পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষকেরা দুই ধরনের সমস্যারই সমাধান আশা করছেন।
রাজাপুর এলাকার কৃষক আবদুর রব হাওলাদার বলেন, ‘আগে বৃষ্টি হলে জমির পানি সহজে নামত না। খাল ভরাট থাকায় পানি আটকে থাকত। এখন খাল পুনঃখনন হওয়ায় পানি দ্রুত নামবে। এতে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।’
মহাদিপুর এলাকার কৃষক বাদল খান বলেন, সেচের জন্য অনেক সময় বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছে। খালে পানি থাকলে সেই খরচ কমবে। সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাবে। এতে কৃষিকাজ সহজ হবে।
নাগপাড়া এলাকার কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার খাল সচল হয়েছে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত বের হয়ে যাবে, আর শুকনো মৌসুমে সেচের পানিও পাওয়া যাবে। এতে আমরা কৃষকেরা উপকৃত হব।’
দিয়াকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পলি জমে খালগুলো দীর্ঘদিন ভরাট থাকায় পানি নিষ্কাশন ও সেচ দুই ক্ষেত্রেই কৃষকেরা সমস্যায় ছিলেন। পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্রয়োজনের সময় কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। তবে এই সুফল ধরে রাখতে খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান মাস্টার বলেন, কৃষির জন্য পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালগুলো পুনঃখননের ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা কমবে। এর সুফল ধরে রাখতে খালগুলো দখল ও ভরাট হওয়া থেকে রক্ষা করা দরকার।
সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সনজিৎ কুমার বলেন, পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচের সুবিধা পাবেন। খালগুলোর সুফল দীর্ঘদিন ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।
বর্ষা এলেই জমিতে পানি জমে থাকত। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির জন্য কৃষকদের ছুটতে হতো অন্য উৎসের কাছে। পলি ও মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি খাল দিয়ে ঠিকমতো পানি চলাচল করছিল না। এতে পানি নিষ্কাশন ও সেচ দুই ক্ষেত্রেই ভোগান্তিতে ছিলেন কৃষকেরা।
দীর্ঘদিন পর খালগুলো পুনঃখনন করায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কয়েক হাজার কৃষকের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটও অনেকটা কমবে।
পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতাধীন দিয়াকুল ড্রেনেজ উপ প্রকল্পের মাধ্যমে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। পাঁচটি খালের মোট দৈর্ঘ্য ১০ দশমিক ২৫ কিলোমিটার।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পলি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতো না। ফলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতো। পুনঃখননের পর খালে পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষকেরা দুই ধরনের সমস্যারই সমাধান আশা করছেন।
রাজাপুর এলাকার কৃষক আবদুর রব হাওলাদার বলেন, ‘আগে বৃষ্টি হলে জমির পানি সহজে নামত না। খাল ভরাট থাকায় পানি আটকে থাকত। এখন খাল পুনঃখনন হওয়ায় পানি দ্রুত নামবে। এতে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।’
মহাদিপুর এলাকার কৃষক বাদল খান বলেন, সেচের জন্য অনেক সময় বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছে। খালে পানি থাকলে সেই খরচ কমবে। সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাবে। এতে কৃষিকাজ সহজ হবে।
নাগপাড়া এলাকার কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার খাল সচল হয়েছে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত বের হয়ে যাবে, আর শুকনো মৌসুমে সেচের পানিও পাওয়া যাবে। এতে আমরা কৃষকেরা উপকৃত হব।’
দিয়াকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পলি জমে খালগুলো দীর্ঘদিন ভরাট থাকায় পানি নিষ্কাশন ও সেচ দুই ক্ষেত্রেই কৃষকেরা সমস্যায় ছিলেন। পুনঃখননের ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্রয়োজনের সময় কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। তবে এই সুফল ধরে রাখতে খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান মাস্টার বলেন, কৃষির জন্য পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালগুলো পুনঃখননের ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা কমবে। এর সুফল ধরে রাখতে খালগুলো দখল ও ভরাট হওয়া থেকে রক্ষা করা দরকার।
সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সনজিৎ কুমার বলেন, পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচের সুবিধা পাবেন। খালগুলোর সুফল দীর্ঘদিন ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২৫
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় স্ত্রীর ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী খায়রুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে আঘাত করলে পলাশের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে—চার বছর বয়সী জায়ান ও দুই মাস বয়সী রুকাইয়া।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় লিজার কোলে দুই মাস বয়সী রুকাইয়া ও পাশে চার বছর বয়সী জায়ানকে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের বিরুদ্ধে কাঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন পলাশের চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে পলাশের শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে নিয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউড়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফার্মেসিও চালু করেন তিনি।
অনেক দিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্বামী পলাশকে না জানিয়ে স্ত্রী লিজা যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ঋণ গ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার লিজা ও পলাশের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে লিজা প্রথমে হাতুড়ি এবং পরে শাবল দিয়ে পলাশকে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, ইসরাত জাহান লিজাকে গ্রেপ্তার করে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় স্ত্রীর ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী খায়রুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে আঘাত করলে পলাশের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে—চার বছর বয়সী জায়ান ও দুই মাস বয়সী রুকাইয়া।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় লিজার কোলে দুই মাস বয়সী রুকাইয়া ও পাশে চার বছর বয়সী জায়ানকে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের বিরুদ্ধে কাঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন পলাশের চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে পলাশের শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে নিয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউড়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফার্মেসিও চালু করেন তিনি।
অনেক দিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্বামী পলাশকে না জানিয়ে স্ত্রী লিজা যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ঋণ গ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার লিজা ও পলাশের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে লিজা প্রথমে হাতুড়ি এবং পরে শাবল দিয়ে পলাশকে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, ইসরাত জাহান লিজাকে গ্রেপ্তার করে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:১৫
বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা ও চেঁচরীরামপুর এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা ও চেঁচরীরামপুর এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-২ আসনে (সদর-নলছিটি) বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বিজয়ী হয়েছেন।
তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে ১২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র দুজন, যা শতকরা ২ ভাগেরও কম। তাঁরা হলেন ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, জনমত জরিপ ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকে মনোনীত করেন। তাঁর চলার পথ সহজ ছিল না। জেলা বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বিরোধিতার কারণে ভোটের আগে দলীয় কর্মীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হয়েছেন।
ইসরাত সুলতানা এলাকায় ইলেন ভুট্টো নামেই পরিচিত। তাঁর প্রয়াত স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো একসময় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদের ডাকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ঝালকাঠি-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরে তাঁর মৃত্যুতে এ আসনে ২০০০ সালের উপনির্বাচনে ইলেন ভুট্টো বিএনপির প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থী আমির হোসেন আমুর কাছে পরাজিত হন। তবে এক বছরের মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ইলেন ভুট্টো আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমুকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন।
ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, ‘ঝালকাঠি সদর ও নলছিটির জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আগামীতে এলাকার উন্নয়নই হবে আমার আসল কাজ।’
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪