বরিশাল শহরের ঝুঁকিপূর্ণ সেই ৩৪টি ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। শুক্রবার সকালে শহরের সদর রোডের তিনতলা দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সূচনা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে এই ভবনসমূহকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বসবাসরতদের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে বলে সিটি প্রশাসন ঘোষণা করে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে ভবনগুলো অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগেপরে এনিয়ে দৈনির রূপালী বাংলাদেশসহ একাধিক পত্র-পত্রিকায় লেখালেখিও হয়।
সূত্র জানায়, কীর্তনখোলার তীরের শহর বরিশালের ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩৫টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিসিসি। ২০১৩ সালের জরিপে এসব ভবনকে বেহাল ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। এই ভবনের বেশিরভাগ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বেশ কয়েকবার ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয় সিটি কর্পোরেশন। এবং ভবনগুলো যে আইনগতভাবে ভাঙতে না পারে তার জন্য আদালতে মামলাও করা হয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন তৎপরতা দেখায়নি বা নিশ্চুপ হয়ে যায়।
জানা গেছে, সদর রোডসংলগ্ন বহুতল ভবন দুটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল অবৈধভাকে দখল করে রেখেছিলেন। এই কাজী কামলা বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শ্যালক। তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে বরিশালে ব্যাপক সন্ত্রাস করেছেন। সদর রোডে ভবন দুটির নিচের দোকান দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে নিজে দখল করে রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে আছেন।
একটি ভবনের মালিক নজরুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তাঁর চাচা উলফাত হাজি এবং শুককুর হাজি ১৯৬০ সালে একটি ভবন ও ৩০ বছর আগে আরেকটি ভবন সদর রোডে নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালে একটি পাকা ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং পাশের ভবন ঘেঁষে হেলে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২০১৩ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু প্রভাবশালী ভাড়াটেরা জোর করে দখলে রাখায় ওই সময় ভাঙার ভবন ভাঙা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পরে ভবন ভাঙার জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা সিটি করপোরেশনে জমা দেন নজরুল ইসলাম। তারপর ভবনটি শুক্রবার সকাল থেকে ভবনটি অপসারণে কাজ শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘উলফাত এবং শাকুর ম্যানশন নামের ওই দুটি ভবন ইতিপূর্বে ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাড়াটেরা আদালতে গেছেন। আমরা কোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় পেয়েছি। এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে সেখানে নোটিস দিয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও ভাড়াটেরা দখল ছাড়েননি। শুক্রবার সকালে তাদের চূড়ান্তভাবে চলে যাওয়ার নোটিস দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু হয়। আশা করছি, সাত দিনের মধ্যে ভবন দুটি ভেঙে ফেলা সম্ভব।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, নগরের কাউনিয়া এলাকার জানুকি সিংহ রোডের মতি লস্করের বাড়ি, পূর্ব বগুড়া রোড কাজি অফিসের পেছনে রবীন্দ্রনাথ সেনের ভবন, আগরপুর রোডে মহিলা কলেজসংলগ্ন মনু মিয়ার ভবন এবং সদর রোডসংলগ্ন ফজলুল হক অ্যাভিনিউর হোটেল বাহাদুর ভবনসহ ৩৪টি ভবনই পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হবে। তবে এর মধ্যে কিছু অনুমোদনহীন এমন কিছু ভবনও রয়েছে।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৮:২২
বরিশাল শহরের ঝুঁকিপূর্ণ সেই ৩৪টি ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। শুক্রবার সকালে শহরের সদর রোডের তিনতলা দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সূচনা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে এই ভবনসমূহকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বসবাসরতদের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে বলে সিটি প্রশাসন ঘোষণা করে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে ভবনগুলো অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগেপরে এনিয়ে দৈনির রূপালী বাংলাদেশসহ একাধিক পত্র-পত্রিকায় লেখালেখিও হয়।
সূত্র জানায়, কীর্তনখোলার তীরের শহর বরিশালের ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩৫টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিসিসি। ২০১৩ সালের জরিপে এসব ভবনকে বেহাল ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। এই ভবনের বেশিরভাগ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বেশ কয়েকবার ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয় সিটি কর্পোরেশন। এবং ভবনগুলো যে আইনগতভাবে ভাঙতে না পারে তার জন্য আদালতে মামলাও করা হয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশন তৎপরতা দেখায়নি বা নিশ্চুপ হয়ে যায়।
জানা গেছে, সদর রোডসংলগ্ন বহুতল ভবন দুটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল অবৈধভাকে দখল করে রেখেছিলেন। এই কাজী কামলা বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শ্যালক। তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে বরিশালে ব্যাপক সন্ত্রাস করেছেন। সদর রোডে ভবন দুটির নিচের দোকান দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে নিজে দখল করে রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে আছেন।
একটি ভবনের মালিক নজরুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তাঁর চাচা উলফাত হাজি এবং শুককুর হাজি ১৯৬০ সালে একটি ভবন ও ৩০ বছর আগে আরেকটি ভবন সদর রোডে নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালে একটি পাকা ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং পাশের ভবন ঘেঁষে হেলে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২০১৩ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু প্রভাবশালী ভাড়াটেরা জোর করে দখলে রাখায় ওই সময় ভাঙার ভবন ভাঙা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পরে ভবন ভাঙার জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা সিটি করপোরেশনে জমা দেন নজরুল ইসলাম। তারপর ভবনটি শুক্রবার সকাল থেকে ভবনটি অপসারণে কাজ শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘উলফাত এবং শাকুর ম্যানশন নামের ওই দুটি ভবন ইতিপূর্বে ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাড়াটেরা আদালতে গেছেন। আমরা কোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় পেয়েছি। এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে সেখানে নোটিস দিয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও ভাড়াটেরা দখল ছাড়েননি। শুক্রবার সকালে তাদের চূড়ান্তভাবে চলে যাওয়ার নোটিস দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু হয়। আশা করছি, সাত দিনের মধ্যে ভবন দুটি ভেঙে ফেলা সম্ভব।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, নগরের কাউনিয়া এলাকার জানুকি সিংহ রোডের মতি লস্করের বাড়ি, পূর্ব বগুড়া রোড কাজি অফিসের পেছনে রবীন্দ্রনাথ সেনের ভবন, আগরপুর রোডে মহিলা কলেজসংলগ্ন মনু মিয়ার ভবন এবং সদর রোডসংলগ্ন ফজলুল হক অ্যাভিনিউর হোটেল বাহাদুর ভবনসহ ৩৪টি ভবনই পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হবে। তবে এর মধ্যে কিছু অনুমোদনহীন এমন কিছু ভবনও রয়েছে।’