Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৯:৩০
বরিশালে যুবলীগ নেতা মাসুম খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভাটারখাল সিটি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক মাসুম হলেন- বরিশাল সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের প্রচার সম্পাদক।
পরে বিএনপির অফিস ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারকে হত্যা চেষ্টার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।
অভিযোগ আছে লেবু মাসুম বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, বাজারে ব্যাবসায়িদের জিম্মি করে চাঁদা নেয়া থেকে শুরু করে শ্রমিকদের নির্যাতন করতেন। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী থাকা সত্ত্বেও, স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর , বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মাসুম ওরফে লেবু মাসুম।
এ তথ্য নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক মামলায় মাসুমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অস্ত্রশস্ত্র ও মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মাসুম খান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছিল। এ ঘটনার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী অসীম দেওয়ানের ডান হাত মাসুম ওরফে লেবু মাসুম।
বরিশালে যুবলীগ নেতা মাসুম খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভাটারখাল সিটি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক মাসুম হলেন- বরিশাল সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের প্রচার সম্পাদক।
পরে বিএনপির অফিস ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারকে হত্যা চেষ্টার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।
অভিযোগ আছে লেবু মাসুম বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, বাজারে ব্যাবসায়িদের জিম্মি করে চাঁদা নেয়া থেকে শুরু করে শ্রমিকদের নির্যাতন করতেন। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী থাকা সত্ত্বেও, স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর , বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মাসুম ওরফে লেবু মাসুম।
এ তথ্য নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক মামলায় মাসুমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অস্ত্রশস্ত্র ও মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মাসুম খান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছিল। এ ঘটনার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী অসীম দেওয়ানের ডান হাত মাসুম ওরফে লেবু মাসুম।

১৪ জুন, ২০২৬ ১৩:২২

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে তোলপাড়। দুই ডেপুটি জেলারসহ কারারক্ষীদের জড়িত থাকার অভিযোগ।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। এবং এই অবৈধ বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ দুইজন ডেপুটি জেলারসহ কজন কারারক্ষী। গত ১০ জুন জনৈক নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে মাদকের একটি বড় চালান উদ্ধারের পর কারাগারের ভেতরে মাদক কারবারের বিষয়টি তুমুল আলোচনায় আসে। কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কারাভ্যন্তরে মাদকের চালান প্রবেশ এবং বন্দিদের কাছ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনেও তোলপাড় চলছে।
সূত্র বলছে, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম এবং দুর্নীতির শেষ নেই, সর্বক্ষেত্রেই আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিপদজনক বন্দিদের কাছ থেকে সুবিধাগ্রহণ করে তাদের বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আছে। এবার নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি বেশিমাত্রায় আলোচিত হচ্ছে এবং এই ঘটনা দুজন ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ও আনন্দ শীলকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।
এর আগে গত ৬ জুন কারাভ্যন্তরের কীর্তনখোলা-২ ভবনের বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, কাছাকাছি সময়ে দুটি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে কারা কর্তৃপক্ষ লুকোচাপা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এই মাদক বাণিজ্যে দুইজন কর্মকর্তাসহ কারারক্ষীরা জড়িত থাকায় বিষয়টি বেশ কৌতুহলের সৃষ্টি করে। কারা কর্তৃপক্ষ এই মাদককান্ডে বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং কারারক্ষী মৌ ও শারমিন নামের দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
বরিশালটাইমসের অনুসন্ধানে কারাগার নিয়ে সমসাময়িক যে তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়া গেছে, তা শুনে অনেকের চোখ কপালে ওঠার জোগার হবে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, কারাভ্যন্তরের এই মাদক বাণিজ্যে শুধু রক্ষীরাই জড়িত নয়, সম্পৃক্ত আছেন ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীল। তাদের সাথে আরও জড়িত আছেন সর্বপ্রধান কারারক্ষী বাদল কবির মৃধা, কারারক্ষী গাজী রশিদ, হানিফ, গেটরক্ষী ফিরোজ আলম এবং গেট সার্জেন্ট মাইনুল।
একাধিক সূত্রের দাবি কারাগারের মূল ফটকে ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ এমন শ্লোগান লেখা থাকলেও অভ্যন্তরের অনিয়ম-দুর্নীতির অন্ত নেই। দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীল গোটা কারাগারকে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। মাস শেষে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রক্ষীদের সহযোগিতায় বন্দিদের মাদকে জড়াতে সহযোগিতা করছেন। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কারারক্ষীদের বড় একটি অংশ নিরব বিদ্রোহ শুরু করেছেন এবং এই অনৈতিক কাজে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ৬ জুন কীর্তনখোলা-২ ভবন থেকে সুমন খান নামের বন্দির কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীলের নির্দেশনায় ২০ হাজার টাকায় আপস করেন সর্বপ্রধান রক্ষী (ভেতর সুবেদার) গাজী রশিদ ও প্রধান রক্ষী মো. শহিদুল ইসলাম। এই দুই রক্ষী কারাভ্যন্তরে গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে জানতে তাদের মধ্যেকার গাজী রশিদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তার রিসিভ করেননি।
সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা ভবনের ঘটনাটি যে ভাবে অর্থের বিনিময়ে লুকায়িত রাখা হয়, একইভাবে ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবং এনিয়ে কদিন ব্যাপক দর কষাকষিও হয়, কিন্তু শেষত্বক পরিবেশ-পরিস্থিতি ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনায় ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ফোন ধরে প্রশ্ন শুনেই ব্যস্ত আছেন এবং পরে যোগাযোগ করছেন জানিয়ে কলটি রেখে দেন। পরবর্তীতে তিনি আর এ প্রতিবেদককে ফোন করেননি।
তবে জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। এবং তিনি বলছেন, বন্দি সুবর্ণার নামে মামলা করতে জেলার মাহাবুব কবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই ঘটনায় মৌ এবং শারমিন নামের দুজন রক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণে সুপারিশ রাখা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কারাভ্যন্তরে কি ভাবে মাদকের চালান ঢুকছে এবং এর সাথে দুজন ডেপুটি জেলারের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেই বিষয়ে জেল সুপার বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে কারাগারকে মাদকমুক্ত করাসহ অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের কাছ থেকে এর আগেও একাধিকবার মাদক এবং স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ৫ আগস্টপরবর্তী বন্দি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়। তখন দৈনি রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় মোটা দাগে একটি সংবাদ প্রকাশের পরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই সময় বিতর্ক এড়াতে জেলা প্রশাসন কারাগারে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি স্মার্ট মোবাইল ফোনসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছিল। এবার খোদ নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে জানতে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) অসীম কান্ত পালকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন ঠিকই। কিন্তু বরিশাল কারাগারের এই মাদককান্ড নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা আর রিসিভ করেননি।’
নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে তোলপাড়। দুই ডেপুটি জেলারসহ কারারক্ষীদের জড়িত থাকার অভিযোগ।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। এবং এই অবৈধ বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ দুইজন ডেপুটি জেলারসহ কজন কারারক্ষী। গত ১০ জুন জনৈক নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে মাদকের একটি বড় চালান উদ্ধারের পর কারাগারের ভেতরে মাদক কারবারের বিষয়টি তুমুল আলোচনায় আসে। কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কারাভ্যন্তরে মাদকের চালান প্রবেশ এবং বন্দিদের কাছ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনেও তোলপাড় চলছে।
সূত্র বলছে, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম এবং দুর্নীতির শেষ নেই, সর্বক্ষেত্রেই আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিপদজনক বন্দিদের কাছ থেকে সুবিধাগ্রহণ করে তাদের বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আছে। এবার নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি বেশিমাত্রায় আলোচিত হচ্ছে এবং এই ঘটনা দুজন ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ও আনন্দ শীলকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।
এর আগে গত ৬ জুন কারাভ্যন্তরের কীর্তনখোলা-২ ভবনের বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, কাছাকাছি সময়ে দুটি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে কারা কর্তৃপক্ষ লুকোচাপা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এই মাদক বাণিজ্যে দুইজন কর্মকর্তাসহ কারারক্ষীরা জড়িত থাকায় বিষয়টি বেশ কৌতুহলের সৃষ্টি করে। কারা কর্তৃপক্ষ এই মাদককান্ডে বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং কারারক্ষী মৌ ও শারমিন নামের দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
বরিশালটাইমসের অনুসন্ধানে কারাগার নিয়ে সমসাময়িক যে তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়া গেছে, তা শুনে অনেকের চোখ কপালে ওঠার জোগার হবে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, কারাভ্যন্তরের এই মাদক বাণিজ্যে শুধু রক্ষীরাই জড়িত নয়, সম্পৃক্ত আছেন ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীল। তাদের সাথে আরও জড়িত আছেন সর্বপ্রধান কারারক্ষী বাদল কবির মৃধা, কারারক্ষী গাজী রশিদ, হানিফ, গেটরক্ষী ফিরোজ আলম এবং গেট সার্জেন্ট মাইনুল।
একাধিক সূত্রের দাবি কারাগারের মূল ফটকে ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ এমন শ্লোগান লেখা থাকলেও অভ্যন্তরের অনিয়ম-দুর্নীতির অন্ত নেই। দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীল গোটা কারাগারকে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। মাস শেষে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রক্ষীদের সহযোগিতায় বন্দিদের মাদকে জড়াতে সহযোগিতা করছেন। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কারারক্ষীদের বড় একটি অংশ নিরব বিদ্রোহ শুরু করেছেন এবং এই অনৈতিক কাজে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ৬ জুন কীর্তনখোলা-২ ভবন থেকে সুমন খান নামের বন্দির কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীলের নির্দেশনায় ২০ হাজার টাকায় আপস করেন সর্বপ্রধান রক্ষী (ভেতর সুবেদার) গাজী রশিদ ও প্রধান রক্ষী মো. শহিদুল ইসলাম। এই দুই রক্ষী কারাভ্যন্তরে গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে জানতে তাদের মধ্যেকার গাজী রশিদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তার রিসিভ করেননি।
সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা ভবনের ঘটনাটি যে ভাবে অর্থের বিনিময়ে লুকায়িত রাখা হয়, একইভাবে ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবং এনিয়ে কদিন ব্যাপক দর কষাকষিও হয়, কিন্তু শেষত্বক পরিবেশ-পরিস্থিতি ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এবং আনন্দ শীলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনায় ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ফোন ধরে প্রশ্ন শুনেই ব্যস্ত আছেন এবং পরে যোগাযোগ করছেন জানিয়ে কলটি রেখে দেন। পরবর্তীতে তিনি আর এ প্রতিবেদককে ফোন করেননি।
তবে জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। এবং তিনি বলছেন, বন্দি সুবর্ণার নামে মামলা করতে জেলার মাহাবুব কবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই ঘটনায় মৌ এবং শারমিন নামের দুজন রক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণে সুপারিশ রাখা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কারাভ্যন্তরে কি ভাবে মাদকের চালান ঢুকছে এবং এর সাথে দুজন ডেপুটি জেলারের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেই বিষয়ে জেল সুপার বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে কারাগারকে মাদকমুক্ত করাসহ অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের কাছ থেকে এর আগেও একাধিকবার মাদক এবং স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ৫ আগস্টপরবর্তী বন্দি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়। তখন দৈনি রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় মোটা দাগে একটি সংবাদ প্রকাশের পরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই সময় বিতর্ক এড়াতে জেলা প্রশাসন কারাগারে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি স্মার্ট মোবাইল ফোনসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছিল। এবার খোদ নারী বন্দির কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে জানতে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) অসীম কান্ত পালকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন ঠিকই। কিন্তু বরিশাল কারাগারের এই মাদককান্ড নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা আর রিসিভ করেননি।’
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।