Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৮
ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন বগুড়া শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকার বাসিন্দারা। স্বপ্ন ছিল ঈদের আগে জমানো টাকা দিয়ে পর্যাপ্ত মাংস পাবেন।
কিন্তু সেই আনন্দ এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। ১ হাজার ২০০ পরিবারের প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন স্থানীয় ফোর স্টার নামের একটি সমিতির তিন পরিচালক। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মাংস নিতে এসে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, সমিতির পরিচালকরা গা ঢাকা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালগ্রাম নতুন পাড়া এলাকায় আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামে তিন ব্যক্তি ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি গঠন করেন। এর মধ্যে আব্দুল হাকিম জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি পদে রয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত ঈদকে কেন্দ্র করে সঞ্চয় তোলাই ছিল এ সমিতির প্রধান কাজ।
মালগ্রামের কয়েকটি পাড়া মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার এ সমিতির সদস্য ছিল। প্রতিটি কার্ডের সঞ্চয় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার টাকা এবং সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়েছিল। গত রোববার (১৫ মার্চ) মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দিতে পারেনি এবং মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মাংস দেওয়ার চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করে পরিচালকরা লাপাত্তা হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আর্তনাদ দেখা দিয়েছে।
কীটনাশক কারখানার কর্মী বাবলী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, নিজের টাকার পাশাপাশি কারখানার আরও ৪৪ জনের টাকা আমার মাধ্যমে এ সমিতিতে রেখেছিলাম। এখন আমি ফেঁসে গেছি। আমার স্বামী অটো চালায়, আমি নিজে কাজ না করলে সংসার চলে না। এত টাকা এখন আমি কীভাবে শোধ করব?
চাপড়পাড়ার বাসিন্দা পারুল জানান, এ পাড়ার ৭৫০ জন মানুষ বই করেছিল, যেন ঈদের সময় পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করা যায়। একই অবস্থা লালন মণ্ডলসহ আরও অনেক ভুক্তভোগীর। কষ্টার্জিত জমানো টাকা হারিয়ে তারা এখন দিশাহারা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সদর থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফা মঞ্জুর বলেন, মালগ্রাম এলাকায় একটি সমিতি মাংস দেওয়ার নামে প্রতি সপ্তাহে টাকা তুলত। মঙ্গলবার তাদের বিতরণের দিন ছিল, কিন্তু তারা টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন বগুড়া শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকার বাসিন্দারা। স্বপ্ন ছিল ঈদের আগে জমানো টাকা দিয়ে পর্যাপ্ত মাংস পাবেন।
কিন্তু সেই আনন্দ এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। ১ হাজার ২০০ পরিবারের প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন স্থানীয় ফোর স্টার নামের একটি সমিতির তিন পরিচালক। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মাংস নিতে এসে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, সমিতির পরিচালকরা গা ঢাকা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালগ্রাম নতুন পাড়া এলাকায় আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামে তিন ব্যক্তি ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি গঠন করেন। এর মধ্যে আব্দুল হাকিম জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি পদে রয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত ঈদকে কেন্দ্র করে সঞ্চয় তোলাই ছিল এ সমিতির প্রধান কাজ।
মালগ্রামের কয়েকটি পাড়া মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার এ সমিতির সদস্য ছিল। প্রতিটি কার্ডের সঞ্চয় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার টাকা এবং সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়েছিল। গত রোববার (১৫ মার্চ) মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দিতে পারেনি এবং মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মাংস দেওয়ার চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করে পরিচালকরা লাপাত্তা হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আর্তনাদ দেখা দিয়েছে।
কীটনাশক কারখানার কর্মী বাবলী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, নিজের টাকার পাশাপাশি কারখানার আরও ৪৪ জনের টাকা আমার মাধ্যমে এ সমিতিতে রেখেছিলাম। এখন আমি ফেঁসে গেছি। আমার স্বামী অটো চালায়, আমি নিজে কাজ না করলে সংসার চলে না। এত টাকা এখন আমি কীভাবে শোধ করব?
চাপড়পাড়ার বাসিন্দা পারুল জানান, এ পাড়ার ৭৫০ জন মানুষ বই করেছিল, যেন ঈদের সময় পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করা যায়। একই অবস্থা লালন মণ্ডলসহ আরও অনেক ভুক্তভোগীর। কষ্টার্জিত জমানো টাকা হারিয়ে তারা এখন দিশাহারা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সদর থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফা মঞ্জুর বলেন, মালগ্রাম এলাকায় একটি সমিতি মাংস দেওয়ার নামে প্রতি সপ্তাহে টাকা তুলত। মঙ্গলবার তাদের বিতরণের দিন ছিল, কিন্তু তারা টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৫ মে, ২০২৬ ১১:১১
চুয়াডাঙ্গার শহরতলীতে নাচ-গান ও টিকটক করার অভিযোগে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে দাফন কার্যক্রম থমকে যায়। জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার।
তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই দাফন নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়দের একটি অংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফন দিতে রাজি হয়নি।
অন্য বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তিনি বা তার পরিবার এখানে সদস্য না। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি।
এদিকে সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুড়তেও দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও দাফনের কথা ভাবছি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গার তুহিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

১৫ মে, ২০২৬ ১০:৪০
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ৫০টি খাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবক মাঠের পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা খাতাগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব খাতা মাঠে এল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বড় মাঠ পশ্চিম পাশে রাস্তায় ঘোরাঘুরির সময় এক যুবকের নজরে আসে বেশ কিছু খাতা। পরে কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেগুলো এসএসসি পরীক্ষার খাতা হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড় মাঠের পশ্চিম পাশে রাস্তা থেকে একজন ব্যক্তি প্রায় ৫০টি খাতা কুড়িয়ে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে আমরা সেগুলো উদ্ধার করি।
বর্তমানে খাতাগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর মালিককে শনাক্ত করা যায়নি। মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

১৪ মে, ২০২৬ ১৭:১৩
নেত্রকোনার পূর্বধলায় ১৫ বছর বয়সি কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী পশ্চিমপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। পাঁচ মাস আগে সে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শফিকুল ইসলাম, তার মা ও ওই কিশোরী একসঙ্গে বসবাস করতেন। বাড়িতে আসার কয়েক দিন পর থেকেই শফিকুল ভয় দেখিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করতে শুরু করেন। এরপর থেকে নিয়মিত ওই কিশোরী বাবার লালসার শিকার হতে থাকে।
পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরী ময়মনসিংহে এক নারী চিকিৎসকের বাসার কাজে যোগ দেয়। সেখানে এক মাস কাজ করার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ওই চিকিৎসকের সন্দেহ হয়।
পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। অবশেষে আত্মগোপনে থাকা শফিকুলকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়।
পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে থানায় এনে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়াও ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
তিনি জানান, মামলা দায়ের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে শিগগিরই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
চুয়াডাঙ্গার শহরতলীতে নাচ-গান ও টিকটক করার অভিযোগে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে দাফন কার্যক্রম থমকে যায়। জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার।
তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই দাফন নিয়ে আপত্তি তোলে স্থানীয়দের একটি অংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফন দিতে রাজি হয়নি।
অন্য বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তিনি বা তার পরিবার এখানে সদস্য না। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি।
এদিকে সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুড়তেও দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও দাফনের কথা ভাবছি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গার তুহিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ৫০টি খাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবক মাঠের পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা খাতাগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব খাতা মাঠে এল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বড় মাঠ পশ্চিম পাশে রাস্তায় ঘোরাঘুরির সময় এক যুবকের নজরে আসে বেশ কিছু খাতা। পরে কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেগুলো এসএসসি পরীক্ষার খাতা হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড় মাঠের পশ্চিম পাশে রাস্তা থেকে একজন ব্যক্তি প্রায় ৫০টি খাতা কুড়িয়ে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে আমরা সেগুলো উদ্ধার করি।
বর্তমানে খাতাগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর মালিককে শনাক্ত করা যায়নি। মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
নেত্রকোনার পূর্বধলায় ১৫ বছর বয়সি কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী পশ্চিমপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। পাঁচ মাস আগে সে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শফিকুল ইসলাম, তার মা ও ওই কিশোরী একসঙ্গে বসবাস করতেন। বাড়িতে আসার কয়েক দিন পর থেকেই শফিকুল ভয় দেখিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করতে শুরু করেন। এরপর থেকে নিয়মিত ওই কিশোরী বাবার লালসার শিকার হতে থাকে।
পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরী ময়মনসিংহে এক নারী চিকিৎসকের বাসার কাজে যোগ দেয়। সেখানে এক মাস কাজ করার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ওই চিকিৎসকের সন্দেহ হয়।
পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। অবশেষে আত্মগোপনে থাকা শফিকুলকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়।
পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে থানায় এনে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়াও ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
তিনি জানান, মামলা দায়ের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে শিগগিরই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।