মবসন্ত্রাসের শিকার বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীনের পাশে এসে দাঁড়ালেন নাগরিক সমাজ। করোনাযোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত এই চিকিৎসককে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে তা নিয়ে আপত্তি তোলেন ড্যাবের একটি অংশ। এবং এই অংশটি নেপথ্যে থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি মোর্চা গঠন করে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর আখ্যায়িত করাসহ তাকে জুলাই আন্দোলনবিরোধী তকমা দেওয়া হয়। পাশাপশি ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে তাকে অপসারণকে একটি সাজানো ছকে আন্দোলনময় পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ফলে নিরুপায় চিকিৎসক কোনো উপায়ান্ত পাচ্ছিলেন না, আগামীতে কোন দিকে যাবেন এবং কি পদক্ষেপ রাখবেন।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার তার স্বপক্ষে মাঠে নামে নাগরিক সমাজ, যা চিকিৎসকের জন্য স্বস্তিদায়ক। শহরের অশি^নী কুমার হলের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে চিকিৎসক মনিরুজ্জামান শাহীনের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।
সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং করোনাকালীন দুর্যোগে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করা হয়। বক্তারা বলেন, ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীন একজন পেশাদার ও দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অথচ দুঃখজনকভাবে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিগত সরকারের মন্ত্রীদের সাথে দাপ্তরিক কাজের কিছু ছবিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্যক্তিগত আক্রোশ, ইর্ষা এবং পদ-পদবির লোভ থেকে যাকে তাকে স্বৈরাচারের দোসর ট্যাগ লাগিয়ে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যে নোংরা মব কালচার দেশে শুরু হয়েছে, তা চরম অন্যায় এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বক্তারা আরও বলেন, করোনাকালীন চরম সংকটের সময়ে যখন সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে মানবসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার সেই মানবিক ও নিষ্ঠাপূর্ণ অবদানকে বরিশালের মানুষ আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। অথচ আজ একটি মহল চিকিৎসকদের একাংশকে বিভ্রান্ত করে বিক্ষোভের নামে বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত নাগরিকরা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের উস্কানি ও মিথ্যা অপপ্রচারে কান না দিয়ে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনের মতো একজন যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তাকে বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক। একই সাথে যারা স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে (বরিশাল) মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি, মস্তব্য পাওয়া যায়।
মানববন্ধনে বরিশালের বিভিন্ন পেশাজীবী, সমাজকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
অবশ্য আন্দোলনরতদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের বিরোধীতা করেছিলেন ডা মনিরুজ্জামান শাহীন। এমনকি তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থিতদের আয়োজিত শান্তি সমাবেশেও অংশ নিয়েছেন। তার জুলাই বিরোধী অবস্থানের কারণে ড্যাবে বরিশাল শাখার একটি অংশ তাকে বরিশালে পদায়নে খুশি নয়। তাছাড়া জুলাইয়ের ভ‚মিকা নিয়েও তার ওপর অনেকে সংক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
এক্ষেত্রে ডা মনিরুজ্জামান শাহীনের ভাষ্য হচ্ছে, তৎকালীন তিনি শেবাচিমের উপ-পরিচালক ছিলেন, পদাধিকার বলে তাকে শান্তি সমাবেশে অংশ নিতে হয়। কিন্তু সেখানে তিনি জুলাইবিরোধী তেমন কিছু বলেননি। কারণ এই চিকিৎসক ছাত্রজীবনে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ড্যাবের আজীবন সদস্য বলে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, যোগ্যতার কারণে মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পদায়ন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। কিন্তু তিনি যোগদানের একদিন পরেই মবসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে, যা উদ্বেগ এবং আতঙ্কের। বিষয়টিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শনিবার মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজ।’

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২১
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না। রোববার অপরাহ্ণে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শান্ত স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীর জনপদের রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত মন্ত্রী বলেন, জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না। রোববার অপরাহ্ণে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শান্ত স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীর জনপদের রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত মন্ত্রী বলেন, জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৩
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি হাতে লেখা হিসাবের নথিতে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার তথ্য উঠে আসায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তিনি স্কাই ভিউ অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন। তার দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরের বিল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিল চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
তবে বিল পাওয়ার কয়েক দিন পর বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু ফোন করে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নুরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, তাকে বলা হয়,এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রথমে তিনি ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।এদিকে, হাতে লেখা একটি নোট বা হিসাবপত্রেও বিভিন্ন সময় অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ১ হাজার টাকা, ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। কোথাও ফি, কোথাও প্রয়োজনীয় খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার হিসাব লেখা আছে। তবে ওই অর্থ কোন খাতে, কার কাছে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে,তা নথি দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু নিয়মিত তার বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার ও দালালির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনিরুল আলম মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি হাতে লেখা হিসাবের নথিতে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার তথ্য উঠে আসায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তিনি স্কাই ভিউ অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন। তার দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরের বিল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিল চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
তবে বিল পাওয়ার কয়েক দিন পর বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু ফোন করে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নুরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, তাকে বলা হয়,এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রথমে তিনি ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।এদিকে, হাতে লেখা একটি নোট বা হিসাবপত্রেও বিভিন্ন সময় অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ১ হাজার টাকা, ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। কোথাও ফি, কোথাও প্রয়োজনীয় খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার হিসাব লেখা আছে। তবে ওই অর্থ কোন খাতে, কার কাছে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে,তা নথি দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু নিয়মিত তার বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার ও দালালির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনিরুল আলম মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৮
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ হতে যাওয়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে বিশ্বের সবচেয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আর্কাইভসহ প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সেবা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তথ্য কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে আগামীর পথে। এছাড়াও প্রচলিত অর্থেই উন্নয়ন নয়, আধুনিক জ্ঞাননির্ভর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল জলিল প্রমুখ।
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ হতে যাওয়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে বিশ্বের সবচেয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আর্কাইভসহ প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সেবা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তথ্য কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে আগামীর পথে। এছাড়াও প্রচলিত অর্থেই উন্নয়ন নয়, আধুনিক জ্ঞাননির্ভর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল জলিল প্রমুখ।

১১ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩১
মবসন্ত্রাসের শিকার বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীনের পাশে এসে দাঁড়ালেন নাগরিক সমাজ। করোনাযোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত এই চিকিৎসককে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে তা নিয়ে আপত্তি তোলেন ড্যাবের একটি অংশ। এবং এই অংশটি নেপথ্যে থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি মোর্চা গঠন করে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর আখ্যায়িত করাসহ তাকে জুলাই আন্দোলনবিরোধী তকমা দেওয়া হয়। পাশাপশি ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে তাকে অপসারণকে একটি সাজানো ছকে আন্দোলনময় পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ফলে নিরুপায় চিকিৎসক কোনো উপায়ান্ত পাচ্ছিলেন না, আগামীতে কোন দিকে যাবেন এবং কি পদক্ষেপ রাখবেন।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার তার স্বপক্ষে মাঠে নামে নাগরিক সমাজ, যা চিকিৎসকের জন্য স্বস্তিদায়ক। শহরের অশি^নী কুমার হলের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে চিকিৎসক মনিরুজ্জামান শাহীনের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।
সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং করোনাকালীন দুর্যোগে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করা হয়। বক্তারা বলেন, ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীন একজন পেশাদার ও দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অথচ দুঃখজনকভাবে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিগত সরকারের মন্ত্রীদের সাথে দাপ্তরিক কাজের কিছু ছবিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্যক্তিগত আক্রোশ, ইর্ষা এবং পদ-পদবির লোভ থেকে যাকে তাকে স্বৈরাচারের দোসর ট্যাগ লাগিয়ে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যে নোংরা মব কালচার দেশে শুরু হয়েছে, তা চরম অন্যায় এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বক্তারা আরও বলেন, করোনাকালীন চরম সংকটের সময়ে যখন সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে মানবসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার সেই মানবিক ও নিষ্ঠাপূর্ণ অবদানকে বরিশালের মানুষ আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। অথচ আজ একটি মহল চিকিৎসকদের একাংশকে বিভ্রান্ত করে বিক্ষোভের নামে বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত নাগরিকরা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের উস্কানি ও মিথ্যা অপপ্রচারে কান না দিয়ে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনের মতো একজন যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তাকে বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক। একই সাথে যারা স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে (বরিশাল) মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি, মস্তব্য পাওয়া যায়।
মানববন্ধনে বরিশালের বিভিন্ন পেশাজীবী, সমাজকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
অবশ্য আন্দোলনরতদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের বিরোধীতা করেছিলেন ডা মনিরুজ্জামান শাহীন। এমনকি তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থিতদের আয়োজিত শান্তি সমাবেশেও অংশ নিয়েছেন। তার জুলাই বিরোধী অবস্থানের কারণে ড্যাবে বরিশাল শাখার একটি অংশ তাকে বরিশালে পদায়নে খুশি নয়। তাছাড়া জুলাইয়ের ভ‚মিকা নিয়েও তার ওপর অনেকে সংক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
এক্ষেত্রে ডা মনিরুজ্জামান শাহীনের ভাষ্য হচ্ছে, তৎকালীন তিনি শেবাচিমের উপ-পরিচালক ছিলেন, পদাধিকার বলে তাকে শান্তি সমাবেশে অংশ নিতে হয়। কিন্তু সেখানে তিনি জুলাইবিরোধী তেমন কিছু বলেননি। কারণ এই চিকিৎসক ছাত্রজীবনে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ড্যাবের আজীবন সদস্য বলে জানা গেছে।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, যোগ্যতার কারণে মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পদায়ন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। কিন্তু তিনি যোগদানের একদিন পরেই মবসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে, যা উদ্বেগ এবং আতঙ্কের। বিষয়টিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শনিবার মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজ।’
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫৬
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৪
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩২
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫০