ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি দলটি। ফলে জোট নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তার দলের ১০৭ এমপি একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (ডিএমকে) বা সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের চেষ্টা করলে দলের ১০৭ এমপি পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে টিভিকে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। এম কে স্টালিনের ডিএমকে এবং ই পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে একসঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ দুই দলের জোট হলে সর্বাধিক জনসমর্থন পাওয়া দল টিভিকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
১০৭টি আসন জিতে টিভিকে দাবি করছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের জন্য গভর্নরের উচিত তাদের আমন্ত্রণ জানানো। তবে তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আর্লেকার বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানাতে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, তা-ও তিনি গ্রহণ করেননি।
সূত্র জানিয়েছে, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকেও গভর্নর জানিয়েছেন, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮ এমপির সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে। রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। এরই মধ্যে কংগ্রেসের ৫ এমপি তাদের সমর্থন দিয়েছে। বাম দল এবং কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বাকি সমর্থন জোগাড়ে আলোচনা চলছে। সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে টিভিকে।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৮

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি দলটি। ফলে জোট নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তার দলের ১০৭ এমপি একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (ডিএমকে) বা সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের চেষ্টা করলে দলের ১০৭ এমপি পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে টিভিকে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। এম কে স্টালিনের ডিএমকে এবং ই পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে একসঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ দুই দলের জোট হলে সর্বাধিক জনসমর্থন পাওয়া দল টিভিকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
১০৭টি আসন জিতে টিভিকে দাবি করছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের জন্য গভর্নরের উচিত তাদের আমন্ত্রণ জানানো। তবে তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আর্লেকার বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানাতে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, তা-ও তিনি গ্রহণ করেননি।
সূত্র জানিয়েছে, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকেও গভর্নর জানিয়েছেন, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮ এমপির সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে। রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। এরই মধ্যে কংগ্রেসের ৫ এমপি তাদের সমর্থন দিয়েছে। বাম দল এবং কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বাকি সমর্থন জোগাড়ে আলোচনা চলছে। সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে টিভিকে।
সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগ, বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস; জাহাঙ্গিরপুরী থেকে উজ্জয়ন—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিংহস্থ মেলা-২০২৮ সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদেরও একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের মধ্যে পড়েছে। মসজিদটির কিছু অংশের বয়স প্রায় ৬০০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয়। আদালত সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থ এবং সিংহস্থ মেলায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এর আগে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার ভিত্তিতে শাহী মসজিদকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আবেদনকারীদের এমন অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প নকশা গ্রহণ করা সম্ভব। মসজিদের বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বা অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।
উজ্জয়নের ঘটনা ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ কিংবা বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর উত্তর দিল্লি পৌর করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
একই বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের খারগোনে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খারগোনের এক মুসলিম নারীর বাড়ি ভাঙার ঘটনাসহ বিভিন্ন উচ্ছেদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিক্ষোভের পর অন্তত ১২৮টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব অভিযানে মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযানগুলো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। আদালত স্পষ্ট করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তাঁর সম্পত্তি ধ্বংস করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ভাঙার ঘটনায় একাধিক আবেদন ও সমালোচনার পর আদালতের এ নির্দেশনা আসে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এ ধরনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধটি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়। এটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও আদালতের আদেশসংক্রান্ত বিরোধ। তাই দুই ধরনের ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট এক নয়। তারপরও ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা, বিকল্প পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশটির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয়। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি এ ঘটনাকে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঘটলেও তাঁর সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম স্থাপনা ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সমালোচকদের বক্তব্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পৌর করপোরেশনের সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ এবং এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। ঘটনাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পৃথক ভূমিকা বিবেচনা করেই এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ অপসারণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য অন্য দিক থেকে জমি নেওয়ার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সড়ক সম্প্রসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধ তাই কেবল একটি সড়কের নকশা বা স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
মোদি আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, উজ্জয়নের ঘটনাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্স।
সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগ, বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস; জাহাঙ্গিরপুরী থেকে উজ্জয়ন—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিংহস্থ মেলা-২০২৮ সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির নির্দিষ্ট অংশ ভাঙার পরিকল্পনা করেছে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ভিডিওতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদেরও একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের মধ্যে পড়েছে। মসজিদটির কিছু অংশের বয়স প্রায় ৬০০ বছর বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা আবেদন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ গত ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেয়। আদালত সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থ এবং সিংহস্থ মেলায় যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, একই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে এর আগে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার ভিত্তিতে শাহী মসজিদকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—আবেদনকারীদের এমন অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প নকশা গ্রহণ করা সম্ভব। মসজিদের বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে বা অন্য দিক থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।
উজ্জয়নের ঘটনা ভারতের বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ কিংবা বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর উত্তর দিল্লি পৌর করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
একই বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের খারগোনে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পরও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খারগোনের এক মুসলিম নারীর বাড়ি ভাঙার ঘটনাসহ বিভিন্ন উচ্ছেদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং বিক্ষোভের পর অন্তত ১২৮টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। এতে অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব অভিযানে মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযানগুলো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। আদালত স্পষ্ট করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেই তাঁর সম্পত্তি ধ্বংস করা যায় না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি ভাঙার ঘটনায় একাধিক আবেদন ও সমালোচনার পর আদালতের এ নির্দেশনা আসে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, এ ধরনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধটি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বাড়ি ভাঙার ঘটনা নয়। এটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প ও আদালতের আদেশসংক্রান্ত বিরোধ। তাই দুই ধরনের ঘটনার আইনি প্রেক্ষাপট এক নয়। তারপরও ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংবেদনশীলতা, বিকল্প পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ বিবেচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা দেশটির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয়। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি এ ঘটনাকে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ঘটলেও তাঁর সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম স্থাপনা ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে সমালোচকদের বক্তব্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পৌর করপোরেশনের সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ এবং এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। ঘটনাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পৃথক ভূমিকা বিবেচনা করেই এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ অপসারণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য অন্য দিক থেকে জমি নেওয়ার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সড়ক সম্প্রসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ধর্মীয় সমাবেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ঘিরে বিরোধ তাই কেবল একটি সড়কের নকশা বা স্থাপনা অপসারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
মোদি আমলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, উজ্জয়নের ঘটনাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রয়টার্স।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫২
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪০
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫১