দেশে নতুন আতঙ্কের নাম অনলাইন জুয়া। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে জুয়া বহু পুরনো ও প্রচলিত একটি বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রত উন্নতির সঙ্গে জুয়াও বদলে গেছে।
আজকাল অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনলাইন জুয়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। কৌতূহল থেকে শুরু করে ‘সহজে আয়’ ভাবনা তরুণ প্রজন্ম নানান অনলাইন জুয়ার সাইটে আকৃষ্ট হচ্ছে। গোপন পদ্ধতিতে পাকা আয়ের সুফল দেখানো হচ্ছে, ফলে শহর-গ্রাম সবার মধ্যে এর বিস্তার দ্রত বাড়ছে।
যশোর জেলার শার্শা-বেনাপোলে অনলাইন জুয়া ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিদিন হাজারো যুবক অনলাইনে বাজি ধরে নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন, এক ক্লিকে লাখ লাখ টাকা উড়ে যাচ্ছে।
কলেজছাত্র থেকে মধ্যবয়স্ক ব্যবসায়ী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছেন। ফুটপাতের চা দোকানি, সেলুনকর্মী, হকার, বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী, বিক্রয়কর্মী, ভবঘুরে, বাস-ট্রাক চালক, সিএনজি চালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুর অনেকেই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় অনলাইনে বাজি ধরায় ব্যস্ত থাকেন।
অনেকেরই শুরু হয় এক হাজার টাকা বা আরও বেশি টাকা দিয়ে। পরবর্তী পর্যায়ে তা ১০ হাজার কিংবা তারও বেশি হয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের সব সম্পদ শেষ হয়ে যায়।
শার্শা উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য বেনাপোল, বাগআঁচড়া, গোগা, কায়বা, শার্শা, উলাশী, লক্ষণপুর এবং একমাত্র পৌরসভা বেনাপোল। এ অঞ্চলে জুয়ার বিস্তার শহর-গ্রাম ধরে ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনলাইনে হারানো টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইয়ের পথে নামছে। নাভারন, শার্শা, বেনাপোল ও বাগআঁচড়া এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। কিশোররা জোটবদ্ধ হয়ে গ্যাং গঠন করে রাতে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে সর্বস্ব লুট করছে এই ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কে আছে।
কলারোয়ার ভূক্তভোগী আনারুল বলেন, বাসে যশোর যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাং চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে আমার কাছে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নেয়। অচেতন অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এখন আমরা অনিরাপদ জীবন কাটাচ্ছি। আগে চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের ভয় ছিল, আর এখন উঠতি বয়সী কিশোররা গ্যাং তৈরি করে একই কায়দায় লুটপাট করছে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকার নেশায় তাদের এই বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে বেনাপোলের আরাফাত রহমান জানান, মোবাইলে জুয়া খেলে টাকা ইনকামের নেশায় কিশোর-তরুণরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। আর সেই টাকার যোগান দিতে গিয়ে তারা চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে আছি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অপরদিকে নিঃস্ব হওয়া যুবক আব্দুল্লাহ জানান, নেশায় পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়েছি। ধার করে খেলেছি এখন দেনার দায়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছি। কেউ টাকা দিতে চায় না। আমরা এখন সব হারিয়ে দিশেহারা।
স্থানীয়রা বলছেন, এ সমস্যা কেবল আর্থিক নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, গণপরিবেশ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরের প্রভাব নিয়েও বড় প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে। জনগণ ও প্রশাসনকে মিলে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ ও পূনর্বাসনমূলক উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে এটাই এলাকার মানুষের দাবি।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) এস আই মানিক কুমার সাহা জানান, অনলাইন জুয়ার ব্যাপারে থানায় কেউ কখনো অভিযোগ করেনি। নানা কারণে সর্বশান্তরা থানায় আসতে ভয় পায়। মোবাইলে জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা তৎপর আছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, অনলাইন জুয়া আমাদের সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে নানা ধরনের অপরাধ যেমন চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং সক্রিয়তা জড়িত।
এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
একইসঙ্গে, জনগণকে সচেতন করতে প্রশাসন সভা-সেমিনার, বিদ্যালয়-মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষকে বোঝানো যে অনলাইন জুয়া তাদের পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৪
দুর্গাপুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকা। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া—সব ক্ষেত্রেই খরচের বহর চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের হিসাবটা কি কখনও সামনে আসে?
পুজো শেষ হলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন পুরোহিত। তখন অনেকের মুখে শোনা যায়, “পুজোয় তো ভালোই কামাই হয়েছে! ফল-মিষ্টি, শাড়ি-গামছাও তো পেয়েছেন।” অথচ বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরকম।
২০ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজোতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোহিতের বরাদ্দ হতে পারে চারটি লালপাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে কয়েকটি গামছা এবং নির্ধারিত দক্ষিণা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, পাওয়া শাড়িগুলির মধ্য থেকেও কিছু শাড়ি কমিটির পক্ষ থেকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ থাকে। দক্ষিণার ক্ষেত্রেও থাকে নানা শর্ত ও কমিটির নিয়ন্ত্রণ।
এর মধ্যে পুজোর পাঁচ দিন পুরোহিতকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। চণ্ডীপাঠ, হোম, পুজোর বিভিন্ন আচার—সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে পুজো শেষ হওয়ার আগেই বসে যায় গলার স্বর।
কিন্তু পুজো শেষ হলেই সেই পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় অন্যভাবে। পাড়ার পরিচিতদের কেউ বলেন, “ভালোই তো কামাই হয়েছে।” কেউ চান নারকেল, কেউ গামছা, কেউ শাড়ি। অথচ খুব কম মানুষই প্রশ্ন করেন—পাঁচ দিন ধরে যে মানুষটি অন্যের পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে পুজো করলেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য কী রইল?
পুরোহিতদের আয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। কালীঘাট, তিরুপতি বা জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতদের আয়ের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ পুরোহিতদের বিচার করা হয়। অথচ অধিকাংশ পুরোহিত সেই আয়ের ধারেকাছেও থাকেন না।
কোনও পরিবারের মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হলেও নারায়ণ পুজোর দক্ষিণা ৫১ টাকা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। দক্ষিণা বাড়ানোর কথা বললেই জোটে ‘পুরোহিত লোভী’ তকমা।
প্রশ্ন হল, অন্য পেশার মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে বেশি অর্থ পেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোহিত নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলে সেটাই কেন লোভ?
নার্সিংহোমের বাড়তি বিল, স্কুলের ডোনেশন কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার চড়া খরচ নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললেও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত কৃপণতা?
পুরোহিত কোনও যন্ত্র নন। তাঁরও পরিবার আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, সন্তানের পড়াশোনা আছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আছে। পাঁচ দিন উপবাস করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রোচ্চারণ করাও শ্রম। সেই শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করাও স্বাভাবিক।
দুর্গাপুজোর বাজেট যদি লক্ষ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কাজটি যিনি করেন, তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
‘পুরোহিত লোভী’ বলার আগে তাই একবার হিসাবটা দেখা দরকার—পুজোর মোট বাজেটের কত শতাংশ সত্যিই পুরোহিতের হাতে যায়?
দুর্গাপুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকা। মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া—সব ক্ষেত্রেই খরচের বহর চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের হিসাবটা কি কখনও সামনে আসে?
পুজো শেষ হলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন পুরোহিত। তখন অনেকের মুখে শোনা যায়, “পুজোয় তো ভালোই কামাই হয়েছে! ফল-মিষ্টি, শাড়ি-গামছাও তো পেয়েছেন।” অথচ বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অন্যরকম।
২০ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজোতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোহিতের বরাদ্দ হতে পারে চারটি লালপাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে কয়েকটি গামছা এবং নির্ধারিত দক্ষিণা। এমনও অভিযোগ রয়েছে, পাওয়া শাড়িগুলির মধ্য থেকেও কিছু শাড়ি কমিটির পক্ষ থেকে রেখে দেওয়ার নির্দেশ থাকে। দক্ষিণার ক্ষেত্রেও থাকে নানা শর্ত ও কমিটির নিয়ন্ত্রণ।
এর মধ্যে পুজোর পাঁচ দিন পুরোহিতকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। চণ্ডীপাঠ, হোম, পুজোর বিভিন্ন আচার—সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে পুজো শেষ হওয়ার আগেই বসে যায় গলার স্বর।
কিন্তু পুজো শেষ হলেই সেই পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয় অন্যভাবে। পাড়ার পরিচিতদের কেউ বলেন, “ভালোই তো কামাই হয়েছে।” কেউ চান নারকেল, কেউ গামছা, কেউ শাড়ি। অথচ খুব কম মানুষই প্রশ্ন করেন—পাঁচ দিন ধরে যে মানুষটি অন্যের পরিবারের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে পুজো করলেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য কী রইল?
পুরোহিতদের আয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। কালীঘাট, তিরুপতি বা জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতদের আয়ের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ পুরোহিতদের বিচার করা হয়। অথচ অধিকাংশ পুরোহিত সেই আয়ের ধারেকাছেও থাকেন না।
কোনও পরিবারের মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি হলেও নারায়ণ পুজোর দক্ষিণা ৫১ টাকা দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। দক্ষিণা বাড়ানোর কথা বললেই জোটে ‘পুরোহিত লোভী’ তকমা।
প্রশ্ন হল, অন্য পেশার মানুষ নিজের শ্রমের বিনিময়ে বেশি অর্থ পেলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোহিত নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলে সেটাই কেন লোভ?
নার্সিংহোমের বাড়তি বিল, স্কুলের ডোনেশন কিংবা বিভিন্ন পরিষেবার চড়া খরচ নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুললেও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা পুরোহিতের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন এত কৃপণতা?
পুরোহিত কোনও যন্ত্র নন। তাঁরও পরিবার আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, সন্তানের পড়াশোনা আছে, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আছে। পাঁচ দিন উপবাস করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রোচ্চারণ করাও শ্রম। সেই শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করাও স্বাভাবিক।
দুর্গাপুজোর বাজেট যদি লক্ষ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সেই পুজোর অন্যতম প্রধান কাজটি যিনি করেন, তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
‘পুরোহিত লোভী’ বলার আগে তাই একবার হিসাবটা দেখা দরকার—পুজোর মোট বাজেটের কত শতাংশ সত্যিই পুরোহিতের হাতে যায়?

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৮
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা, দোকানসহ নানা স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতেই এসব দখল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, সম্প্রতি ডিএনসিসির অন্যতম দখলকবলিত এলাকা ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাতগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ফার্মগেটসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখলে রয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট দখলও সরানো হবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন, সেখানেই প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
ফুটপাত দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিয়েছে। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করছেন।
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম সাময়িক নয়। পর্যায়ক্রমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ সময় কিছু মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলের ভেতরে কিংবা বাইরে কেউ দুষ্কৃতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার খবর প্রকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। এতে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।
নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা, দোকানসহ নানা স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতেই এসব দখল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, সম্প্রতি ডিএনসিসির অন্যতম দখলকবলিত এলাকা ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাতগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ফার্মগেটসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখলে রয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট দখলও সরানো হবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন, সেখানেই প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
ফুটপাত দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিয়েছে। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করছেন।
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম সাময়িক নয়। পর্যায়ক্রমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ সময় কিছু মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলের ভেতরে কিংবা বাইরে কেউ দুষ্কৃতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার খবর প্রকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। এতে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।
নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:৫০
দেশে নতুন আতঙ্কের নাম অনলাইন জুয়া। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে জুয়া বহু পুরনো ও প্রচলিত একটি বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রত উন্নতির সঙ্গে জুয়াও বদলে গেছে।
আজকাল অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনলাইন জুয়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। কৌতূহল থেকে শুরু করে ‘সহজে আয়’ ভাবনা তরুণ প্রজন্ম নানান অনলাইন জুয়ার সাইটে আকৃষ্ট হচ্ছে। গোপন পদ্ধতিতে পাকা আয়ের সুফল দেখানো হচ্ছে, ফলে শহর-গ্রাম সবার মধ্যে এর বিস্তার দ্রত বাড়ছে।
যশোর জেলার শার্শা-বেনাপোলে অনলাইন জুয়া ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিদিন হাজারো যুবক অনলাইনে বাজি ধরে নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন, এক ক্লিকে লাখ লাখ টাকা উড়ে যাচ্ছে।
কলেজছাত্র থেকে মধ্যবয়স্ক ব্যবসায়ী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছেন। ফুটপাতের চা দোকানি, সেলুনকর্মী, হকার, বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী, বিক্রয়কর্মী, ভবঘুরে, বাস-ট্রাক চালক, সিএনজি চালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুর অনেকেই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় অনলাইনে বাজি ধরায় ব্যস্ত থাকেন।
অনেকেরই শুরু হয় এক হাজার টাকা বা আরও বেশি টাকা দিয়ে। পরবর্তী পর্যায়ে তা ১০ হাজার কিংবা তারও বেশি হয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের সব সম্পদ শেষ হয়ে যায়।
শার্শা উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য বেনাপোল, বাগআঁচড়া, গোগা, কায়বা, শার্শা, উলাশী, লক্ষণপুর এবং একমাত্র পৌরসভা বেনাপোল। এ অঞ্চলে জুয়ার বিস্তার শহর-গ্রাম ধরে ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনলাইনে হারানো টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইয়ের পথে নামছে। নাভারন, শার্শা, বেনাপোল ও বাগআঁচড়া এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। কিশোররা জোটবদ্ধ হয়ে গ্যাং গঠন করে রাতে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে সর্বস্ব লুট করছে এই ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কে আছে।
কলারোয়ার ভূক্তভোগী আনারুল বলেন, বাসে যশোর যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাং চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে আমার কাছে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নেয়। অচেতন অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এখন আমরা অনিরাপদ জীবন কাটাচ্ছি। আগে চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের ভয় ছিল, আর এখন উঠতি বয়সী কিশোররা গ্যাং তৈরি করে একই কায়দায় লুটপাট করছে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকার নেশায় তাদের এই বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে বেনাপোলের আরাফাত রহমান জানান, মোবাইলে জুয়া খেলে টাকা ইনকামের নেশায় কিশোর-তরুণরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। আর সেই টাকার যোগান দিতে গিয়ে তারা চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে আছি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অপরদিকে নিঃস্ব হওয়া যুবক আব্দুল্লাহ জানান, নেশায় পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়েছি। ধার করে খেলেছি এখন দেনার দায়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছি। কেউ টাকা দিতে চায় না। আমরা এখন সব হারিয়ে দিশেহারা।
স্থানীয়রা বলছেন, এ সমস্যা কেবল আর্থিক নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, গণপরিবেশ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরের প্রভাব নিয়েও বড় প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে। জনগণ ও প্রশাসনকে মিলে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ ও পূনর্বাসনমূলক উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে এটাই এলাকার মানুষের দাবি।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) এস আই মানিক কুমার সাহা জানান, অনলাইন জুয়ার ব্যাপারে থানায় কেউ কখনো অভিযোগ করেনি। নানা কারণে সর্বশান্তরা থানায় আসতে ভয় পায়। মোবাইলে জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা তৎপর আছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান, অনলাইন জুয়া আমাদের সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে নানা ধরনের অপরাধ যেমন চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং সক্রিয়তা জড়িত।
এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
একইসঙ্গে, জনগণকে সচেতন করতে প্রশাসন সভা-সেমিনার, বিদ্যালয়-মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষকে বোঝানো যে অনলাইন জুয়া তাদের পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১০
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৪