রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর (৬২) ওপর হামলা করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের সময় প্রাণ বাঁচাতে আজাদ আলী মোটরসাইকেল ফেলে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন আজাদ আলী। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার গতি পথরোধ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মারধরের একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষা করতে মোটরসাইকেল ফেলে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের শিকার আজাদ আলী নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড (নান্দীগ্রাম) বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকে বরখাস্ত করা হয়। পরে প্রশাসনিক আদেশে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আজাদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর অভিযোগ, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন এবং পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে আজাদ আলীর বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরেই ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর (শ্যামপুর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও দাবি করেন, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজাদ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩০
গাজীপুরে আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে বিস্ফোরক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সিটিএসবির উপকমিশনার মহিউল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার আদালতে হাজিরা শেষে ৩০ আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে ফিরছিল প্রিজন ভ্যানটি। বিকেলে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে টয়লেটে নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকের চেষ্টা করলেও ল মহাসড়কের বাইমাইল এলাকার ময়লার ভাগাড়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাজা বিস্ফোরক আইনের মামলায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দি ছিলেন।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
গাজীপুরে আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে বিস্ফোরক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সিটিএসবির উপকমিশনার মহিউল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার আদালতে হাজিরা শেষে ৩০ আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে ফিরছিল প্রিজন ভ্যানটি। বিকেলে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে টয়লেটে নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকের চেষ্টা করলেও ল মহাসড়কের বাইমাইল এলাকার ময়লার ভাগাড়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাজা বিস্ফোরক আইনের মামলায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দি ছিলেন।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১৫
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর (৬২) ওপর হামলা করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের সময় প্রাণ বাঁচাতে আজাদ আলী মোটরসাইকেল ফেলে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন আজাদ আলী। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার গতি পথরোধ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মারধরের একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষা করতে মোটরসাইকেল ফেলে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের শিকার আজাদ আলী নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড (নান্দীগ্রাম) বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকে বরখাস্ত করা হয়। পরে প্রশাসনিক আদেশে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আজাদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর অভিযোগ, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন এবং পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে আজাদ আলীর বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরেই ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর (শ্যামপুর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও দাবি করেন, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজাদ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৬
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০৪
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৫
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৭