
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫২
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) সম্প্রতি গাম্বিয়া বনাম মায়ানমার মামলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করেছে মায়ানমার। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি উল্লেখ করে মায়ানমারের অপচেষ্টার বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্র ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক অঙ্গীকার প্রদর্শন এবং রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তন ও পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে মায়ানমার এবং রাখাইনে কর্তৃত্বকারী সব পক্ষকে বাংলাদেশ আহবান জানায়।
মায়ানমার অতীতেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের তৎকালীন ‘বেঙ্গল’ (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে যাওয়া বোঝাতে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেছে। অতীতেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আইসিজেতে সম্প্রতি মায়ানমারের উপস্থাপন করা বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের একটি কৃত্রিম বয়ান তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ নৃশংসতা ও জেনোসাইড সম্পর্কিত অপরাধ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো যায় এবং তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ (নির্মূল অভিযানকে) সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে, এমনকি ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও বহু আগে থেকে। আরাকানের প্রাচীন রাজধানী মিয়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং বা রোহাং এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর বঙ্গ অঞ্চলে তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। শুরুতে এটি ছিল একটি অ্যাক্সোনিম বা বহির্নাম। পরবর্তী সময়ে বার্মায় ধীরে ধীরে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকীকরণের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নামটি গ্রহণ করে। তাদের বার্মার আরাকান এবং বর্তমান রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।
আধুনিক সীমান্ত নির্ধারণের অনেক আগেই এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি ছিল, যা ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনশুমারি এবং স্বাধীন গবেষণায় সুপ্রমাণিত। বার্মার স্বাধীনতার বহু আগেই আরাকানে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি জনগোষ্ঠীকে বিদেশি বা অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মায়ানমারের রাজনীতি, সমাজ ও প্রশাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ওই আইনের মাধ্যমে মায়ানমার সরকার শুধু জাতিগত ও ধর্মীয় বিবেচনায় তাদের রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার ভোগ করেছে।
তবে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাদের সম্পূর্ণভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। মায়ানমার ধারাবাহিকভাবে তাদের সমান অধিকার ও সমান নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অস্বীকার করে এসেছে। এই পরিকল্পিত ধ্বংসপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করা হয় এবং তাদের রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রয়েছে একটি স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা ও ভাষা, যা বাংলার সঙ্গে, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও তা থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা তাদের আত্মপরিচয় নির্ধারণের অন্তর্নিহিত অধিকারকে অস্বীকার করার শামিল। এই নামকরণ বিতর্ককে ব্যবহার করে তাদের বর্জন, নিপীড়ন এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে জাতিগত নির্মূল ও জেনোসাইডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকরণ মায়ানমার রাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও ১৯৭৮ সালের বাংলাদেশ-মায়ানমার দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে তাদের ‘বার্মার আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। নামকরণ যা-ই হোক না কেন, ওই চুক্তি ও পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় এই (রোহিঙ্গা) জনগোষ্ঠীকে মায়ানমার সমাজে সমান সদস্য হিসেবে পুনরেকত্রীকরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে। রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করাই তাদের সম্প্রদায় ধ্বংসের কেন্দ্রীয় কৌশল। এর পরিণতিতে তাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের ব্যর্থতা ২০১৭-১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা ও অজুহাত প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার এই প্রবণতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
২০২৩ সালের ৬ জুলাই মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে উত্থাপন করা তথ্যের প্রতিবাদ জানানোর কথাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল উল্লেখ করে। সেই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে মায়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল।’ ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিবাদ ও মায়ানমারকে তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহবান জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৭১ সালে রাখাইনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭ লাখেরও কম। ওই সময় রাখাইনের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করত। এমনকি যুদ্ধকালীন কষ্ট এড়াতে বর্তমান বাংলাদেশের কিছু মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে যদি বার্মায় প্রবেশ করেও থাকে, তবে সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর রাখাইনে উন্নত জীবিকার কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী সময়ে বার্মায় পরিচালিত রাখাইন রাজ্যের জনশুমারিতেও এই ধরনের দাবির পক্ষে কোনো জনমিতিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) সম্প্রতি গাম্বিয়া বনাম মায়ানমার মামলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করেছে মায়ানমার। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি উল্লেখ করে মায়ানমারের অপচেষ্টার বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্র ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক অঙ্গীকার প্রদর্শন এবং রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যাবর্তন ও পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে মায়ানমার এবং রাখাইনে কর্তৃত্বকারী সব পক্ষকে বাংলাদেশ আহবান জানায়।
মায়ানমার অতীতেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের তৎকালীন ‘বেঙ্গল’ (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে যাওয়া বোঝাতে ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেছে। অতীতেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আইসিজেতে সম্প্রতি মায়ানমারের উপস্থাপন করা বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের একটি কৃত্রিম বয়ান তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ নৃশংসতা ও জেনোসাইড সম্পর্কিত অপরাধ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো যায় এবং তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ (নির্মূল অভিযানকে) সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে, এমনকি ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও বহু আগে থেকে। আরাকানের প্রাচীন রাজধানী মিয়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং বা রোহাং এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর বঙ্গ অঞ্চলে তারা ‘রোশাং’ বা ‘রোহাং’-এর মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। শুরুতে এটি ছিল একটি অ্যাক্সোনিম বা বহির্নাম। পরবর্তী সময়ে বার্মায় ধীরে ধীরে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকীকরণের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নামটি গ্রহণ করে। তাদের বার্মার আরাকান এবং বর্তমান রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।
আধুনিক সীমান্ত নির্ধারণের অনেক আগেই এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি ছিল, যা ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনশুমারি এবং স্বাধীন গবেষণায় সুপ্রমাণিত। বার্মার স্বাধীনতার বহু আগেই আরাকানে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি জনগোষ্ঠীকে বিদেশি বা অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মায়ানমারের রাজনীতি, সমাজ ও প্রশাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ওই আইনের মাধ্যমে মায়ানমার সরকার শুধু জাতিগত ও ধর্মীয় বিবেচনায় তাদের রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার ভোগ করেছে।
তবে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাদের সম্পূর্ণভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। মায়ানমার ধারাবাহিকভাবে তাদের সমান অধিকার ও সমান নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অস্বীকার করে এসেছে। এই পরিকল্পিত ধ্বংসপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করা হয় এবং তাদের রাষ্ট্রহীন করে ফেলা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের রয়েছে একটি স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা ও ভাষা, যা বাংলার সঙ্গে, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও তা থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা তাদের আত্মপরিচয় নির্ধারণের অন্তর্নিহিত অধিকারকে অস্বীকার করার শামিল। এই নামকরণ বিতর্ককে ব্যবহার করে তাদের বর্জন, নিপীড়ন এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে জাতিগত নির্মূল ও জেনোসাইডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকরণ মায়ানমার রাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও ১৯৭৮ সালের বাংলাদেশ-মায়ানমার দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে তাদের ‘বার্মার আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। নামকরণ যা-ই হোক না কেন, ওই চুক্তি ও পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় এই (রোহিঙ্গা) জনগোষ্ঠীকে মায়ানমার সমাজে সমান সদস্য হিসেবে পুনরেকত্রীকরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে। রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করাই তাদের সম্প্রদায় ধ্বংসের কেন্দ্রীয় কৌশল। এর পরিণতিতে তাদের রাখাইন থেকে উত্খাত করে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের ব্যর্থতা ২০১৭-১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা ও অজুহাত প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার এই প্রবণতা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
২০২৩ সালের ৬ জুলাই মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে উত্থাপন করা তথ্যের প্রতিবাদ জানানোর কথাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল উল্লেখ করে। সেই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে মায়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল।’ ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিবাদ ও মায়ানমারকে তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহবান জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৭১ সালে রাখাইনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭ লাখেরও কম। ওই সময় রাখাইনের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করত। এমনকি যুদ্ধকালীন কষ্ট এড়াতে বর্তমান বাংলাদেশের কিছু মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে যদি বার্মায় প্রবেশ করেও থাকে, তবে সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর রাখাইনে উন্নত জীবিকার কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী সময়ে বার্মায় পরিচালিত রাখাইন রাজ্যের জনশুমারিতেও এই ধরনের দাবির পক্ষে কোনো জনমিতিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫১
ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ১৪ জন কথিত ‘গো-রক্ষককে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর তীব্র সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ও হত্যার হুমকির শিকার হয়েছেন মুসলিম নারী বিচারক তাবাসসুম খান। বিচারকের রায়ের আইনি পর্যালোচনার পরিবর্তে তার ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
গত ১২ জুন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, দাঙ্গািএবং বেআইনিভাবে মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায়ে দেওয়া হয়।
২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলায় একটি ট্রাকে গরু বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন নাজির আহমেদ নামে এক ট্রাকচালক। এ সময় লাঠি ও রড হাতে থাকা একদল স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ তাকে আটকায়।
গরু পাচারের সন্দেহে ওই ব্যক্তিরা নাজির ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে আনে এবং তাদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালায়। পরে নাজির তার আঘাতের কারণে মারা যান, কিন্তু তার সঙ্গীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে আদালতে তারা ঘটনাটি বর্ণনা করেন।
১২ জুন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘চরম বর্বর ও নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে ১৪ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
রায় ঘোষণার পরই কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং বিচারকের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিচারককে উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর মন্তব্য, হত্যার হুমকি এবং ধর্ষণ ও সহিংসতার উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানো হয়।
বিচারকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছে এবং পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এরই মধ্যে ঘৃণাসূচক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা খর্ব করার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনের মতো শীর্ষ আইনি সংস্থাগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচারকের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
সূত্র: বিবিসি
ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ১৪ জন কথিত ‘গো-রক্ষককে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর তীব্র সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ও হত্যার হুমকির শিকার হয়েছেন মুসলিম নারী বিচারক তাবাসসুম খান। বিচারকের রায়ের আইনি পর্যালোচনার পরিবর্তে তার ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
গত ১২ জুন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, দাঙ্গািএবং বেআইনিভাবে মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায়ে দেওয়া হয়।
২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলায় একটি ট্রাকে গরু বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন নাজির আহমেদ নামে এক ট্রাকচালক। এ সময় লাঠি ও রড হাতে থাকা একদল স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ তাকে আটকায়।
গরু পাচারের সন্দেহে ওই ব্যক্তিরা নাজির ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে আনে এবং তাদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালায়। পরে নাজির তার আঘাতের কারণে মারা যান, কিন্তু তার সঙ্গীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে আদালতে তারা ঘটনাটি বর্ণনা করেন।
১২ জুন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘চরম বর্বর ও নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে ১৪ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
রায় ঘোষণার পরই কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং বিচারকের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিচারককে উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর মন্তব্য, হত্যার হুমকি এবং ধর্ষণ ও সহিংসতার উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানো হয়।
বিচারকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছে এবং পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এরই মধ্যে ঘৃণাসূচক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা খর্ব করার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনের মতো শীর্ষ আইনি সংস্থাগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচারকের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
সূত্র: বিবিসি

১১ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৬
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারী বর্ষণ ও প্রচণ্ড ঝোড়োহাওয়ার আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বাভি’। পরে এটি তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্যা ও ভূমিধসের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টাইফুনটি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান শহর ওয়েনঝো ও এর আশপাশের এলাকার দিকে ধেয়ে আসার আশঙ্কায় শনিবার (১১ জুলাই) ১৮ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অংশ ইশিগাকি দ্বীপে ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ উড়ে যেতে দেখা গেছে। ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি যানবাহন ছাড়া রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য।
টাইফুনের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইশিগাকি দ্বীপে শনিবার সারাদিন সব ধরনের ফ্লাইট ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিমান সংস্থা ৩৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ওকিনাওয়া অঞ্চলে ২৪ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
এদিকে টাইফুন বাভির প্রভাবে তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকা থেকে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির সরকার। ঝড়টি সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত না হানলেও কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক মিটার (প্রায় তিন ফুট) বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার তাইওয়ানের বেশির ভাগ শহর ও কাউন্টিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ৯২০টি আন্তর্জাতিক এবং ২৮০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ হাই-স্পিড রেল চলাচল চালু থাকলেও সেবার পরিধি কমিয়ে আনা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার ভোরে টাইফুন বাভি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওয়েনঝোতে আঘাত হানতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার এই শহরে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।'
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারী বর্ষণ ও প্রচণ্ড ঝোড়োহাওয়ার আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বাভি’। পরে এটি তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্যা ও ভূমিধসের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টাইফুনটি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান শহর ওয়েনঝো ও এর আশপাশের এলাকার দিকে ধেয়ে আসার আশঙ্কায় শনিবার (১১ জুলাই) ১৮ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অংশ ইশিগাকি দ্বীপে ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ উড়ে যেতে দেখা গেছে। ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি যানবাহন ছাড়া রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য।
টাইফুনের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইশিগাকি দ্বীপে শনিবার সারাদিন সব ধরনের ফ্লাইট ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিমান সংস্থা ৩৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ওকিনাওয়া অঞ্চলে ২৪ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
এদিকে টাইফুন বাভির প্রভাবে তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকা থেকে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির সরকার। ঝড়টি সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত না হানলেও কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক মিটার (প্রায় তিন ফুট) বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার তাইওয়ানের বেশির ভাগ শহর ও কাউন্টিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ৯২০টি আন্তর্জাতিক এবং ২৮০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ হাই-স্পিড রেল চলাচল চালু থাকলেও সেবার পরিধি কমিয়ে আনা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার ভোরে টাইফুন বাভি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওয়েনঝোতে আঘাত হানতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার এই শহরে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।'

১১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:০৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে ইরানকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। যদি ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে এক্ষেত্রে আমাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।’
ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী এক বছর এবং প্রয়োজনে তারও বেশি সময় ধরে ইরানের সব এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে প্রস্তুত ও সক্ষম।’
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি আসে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে ইরানকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। যদি ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে এক্ষেত্রে আমাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।’
ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী এক বছর এবং প্রয়োজনে তারও বেশি সময় ধরে ইরানের সব এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে প্রস্তুত ও সক্ষম।’
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি আসে।’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১০
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৯
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩৩