ভোলার তজুমদ্দিনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালী এবং অপরিল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে নিকটবর্তী এলাকার কয়েকশ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে ভোক্তভোগী প্রায় আড়াইশ পরিবার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলি বেড়িবাঁধে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ৭৪ কোটি ১৭ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫৭.৩১ টাকা ব্যায়ে উপকূলীয় বাঁধ পুর্নবাসন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জীবনমান প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশন। কাজটি শেষ হবে ২০২৬ সালের জুন মাসে। সেই অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। মাটি কাটার কাজ শুরু করার ফলে দুই শতাধিক বসতঘর, ফসলি জমি ও সুপারি বাগানসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ পালা কেটে নষ্ট করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে ক্ষতি পূরণ না দিয়ে ক্ষমতার জোড়ে বেড়িবাঁধের কাজ বাস্তবায়ণ করার চেষ্টা চালায়। পরে ভোক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে গত শুক্রবার সকালে বেড়িবাঁধের মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্থরা বেড়িবাঁধটি বর্তমান অবন্থান থেকে ৫-১০ ফুট পূর্বদিকে অথবা তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবী করে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশন ইতিপূর্বে যে সব বাড়িঘর ভেঙ্গে মাটি কাটার কাজ করেছে সেসব ঘরমালিক গরীব অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলি বর্তমানে কনকনে শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে। ক্ষতির সম্মুখীন পরিবারগুলোর ভূমিহীন ও গরীব হওয়ায় খোলা আকাশই তাদের একমাত্র ভরসা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন সরকারি বরাদ্দ না থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজনকে কোন সহযোগীতা করতে পারবে না।
ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ শাহিন বলেন, ঠিকাদারের লোকজন আমাদেরকে ১৫ হাজার টাকা করে দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করিনি। হয়ত আমাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আর না হয় পূর্বদিকে অনেক জায়গা আছে সেদিকে সরিয়ে দিলে আমার শেষ সম্বল ঘর ভিটাটুকু রক্ষা হবে। আর তাতেই আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থকেতে পারবো। অন্যদিকে হাজিকান্দি এলাকায় নদী থেকে ১০ থেকে ১৫ মিটার দূরত্বে নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চৌমুহনী এলাকায় আরো কমদূরত্বে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু আমাদের এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশনের লোকজন দালালকান্দি ও মাওলানা কান্দির গরীব মানুষের বাড়িঘর উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে।
জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশনের প্রকল্পের ম্যানেজার তন্ময় বলেন, আমি চরফ্যাশনের মিটিংয়ে আছি। তজুমদ্দিনে আসলে সরাসরি কথা বলবো বলে কল কেটে দেন।
তজুমদ্দিন-লালমোহনের এসএসডিও আহসান আহমেদ বলেন, জমির মালিকদের সাথে কথা বলে সমজোতার মাধ্যমে বন্ধ কাজ শুরু করা হবে। বেড়িবাঁধের জমি অধিগ্রহণ করতে সরকারীভাবে কোন বরাদ্দ না থাকায় ঘর ও জমির মালিকদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া সুযোগ নেই। তবুও ঘর মালিকরা কোথাও অস্থায়ীভাবে থাকলে বেড়িবাঁধ সম্পন্ন হলে আবার বেড়িবাঁধে থাকতে পারবে।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বেড়িবাঁধের এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৯
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৪:২৬
ভোলার তজুমদ্দিনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালী এবং অপরিল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে নিকটবর্তী এলাকার কয়েকশ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে ভোক্তভোগী প্রায় আড়াইশ পরিবার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলি বেড়িবাঁধে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ৭৪ কোটি ১৭ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৫৭.৩১ টাকা ব্যায়ে উপকূলীয় বাঁধ পুর্নবাসন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জীবনমান প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশন। কাজটি শেষ হবে ২০২৬ সালের জুন মাসে। সেই অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। মাটি কাটার কাজ শুরু করার ফলে দুই শতাধিক বসতঘর, ফসলি জমি ও সুপারি বাগানসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ পালা কেটে নষ্ট করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে ক্ষতি পূরণ না দিয়ে ক্ষমতার জোড়ে বেড়িবাঁধের কাজ বাস্তবায়ণ করার চেষ্টা চালায়। পরে ভোক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে গত শুক্রবার সকালে বেড়িবাঁধের মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্থরা বেড়িবাঁধটি বর্তমান অবন্থান থেকে ৫-১০ ফুট পূর্বদিকে অথবা তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবী করে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশন ইতিপূর্বে যে সব বাড়িঘর ভেঙ্গে মাটি কাটার কাজ করেছে সেসব ঘরমালিক গরীব অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলি বর্তমানে কনকনে শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে। ক্ষতির সম্মুখীন পরিবারগুলোর ভূমিহীন ও গরীব হওয়ায় খোলা আকাশই তাদের একমাত্র ভরসা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন সরকারি বরাদ্দ না থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজনকে কোন সহযোগীতা করতে পারবে না।
ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ শাহিন বলেন, ঠিকাদারের লোকজন আমাদেরকে ১৫ হাজার টাকা করে দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করিনি। হয়ত আমাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আর না হয় পূর্বদিকে অনেক জায়গা আছে সেদিকে সরিয়ে দিলে আমার শেষ সম্বল ঘর ভিটাটুকু রক্ষা হবে। আর তাতেই আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থকেতে পারবো। অন্যদিকে হাজিকান্দি এলাকায় নদী থেকে ১০ থেকে ১৫ মিটার দূরত্বে নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চৌমুহনী এলাকায় আরো কমদূরত্বে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু আমাদের এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশনের লোকজন দালালকান্দি ও মাওলানা কান্দির গরীব মানুষের বাড়িঘর উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে।
জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গোলাম রব্বানী কনাষ্ট্রাকশনের প্রকল্পের ম্যানেজার তন্ময় বলেন, আমি চরফ্যাশনের মিটিংয়ে আছি। তজুমদ্দিনে আসলে সরাসরি কথা বলবো বলে কল কেটে দেন।
তজুমদ্দিন-লালমোহনের এসএসডিও আহসান আহমেদ বলেন, জমির মালিকদের সাথে কথা বলে সমজোতার মাধ্যমে বন্ধ কাজ শুরু করা হবে। বেড়িবাঁধের জমি অধিগ্রহণ করতে সরকারীভাবে কোন বরাদ্দ না থাকায় ঘর ও জমির মালিকদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া সুযোগ নেই। তবুও ঘর মালিকরা কোথাও অস্থায়ীভাবে থাকলে বেড়িবাঁধ সম্পন্ন হলে আবার বেড়িবাঁধে থাকতে পারবে।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বেড়িবাঁধের এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।