
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৫৪
কুয়াশায় ঢেকে থাকা সকালের আলোয় দূর থেকেই চোখে পড়ে এক পুরনো প্রাসাদ লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি। শত বছরের বাতাস-ধুলো পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনের দেয়ালে ছিল ক্ষয়ের গভীর দাগ, ছাদের টালি ঝরে পড়েছিল বহু আগেই। শেওলাধরা বারান্দা, ভেঙে পড়া নকশা, এসব মিলিয়ে জমিদার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছিল। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাকে তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে প্রথম পর্যায়ের সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গত ৪ মে থেকে সংস্কার শুরু করেছিল। ভবনের পুরনো ছাদ সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ বসানো হয়েছে। ভবনের চারপাশে তৈরি হয়েছে নতুন গোলাকার ইটের পিলার, যা ভবনের গঠনকে টিকিয়ে রাখতে সহয়তা করছে।
বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় মূল ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি আর ছাদ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। চারপাশে সাদা রঙ করা হয়েছে। যেটা বৃষ্টি থেকে ভবনকে সুরক্ষিত রাখবে। এ ছাড়াও দরজা, জানালা, মেঝের মতো ঐতিহাসিক উপাদানগুলো দ্বিতীয় ধাপের সংস্কারের সময় সংযুক্ত করা হবে।
খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।’
সংস্কারের পর দেখা যায়, ভবনের চারপাশে সেই পুরাতন কাঠামো ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেয়ালের পুরনো অংশ ধরে রাখতে ধাতব সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোতে সংস্কার করা হয়েছে। ভিমের ফাঁকে ফাঁকে পচে যাওয়া কাঠের কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সেখানে কাঠের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। সেই কাঠের ঠেকনায় বার্নিশ করা হয়েছে। ভেতরের পরিবেশ এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘পুরনো ছবি, নথি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা—সব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। লক্ষ্য একটাই, ভবনটিকে তার আদিরূপের যতটা কাছে নিয়ে যাওয়া যায়।’
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, জমিদার রূপচন্দ্র রাই ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি বাড়ে। প্রায় ৫০ একর জমির ওপর তিনি নির্মাণ করেন এই জমিদারবাড়ি।
রূপচন্দ্র রায়ের সন্তানেরা ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এ পরিবারেরই দুই সদস্য, একজন ইন্দ্রলাল রায় (বিখ্যাত বৈমানিক), অপরজন পরেশলাল রায় (নামকরা বক্সার)। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই দুটো নাম আলোচিত। এই পরিবারের সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই ছেলে অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের নাতনি সুশীলা ও চারুবালাকে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৮ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.২০ মিটার প্রস্থের এই দোতলা ভবনে মোট নয়টি কক্ষ আছে। ভবনের সামনে ও পেছনের তিনটি বাঁধানো পুকুর স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাবুর পুকুর’ নামে।
সংরক্ষণকাজ যতই এগিয়ে যাচ্ছে জমিদারবাড়ির পাশের বাস্তবতা ততই দৃষ্টি কাড়ছে। ভবনের ঠিক পাশে বিএডিসির গুদাম ও ট্রাক্টর রাখার ঘর দাঁড়িয়ে আছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি স্থাপনার নান্দনিকতা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবেদনকে ব্যাহত করছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানার ভেতরে থাকা প্রায় আট একর জমি ও বড় একটি পুকুর অধিগ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘সংস্কার প্রশংসনীয়, কিন্তু ভবনের পাশের গুদাম না সরালে এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব কমে যাবে।’
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী আলপনা রায় চিঠি লিখে এই বাড়ি সংরক্ষণের দাবি জানান। তার বাবা পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কাছেই তিনি শুনেছেন লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ির গল্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, বরিশালের ইতিহাসের বড় অংশ। প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’
সংস্কার শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—সংস্কারকাজ শেষ হলে লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি আবারও তার গৌরবময় রূপ ফিরে পাবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই বাড়ির সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে বাড়িটা ভেঙে যেতে দেখেছি। সংস্কারের জন্য চারুকলা বরিশালের উদ্যোগে সামাজিক কর্মসূচি পালন করেছি। এখন কাজ শুরু হয়েছে, আমরা চাই এটা পুরোপুরি সংরক্ষিত হোক।’
কুয়াশায় ঢেকে থাকা সকালের আলোয় দূর থেকেই চোখে পড়ে এক পুরনো প্রাসাদ লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি। শত বছরের বাতাস-ধুলো পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনের দেয়ালে ছিল ক্ষয়ের গভীর দাগ, ছাদের টালি ঝরে পড়েছিল বহু আগেই। শেওলাধরা বারান্দা, ভেঙে পড়া নকশা, এসব মিলিয়ে জমিদার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছিল। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাকে তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে প্রথম পর্যায়ের সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গত ৪ মে থেকে সংস্কার শুরু করেছিল। ভবনের পুরনো ছাদ সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ বসানো হয়েছে। ভবনের চারপাশে তৈরি হয়েছে নতুন গোলাকার ইটের পিলার, যা ভবনের গঠনকে টিকিয়ে রাখতে সহয়তা করছে।
বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় মূল ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি আর ছাদ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। চারপাশে সাদা রঙ করা হয়েছে। যেটা বৃষ্টি থেকে ভবনকে সুরক্ষিত রাখবে। এ ছাড়াও দরজা, জানালা, মেঝের মতো ঐতিহাসিক উপাদানগুলো দ্বিতীয় ধাপের সংস্কারের সময় সংযুক্ত করা হবে।
খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।’
সংস্কারের পর দেখা যায়, ভবনের চারপাশে সেই পুরাতন কাঠামো ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেয়ালের পুরনো অংশ ধরে রাখতে ধাতব সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোতে সংস্কার করা হয়েছে। ভিমের ফাঁকে ফাঁকে পচে যাওয়া কাঠের কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সেখানে কাঠের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। সেই কাঠের ঠেকনায় বার্নিশ করা হয়েছে। ভেতরের পরিবেশ এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘পুরনো ছবি, নথি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা—সব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। লক্ষ্য একটাই, ভবনটিকে তার আদিরূপের যতটা কাছে নিয়ে যাওয়া যায়।’
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, জমিদার রূপচন্দ্র রাই ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি বাড়ে। প্রায় ৫০ একর জমির ওপর তিনি নির্মাণ করেন এই জমিদারবাড়ি।
রূপচন্দ্র রায়ের সন্তানেরা ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এ পরিবারেরই দুই সদস্য, একজন ইন্দ্রলাল রায় (বিখ্যাত বৈমানিক), অপরজন পরেশলাল রায় (নামকরা বক্সার)। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই দুটো নাম আলোচিত। এই পরিবারের সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই ছেলে অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের নাতনি সুশীলা ও চারুবালাকে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৮ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.২০ মিটার প্রস্থের এই দোতলা ভবনে মোট নয়টি কক্ষ আছে। ভবনের সামনে ও পেছনের তিনটি বাঁধানো পুকুর স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাবুর পুকুর’ নামে।
সংরক্ষণকাজ যতই এগিয়ে যাচ্ছে জমিদারবাড়ির পাশের বাস্তবতা ততই দৃষ্টি কাড়ছে। ভবনের ঠিক পাশে বিএডিসির গুদাম ও ট্রাক্টর রাখার ঘর দাঁড়িয়ে আছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি স্থাপনার নান্দনিকতা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবেদনকে ব্যাহত করছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানার ভেতরে থাকা প্রায় আট একর জমি ও বড় একটি পুকুর অধিগ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘সংস্কার প্রশংসনীয়, কিন্তু ভবনের পাশের গুদাম না সরালে এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব কমে যাবে।’
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী আলপনা রায় চিঠি লিখে এই বাড়ি সংরক্ষণের দাবি জানান। তার বাবা পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কাছেই তিনি শুনেছেন লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ির গল্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, বরিশালের ইতিহাসের বড় অংশ। প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’
সংস্কার শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—সংস্কারকাজ শেষ হলে লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি আবারও তার গৌরবময় রূপ ফিরে পাবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই বাড়ির সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে বাড়িটা ভেঙে যেতে দেখেছি। সংস্কারের জন্য চারুকলা বরিশালের উদ্যোগে সামাজিক কর্মসূচি পালন করেছি। এখন কাজ শুরু হয়েছে, আমরা চাই এটা পুরোপুরি সংরক্ষিত হোক।’
১৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৯
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
১৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৫১
১৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৯
বরিশাল নগরীতে বেপরোয়াগতির মোটরসাইকেল ও অটোরিক্সার সংঘর্ষে বাইক চালক শুভ (২৭) নামের একজন যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১০টার দিকে বান্দ রোডের কেডিসির সংযোগ সড়কের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা।
এসময় মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের বন্ধু আরিফ (৩০) আহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালির পাগলা এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লঞ্চঘাটের দিক থেকে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলে দুইজন আসছিলেন। এসময় পার্শ্ববর্তী কেডিসি রোড থেকে একটি হলুদ অটোরিক্সা বের হয়। তখন মোটরসাইকেলটি জোরে ধাক্কা লাগলে চালক ও আরোহী সড়কে ছিটকে পড়েন। তাদের মাথায় হেলমেট না থাকায় মাথা ফেটে ঘটনাস্থলেই একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই সেলিম রেজা বরিশালটাইমসকে বলেন, হাসপাতালে শুভ মারা গেছেন। অটোরিক্সার চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বরিশাল নগরীতে বেপরোয়াগতির মোটরসাইকেল ও অটোরিক্সার সংঘর্ষে বাইক চালক শুভ (২৭) নামের একজন যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১০টার দিকে বান্দ রোডের কেডিসির সংযোগ সড়কের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা।
এসময় মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের বন্ধু আরিফ (৩০) আহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালির পাগলা এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লঞ্চঘাটের দিক থেকে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলে দুইজন আসছিলেন। এসময় পার্শ্ববর্তী কেডিসি রোড থেকে একটি হলুদ অটোরিক্সা বের হয়। তখন মোটরসাইকেলটি জোরে ধাক্কা লাগলে চালক ও আরোহী সড়কে ছিটকে পড়েন। তাদের মাথায় হেলমেট না থাকায় মাথা ফেটে ঘটনাস্থলেই একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই সেলিম রেজা বরিশালটাইমসকে বলেন, হাসপাতালে শুভ মারা গেছেন। অটোরিক্সার চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৩৯
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে গড়ে ওঠা মজিবুর অটো রাইস মিলকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিলটির কার্যক্রমে শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলটির ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে ৭১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হস্তিশুন্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এ.আর. তালুকদার গার্লস স্কুল এবং একটি নূরানি-হাফিজি মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, মিলের বিকট শব্দ, ধুলাবালি, চালের কুঁড়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশু-বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এছাড়া মিলের ধান ও চালবোঝাই যানবাহন সড়কে অবস্থান করায় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিং কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন স্থানে নতুন করে আরেকটি মিল স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মিল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে পরিচালিত মিলটির কার্যক্রম তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে গড়ে ওঠা মজিবুর অটো রাইস মিলকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিলটির কার্যক্রমে শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলটির ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে ৭১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হস্তিশুন্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এ.আর. তালুকদার গার্লস স্কুল এবং একটি নূরানি-হাফিজি মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, মিলের বিকট শব্দ, ধুলাবালি, চালের কুঁড়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশু-বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এছাড়া মিলের ধান ও চালবোঝাই যানবাহন সড়কে অবস্থান করায় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিং কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন স্থানে নতুন করে আরেকটি মিল স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মিল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে পরিচালিত মিলটির কার্যক্রম তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.