পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত।
ওই আওয়ামী লীগের নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু), তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাঁদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা। পরে তাঁরা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাঁদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন।
তার ভাষ্য, ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। এরপর পরে ৬ কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মেহেরুন্নেছা জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শনিবার ভোরে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত। গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, জমি কিনে তিনি বাড়ি করেছেন। কী কারণে তাঁর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আমার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী। হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।
অভিযুক্ত মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। মনির খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন, যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমাণিত, সেখানে তার এক টুকরো জমিও নেই।
প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরটি না ভেঙে নিজেরা কেন ভাঙলেন, এমন প্রশ্নে মনির খন্দকার বলেন, ‘বিগত দিনে বিএনপি কিন্তু প্রশাসন ব্যবহার করেননি। তাছাড়া তাঁরা (মিজানুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা) জবরদখল করছেন। এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসায় তিনবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। আমরা চাইলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঘরটি ভাঙতে পারতাম, সেটি না করে পাহারা দিয়েছি।’ এরপর মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন দেয় এবং বেকু (খনন) মেশিন দিয়ে বাড়ির অংশ ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ভোররাতে ফায়ার সার্ভিস থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। তবে অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, জানান ইউএনও।’

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৬
পটুয়াখালীর পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা ও কালীচন্নাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের বিরূপ আবহাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। হঠাৎ করে নদীর পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অবিরত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ও গাছপালা।
স্থানীয়রা জানান, পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরই মধ্যে অনেক বসতঘর ও মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে এখন পানি মাড়িয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
চান্দখালী গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, ‘এই বাঁধের রাস্তা দিয়া আমরা চলাচল করতাম। এখন সব ভাইঙ্গা গ্যাছে। তাই পানির মধ্যে দিয়া ভিজ্জা এপার-ওপার চলাচল করি আমরা।’
চান্দখালী গ্রামের মো. কবির বলেন, ‘বাঁধ ভাইঙ্গা এত পানি উঠছে যে আমাগো মসজিদেও পানি উঠছে। এখানে নামাজ আদায় করাও সম্ভব হইতেছে না। আমাগো রান্নাঘরও তলাইয়া গেছে। এ কারণে খাবারও রান্না করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টে আছি। সরকারের কাছে দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবি জানাই।’
এদিকে ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। পানির স্রোতে অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে এবং সদ্য রোপণ করা ধানের চারাসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
চান্দখালী গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘কয়দিন আগে আমরা রোয়া (ধানের চারা) রুইছি (রোপণ করেছি)। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভাইঙ্গা যাইয়া শো শো করে পানি আইয়া আমাগো ক্ষেতে ঢুকছে। এহন সব রোয়া তলাইয়া গ্যাছে। পুরা ক্ষেত নষ্ট হইয়া গ্যাছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদীর তীরবর্তী এ বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন দেখা দেয় এবং বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পায়রা নদীকেন্দ্রিক আমাদের একটি স্টাডি চলমান আছে। ওই স্টাডি রিপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। রিপোর্টটি পাওয়ার পরে আমরা পায়রা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প দাখিল করব।’
এদিকে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদীভাঙনে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা, কালীচন্না, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া, ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা, তুষখালীর ভুতুমিয়া, মাটিভাঙ্গা এলাকার ফুলতলা এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালীসহ নদীতীরবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
পটুয়াখালীর পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা ও কালীচন্নাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের বিরূপ আবহাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। হঠাৎ করে নদীর পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অবিরত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ও গাছপালা।
স্থানীয়রা জানান, পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরই মধ্যে অনেক বসতঘর ও মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে এখন পানি মাড়িয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
চান্দখালী গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, ‘এই বাঁধের রাস্তা দিয়া আমরা চলাচল করতাম। এখন সব ভাইঙ্গা গ্যাছে। তাই পানির মধ্যে দিয়া ভিজ্জা এপার-ওপার চলাচল করি আমরা।’
চান্দখালী গ্রামের মো. কবির বলেন, ‘বাঁধ ভাইঙ্গা এত পানি উঠছে যে আমাগো মসজিদেও পানি উঠছে। এখানে নামাজ আদায় করাও সম্ভব হইতেছে না। আমাগো রান্নাঘরও তলাইয়া গেছে। এ কারণে খাবারও রান্না করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টে আছি। সরকারের কাছে দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবি জানাই।’
এদিকে ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। পানির স্রোতে অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে এবং সদ্য রোপণ করা ধানের চারাসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
চান্দখালী গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘কয়দিন আগে আমরা রোয়া (ধানের চারা) রুইছি (রোপণ করেছি)। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভাইঙ্গা যাইয়া শো শো করে পানি আইয়া আমাগো ক্ষেতে ঢুকছে। এহন সব রোয়া তলাইয়া গ্যাছে। পুরা ক্ষেত নষ্ট হইয়া গ্যাছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদীর তীরবর্তী এ বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন দেখা দেয় এবং বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পায়রা নদীকেন্দ্রিক আমাদের একটি স্টাডি চলমান আছে। ওই স্টাডি রিপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। রিপোর্টটি পাওয়ার পরে আমরা পায়রা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প দাখিল করব।’
এদিকে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদীভাঙনে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা, কালীচন্না, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া, ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা, তুষখালীর ভুতুমিয়া, মাটিভাঙ্গা এলাকার ফুলতলা এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালীসহ নদীতীরবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩২
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২২
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৪
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত।
ওই আওয়ামী লীগের নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু), তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাঁদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা। পরে তাঁরা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাঁদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন।
তার ভাষ্য, ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। এরপর পরে ৬ কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মেহেরুন্নেছা জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শনিবার ভোরে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত। গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, জমি কিনে তিনি বাড়ি করেছেন। কী কারণে তাঁর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যাঁরা আমার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।’
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী। হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন চৌধুরী বলেন, শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।
অভিযুক্ত মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি। মনির খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন, যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমাণিত, সেখানে তার এক টুকরো জমিও নেই।
প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরটি না ভেঙে নিজেরা কেন ভাঙলেন, এমন প্রশ্নে মনির খন্দকার বলেন, ‘বিগত দিনে বিএনপি কিন্তু প্রশাসন ব্যবহার করেননি। তাছাড়া তাঁরা (মিজানুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা) জবরদখল করছেন। এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাসায় তিনবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। আমরা চাইলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঘরটি ভাঙতে পারতাম, সেটি না করে পাহারা দিয়েছি।’ এরপর মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন দেয় এবং বেকু (খনন) মেশিন দিয়ে বাড়ির অংশ ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ভোররাতে ফায়ার সার্ভিস থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। তবে অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন, জানান ইউএনও।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬