ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গত ৮ জুলাই হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৬০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৩ জন এবং তদন্তে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ জনকে।
বরিশাল জেলা পুলিশ অডিটোরিয়ামে বুধবার বিকেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এরপর কয়েক শ মানুষ থানায় হামলা চালান। হামলায় আহত হন চার পুলিশ সদস্য।
গত ৮ জুলাই মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির লোহার দরজায় আঘাত করেন এবং অসুস্থতার ভান করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এরপর এলাকায় রটে যায়, রিয়াজ ফকির মারা গেছেন। তবে খবরটি ছিল গুজব। এই গুজবকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ সুপারের দাবি, একপর্যায়ে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের একটি দল থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তাকে মারধর করেন, থানার একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
হামলার ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহারে নাম আসে ৪৩ জনের। তাদের মধ্যে আসামীর তালিকায় দুই সংবাদকর্মীর নাম রয়েছে। পরে তদন্তে আরো ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় পুলিশ। এই সব মিলিয়ে আসামী শনাক্ত হন ৬০ জন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ জন। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গুজবের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথাও বলেন পুলিশ সুপার।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১২
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
সূত্র: এনডিটিভি

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫১
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল ও ধীরগতির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর এর গতি কমে যায় এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দিঘা সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন ও গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে সম্প্রতি ঢাকাসহ খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান, গতিপথ ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৮
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গত ৮ জুলাই হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৬০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৩ জন এবং তদন্তে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ জনকে।
বরিশাল জেলা পুলিশ অডিটোরিয়ামে বুধবার বিকেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এরপর কয়েক শ মানুষ থানায় হামলা চালান। হামলায় আহত হন চার পুলিশ সদস্য।
গত ৮ জুলাই মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির লোহার দরজায় আঘাত করেন এবং অসুস্থতার ভান করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এরপর এলাকায় রটে যায়, রিয়াজ ফকির মারা গেছেন। তবে খবরটি ছিল গুজব। এই গুজবকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ সুপারের দাবি, একপর্যায়ে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের একটি দল থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তাকে মারধর করেন, থানার একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
হামলার ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহারে নাম আসে ৪৩ জনের। তাদের মধ্যে আসামীর তালিকায় দুই সংবাদকর্মীর নাম রয়েছে। পরে তদন্তে আরো ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় পুলিশ। এই সব মিলিয়ে আসামী শনাক্ত হন ৬০ জন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ জন। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গুজবের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথাও বলেন পুলিশ সুপার।