
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২৪
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গত ১৮ দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক, কৃষক, শিশু, গর্ভবতী মা ও নবজাতকসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে পুকুরে পড়ে আব্দুল্লাহ শিকদার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে সে পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ৯ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কেবিআই ইটভাটায় বৃষ্টিতে ভেজা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মো. ফারুক হোসেন মোড়ল (৪৫) নামে এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হন। সহকর্মীরা জানান, কাজের সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে ২৭ মার্চ উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষক মো. অদুদ খান মারা যান। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২৯ মার্চ উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা বেগম (৩০)। তিনি দুই সন্তানের জননী ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া পথে চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি তিন দিন পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গত ১৮ দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক, কৃষক, শিশু, গর্ভবতী মা ও নবজাতকসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে পুকুরে পড়ে আব্দুল্লাহ শিকদার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে সে পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ৯ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কেবিআই ইটভাটায় বৃষ্টিতে ভেজা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মো. ফারুক হোসেন মোড়ল (৪৫) নামে এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হন। সহকর্মীরা জানান, কাজের সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে ২৭ মার্চ উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষক মো. অদুদ খান মারা যান। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২৯ মার্চ উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা বেগম (৩০)। তিনি দুই সন্তানের জননী ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া পথে চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি তিন দিন পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০৪
জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও অস্বাভাবিক মজুত কমাতে পিরোজপুরে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পিরোজপুর নুতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বলেশ্বর ফিলিং স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অ্যাপের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ এবং পিরোজপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ও ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার মোবারক হোসেন।
উদ্বোধনকালে অ্যাপটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপের উদ্ভাবক ওবায়দুল হক রাসেল। তিনি জানান, ফিলিং স্টেশনে আসা মোটরসাইকেল বা যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্ক্যান করে অ্যাপে সংরক্ষণ করা হবে।
কোনো বাইকার একবার ৫০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন নিলে পরবর্তী চারদিন বা ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে পিরোজপুর জেলার নির্ধারিত পাঁচটি ফিলিং স্টেশন কিংবা অ্যাপ সংযুক্ত অন্য কোনো স্টেশন থেকে পুনরায় জ্বালানি নিতে পারবেন না।
রাসেল আরও বলেন, ‘এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই যানবাহনের বারবার তেল নেওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে। ফলে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত ভিড় কমে আসবে। আমরা পর্যায়ক্রমে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে অ্যাপটি চালু করবো। আশা করছি, আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে স্টেশনগুলোতে ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।’
উদ্ভাবক রাসেল জানান, ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপটি বর্তমানে ঝিনাইদহে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু রয়েছে। পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের আমন্ত্রণে পিরোজপুরে এটি চালু করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি কমে যাবে।
জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও অস্বাভাবিক মজুত কমাতে পিরোজপুরে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পিরোজপুর নুতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বলেশ্বর ফিলিং স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অ্যাপের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ এবং পিরোজপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ও ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার মোবারক হোসেন।
উদ্বোধনকালে অ্যাপটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপের উদ্ভাবক ওবায়দুল হক রাসেল। তিনি জানান, ফিলিং স্টেশনে আসা মোটরসাইকেল বা যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্ক্যান করে অ্যাপে সংরক্ষণ করা হবে।
কোনো বাইকার একবার ৫০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন নিলে পরবর্তী চারদিন বা ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে পিরোজপুর জেলার নির্ধারিত পাঁচটি ফিলিং স্টেশন কিংবা অ্যাপ সংযুক্ত অন্য কোনো স্টেশন থেকে পুনরায় জ্বালানি নিতে পারবেন না।
রাসেল আরও বলেন, ‘এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই যানবাহনের বারবার তেল নেওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে। ফলে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত ভিড় কমে আসবে। আমরা পর্যায়ক্রমে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে অ্যাপটি চালু করবো। আশা করছি, আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে স্টেশনগুলোতে ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।’
উদ্ভাবক রাসেল জানান, ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপটি বর্তমানে ঝিনাইদহে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু রয়েছে। পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের আমন্ত্রণে পিরোজপুরে এটি চালু করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি কমে যাবে।

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪২
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ এলেই একসময় ব্যস্ততায় ভরে উঠত পিরোজপুরের মৃৎশিল্প পল্লীগুলো। চৈত্র মাসজুড়ে মাটির খেলনা, সরা, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা তৈজসপত্র তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পেতেন না কারিগররা।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন প্রায় অতীত। আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাজার সংকটে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
জেলার কাউখালী উপজেলার সোনাকুড়ে প্রায় দুইশ বছর আগে শতাধিক পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে তা ছড়িয়ে পড়ে পিরোজপুর সদর, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর উপজেলায়। এক সময় প্রায় কয়েক হাজার পরিবার এই পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে শতাধিকের ঘরে।
বিশেষ করে পিরোজপুর সদর উপজেলার পালপাড়া, মুলগ্রাম ও রানীপুর এবং কাউখালীর সোনাকুড়ে এখনো কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। তবে এক সময়ের জমজমাট মৃৎশিল্প এখন নিভু নিভু প্রদীপের মতো টিকে আছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আগে মাটির তৈরি খেলনার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে দইয়ের হাঁড়ি, সরা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু তৈজসপত্র তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল ও শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, প্লাস্টিক ও বিকল্প পণ্যের দাপট এবং সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকেই উচ্চ সুদের ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে পড়ে পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।
সুমন্ত দাস নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, আগে এই কাজ করেই ভালোভাবে সংসার চলত। এখন দিন চলে না। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদলেছে। রানি অবন্তী নামে আরেক মৃৎশিল্পী বলেন, আমরা এখানে হাঁড়ি, খাঁড়া, পাড়া, পুতাসহ বিভিন্ন জিনিস মাটি দিয়ে বানাতাম। এখন প্লাস্টিক দিয়ে এসব তৈরি হওয়ায় আমাদের মাটির জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। আমরা কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছি।
পরিবেশবান্ধব এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এক সময় যেখানে পিরোজপুরে আড়াই হাজারের মতো পরিবার এই পেশায় যুক্ত ছিল, সেখানে এখন মাত্র শতাধিক পরিবার টিকে আছে। যথাযথ উদ্যোগ না নিলে শিগগিরই হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ এলেই একসময় ব্যস্ততায় ভরে উঠত পিরোজপুরের মৃৎশিল্প পল্লীগুলো। চৈত্র মাসজুড়ে মাটির খেলনা, সরা, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা তৈজসপত্র তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পেতেন না কারিগররা।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন প্রায় অতীত। আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাজার সংকটে পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
জেলার কাউখালী উপজেলার সোনাকুড়ে প্রায় দুইশ বছর আগে শতাধিক পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে তা ছড়িয়ে পড়ে পিরোজপুর সদর, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর উপজেলায়। এক সময় প্রায় কয়েক হাজার পরিবার এই পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে শতাধিকের ঘরে।
বিশেষ করে পিরোজপুর সদর উপজেলার পালপাড়া, মুলগ্রাম ও রানীপুর এবং কাউখালীর সোনাকুড়ে এখনো কিছু পরিবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। তবে এক সময়ের জমজমাট মৃৎশিল্প এখন নিভু নিভু প্রদীপের মতো টিকে আছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আগে মাটির তৈরি খেলনার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে দইয়ের হাঁড়ি, সরা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু তৈজসপত্র তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল ও শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, প্লাস্টিক ও বিকল্প পণ্যের দাপট এবং সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকেই উচ্চ সুদের ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে পড়ে পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছেন। কেউ কেউ দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।
সুমন্ত দাস নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, আগে এই কাজ করেই ভালোভাবে সংসার চলত। এখন দিন চলে না। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদলেছে। রানি অবন্তী নামে আরেক মৃৎশিল্পী বলেন, আমরা এখানে হাঁড়ি, খাঁড়া, পাড়া, পুতাসহ বিভিন্ন জিনিস মাটি দিয়ে বানাতাম। এখন প্লাস্টিক দিয়ে এসব তৈরি হওয়ায় আমাদের মাটির জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। আমরা কোনো রকমে খেয়ে বেঁচে আছি।
পরিবেশবান্ধব এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এক সময় যেখানে পিরোজপুরে আড়াই হাজারের মতো পরিবার এই পেশায় যুক্ত ছিল, সেখানে এখন মাত্র শতাধিক পরিবার টিকে আছে। যথাযথ উদ্যোগ না নিলে শিগগিরই হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০৫
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিকসহ দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার সাফা বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাফা বাজারে অবস্থিত ‘মনির হোসেন সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছিল। বিশেষ করে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকের মালিক মনির হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া পি. সি. বর্মনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিকসহ দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার সাফা বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাফা বাজারে অবস্থিত ‘মনির হোসেন সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছিল। বিশেষ করে ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকের মালিক মনির হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া পি. সি. বর্মনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.