ভোলা সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা একটি চরে গরু চড়াতে গিয়ে মো. সুমন (৩০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
রোববার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন ভোলারচরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সুমন রাজাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নাসির সর্দারের ছেলে।
আহত ও তার স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে বেশ কয়েক বছর আগে মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠে ‘ভোলারচর’ নামক চরটি।
এরপর সেখানে চরের প্রকৃত ভূমি মালিক নিজেরা এবং কেউ কেউ তাদের জমি নগদ খাজনায় চাষিদের কাছে লিজ দেন। এভাবে চলছিল চাষাবাদ। সম্প্রতি সেখানের প্রায় ২০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে চরটি দখল ও চাষিদের থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল একদল স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র।
আজ সকালে আহত সুমনসহ তার চাচাতো ভাইয়েরা চরে গরু চড়াতে গেলে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা।
এর আগে, গতকাল চরটি দখলের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই মো. রুবেল ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চর পরিদর্শন করে সদর থানা পুলিশের একটি টিম।
আহত সুমন অভিযোগ করে বলেন, চরে আমাদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের জমি রয়েছে। নিজেরা সেখানে চাষাবাদ করছি এবং অন্যান্য জমি মালিকদের থেকে নগদ খাজনায় জমি লিজ নিয়ে সেখানে চাষিরা তরমুজের চাষ করেছেন।
এখন তরমুজ কাটার সময় হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী আংটি সেলিম, মিন্টু খাঁ, হালিম খাঁ, ইকরামসহ অন্যান্যরা আমাদের থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
আজ ভোরে আমিসহ আমার অন্যান্য চাচাতো ভাইয়েরা ফয়সাল, রিয়াজ জুয়েল, সিরাজ রিপন একত্রিত হয়ে চরে গরু চড়াতে গেলে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা
আংটি সেলিম, মিন্টু খাঁ, হালিম খাঁ, ইকরামসহ তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন আমাদের ওপর গুলি চালায়। তাদের গুলি ছোড়া দেখে আমরা একেকজন একেকদিকে দৌড় দিলে আমার শরীরে ৪টি গুলি লাগে। আমি এর বিচার চাই।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শুনেছি চরের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন ছররা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। জমিজমা বিরোধের অবসান হলে এসব বিরোধ থাকবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, গতকাল পুলিশকে জানানো হয়েছিল চরে বিভিন্ন গ্রুপের লোকজন অবস্থান নিয়েছে- এমন খবরে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে গুলিবিদ্ধের ঘটনায় থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

০৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৮
ভোলা সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা একটি চরে গরু চড়াতে গিয়ে মো. সুমন (৩০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
রোববার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন ভোলারচরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সুমন রাজাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নাসির সর্দারের ছেলে।
আহত ও তার স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে বেশ কয়েক বছর আগে মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠে ‘ভোলারচর’ নামক চরটি।
এরপর সেখানে চরের প্রকৃত ভূমি মালিক নিজেরা এবং কেউ কেউ তাদের জমি নগদ খাজনায় চাষিদের কাছে লিজ দেন। এভাবে চলছিল চাষাবাদ। সম্প্রতি সেখানের প্রায় ২০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে চরটি দখল ও চাষিদের থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল একদল স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র।
আজ সকালে আহত সুমনসহ তার চাচাতো ভাইয়েরা চরে গরু চড়াতে গেলে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা।
এর আগে, গতকাল চরটি দখলের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই মো. রুবেল ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চর পরিদর্শন করে সদর থানা পুলিশের একটি টিম।
আহত সুমন অভিযোগ করে বলেন, চরে আমাদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের জমি রয়েছে। নিজেরা সেখানে চাষাবাদ করছি এবং অন্যান্য জমি মালিকদের থেকে নগদ খাজনায় জমি লিজ নিয়ে সেখানে চাষিরা তরমুজের চাষ করেছেন।
এখন তরমুজ কাটার সময় হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী আংটি সেলিম, মিন্টু খাঁ, হালিম খাঁ, ইকরামসহ অন্যান্যরা আমাদের থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
আজ ভোরে আমিসহ আমার অন্যান্য চাচাতো ভাইয়েরা ফয়সাল, রিয়াজ জুয়েল, সিরাজ রিপন একত্রিত হয়ে চরে গরু চড়াতে গেলে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা
আংটি সেলিম, মিন্টু খাঁ, হালিম খাঁ, ইকরামসহ তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন আমাদের ওপর গুলি চালায়। তাদের গুলি ছোড়া দেখে আমরা একেকজন একেকদিকে দৌড় দিলে আমার শরীরে ৪টি গুলি লাগে। আমি এর বিচার চাই।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শুনেছি চরের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন ছররা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। জমিজমা বিরোধের অবসান হলে এসব বিরোধ থাকবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, গতকাল পুলিশকে জানানো হয়েছিল চরে বিভিন্ন গ্রুপের লোকজন অবস্থান নিয়েছে- এমন খবরে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে গুলিবিদ্ধের ঘটনায় থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।