একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত থাকে বা সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু দায়িত্ব রক্ষার্থে সোচ্চার? বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েকটি বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি উঠলেও, স্থায়ীভাবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের কাছে এক মাসের মধ্যে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্নও বটে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি আবারও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের শোকাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনাসহ বহুমুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য জানাশোনা মহলও এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, যা ফেসবুকসহ সমাজপাতাগুলোতে নেটিজেনদের পোস্ট কমেন্টে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পর শুধু শোকবার্তা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বরিশালটাইমসকে বলেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিসরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি ওঠে। সর্বশেষ আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর পরও এক মাসের মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাচেষ্টার মতো ঘটনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সহপাঠী, বড়ভাইদের হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না দেখার কারণে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। "
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বরিশালটাইমসকে বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত দু:সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত শক্তি জোগাবে এতটুকুর ব্যবস্থা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন নিদারুন অপচয় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আহত করে, ক্ষতি হয় রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারবার একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলে সেই দাবি অতীতে এড়িয়ে গিয়েছে, এখনও যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং মনোবিজ্ঞানী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একাডেমিক ও কো কারিকুলার আয়োজনকে ঢেলে সাজাতে হবে যেন একজন শিক্ষার্থী তার স্বকীয়তা- প্রাণোচ্ছলতা বাচিয়ে রাখার সুযোগটুকু পায় এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে ফেস করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন মহলের অভিন্ন যৌক্তিক এই দাবি অচীরের মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ববি কর্তৃপক্ষ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বরিশালটাইমসকে জানান, শিগগিরই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হবে।
অবশ্য একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কের মুখে আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ঘটনার রেশ কেটে যেতেই আলোচনা থেমে যায়। তবে এবার শিক্ষার্থী বিয়োগান্তের ঘটনায় পূর্বের সেই দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত বাস্তবায়নে যে রব উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কি ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।'

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৫৪
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কাজ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছিল না। প্রাক্কলন ও দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করে বালু ফেলার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসের প্রায় সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অহনা এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির সাবঠিকাদার সাদ রহমান কাজটি করাচ্ছেন।
সাবঠিকাদার সাদ রহমানের দাবি, সড়কের প্রায় পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। মাত্র ৩০ ফুট অংশে ঢালাই বাকি থাকতেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঠিকাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ হন। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হওয়ায় ঠিকাদার বিপাকে পড়ার পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, একটি গণমাধ্যমে ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামানের নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি তা দেননি।
এ বিষয়ে বরিশালটাইমসের কাছে আসা একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিদ বলেন, ভিডিওতে হল সুপারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বরিশালের বাইরে থাকায় নির্মাণকাজের মান কীভাবে দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, তা অধ্যক্ষ দেখবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগও করেননি।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের পাল্টা দাবি এবং ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল আগামীতে কি পদক্ষেপ রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কাজ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছিল না। প্রাক্কলন ও দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করে বালু ফেলার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসের প্রায় সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অহনা এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির সাবঠিকাদার সাদ রহমান কাজটি করাচ্ছেন।
সাবঠিকাদার সাদ রহমানের দাবি, সড়কের প্রায় পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। মাত্র ৩০ ফুট অংশে ঢালাই বাকি থাকতেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঠিকাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ হন। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হওয়ায় ঠিকাদার বিপাকে পড়ার পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, একটি গণমাধ্যমে ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামানের নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি তা দেননি।
এ বিষয়ে বরিশালটাইমসের কাছে আসা একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিদ বলেন, ভিডিওতে হল সুপারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বরিশালের বাইরে থাকায় নির্মাণকাজের মান কীভাবে দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, তা অধ্যক্ষ দেখবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগও করেননি।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের পাল্টা দাবি এবং ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল আগামীতে কি পদক্ষেপ রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’

২২ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৫
একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্থান। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত থাকে বা সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু দায়িত্ব রক্ষার্থে সোচ্চার? বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েকটি বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার একাধিক ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি উঠলেও, স্থায়ীভাবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগের বিষয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের কাছে এক মাসের মধ্যে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্নও বটে।
এরই মধ্যে গত ২১ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি আবারও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের শোকাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনাসহ বহুমুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্য জানাশোনা মহলও এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, যা ফেসবুকসহ সমাজপাতাগুলোতে নেটিজেনদের পোস্ট কমেন্টে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পর শুধু শোকবার্তা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বরিশালটাইমসকে বলেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিসরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি ওঠে। সর্বশেষ আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর মৃত্যুর পরও এক মাসের মধ্যে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বারবার আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাচেষ্টার মতো ঘটনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সহপাঠী, বড়ভাইদের হারাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না দেখার কারণে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। "
এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার বরিশালটাইমসকে বলছেন, একজন শিক্ষার্থীর হতাশা কিংবা ব্যক্তিগত দু:সময়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মত শক্তি জোগাবে এতটুকুর ব্যবস্থা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন নিদারুন অপচয় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আহত করে, ক্ষতি হয় রাষ্ট্র ও সমাজের। আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বারবার একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কৌশলে সেই দাবি অতীতে এড়িয়ে গিয়েছে, এখনও যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং মনোবিজ্ঞানী ও অপরাপর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একাডেমিক ও কো কারিকুলার আয়োজনকে ঢেলে সাজাতে হবে যেন একজন শিক্ষার্থী তার স্বকীয়তা- প্রাণোচ্ছলতা বাচিয়ে রাখার সুযোগটুকু পায় এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে ফেস করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন মহলের অভিন্ন যৌক্তিক এই দাবি অচীরের মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ববি কর্তৃপক্ষ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বরিশালটাইমসকে জানান, শিগগিরই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হবে।
অবশ্য একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহে বিতর্কের মুখে আগেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ঘটনার রেশ কেটে যেতেই আলোচনা থেমে যায়। তবে এবার শিক্ষার্থী বিয়োগান্তের ঘটনায় পূর্বের সেই দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত বাস্তবায়নে যে রব উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কি ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।'