বরিশাল সদরে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের সরওয়ার। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে টেনশনে ধানের শীষের প্রার্থী।
আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
দৈনিক সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাওনা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সংবাদপত্রটি। পুলক চ্যাটার্জিকে সংবাদপত্রটির কার্যালয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের তিন দিন পর এই টাকা পরিশোধ করা হলো। সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর পুলকের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জির ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর পরারা রোডে অবস্থিত সমকাল কার্যালয়ের ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলক এর আগে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু বছর ধরে নগরীর গণমাধ্যম অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে সমকাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, এ সময় তিনি গভীর মানসিক সংকটের মধ্যে ছিলেন।
মৃত্যুর আগে পুলক পাঁচটি চিরকুট লিখে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে তিনি সমকাল কার্যালয়ে থাকা তার পাওনা টাকা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
পুলক স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং একমাত্র মেয়ে প্রকৃতিকে রেখে গেছেন। স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে পুলক লিখেছেন, 'আমাকে ক্ষমা করো। এই পৃথিবীতে কারও জন্য কিছুই থেমে থাকে না।'
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পুলক তার ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জিকেও স্ত্রী ও মেয়ের দেখাশোনা করার অনুরোধ করেছিলেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পুলক আত্মহত্যা করেছেন। তবে উদ্ধার করা চিরকুটগুলো আসল কি না, তা যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দৈনিক সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির পরিবারের পাওনা ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সংবাদপত্রটি। পুলক চ্যাটার্জিকে সংবাদপত্রটির কার্যালয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের তিন দিন পর এই টাকা পরিশোধ করা হলো। সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর পুলকের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জির ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর পরারা রোডে অবস্থিত সমকাল কার্যালয়ের ভেতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলক এর আগে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু বছর ধরে নগরীর গণমাধ্যম অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে সমকাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, এ সময় তিনি গভীর মানসিক সংকটের মধ্যে ছিলেন।
মৃত্যুর আগে পুলক পাঁচটি চিরকুট লিখে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে তিনি সমকাল কার্যালয়ে থাকা তার পাওনা টাকা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
পুলক স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং একমাত্র মেয়ে প্রকৃতিকে রেখে গেছেন। স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিরকুটে পুলক লিখেছেন, 'আমাকে ক্ষমা করো। এই পৃথিবীতে কারও জন্য কিছুই থেমে থাকে না।'
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পুলক তার ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জিকেও স্ত্রী ও মেয়ের দেখাশোনা করার অনুরোধ করেছিলেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পুলক আত্মহত্যা করেছেন। তবে উদ্ধার করা চিরকুটগুলো আসল কি না, তা যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে (৭৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ওই এলাকার ছেলে। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সেরাল গ্রামে জনগণের মনে আতঙ্ক এবং ভীতি সৃষ্টি করে সড়কে মিছিল করার প্রস্তুতি নেয়। এতে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। পরে এ ঘটনায় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আগৈলঝাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে (৭৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ওই এলাকার ছেলে। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সেরাল গ্রামে জনগণের মনে আতঙ্ক এবং ভীতি সৃষ্টি করে সড়কে মিছিল করার প্রস্তুতি নেয়। এতে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। পরে এ ঘটনায় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আগৈলঝাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনা এবং নার্সদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের মহিন্দ্রাচালক মিলন তালুকদারের শিশুকন্যা আমেনাকে খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতে চাইলেও হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই তাকে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। বিষয়টি কর্মরত নার্সদের জানানো হলেও তারা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।
একপর্যায়ে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা মিলন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মেয়েকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। নার্সদের কাছ থেকেও যথাযথ সেবা পাওয়া যায়নি। উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণেই তার মেয়ের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও নার্সদের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু আমাদের হাতে নেই।’ চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সকালে সংশ্লিষ্টদের ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনা এবং নার্সদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের মহিন্দ্রাচালক মিলন তালুকদারের শিশুকন্যা আমেনাকে খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতে চাইলেও হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই তাকে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। বিষয়টি কর্মরত নার্সদের জানানো হলেও তারা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।
একপর্যায়ে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা মিলন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মেয়েকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। নার্সদের কাছ থেকেও যথাযথ সেবা পাওয়া যায়নি। উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণেই তার মেয়ের অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও নার্সদের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যু আমাদের হাতে নেই।’ চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সকালে সংশ্লিষ্টদের ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৮
বরিশাল সদরে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের সরওয়ার। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে টেনশনে ধানের শীষের প্রার্থী।
আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১২
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৩
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯