বরিশাল সদরে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের সরওয়ার। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে টেনশনে ধানের শীষের প্রার্থী।
আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৮
বরিশাল সদরে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের সরওয়ার। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে টেনশনে ধানের শীষের প্রার্থী।
আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৭
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৯
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৭
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮