বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)) জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়েরের কয়েক মাস পর তাকে ছুটিতে পাঠানো হলো।
হেলথ পলিসি ওয়াচের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ডাব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড: টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস একটি সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ ইমেলের মাধ্যমে কর্মীদের জানান যে পুতুল অবিলম্বে ছুটিতে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ডব্লিউএইচও-এর সহকারী মহাপরিচালক ড: ক্যাথারিনা বোহেম সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) তিনি নয়াদিল্লির আঞ্চলিক কার্যালয়ে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তার বিতর্কিত নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। পুতুল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তার প্রার্থিতা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পদ খাটিয়ে অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেন।
দুদক জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। দুদকের উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের মতে, পুতুল মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ এবং ৪৭১ ধারা লঙ্ঘন করে; এই দুটি ধারা জালিয়াতি এবং জাল নথি ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পুতুলের বিরুদ্ধে তার পেশাগত সম্পৃক্ততা সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক পদের দাবি করা, যা বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্বীকার করেছে।
পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সম্মানসূচক পদটি মূলত শীর্ষ পদের জন্য তার যোগ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। দুদকের অভিযোগ, পুতুল তার ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন, যা তিনি শুচনা ফাউন্ডেশন রেখেছিলেন। এই তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।
এ ছাড়া পুতুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ দায়েরের পর থেকে পুতুল স্বাধীনভাবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারছেন না, কারণ বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাকে গ্রেফতারের ঝুঁকি রয়েছে। এসব অভিযোগ বা সংস্থায় পুতুলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ডাব্লিউএইচও কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

১২ জুলাই, ২০২৫ ১১:৩০
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)) জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়েরের কয়েক মাস পর তাকে ছুটিতে পাঠানো হলো।
হেলথ পলিসি ওয়াচের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ডাব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক ড: টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস একটি সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ ইমেলের মাধ্যমে কর্মীদের জানান যে পুতুল অবিলম্বে ছুটিতে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ডব্লিউএইচও-এর সহকারী মহাপরিচালক ড: ক্যাথারিনা বোহেম সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) তিনি নয়াদিল্লির আঞ্চলিক কার্যালয়ে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তার বিতর্কিত নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। পুতুল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তার প্রার্থিতা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পদ খাটিয়ে অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেন।
দুদক জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। দুদকের উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের মতে, পুতুল মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ এবং ৪৭১ ধারা লঙ্ঘন করে; এই দুটি ধারা জালিয়াতি এবং জাল নথি ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পুতুলের বিরুদ্ধে তার পেশাগত সম্পৃক্ততা সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক পদের দাবি করা, যা বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্বীকার করেছে।
পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সম্মানসূচক পদটি মূলত শীর্ষ পদের জন্য তার যোগ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। দুদকের অভিযোগ, পুতুল তার ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন, যা তিনি শুচনা ফাউন্ডেশন রেখেছিলেন। এই তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।
এ ছাড়া পুতুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ দায়েরের পর থেকে পুতুল স্বাধীনভাবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারছেন না, কারণ বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাকে গ্রেফতারের ঝুঁকি রয়েছে। এসব অভিযোগ বা সংস্থায় পুতুলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ডাব্লিউএইচও কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি।