দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে বরগুনার বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের। ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে এসব সড়কে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
তবে বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে এসব সড়ক সংস্কার করতে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। আর এ কারণেই একসঙ্গে করা যাচ্ছে না সব সড়কে সংস্কার।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় মোট ৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। প্রতি তিন বছর পরপর এ সড়কগুলো সংস্কারের প্রয়োজন হলেও মেলে না পর্যাপ্ত বরাদ্দ। জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমানে জেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এ সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় মাত্র ৬০-৭০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব।
আর এ কারণেই অর্থ সংকটে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া খানাখন্দেভরা সব সড়কের সংস্কার করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে এলজিইডি। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার বেশিরভাগ আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আমতলী-তালতলী সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে বরগুনা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক এবং গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কেরই জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচ ঢালাই। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সড়কের কোনো সংস্কার করা হয়নি। এতে সড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়ে যানবাহন চলছে হেলেদুলে।
অনেক জায়গায় আবার যাত্রী নামিয়ে খানাখন্দ পার হতে হয় গাড়ি চালকদের। দিনের পর দিন এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া বিভিন্ন গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে এবং ভাঙা সড়কে চলাচলের কারণে প্রায় সময় সড়কে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে তালতলী উপজেলায় কয়কটি পর্যটন কেন্দ্র থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ঘুরতে আসেন পর্যটকরা। তবে এ উপজেলায় প্রবেশের জন্য ৩৮ কিলোমিটারের আঞ্চলিক সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় বর্তমানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়ছেন, অপরদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে রত্না দাস নামে এক যাত্রী বলেন, এই সড়কটি তালতলীতে যাওয়া-আসার একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
খানাখন্দের কারণে ছোট বাচ্চা অথবা বৃদ্ধ যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে যাতায়াতের সময় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সে ভোগান্তি তো আমাদের। সবার ভালোর কথা চিন্তা করে হলেও সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
মো. মাসুদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্ষার সময় সড়কের খানাখন্দে পানি জমে থাকে। এতে ছোট-বড় গর্তগুলো বোঝা যায় না। আর এ কারণেই অনেক সময় গাড়ি গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মো. মিলন সিকদার নামে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমরা দৈনিক গাড়ি চালিয়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় করি। কিন্তু এ সড়কে গাড়ি চালিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে অনেক সময় মেরামত করতে হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ অবস্থায় অতিরিক্ত টাকা খরচের কারণে এখন আমাদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।
তালতলী উপজেলায় সোনাকাটা ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রার চরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র এবং রাখাইন পল্লী থাকায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে তালতলীতে প্রবেশের প্রধান সড়কটির বর্তমানে বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।
তালতলীতে পর্যটক নিয়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক মো. শাহজাহান বলেন, তালতলীতে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র আছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের কারণে অনেক সময় আমাদের গাড়ি আটকে যায়। এ কারণে অনেক সময় আমাদের প্রোগ্রাম পরিবর্তনও করতে হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, যাতে এ সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হয়।
বরিশাল থেকে তালতলীর নিদ্রার চরে ঘুরতে আসা আপন নামে এক পর্যটক বলেন, ফেসবুকে তালতলী নিদ্রার চরের বিভিন্ন সৌন্দর্যের ভিডিও দেখে ঘুরতে এসেছি। কিন্ত রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। এখান থেকে যাওয়ার পরে কেউ যাদি জানতে চায় তাদেরকে রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থাই বলতে হবে। সরকার যদি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করে তাহলে এখানকার পর্যটন শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটবে।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, বরগুনাতে যে পরিমাণ গ্রামীণ সড়ক আছে তা সংস্কারে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। এ কারণে গুরুত্ব বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কের কাজ আমরা করতে পারলেও বাকি কাজ পরবর্তী বছরের জন্য থেকে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা চলমান আছে।
আমতলী-তালতলী সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সড়কটির কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। আমতলী থেকে তালতলীর সোনাকাটা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যে অংশটি জরুরি মেরামত প্রয়োজন সে অংশের জন্য একটি বাজেট ঢাকায় পাঠিয়ে অনুমোদন পেয়েছি। দ্রুতই কাজ শুরু হবে এবং ওই সব জায়গায় মানুষের ভোগান্তি কমবে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

১৮ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:১৬
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে বরগুনার বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের। ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে এসব সড়কে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
তবে বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে এসব সড়ক সংস্কার করতে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। আর এ কারণেই একসঙ্গে করা যাচ্ছে না সব সড়কে সংস্কার।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় মোট ৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। প্রতি তিন বছর পরপর এ সড়কগুলো সংস্কারের প্রয়োজন হলেও মেলে না পর্যাপ্ত বরাদ্দ। জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমানে জেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এ সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় মাত্র ৬০-৭০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব।
আর এ কারণেই অর্থ সংকটে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া খানাখন্দেভরা সব সড়কের সংস্কার করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে এলজিইডি। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার বেশিরভাগ আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আমতলী-তালতলী সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে বরগুনা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক এবং গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কেরই জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচ ঢালাই। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সড়কের কোনো সংস্কার করা হয়নি। এতে সড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়ে যানবাহন চলছে হেলেদুলে।
অনেক জায়গায় আবার যাত্রী নামিয়ে খানাখন্দ পার হতে হয় গাড়ি চালকদের। দিনের পর দিন এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া বিভিন্ন গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে এবং ভাঙা সড়কে চলাচলের কারণে প্রায় সময় সড়কে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে তালতলী উপজেলায় কয়কটি পর্যটন কেন্দ্র থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ঘুরতে আসেন পর্যটকরা। তবে এ উপজেলায় প্রবেশের জন্য ৩৮ কিলোমিটারের আঞ্চলিক সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় বর্তমানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়ছেন, অপরদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে রত্না দাস নামে এক যাত্রী বলেন, এই সড়কটি তালতলীতে যাওয়া-আসার একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
খানাখন্দের কারণে ছোট বাচ্চা অথবা বৃদ্ধ যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে যাতায়াতের সময় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সে ভোগান্তি তো আমাদের। সবার ভালোর কথা চিন্তা করে হলেও সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
মো. মাসুদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্ষার সময় সড়কের খানাখন্দে পানি জমে থাকে। এতে ছোট-বড় গর্তগুলো বোঝা যায় না। আর এ কারণেই অনেক সময় গাড়ি গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মো. মিলন সিকদার নামে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমরা দৈনিক গাড়ি চালিয়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় করি। কিন্তু এ সড়কে গাড়ি চালিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে অনেক সময় মেরামত করতে হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ অবস্থায় অতিরিক্ত টাকা খরচের কারণে এখন আমাদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।
তালতলী উপজেলায় সোনাকাটা ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রার চরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র এবং রাখাইন পল্লী থাকায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে তালতলীতে প্রবেশের প্রধান সড়কটির বর্তমানে বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।
তালতলীতে পর্যটক নিয়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক মো. শাহজাহান বলেন, তালতলীতে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র আছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের কারণে অনেক সময় আমাদের গাড়ি আটকে যায়। এ কারণে অনেক সময় আমাদের প্রোগ্রাম পরিবর্তনও করতে হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, যাতে এ সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হয়।
বরিশাল থেকে তালতলীর নিদ্রার চরে ঘুরতে আসা আপন নামে এক পর্যটক বলেন, ফেসবুকে তালতলী নিদ্রার চরের বিভিন্ন সৌন্দর্যের ভিডিও দেখে ঘুরতে এসেছি। কিন্ত রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। এখান থেকে যাওয়ার পরে কেউ যাদি জানতে চায় তাদেরকে রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থাই বলতে হবে। সরকার যদি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করে তাহলে এখানকার পর্যটন শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটবে।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, বরগুনাতে যে পরিমাণ গ্রামীণ সড়ক আছে তা সংস্কারে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। এ কারণে গুরুত্ব বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কের কাজ আমরা করতে পারলেও বাকি কাজ পরবর্তী বছরের জন্য থেকে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা চলমান আছে।
আমতলী-তালতলী সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সড়কটির কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। আমতলী থেকে তালতলীর সোনাকাটা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যে অংশটি জরুরি মেরামত প্রয়োজন সে অংশের জন্য একটি বাজেট ঢাকায় পাঠিয়ে অনুমোদন পেয়েছি। দ্রুতই কাজ শুরু হবে এবং ওই সব জায়গায় মানুষের ভোগান্তি কমবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬