ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন।
সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে তেমন ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে।
জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার নির্বাচনে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া এবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট।
জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য ১৯৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বিএমপি পুলিশ ১০৩টি বডি অন ক্যামেরাও ব্যবহার করছে। সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে আছে ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে নারী-পুরুষ অন্তর্ভুক্ত।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকাও জোরালো। বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করছেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করছে।
পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা আছে। যার মধ্যে বরিশাল সদরে ৫ প্লাটুন এবং বাকি ৯টি উপজেলায় ৯ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। র্যাবের পক্ষ থেকেও ৬টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে আছে।
নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলার নদীপথগুলোতে অবস্থান করছে জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’, যেখানে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। নদী এলাকার ৮টি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌ পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র আছে ৩৪২টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৯৭টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৫৪টি।
বরিশাল-৫ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৭৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ৯৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি। বরিশাল-৬ আসনে ভোটকেন্দ্র ১১৩টি। এর মধ্যে সাধারণ ৪৬টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি।
বরিশাল টাইমস

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১০
বরিশালে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন।
সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে তেমন ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে।
জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার নির্বাচনে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া এবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট।
জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য ১৯৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বিএমপি পুলিশ ১০৩টি বডি অন ক্যামেরাও ব্যবহার করছে। সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে আছে ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে নারী-পুরুষ অন্তর্ভুক্ত।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকাও জোরালো। বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করছেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করছে।
পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা আছে। যার মধ্যে বরিশাল সদরে ৫ প্লাটুন এবং বাকি ৯টি উপজেলায় ৯ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। র্যাবের পক্ষ থেকেও ৬টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে আছে।
নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলার নদীপথগুলোতে অবস্থান করছে জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’, যেখানে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। নদী এলাকার ৮টি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌ পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র আছে ৩৪২টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৯৭টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৫৪টি।
বরিশাল-৫ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৭৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ৯৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি। বরিশাল-৬ আসনে ভোটকেন্দ্র ১১৩টি। এর মধ্যে সাধারণ ৪৬টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি।
বরিশাল টাইমস
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫