শীত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করেছে শিশু রোগীর সংখ্যাও। বিশেষ করে নিউমোনিয়া ব্রঙ্কিওলাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি বেড়েছে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি শিশু ওয়ার্ডে। ওই সকল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একাধিক নার্স বলেন, নবজাতক থেকে শুরু করে শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে বেশীরভাগ রোগী আসছে গ্রামাঞ্চল থেকে। এ কারনে ৪১ বেডের বিপরীতে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩শ রোগী। বেড সংকট প্রকট আকার ধারন করায় একটি বেডে দুইজন এবং কোন কোন বেডে তিজন শিশু রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে কিছু রোগী রয়েছে যারা বেশী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। তাদের জন্য বেশী সময় ধরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এরা গ্রামে বসে বিভিন্ন ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়ে রোগ থেকে মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। অথচ তারা যদি আগেভাগে হাসপাতালে আসতো তাহলে বেশীদিন চিকিৎসা দিতে হতো না।
এ কারনে তারা বারবার রোগীদের অবহিত করছেন শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ হলেই সাথে সাথে চিকিৎসক অথবা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার জন্য। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১ হাজার ২২৮ শিশু। বর্তমানে দুটি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩শ রোগী।
শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সানজিদার মা বলেন, তারা ঝালকাঠির কাঠালিয়া থেকে এসেছেন। ৪ বছরের শিশুর জ্বর কোনভাবেই কমছে না। গ্রাম্য চিকিৎসক থেকে শুরু করে ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়েছেন তাতে কাজ হয়নি। উপায়ন্তর না পেয়ে শিশুকে নিয়ে শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনদিনের চিকিৎসায় সে অনেকটা ভালো। দুই-একদিনের মধ্যে হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। একই কথা জানালেন শিশু ইউনিটে ভর্তিকৃত একাধিক রোগীর অভিভাবক।
অভিভাবক আবু মুসা বলেন, ঘর থেকে নামলেই টাকার প্রয়োজন। এ কারনে আমাদের চেষ্টা থাকে গ্রাম্য চিকিৎসক ও ফার্মেসীর ওষুধের উপর। যখন সেখানকার ওষুধ কাজ করে না তারপর উপজেলা হাসপাতালে যাই। সেখানে দেখার পর অভিভাবকদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয় ‘শিশুর অবস্থা খারাপ বলে’। অবশেষে তাদের পরামর্শে বরিশালে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা এবং কিছু ওষুধ পেয়েছেন। যা হাসপাতালে নেই তা বাইরে থেকে ক্রয় করেছেন। তবে পূর্বের চেয়ে অনেক ভালো চিকিৎসা পাওয়ার কথা জানালেন তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শীতের কারনে ঠান্ডাজনিত রোগে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সেই অনুপাতে বেড না থাকায় একই বেডে একাধিক শিশু রেখেও চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে চিকিৎসায় কোন ধরনের গাফলতি হচ্ছে না বলে দাবি করেন পরিচালক।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার বলেন, আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানান তিনি। জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আরো বলেন, শনিবার মাঝরাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত মাঝারী থেকে ঘণ কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বৃষ্টিপাত এবং শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা আগামী ৫ দিনে নেই বলে জানান তিনি।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৫৫
শীত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করেছে শিশু রোগীর সংখ্যাও। বিশেষ করে নিউমোনিয়া ব্রঙ্কিওলাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি বেড়েছে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি শিশু ওয়ার্ডে। ওই সকল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একাধিক নার্স বলেন, নবজাতক থেকে শুরু করে শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে বেশীরভাগ রোগী আসছে গ্রামাঞ্চল থেকে। এ কারনে ৪১ বেডের বিপরীতে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩শ রোগী। বেড সংকট প্রকট আকার ধারন করায় একটি বেডে দুইজন এবং কোন কোন বেডে তিজন শিশু রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে কিছু রোগী রয়েছে যারা বেশী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। তাদের জন্য বেশী সময় ধরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এরা গ্রামে বসে বিভিন্ন ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়ে রোগ থেকে মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। অথচ তারা যদি আগেভাগে হাসপাতালে আসতো তাহলে বেশীদিন চিকিৎসা দিতে হতো না।
এ কারনে তারা বারবার রোগীদের অবহিত করছেন শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ হলেই সাথে সাথে চিকিৎসক অথবা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার জন্য। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১ হাজার ২২৮ শিশু। বর্তমানে দুটি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩শ রোগী।
শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সানজিদার মা বলেন, তারা ঝালকাঠির কাঠালিয়া থেকে এসেছেন। ৪ বছরের শিশুর জ্বর কোনভাবেই কমছে না। গ্রাম্য চিকিৎসক থেকে শুরু করে ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়েছেন তাতে কাজ হয়নি। উপায়ন্তর না পেয়ে শিশুকে নিয়ে শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনদিনের চিকিৎসায় সে অনেকটা ভালো। দুই-একদিনের মধ্যে হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। একই কথা জানালেন শিশু ইউনিটে ভর্তিকৃত একাধিক রোগীর অভিভাবক।
অভিভাবক আবু মুসা বলেন, ঘর থেকে নামলেই টাকার প্রয়োজন। এ কারনে আমাদের চেষ্টা থাকে গ্রাম্য চিকিৎসক ও ফার্মেসীর ওষুধের উপর। যখন সেখানকার ওষুধ কাজ করে না তারপর উপজেলা হাসপাতালে যাই। সেখানে দেখার পর অভিভাবকদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয় ‘শিশুর অবস্থা খারাপ বলে’। অবশেষে তাদের পরামর্শে বরিশালে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা এবং কিছু ওষুধ পেয়েছেন। যা হাসপাতালে নেই তা বাইরে থেকে ক্রয় করেছেন। তবে পূর্বের চেয়ে অনেক ভালো চিকিৎসা পাওয়ার কথা জানালেন তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শীতের কারনে ঠান্ডাজনিত রোগে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সেই অনুপাতে বেড না থাকায় একই বেডে একাধিক শিশু রেখেও চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে চিকিৎসায় কোন ধরনের গাফলতি হচ্ছে না বলে দাবি করেন পরিচালক।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার বলেন, আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানান তিনি। জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আরো বলেন, শনিবার মাঝরাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত মাঝারী থেকে ঘণ কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বৃষ্টিপাত এবং শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা আগামী ৫ দিনে নেই বলে জানান তিনি।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১