বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন না করে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হ্যাক ও অপপ্রচারের অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ (অপপ্রচার) করা হচ্ছে।
যারা এই দেশকে গোলামের রাষ্ট্রে বানাতে চায়, তারা আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব মিথ্যা ছড়াচ্ছে। আমাদের আইটি টিম তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আফসোস হলো-দীর্ঘদিন যারা একসঙ্গে আন্দোলনে ছিলাম, সেই দলের ভায়েরাই এখন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। আমি তাদের কোনো উত্তর দেইনি, দিতেও চাই না।
আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আল্লাহর কাছেও তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
জুলাই স্মৃতি ও হুঁশিয়ারি
জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মায়েদের ওপর হাত দেওয়া হয়েছিল, তখন সারাদেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, ইদানীং কেউ কেউ মায়েদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করছেন। যদি মায়েদের সম্মান করতে না পারেন, হুমকি-ধমকি বন্ধ না করেন, তবে জুলাইয়ের মতো আবারও আন্দোলন হবে।
মনে রাখতে হবে, সন্তানেরা এখনো ঘুমায়নি।
উত্তরবঙ্গ ও স্থানীয় উন্নয়ন
নওগাঁকে দেশের খাদ্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট্ট এই জেলাটি দেশের খাদ্যের যোগান দিলেও তারা ন্যায্য অধিকার পায়নি। উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছি। আল্লাহ সুযোগ দিলে এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উন্নতমানের মেডিকেল কলেজ করা হবে। এছাড়া আম, কুল ও লিচু চাষিদের সুবিধার্থে একাধিক হিমাগার (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হবে।
শিক্ষা ও মেধার মূল্যায়ন
নেতৃত্ব ও শিক্ষা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুধু রাজার ছেলে রাজা এবং বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব-এটা চাই না। একজন ভ্যানচালকের ছেলে যদি মেধাবী হয়, তবে তাকেও দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া ছাত্রীদের জন্য মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে।
তিনি ঘোষণা করেন, আমাদের অঙ্গীকার-আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। আমরা এমন নিরাপদ জনপদ গড়তে চাই, যেখানে মায়েদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।
লুন্ঠিত টাকা উদ্ধার ও দুর্নীতি দমন
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন না করে নিজেদের উন্নয়ন করেছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা কথা দিচ্ছি, ক্ষমতায় গেলে নতুন করে আর কাউকে চুরি ও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। আর লুন্ঠিত টাকা পেটের মধ্যে হাত দিয়ে বের করে আনা হবে, যা সরকারের কোষাগারে যুক্ত হবে।
উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি শিল্পের রাজধানী
নওগাঁ ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ভাণ্ডারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে ছোট্ট এই জেলাটি। কিন্তু তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়নি। উত্তরবঙ্গকে আমরা ইতিমধ্যে কৃষি শিল্পের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছি। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উন্নত মানসম্মত মেডিকেল কলেজ করা হবে। আম, কুল ও লিচু সংরক্ষণের জন্য একাধিক হিমাগার (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হবে।
নারীদের শিক্ষা ও মেরিটোক্রেসি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রীদের জন্য আমাদের বিশেষ কর্মসূচি থাকবে। মাস্টার্স পর্যন্ত তাদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা শুধু রাজার ছেলে রাজা এবং বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব-এটা চাই না। একজন ভ্যানচালকের ছেলে যদি মেধাবী হয়, তবে তাকেও দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার-আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে মায়েদের প্রতি কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না, এমন নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৪
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংগঠনের আমীর শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানোর পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংগঠনের আমীর শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানোর পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৯
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। পরে একই কক্ষের আরও ভিডিও সামনে আসলে ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে এমপির স্ত্রী দাবি করেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওগুলোতে সেসব নেই। এটি একটি বাস্তব ভিডিও বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স বেশ কম মনে হয়েছে। কালবেলার হাতে তরুণীর একটি বায়োডাটা এসেছে। সেখানে দেওয়া তার জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন বয়স হওয়ার কথা ১৮ বছর ২ মাস। মেয়েটির প্রাইভেসি রক্ষায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এমপির ‘জোর সুপারিশ’ করা ওই বায়োডাটায় মেয়েটি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় কালবেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি দেখে বোঝা গেছে, তার পরিবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছবিতে জামায়াতের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। পরে একই কক্ষের আরও ভিডিও সামনে আসলে ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে এমপির স্ত্রী দাবি করেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওগুলোতে সেসব নেই। এটি একটি বাস্তব ভিডিও বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স বেশ কম মনে হয়েছে। কালবেলার হাতে তরুণীর একটি বায়োডাটা এসেছে। সেখানে দেওয়া তার জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন বয়স হওয়ার কথা ১৮ বছর ২ মাস। মেয়েটির প্রাইভেসি রক্ষায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এমপির ‘জোর সুপারিশ’ করা ওই বায়োডাটায় মেয়েটি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় কালবেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি দেখে বোঝা গেছে, তার পরিবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছবিতে জামায়াতের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।

১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন না করে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হ্যাক ও অপপ্রচারের অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ (অপপ্রচার) করা হচ্ছে।
যারা এই দেশকে গোলামের রাষ্ট্রে বানাতে চায়, তারা আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব মিথ্যা ছড়াচ্ছে। আমাদের আইটি টিম তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আফসোস হলো-দীর্ঘদিন যারা একসঙ্গে আন্দোলনে ছিলাম, সেই দলের ভায়েরাই এখন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। আমি তাদের কোনো উত্তর দেইনি, দিতেও চাই না।
আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আল্লাহর কাছেও তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
জুলাই স্মৃতি ও হুঁশিয়ারি
জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মায়েদের ওপর হাত দেওয়া হয়েছিল, তখন সারাদেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, ইদানীং কেউ কেউ মায়েদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করছেন। যদি মায়েদের সম্মান করতে না পারেন, হুমকি-ধমকি বন্ধ না করেন, তবে জুলাইয়ের মতো আবারও আন্দোলন হবে।
মনে রাখতে হবে, সন্তানেরা এখনো ঘুমায়নি।
উত্তরবঙ্গ ও স্থানীয় উন্নয়ন
নওগাঁকে দেশের খাদ্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট্ট এই জেলাটি দেশের খাদ্যের যোগান দিলেও তারা ন্যায্য অধিকার পায়নি। উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছি। আল্লাহ সুযোগ দিলে এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উন্নতমানের মেডিকেল কলেজ করা হবে। এছাড়া আম, কুল ও লিচু চাষিদের সুবিধার্থে একাধিক হিমাগার (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হবে।
শিক্ষা ও মেধার মূল্যায়ন
নেতৃত্ব ও শিক্ষা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুধু রাজার ছেলে রাজা এবং বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব-এটা চাই না। একজন ভ্যানচালকের ছেলে যদি মেধাবী হয়, তবে তাকেও দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া ছাত্রীদের জন্য মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে।
তিনি ঘোষণা করেন, আমাদের অঙ্গীকার-আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। আমরা এমন নিরাপদ জনপদ গড়তে চাই, যেখানে মায়েদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।
লুন্ঠিত টাকা উদ্ধার ও দুর্নীতি দমন
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন না করে নিজেদের উন্নয়ন করেছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা কথা দিচ্ছি, ক্ষমতায় গেলে নতুন করে আর কাউকে চুরি ও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। আর লুন্ঠিত টাকা পেটের মধ্যে হাত দিয়ে বের করে আনা হবে, যা সরকারের কোষাগারে যুক্ত হবে।
উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি শিল্পের রাজধানী
নওগাঁ ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ভাণ্ডারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে ছোট্ট এই জেলাটি। কিন্তু তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়নি। উত্তরবঙ্গকে আমরা ইতিমধ্যে কৃষি শিল্পের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছি। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও উন্নত মানসম্মত মেডিকেল কলেজ করা হবে। আম, কুল ও লিচু সংরক্ষণের জন্য একাধিক হিমাগার (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ করা হবে।
নারীদের শিক্ষা ও মেরিটোক্রেসি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রীদের জন্য আমাদের বিশেষ কর্মসূচি থাকবে। মাস্টার্স পর্যন্ত তাদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা শুধু রাজার ছেলে রাজা এবং বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব-এটা চাই না। একজন ভ্যানচালকের ছেলে যদি মেধাবী হয়, তবে তাকেও দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার-আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। মামলাবাজি আমাদের খাসলত নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে মায়েদের প্রতি কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না, এমন নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।