বরিশালে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়ানোসহ হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান শুক্রবার সকালে লাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন, তার এই মহৎ কর্মের খবর সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে দিনভর চলে আলোচনা-সমালোচনা এবং হাস্যরস-উপহাস। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটিতে এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হওয়ায় ফেসবুকে নেটিজেনদেরও সরব হতে দেখা গেছে, বিভিন্ন নেতিবাচক কমেন্টে পোস্টের নিচে প্রকারান্তে সাইবারযুক্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয়দের অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। আনুমানিক ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি উদ্বোধনে শুক্রবার সকালে ওয়ার্ডটিতে যান পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে তিনি বেশকিছু নারী-পুরুষকে সাথে নিয়ে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন।
শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতার এই বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন আয়োজনের বেশকিছু ভিডিওচিত্র এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পাশাপাশি নেটিজেনদের বিষয়টি নিয়ে বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতেও দেখা গেছে। অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হলে সোশ্যালমাধ্যম ফেসবুক আরও সগরম হয়ে ওঠে। একাধিক পত্রিকার ফেসবুক পেইজ প্রকাশিত সংবাটির কমেন্ট বক্সে ঘুরে আসলে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যও পাওয়া যায়। অবশ্য কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন, তবে এই সংখ্যা অনেকাংশে কম।
তবে এই গোটা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অনেকে। তাদের দাবি, এলাকার খালটির ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এই যাত্রা আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরিশেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ফান্ডসংগ্রহ করে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণে উদ্যোগ নেয়, যা শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। এই বিষয়টিকে নিয়ে ফেসবুকে নোংরামী চলছে। এতে নিজ দলীয় কতিপয় কর্মীরও আস্কারা আছে, অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
তবে এই ধরনের সমালোচনা ও অপপ্রচারে তিনি মোটেও বিচলিত নন এবং আগামীতে জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপি নেতার সরল স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলেও ফেসবুকে বিতর্ক কমছে না, বরং ক্ষণেক্ষণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ হাস্যরসের ছলে সাঁকো উদ্বোধনকে বৃহৎ এবং মহৎ কর্ম উল্লেখ করে নেতিবাচক কমেন্ট করেন। পাশাপাশি আরও বিস্তর কমেন্ট দেখা যায়, যা অশ্লীয় ভাষার সংমিশ্রণ এবং বরিশালটাইমসের সম্পাদকীয় নীতিপরিপন্থী হওয়ায় প্রকাশযোগ্য নয়।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪০
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৯
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।’
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৩৩
১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল, প্রশাসক শিরিনের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় বিসিসির পদক্ষেপ
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল ও চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরবাসীর সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
প্রশাসকের প্রেসসচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক শিরিন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিসিসির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীর জলাশয় রক্ষা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল, প্রশাসক শিরিনের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় বিসিসির পদক্ষেপ
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল ও চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরবাসীর সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
প্রশাসকের প্রেসসচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক শিরিন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিসিসির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীর জলাশয় রক্ষা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০১:১২
বরিশালে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়ানোসহ হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান শুক্রবার সকালে লাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন, তার এই মহৎ কর্মের খবর সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে দিনভর চলে আলোচনা-সমালোচনা এবং হাস্যরস-উপহাস। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটিতে এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হওয়ায় ফেসবুকে নেটিজেনদেরও সরব হতে দেখা গেছে, বিভিন্ন নেতিবাচক কমেন্টে পোস্টের নিচে প্রকারান্তে সাইবারযুক্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয়দের অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। আনুমানিক ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি উদ্বোধনে শুক্রবার সকালে ওয়ার্ডটিতে যান পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে তিনি বেশকিছু নারী-পুরুষকে সাথে নিয়ে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন।
শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতার এই বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন আয়োজনের বেশকিছু ভিডিওচিত্র এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পাশাপাশি নেটিজেনদের বিষয়টি নিয়ে বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতেও দেখা গেছে। অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হলে সোশ্যালমাধ্যম ফেসবুক আরও সগরম হয়ে ওঠে। একাধিক পত্রিকার ফেসবুক পেইজ প্রকাশিত সংবাটির কমেন্ট বক্সে ঘুরে আসলে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যও পাওয়া যায়। অবশ্য কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন, তবে এই সংখ্যা অনেকাংশে কম।
তবে এই গোটা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অনেকে। তাদের দাবি, এলাকার খালটির ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এই যাত্রা আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরিশেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ফান্ডসংগ্রহ করে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণে উদ্যোগ নেয়, যা শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। এই বিষয়টিকে নিয়ে ফেসবুকে নোংরামী চলছে। এতে নিজ দলীয় কতিপয় কর্মীরও আস্কারা আছে, অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
তবে এই ধরনের সমালোচনা ও অপপ্রচারে তিনি মোটেও বিচলিত নন এবং আগামীতে জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপি নেতার সরল স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলেও ফেসবুকে বিতর্ক কমছে না, বরং ক্ষণেক্ষণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ হাস্যরসের ছলে সাঁকো উদ্বোধনকে বৃহৎ এবং মহৎ কর্ম উল্লেখ করে নেতিবাচক কমেন্ট করেন। পাশাপাশি আরও বিস্তর কমেন্ট দেখা যায়, যা অশ্লীয় ভাষার সংমিশ্রণ এবং বরিশালটাইমসের সম্পাদকীয় নীতিপরিপন্থী হওয়ায় প্রকাশযোগ্য নয়।’