জেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জেলেদের অভিযোগ
ভোলা কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং শরিয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকা থেকে জেলেদের বিভিন্ন প্রজাতির বৈধ মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে ট্রলার থেকে মাছ লুটপাট করার বেশকিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় জেলেদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যদের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোস্টগার্ডের এ অভিযান সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ের মাছঘাটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাঝি, জামাল গাজী, আব্দুল হক চৌকিদার, ছাত্তার দপ্তরী, রহমান সরদার, কবির রাঢ়ী, মামুন মাঝি, জসিম তালুকদার, মাসুম সরদার এবং জসিম সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকা ব্যতীত চর দুর্গাপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদীর মাঝে গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনটি স্পিডবোট দিয়ে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠবডির ট্রলার ঘিরে ধরেন ভোলা জেলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
কোস্টগার্ড কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই অন্যায়ভাবে ট্রলারে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি ব্যারেলে বৈধ পোয়া, ইলিশ, আইড়, চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ডাকাতের মতো লুটপাট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বরিশালের কোস্টগার্ড ব্যতীত ভোলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যদের অভিযান অন্যায় ও মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা ট্রলারে থাকা তাদের কর্মচারী আরিফ সরদার, ফয়সাল, হাশেম, আনোয়ার, লিটন, ড্যানি এবং মাইদুলসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করে একটি ট্রলারসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও স্থানীয় কোদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সুরুজ, সবুজ বেপারী, বাবুল হাওলাদার, দাদন মীর অনুরূপ অভিযোগ করেন।
ভোলা জেলার কোস্টগার্ড দপ্তর থেকে কয়েকজন সদস্য একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীতে তাদের ব্যবসায়িক মাছ পরিবহনের সময় অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। গত ৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীরা বৈধ ইলিশ, চিংড়ি, আইড়, পাঙ্গাস ও পোয়া মাছ পরিবহন করে কোদালপুর ঘাটের দিকে আসছিলেন।
পথিমধ্যে খেজুরতলা কুচাইপট্টি নামক স্থানে তিনটি স্পিডবোটে কতিপয় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ট্রলারটিকে আক্রমণ করে। এ সময় ট্রলারে কোনো অবৈধ জাটকা ইলিশ নেই বলা সত্ত্বেও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কথা না শুনে তরিঘড়ি করে মাছগুলো তাদের স্পিডবোটে তুলে চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়।
এ সময়কার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কোস্টগার্ডের এ অভিযানের সময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, কোস্টগার্ডের ওইসব অসাধু সদস্যদের কারণে তারা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ মাছ পরিবহন করে থাকেন, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা মাথা পেতে নিতে সম্মত আছেন। তারপরও কোস্টগার্ডের কতিপয় অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রতিনিধি ছাড়া যেন কেউ অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের উল্লেখিত অভিযোগের অনুলিপি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার রূপালী বাংলাদেশকে জানান, অভিযোগসমূহ কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনও তদন্ত করছে।
এই বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে সংস্থাটির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করলে জনৈক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করলেও তিনি নাম-পরিচয় জানতে অস্বীকার করেন। এবং সেদিনের অভিযানসংক্রান্ত তথ্য হোটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।’

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২২
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।

০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:২৮
জেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জেলেদের অভিযোগ
ভোলা কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং শরিয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকা থেকে জেলেদের বিভিন্ন প্রজাতির বৈধ মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে ট্রলার থেকে মাছ লুটপাট করার বেশকিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় জেলেদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের সদস্যদের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় তাদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোস্টগার্ডের এ অভিযান সম্পর্কে মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের মেঘনার শাখা নদীর পাড়ের মাছঘাটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন মাঝি, জামাল গাজী, আব্দুল হক চৌকিদার, ছাত্তার দপ্তরী, রহমান সরদার, কবির রাঢ়ী, মামুন মাঝি, জসিম তালুকদার, মাসুম সরদার এবং জসিম সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকা ব্যতীত চর দুর্গাপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদীর মাঝে গত ৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনটি স্পিডবোট দিয়ে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠবডির ট্রলার ঘিরে ধরেন ভোলা জেলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
কোস্টগার্ড কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা কিংবা তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই অন্যায়ভাবে ট্রলারে থাকা প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি ব্যারেলে বৈধ পোয়া, ইলিশ, আইড়, চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ডাকাতের মতো লুটপাট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বরিশালের কোস্টগার্ড ব্যতীত ভোলা থেকে আসা কোস্টগার্ডের সদস্যদের অভিযান অন্যায় ও মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা ট্রলারে থাকা তাদের কর্মচারী আরিফ সরদার, ফয়সাল, হাশেম, আনোয়ার, লিটন, ড্যানি এবং মাইদুলসহ অন্তত ১০ জনকে মারধর করে একটি ট্রলারসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও স্থানীয় কোদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সুরুজ, সবুজ বেপারী, বাবুল হাওলাদার, দাদন মীর অনুরূপ অভিযোগ করেন।
ভোলা জেলার কোস্টগার্ড দপ্তর থেকে কয়েকজন সদস্য একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীতে তাদের ব্যবসায়িক মাছ পরিবহনের সময় অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। গত ৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীরা বৈধ ইলিশ, চিংড়ি, আইড়, পাঙ্গাস ও পোয়া মাছ পরিবহন করে কোদালপুর ঘাটের দিকে আসছিলেন।
পথিমধ্যে খেজুরতলা কুচাইপট্টি নামক স্থানে তিনটি স্পিডবোটে কতিপয় কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ট্রলারটিকে আক্রমণ করে। এ সময় ট্রলারে কোনো অবৈধ জাটকা ইলিশ নেই বলা সত্ত্বেও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কথা না শুনে তরিঘড়ি করে মাছগুলো তাদের স্পিডবোটে তুলে চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়।
এ সময়কার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কোস্টগার্ডের এ অভিযানের সময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কোস্টগার্ডের মাছ লুটের প্রতিবাদ করায় গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে মৎস্য ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, কোস্টগার্ডের ওইসব অসাধু সদস্যদের কারণে তারা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ মাছ পরিবহন করে থাকেন, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা মাথা পেতে নিতে সম্মত আছেন। তারপরও কোস্টগার্ডের কতিপয় অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা প্রতিনিধি ছাড়া যেন কেউ অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের উল্লেখিত অভিযোগের অনুলিপি কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার রূপালী বাংলাদেশকে জানান, অভিযোগসমূহ কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনও তদন্ত করছে।
এই বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে সংস্থাটির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করলে জনৈক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করলেও তিনি নাম-পরিচয় জানতে অস্বীকার করেন। এবং সেদিনের অভিযানসংক্রান্ত তথ্য হোটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬