ভোলায় নদীর ছাড়পত্র দিয়ে কৌশলে নিষিদ্ধ সাগরের কোটি কোটি টাকার ইলিশ পাচার হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ইলিশ পাচার বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
অভিযান শুরুর আগেই খবর ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এতে করে পাচারকারীরা ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। অনেক সময় সাগরের ইলিশকে নদীর ইলিশ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তারাও পাচারকারীদের কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছেন না।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।
আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রকৃত জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নামতে পারছেন না। সাগরের এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য যখন জীবিকার চরম সংকট তৈরি করেছে, ঠিক তখনই ভোলার প্রভাবশালী ইলিশ সিন্ডিকেটের কাছে তা যেন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে প্রভাবশালী ইলিশ সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ আহরণে আইনি বাধা নেই। তাই উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পাচারকারীরা নদীতে মাছ ধরার ছাড়পত্র নিচ্ছেন। কিন্তু তারা আসলে নদীতে মাছ ধরছেন না।
তারা মাছ ধরছেন সমুদ্রে। আর কোটি কোটি টাকার সেই মাছ নদীর মাছের বৈধ পরিবহন ছাড়পত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করছেন। ফলে নদীর বৈধতা এখন সাগরের নিষিদ্ধ বাণিজ্যের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
এই সুকৌশলী কারসাজির একটি বড় প্রমাণ মেলে গত ১২ মে রাতে। ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজারে তিনটি ট্রাকভর্তি প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ জব্দ করে কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সেই অভিযানে জব্দ করা ইলিশকে ব্যবসায়ীরা নদীর মাছ বলে দাবি করলেও সেগুলো ছিল আসলে সমুদ্রের ইলিশ। সদর উপজেলার অভিযানে মাছগুলোকে নিষিদ্ধ সাগরের বলে জব্দ করা হলেও সেই একই চালানের অনুকূলে চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে বৈধ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে নদ-নদী মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকায় পাচারকারী চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মৎস্য দপ্তর থেকে নিয়মিত নদীর মাছ পরিবহনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করছেন। আর এই ছাড়পত্র দিয়েই সামরাজ ঘাটে আসা নিষিদ্ধ সামুদ্রিক ইলিশগুলো ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। পথিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেরার মুখে পড়লে তারা এই নদীর মাছের চালানপত্র প্রদর্শন করে পার পেয়ে যাচ্ছে।
গত ১৪ মে দুপুরে সামরাজ মৎস্যঘাটে সরেজমিন মৎস্য কর্মকর্তার অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটের আড়তদারদের মধ্যে এক বিস্ময়কর চতুরতা ও তৎপরতা দেখা যায়। সাগরের ইলিশগুলো তড়িঘড়ি করে বরফের স্তূপের নিচে চাপা দিয়ে সেগুলোকে নদীর মাছ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অভিযানের সময় ঘাটের আড়তদাররা তাদের কোনো ট্রলার সাগরে যায়নি বলে দাবি করলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে স্বীকার করেন যে, তারা ১৩ দিন পর সাগর থেকে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। তবে প্রশাসনের ভয়ে ট্রলার ঘাটে ভেড়েনি।
এদিকে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা ও শিথিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মৎস্য কর্মকর্তারা ঘাটে পৌঁছানোর আগেই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে ইলিশবোঝাই সমুদ্রগামী বড় বড় ট্রলার দ্রুত ঘাট ত্যাগ করে নিরাপদ দূরত্বে নোঙর করে।
চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, মৎস্যঘাটে স্তূপকৃত ইলিশ দেখে সেগুলোর উৎস (সাগর নাকি নদী) নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই।
একই কথা বলেছেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ঘাট বা বাজারে থাকা মাছটি সাগর নাকি নদীর ইলিশ, তা কেবল চোখের দেখায় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।
অভিযানের পরেও সামরাজ মৎস্যঘাটের চিত্র পাল্টায়নি। সেখানে এখনও প্রকাশ্যে সামুদ্রিক ইলিশ বিক্রি ও পাচার অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে একধরনের চোর-পুলিশ খেলা চলছে। আর এই খেলায় প্রকৃত ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৯
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৮
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে লুটপাট হয়েছে তা বিশ্বের কোথাও হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় চোরের দল কেউ দেখেনি। তারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে প্রাসাদ গড়েছে। এখন সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে লালমোহন উপজেলা হলরুমে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
আইপিইউ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তানজানিয়ায় ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের সম্মেলনে তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে আসেননি। এটি দেশের জন্য সম্মানের।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে আট মাস। এর মধ্যেই দখলবাজির অভিযোগে একজন নারী সংসদ সদস্য এবং অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশের পর একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পাঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, থানার ওসি নজরুল ইসলামসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে স্পিকার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে লুটপাট হয়েছে তা বিশ্বের কোথাও হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় চোরের দল কেউ দেখেনি। তারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে প্রাসাদ গড়েছে। এখন সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে লালমোহন উপজেলা হলরুমে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
আইপিইউ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তানজানিয়ায় ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের সম্মেলনে তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে আসেননি। এটি দেশের জন্য সম্মানের।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে আট মাস। এর মধ্যেই দখলবাজির অভিযোগে একজন নারী সংসদ সদস্য এবং অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশের পর একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পাঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, থানার ওসি নজরুল ইসলামসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে স্পিকার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

২২ মে, ২০২৬ ১৫:২৩
ভোলায় নদীর ছাড়পত্র দিয়ে কৌশলে নিষিদ্ধ সাগরের কোটি কোটি টাকার ইলিশ পাচার হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ইলিশ পাচার বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
অভিযান শুরুর আগেই খবর ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এতে করে পাচারকারীরা ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। অনেক সময় সাগরের ইলিশকে নদীর ইলিশ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তারাও পাচারকারীদের কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছেন না।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।
আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রকৃত জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নামতে পারছেন না। সাগরের এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য যখন জীবিকার চরম সংকট তৈরি করেছে, ঠিক তখনই ভোলার প্রভাবশালী ইলিশ সিন্ডিকেটের কাছে তা যেন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে প্রভাবশালী ইলিশ সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ আহরণে আইনি বাধা নেই। তাই উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পাচারকারীরা নদীতে মাছ ধরার ছাড়পত্র নিচ্ছেন। কিন্তু তারা আসলে নদীতে মাছ ধরছেন না।
তারা মাছ ধরছেন সমুদ্রে। আর কোটি কোটি টাকার সেই মাছ নদীর মাছের বৈধ পরিবহন ছাড়পত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করছেন। ফলে নদীর বৈধতা এখন সাগরের নিষিদ্ধ বাণিজ্যের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
এই সুকৌশলী কারসাজির একটি বড় প্রমাণ মেলে গত ১২ মে রাতে। ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজারে তিনটি ট্রাকভর্তি প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ জব্দ করে কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সেই অভিযানে জব্দ করা ইলিশকে ব্যবসায়ীরা নদীর মাছ বলে দাবি করলেও সেগুলো ছিল আসলে সমুদ্রের ইলিশ। সদর উপজেলার অভিযানে মাছগুলোকে নিষিদ্ধ সাগরের বলে জব্দ করা হলেও সেই একই চালানের অনুকূলে চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে বৈধ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে নদ-নদী মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত থাকায় পাচারকারী চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মৎস্য দপ্তর থেকে নিয়মিত নদীর মাছ পরিবহনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করছেন। আর এই ছাড়পত্র দিয়েই সামরাজ ঘাটে আসা নিষিদ্ধ সামুদ্রিক ইলিশগুলো ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। পথিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেরার মুখে পড়লে তারা এই নদীর মাছের চালানপত্র প্রদর্শন করে পার পেয়ে যাচ্ছে।
গত ১৪ মে দুপুরে সামরাজ মৎস্যঘাটে সরেজমিন মৎস্য কর্মকর্তার অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটের আড়তদারদের মধ্যে এক বিস্ময়কর চতুরতা ও তৎপরতা দেখা যায়। সাগরের ইলিশগুলো তড়িঘড়ি করে বরফের স্তূপের নিচে চাপা দিয়ে সেগুলোকে নদীর মাছ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অভিযানের সময় ঘাটের আড়তদাররা তাদের কোনো ট্রলার সাগরে যায়নি বলে দাবি করলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে স্বীকার করেন যে, তারা ১৩ দিন পর সাগর থেকে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। তবে প্রশাসনের ভয়ে ট্রলার ঘাটে ভেড়েনি।
এদিকে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা ও শিথিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মৎস্য কর্মকর্তারা ঘাটে পৌঁছানোর আগেই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে ইলিশবোঝাই সমুদ্রগামী বড় বড় ট্রলার দ্রুত ঘাট ত্যাগ করে নিরাপদ দূরত্বে নোঙর করে।
চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, মৎস্যঘাটে স্তূপকৃত ইলিশ দেখে সেগুলোর উৎস (সাগর নাকি নদী) নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই।
একই কথা বলেছেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ঘাট বা বাজারে থাকা মাছটি সাগর নাকি নদীর ইলিশ, তা কেবল চোখের দেখায় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।
অভিযানের পরেও সামরাজ মৎস্যঘাটের চিত্র পাল্টায়নি। সেখানে এখনও প্রকাশ্যে সামুদ্রিক ইলিশ বিক্রি ও পাচার অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে একধরনের চোর-পুলিশ খেলা চলছে। আর এই খেলায় প্রকৃত ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।