বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বশেষ স্তর ইউনিয়ন পরিষদ। এখান থেকেই গ্রামের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সরাসরি বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা গ্রহণ করে। সেখানে দলীয় ভাগাভাগির প্রথা বন্ধ করতে হবে। অমুক দলের ভাগ, তমুক দলের ভাগ থাকা যাবে না। এই দলীয় ভাগাভাগির কারণে ভাতা, রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অভাবী মানুষ। অথচ যার প্রয়োজন নাই তার ঘরে যাচ্ছে একাধিক সরকারি সুবিধা। বাবুগঞ্জসহ বরিশাল অঞ্চলের আরেকটা বড় সমস্যা নদী ভাঙন। এতে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটিহীন বাস্তুহারা হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে তাৎক্ষণিক কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই আপদকালীন বরাদ্দ দিয়ে কখনো স্থায়ী নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা যায় না। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে দরকার নদী শাসন তথা চর কেটে ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ ঠিক করে দেওয়া। ভাঙন রোধে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, 'ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার সংযোগস্থলে মীরগঞ্জ সেতু, ভোলার গ্যাস বরিশালে সংযোগ এবং কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটন জোন চালু করাসহ সরকারের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছি আমরা। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মাননীয় ৬ উপদেষ্টার সাথে দেখা করে এবি পার্টির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তারা এগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক ও মীরগঞ্জ সেতুসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বর্তমান বাজেটেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মীরগঞ্জ সেতুর দুই দিকে পর্যটন পার্ক এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছি আমরা। এছাড়াও সেতু চালুর পরে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট সরিয়ে এনে বাবুগঞ্জ-কেদারপুর খেয়াঘাটে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা তাতে রাজি হয়েছেন। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি নয়, মানুষের সেবা ও সমস্যা সমাধান কেন্দ্রিক রাজনীতি করতে চায় এবি পার্টি।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সাইফুর রহিমের সভাপতিত্বে ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বরিশাল সোসাইটির আহবায়ক আমানুল্লাহ খান নোমান, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাব উদ্দিন বাচ্চু প্রমুখ। এসময় এবি পার্টির বরিশাল জেলা আহবায়ক প্রকৌশলী কল্লোল চৌধুরী, সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম রাব্বিসহ পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং বাবুগঞ্জ ও বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের পেশাদার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। #

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৩
দেশের প্রতিটি উপজেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাঠ নির্মাণ ও সংস্কারের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পাবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অতিথিরা।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৩
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'

০৯ জুন, ২০২৫ ২২:০০
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বশেষ স্তর ইউনিয়ন পরিষদ। এখান থেকেই গ্রামের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সরাসরি বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা গ্রহণ করে। সেখানে দলীয় ভাগাভাগির প্রথা বন্ধ করতে হবে। অমুক দলের ভাগ, তমুক দলের ভাগ থাকা যাবে না। এই দলীয় ভাগাভাগির কারণে ভাতা, রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অভাবী মানুষ। অথচ যার প্রয়োজন নাই তার ঘরে যাচ্ছে একাধিক সরকারি সুবিধা। বাবুগঞ্জসহ বরিশাল অঞ্চলের আরেকটা বড় সমস্যা নদী ভাঙন। এতে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটিহীন বাস্তুহারা হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে তাৎক্ষণিক কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই আপদকালীন বরাদ্দ দিয়ে কখনো স্থায়ী নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা যায় না। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে দরকার নদী শাসন তথা চর কেটে ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ ঠিক করে দেওয়া। ভাঙন রোধে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, 'ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার সংযোগস্থলে মীরগঞ্জ সেতু, ভোলার গ্যাস বরিশালে সংযোগ এবং কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটন জোন চালু করাসহ সরকারের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছি আমরা। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মাননীয় ৬ উপদেষ্টার সাথে দেখা করে এবি পার্টির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তারা এগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক ও মীরগঞ্জ সেতুসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বর্তমান বাজেটেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মীরগঞ্জ সেতুর দুই দিকে পর্যটন পার্ক এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছি আমরা। এছাড়াও সেতু চালুর পরে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট সরিয়ে এনে বাবুগঞ্জ-কেদারপুর খেয়াঘাটে স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা তাতে রাজি হয়েছেন। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি নয়, মানুষের সেবা ও সমস্যা সমাধান কেন্দ্রিক রাজনীতি করতে চায় এবি পার্টি।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সাইফুর রহিমের সভাপতিত্বে ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বরিশাল সোসাইটির আহবায়ক আমানুল্লাহ খান নোমান, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাব উদ্দিন বাচ্চু প্রমুখ। এসময় এবি পার্টির বরিশাল জেলা আহবায়ক প্রকৌশলী কল্লোল চৌধুরী, সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম রাব্বিসহ পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং বাবুগঞ্জ ও বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের পেশাদার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। #
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটের বহু এলাকা অন্ধকারে, ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট; কারণ অনুসন্ধানে দুই কমিটি
বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। একই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকাতেও। এদিকে, জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণে রাতেও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে এ বিপর্যয়ের ফলে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। তবে বরিশালের কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি, গ্রিডের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
তদন্তের মাধ্যমে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাঠ নির্মাণ ও সংস্কারের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পাবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অতিথিরা।
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনও
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে। একই প্রতিবেদনে গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রতিবেদনের প্রকাশিত অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা ও নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলো পৃথকভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার খাতের ৬৬টি ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এ ছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া এবং অন্যান্য রাজস্ব খাতেও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।'