২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রের বুলেট কেড়ে নেয় ভোলা জেলার ৪৬টি তাজা প্রাণ। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে পদদলিত হয়ে ও পুকুরে ডুবে প্রাণ হারায় আরও দুজন। নিহত ৪৮ জনের অধিকাংশই ছিলেন দিনমজুর। তারা পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার আশায় পাড়ি জমান স্বপ্নের শহর ঢাকায়। কে জানতো? তারা একে একে কফিনবন্দি হয়ে ঘরে ফিরবেন।
স্বজন হারানোর ১ বছর পূর্ণ হলেও এসব শহীদ পরিবারের সদস্যদের গগনবিদারী কান্না আজও থামেনি। একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা অন্যদিকে শহীদ পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এ দুইয়ে মিলে দিশেহারা দরিদ্র পরিবারগুলো। সরেজমিনে এমনই চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ তাদের।
নিহত ৪৮ জনের মধ্যে রয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার ১২ জন, দৌলতখানের ৩ জন, বোরহানউদ্দিনের ৯ জন, লালমোহনের ১১ জন, চরফ্যাশনের ১২ জন ও তজুমুদ্দিনের একজন। এর মধ্যে গত ১৯ জুলাই এক দিনেই প্রাণ হারান ১৩ জন, ৪ আগস্ট ৭ জন ও ৫ আগস্ট ৮ জন।
ভোলা সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের মো. হারুন ও শাহিনুর বেগম দম্পতির ছোট ছেলে শহীদ মো. রনি। ছিলেন স্থানীয় নেয়ামতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে ঘরে বসে থাকতে পারেনি সে, ঢাকায় ভাইয়ের সঙ্গে টাইলসের কাজ করবেন জানিয়ে হঠাৎ বাড়ি ঢাকা চলে যান এবং আন্দোলনে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়িতে গুলিতে নিহত হয় রনি। পরের দিন স্বজনরা মরদেহটি নিজ গ্রামে এনে বাড়ির দরজায় মসজিদের পাশে দাফন করেন।
আদরের সন্তানের কথা মনে পড়লেই কবরের কাছে ছুটে যান বাবা মো. হারুন। দুচোখের পানি ছেড়ে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে ছেলের জন্য ফরিয়াদ করেন এ বাবা। ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বাবা বলেন, আমার ছেলে রনির মতো অন্যান্য শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আজও গড়ে ওঠেনি। মারামারি খুন চাঁদাবাজি রয়েই গেছে।
ভোলা সদর উপজেলার পুর্ব ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন মো. শামিম।
বড় ছেলে বড় সালমান (১০), মাহাদী (৬) আহম্মেদ (৪) স্ত্রী রোকেয়া বেগম আচমা ও গর্ভধারণী মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে ঢাকায় ব্যাচেলর থেকে ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রির কাজ করতেন। তার উপার্জিত অর্থেই চলতো পরিবারের ভরনপোষণ। গত ২০ জুলাই গুলিতে প্রাণ যায় শামিমের, পরেরদিন গ্রামের বাড়িতে এনে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। শামিমের ছোট ছোট ৩ সন্তান নিয়ে এখন বিপাকে রয়েছে পরিবারটি।
কথা হয় শহীদ শামিমের মা বিউটি বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ছেলে শামিম দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। শামিমের ৩ ছেলে-স্ত্রী ও আমি মা আছি। শামিমের ৩ সন্তানের ভবিষ্যৎ কী? আমার ছেলে বেঁচে থাকলে তো সে’ই তার সন্তানদের ভবিষ্যত গড়ত।
আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ছেলের চিকিৎসা না করাতে পারার আক্ষেপ তিলে তিলে শেষ করছে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের শহীদ হাচনাইনের মা হাছিনা বেগমকে। ঢাকায় সে আকাশ টিভির ইন্টারনেটের কাজ করতো। ২১ জুলাই যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
হাছিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু চিকিৎসা দেয়নি, শেষমেশ মৃত বলে আমার ছেলের বুকে সীল মেরে দেয়। একই উপজেলার দুলারহাট থানার ওমরপুর ইউনিয়নের মুদি দোকানের কর্মচারী কিশোর ওমর ফারুকের বাবা মিলন ফরাজি বলেন, আমার ছেলেকে গুলি করে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। আজ পর্যন্ত আমার ছেলেকে হত্যাকারীদের ধরা হয়নি এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করে জুলাই আগস্টের ভোলার অন্যতম আন্দোলনকারী রাহিম ইসলাম বলেন, আমরা শহীদদের পরিবার ও আহতদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি। বাংলাদেশের দায়িত্বশীলরা কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে, সংস্কার ও দল নিয়ে ব্যস্ত। জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে কেউ ব্যস্ত না। মুখে মুখে বিচারের কথা শুনলেও দৃশ্যমান কিছু নেই। সরকারকে শহীদ পরিবারদের দ্রুত পুর্নবাসনের আহ্বান জানান তিনি।
ভোলার ৪৮ শহীদ পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবেন বলে জানান ভোলার জেলা প্রশাসক মো.আজাদ জাহান। তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের খোঁজখবর রাখছি। সরকারি বেসরকারি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এদিকে দ্রুত গণহত্যায় জড়িতদের বিচার ও পুর্নবাসনের দাবি শহীদ পরিবারদের।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৩
ভোলার লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার বাঙ্গটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাদবা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৩২) এবং তার স্ত্রী মোসা. সিমা বেগম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম ও এসআই আছাদুজ্জামান খান অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালমা ডাওরী বাজারের বাস স্টান থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোলার লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার বাঙ্গটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাদবা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৩২) এবং তার স্ত্রী মোসা. সিমা বেগম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম ও এসআই আছাদুজ্জামান খান অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালমা ডাওরী বাজারের বাস স্টান থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৫
ভোলায় অটোরিকশা ও নছিমনের সংঘর্ষে রাশেদ হাওলাদার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের পিটিআই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চর ছিফলী গ্রামের শাহাজামাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
দুপুরে ভোলার পিটিআই এলাকায় অটোরিকশা ও নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাশেদ নসিমনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভোলায় অটোরিকশা ও নছিমনের সংঘর্ষে রাশেদ হাওলাদার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের পিটিআই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চর ছিফলী গ্রামের শাহাজামাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
দুপুরে ভোলার পিটিআই এলাকায় অটোরিকশা ও নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাশেদ নসিমনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৩
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। এ দাবিতে আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এবং সংসদেও সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা তা নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথটিও বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে। ভোলার জন্য কোনটি ভালো হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও আমরা তুলে ধরতে থাকবো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প সড়ক নির্মাণেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শুধু ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো, ইনশা আল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা ভোলার মানুষ দেখেছেন। চাইলেও তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দেননি। জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ তার পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘এমপি হিসেবে গত ছয় মাসে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের লোক নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। এ দাবিতে আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এবং সংসদেও সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা তা নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথটিও বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে। ভোলার জন্য কোনটি ভালো হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও আমরা তুলে ধরতে থাকবো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প সড়ক নির্মাণেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শুধু ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো, ইনশা আল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা ভোলার মানুষ দেখেছেন। চাইলেও তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দেননি। জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ তার পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘এমপি হিসেবে গত ছয় মাসে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের লোক নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’

০৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:২৩
২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রের বুলেট কেড়ে নেয় ভোলা জেলার ৪৬টি তাজা প্রাণ। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে পদদলিত হয়ে ও পুকুরে ডুবে প্রাণ হারায় আরও দুজন। নিহত ৪৮ জনের অধিকাংশই ছিলেন দিনমজুর। তারা পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার আশায় পাড়ি জমান স্বপ্নের শহর ঢাকায়। কে জানতো? তারা একে একে কফিনবন্দি হয়ে ঘরে ফিরবেন।
স্বজন হারানোর ১ বছর পূর্ণ হলেও এসব শহীদ পরিবারের সদস্যদের গগনবিদারী কান্না আজও থামেনি। একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা অন্যদিকে শহীদ পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এ দুইয়ে মিলে দিশেহারা দরিদ্র পরিবারগুলো। সরেজমিনে এমনই চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ তাদের।
নিহত ৪৮ জনের মধ্যে রয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার ১২ জন, দৌলতখানের ৩ জন, বোরহানউদ্দিনের ৯ জন, লালমোহনের ১১ জন, চরফ্যাশনের ১২ জন ও তজুমুদ্দিনের একজন। এর মধ্যে গত ১৯ জুলাই এক দিনেই প্রাণ হারান ১৩ জন, ৪ আগস্ট ৭ জন ও ৫ আগস্ট ৮ জন।
ভোলা সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের মো. হারুন ও শাহিনুর বেগম দম্পতির ছোট ছেলে শহীদ মো. রনি। ছিলেন স্থানীয় নেয়ামতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে ঘরে বসে থাকতে পারেনি সে, ঢাকায় ভাইয়ের সঙ্গে টাইলসের কাজ করবেন জানিয়ে হঠাৎ বাড়ি ঢাকা চলে যান এবং আন্দোলনে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়িতে গুলিতে নিহত হয় রনি। পরের দিন স্বজনরা মরদেহটি নিজ গ্রামে এনে বাড়ির দরজায় মসজিদের পাশে দাফন করেন।
আদরের সন্তানের কথা মনে পড়লেই কবরের কাছে ছুটে যান বাবা মো. হারুন। দুচোখের পানি ছেড়ে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে ছেলের জন্য ফরিয়াদ করেন এ বাবা। ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বাবা বলেন, আমার ছেলে রনির মতো অন্যান্য শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আজও গড়ে ওঠেনি। মারামারি খুন চাঁদাবাজি রয়েই গেছে।
ভোলা সদর উপজেলার পুর্ব ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন মো. শামিম।
বড় ছেলে বড় সালমান (১০), মাহাদী (৬) আহম্মেদ (৪) স্ত্রী রোকেয়া বেগম আচমা ও গর্ভধারণী মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে ঢাকায় ব্যাচেলর থেকে ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রির কাজ করতেন। তার উপার্জিত অর্থেই চলতো পরিবারের ভরনপোষণ। গত ২০ জুলাই গুলিতে প্রাণ যায় শামিমের, পরেরদিন গ্রামের বাড়িতে এনে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। শামিমের ছোট ছোট ৩ সন্তান নিয়ে এখন বিপাকে রয়েছে পরিবারটি।
কথা হয় শহীদ শামিমের মা বিউটি বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ছেলে শামিম দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। শামিমের ৩ ছেলে-স্ত্রী ও আমি মা আছি। শামিমের ৩ সন্তানের ভবিষ্যৎ কী? আমার ছেলে বেঁচে থাকলে তো সে’ই তার সন্তানদের ভবিষ্যত গড়ত।
আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ছেলের চিকিৎসা না করাতে পারার আক্ষেপ তিলে তিলে শেষ করছে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের শহীদ হাচনাইনের মা হাছিনা বেগমকে। ঢাকায় সে আকাশ টিভির ইন্টারনেটের কাজ করতো। ২১ জুলাই যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
হাছিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু চিকিৎসা দেয়নি, শেষমেশ মৃত বলে আমার ছেলের বুকে সীল মেরে দেয়। একই উপজেলার দুলারহাট থানার ওমরপুর ইউনিয়নের মুদি দোকানের কর্মচারী কিশোর ওমর ফারুকের বাবা মিলন ফরাজি বলেন, আমার ছেলেকে গুলি করে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। আজ পর্যন্ত আমার ছেলেকে হত্যাকারীদের ধরা হয়নি এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করে জুলাই আগস্টের ভোলার অন্যতম আন্দোলনকারী রাহিম ইসলাম বলেন, আমরা শহীদদের পরিবার ও আহতদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি। বাংলাদেশের দায়িত্বশীলরা কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে, সংস্কার ও দল নিয়ে ব্যস্ত। জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে কেউ ব্যস্ত না। মুখে মুখে বিচারের কথা শুনলেও দৃশ্যমান কিছু নেই। সরকারকে শহীদ পরিবারদের দ্রুত পুর্নবাসনের আহ্বান জানান তিনি।
ভোলার ৪৮ শহীদ পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবেন বলে জানান ভোলার জেলা প্রশাসক মো.আজাদ জাহান। তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের খোঁজখবর রাখছি। সরকারি বেসরকারি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এদিকে দ্রুত গণহত্যায় জড়িতদের বিচার ও পুর্নবাসনের দাবি শহীদ পরিবারদের।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬