বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অবকাঠামো থেকে শুরু করে হয়নি চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন। শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যরা বড় বড় প্রত্যাশার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করেননি বাস্তবায়ন। তাই, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার ছন্দ মিলিয়ে বলেছেন, ১৪টি বছর পার হয়ে গেল কেউ কথা রাখেনি।
ববির ১৪ বছরে তৈরি হয়েছে নানা সংকট। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আবার পাঠদান কক্ষ নেই পর্যাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমে জমি অধিগ্রহণ ও ভিত্তি প্রস্তর পরবর্তী ভবন পর্যন্তই অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পরে তেমন কোনো বড় অবকাঠামো হতে দেখা যায়নি। হয়নি নতুন করে কোনো একাডেমিক ভবন। এ ছাড়া নেই অডিটোরিয়াম, পাকা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভালো কোনো পরিবেশ। আর আবাসন সংকট তো আছেই।
কীর্তনখোলা নদীর তীরে ১৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। বর্তমানে ২৫টি বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৫টি শ্রেণিকক্ষের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৩৬টি। ফলে প্রায়ই খোলা মাঠে পাঠদান করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং সেশনজট আরও প্রকট করে তুলছে।
নানামুখী সংকটে এবার ফুসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা টানা ছয় দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আয়তন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এর আগে গত ২৯ জুলাই একই দাবিতে মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী স্বাক্ষর দিয়ে এই তিন দফা দাবির প্রতি একমত প্রকাশ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আবু বক্কর বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবকিছু থেকেই আমরা বঞ্চিত। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই এবং আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে।
শিক্ষার্থী অমিও মন্ডল বলেন, ববিতে নবাগত শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন থেকেই নিরাপদে বাসে চলাচল, স্বচ্ছন্দে ক্লাস এবং আবাসিক হলে থাকার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। আমরা চাই—এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হোক। যদি বাস্তবায়ন না হয় তবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এদিকে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা অনুমোদন করেছে। পরিকল্পনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হুমায়ন কবির বলেন, '৩ কোটি ৯ লাখ টাকার ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুমোদিত হয়েছে। এখন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হবে, তারপর একটি কনসাল্টিং ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা কাজ করবে, আমরা সহায়তা করব। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর হলেও আমাদের ৯ মাসে শেষ করতে হবে। এরপর এটি ইউজিসির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে একনেকে পাঠানো হবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট অনেক। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়া এগুলো কাটানো সম্ভব নয়। ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে, আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসের আয়তন ৫০ একর, যা পর্যাপ্ত নয়। আরও অন্তত ২০০ একর জমি প্রয়োজন। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একবার কথা হয়েছে, শিগগিরই আবার আলোচনা করব।'

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৯
বরিশালের বানারীপাড়ায় সাইবার মামলায় উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের আহমদাবাদ (বেতাল) হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা'র সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের, দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার লুৎফুর রহমান সড়কের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাব-৮ তাকে বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন। মামলা দায়েরের বিষয়ে বাদী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা জুবায়ের বলেন, ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষক তার মরহুম পিতা আব্দুল জব্বার ফকিরের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেওয়া ভিডিও বার্তায় অসত্য, আপত্তিজনক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন। তার এ ভিডিও বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।
এতে তার মরহুম পিতা ও তার পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। ফলে তিনি বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ভিডিও বক্তব্যধারণ ও প্রচারকারী ওই সাংবাদিককে আসামী করে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মাওলানা আব্দুল হালিমকে শনিবার বরিশাল নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান,সাইবার মামলার আসামী মাওলনা আব্দুল হালিমকে র্যাব গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করার পরে এদিন (শনিবার) বিকালে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজ হাতে ঘষামাজা সার্টিফিকেট, আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে গুরুতর অসাদাচারণসহ নানা অভিযোগে তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১৪ জুলাই সকালে রুহুল আমিন জসিমের সভাপতিত্বে মাদরাসার গর্ভনিংবডির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে উপাধ্যক্ষ মো. অলিউল্লাহ্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বরিশালের বানারীপাড়ায় সাইবার মামলায় উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের আহমদাবাদ (বেতাল) হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা'র সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের, দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার লুৎফুর রহমান সড়কের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাব-৮ তাকে বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন। মামলা দায়েরের বিষয়ে বাদী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা জুবায়ের বলেন, ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষক তার মরহুম পিতা আব্দুল জব্বার ফকিরের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেওয়া ভিডিও বার্তায় অসত্য, আপত্তিজনক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন। তার এ ভিডিও বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়।
এতে তার মরহুম পিতা ও তার পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। ফলে তিনি বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ভিডিও বক্তব্যধারণ ও প্রচারকারী ওই সাংবাদিককে আসামী করে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মাওলানা আব্দুল হালিমকে শনিবার বরিশাল নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান,সাইবার মামলার আসামী মাওলনা আব্দুল হালিমকে র্যাব গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করার পরে এদিন (শনিবার) বিকালে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজ হাতে ঘষামাজা সার্টিফিকেট, আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে গুরুতর অসাদাচারণসহ নানা অভিযোগে তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১৪ জুলাই সকালে রুহুল আমিন জসিমের সভাপতিত্বে মাদরাসার গর্ভনিংবডির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে উপাধ্যক্ষ মো. অলিউল্লাহ্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৯
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক ইয়াবাসহ মনু ইসলাম ওরফে মনির (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তাকে থানাধীন কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জামালপুরের শ্রীচন্দ্রবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা যুবক মনু ইসলাম ওরফে মনির চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে থাকেন। শনিবার সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৪০০ পিস ইয়াবার একটি চালান বরিশালে নিয়ে আসেন এবং গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত এই ব্যক্তিকে কাশিপুরের কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি টিম।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এসআই মো. জাহিদ হাসান। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, মাদকের চালানটি বরিশাল শহরের এক ব্যবসায়ীকে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশে নিয়ে আসেন মনু ইসলাম ওরফে মনির। কিন্তু এর আগেই তাকে পাকড়াও করা হয়।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক ইয়াবাসহ মনু ইসলাম ওরফে মনির (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তাকে থানাধীন কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জামালপুরের শ্রীচন্দ্রবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা যুবক মনু ইসলাম ওরফে মনির চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে থাকেন। শনিবার সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৪০০ পিস ইয়াবার একটি চালান বরিশালে নিয়ে আসেন এবং গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত এই ব্যক্তিকে কাশিপুরের কলসগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি টিম।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এসআই মো. জাহিদ হাসান। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, মাদকের চালানটি বরিশাল শহরের এক ব্যবসায়ীকে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশে নিয়ে আসেন মনু ইসলাম ওরফে মনির। কিন্তু এর আগেই তাকে পাকড়াও করা হয়।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।’

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৬
কারও বাবা নেই, কারও মা নেই! তবে সকলেই মেধাবী, আগামীর স্বপ্নে বিভোর- এই ধরনের ২০ শিশুর অগ্রযাত্রায় সারথী হতে এগিয়ে এসেছে বরিশালের আলোচিত ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা বৃত্তির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি দারিদ্র্য শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। অবশ্য এই সংগঠনটি এরআগেও এই ধরনের সমাজকল্যাণ এবং মানবিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করে।
সংগঠনটি জানায়, বৃহস্পতিবার আয়োজন করে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’ চার শিশুর ৬ মাসের শিক্ষা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করাসহ প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের এই ধরনের মানবিক কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও ১৬ শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ করেন বিভাগীয় পরিচালক শাহ্ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুমুখী প্রতিকূল পরিবেশ এবং দারিদ্র্যতার মধ্যেও ২০ শিশু পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, যার প্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই আয়োজন করেছে। এবং আগামীতে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
একটি শিশুর স্বপ্ন যেনো দারিদ্র্যের কাছে যেনো হার না মানে। এবং তাদের চোখের স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক ও আলোর পথে এগিয়ে যাক- এমন স্লোগানে আগামীর পথে হাঁটছে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’।
কারও বাবা নেই, কারও মা নেই! তবে সকলেই মেধাবী, আগামীর স্বপ্নে বিভোর- এই ধরনের ২০ শিশুর অগ্রযাত্রায় সারথী হতে এগিয়ে এসেছে বরিশালের আলোচিত ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা বৃত্তির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি দারিদ্র্য শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। অবশ্য এই সংগঠনটি এরআগেও এই ধরনের সমাজকল্যাণ এবং মানবিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করে।
সংগঠনটি জানায়, বৃহস্পতিবার আয়োজন করে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’ চার শিশুর ৬ মাসের শিক্ষা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করাসহ প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের এই ধরনের মানবিক কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও ১৬ শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ করেন বিভাগীয় পরিচালক শাহ্ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুমুখী প্রতিকূল পরিবেশ এবং দারিদ্র্যতার মধ্যেও ২০ শিশু পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, যার প্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই আয়োজন করেছে। এবং আগামীতে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
একটি শিশুর স্বপ্ন যেনো দারিদ্র্যের কাছে যেনো হার না মানে। এবং তাদের চোখের স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক ও আলোর পথে এগিয়ে যাক- এমন স্লোগানে আগামীর পথে হাঁটছে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’।

২০ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:৫৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অবকাঠামো থেকে শুরু করে হয়নি চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন। শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যরা বড় বড় প্রত্যাশার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করেননি বাস্তবায়ন। তাই, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার ছন্দ মিলিয়ে বলেছেন, ১৪টি বছর পার হয়ে গেল কেউ কথা রাখেনি।
ববির ১৪ বছরে তৈরি হয়েছে নানা সংকট। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আবার পাঠদান কক্ষ নেই পর্যাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমে জমি অধিগ্রহণ ও ভিত্তি প্রস্তর পরবর্তী ভবন পর্যন্তই অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পরে তেমন কোনো বড় অবকাঠামো হতে দেখা যায়নি। হয়নি নতুন করে কোনো একাডেমিক ভবন। এ ছাড়া নেই অডিটোরিয়াম, পাকা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভালো কোনো পরিবেশ। আর আবাসন সংকট তো আছেই।
কীর্তনখোলা নদীর তীরে ১৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। বর্তমানে ২৫টি বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৫টি শ্রেণিকক্ষের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৩৬টি। ফলে প্রায়ই খোলা মাঠে পাঠদান করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং সেশনজট আরও প্রকট করে তুলছে।
নানামুখী সংকটে এবার ফুসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা টানা ছয় দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আয়তন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এর আগে গত ২৯ জুলাই একই দাবিতে মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী স্বাক্ষর দিয়ে এই তিন দফা দাবির প্রতি একমত প্রকাশ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আবু বক্কর বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবকিছু থেকেই আমরা বঞ্চিত। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই এবং আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে।
শিক্ষার্থী অমিও মন্ডল বলেন, ববিতে নবাগত শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন থেকেই নিরাপদে বাসে চলাচল, স্বচ্ছন্দে ক্লাস এবং আবাসিক হলে থাকার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। আমরা চাই—এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হোক। যদি বাস্তবায়ন না হয় তবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এদিকে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা অনুমোদন করেছে। পরিকল্পনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হুমায়ন কবির বলেন, '৩ কোটি ৯ লাখ টাকার ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুমোদিত হয়েছে। এখন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হবে, তারপর একটি কনসাল্টিং ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা কাজ করবে, আমরা সহায়তা করব। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর হলেও আমাদের ৯ মাসে শেষ করতে হবে। এরপর এটি ইউজিসির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে একনেকে পাঠানো হবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট অনেক। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়া এগুলো কাটানো সম্ভব নয়। ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে, আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসের আয়তন ৫০ একর, যা পর্যাপ্ত নয়। আরও অন্তত ২০০ একর জমি প্রয়োজন। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একবার কথা হয়েছে, শিগগিরই আবার আলোচনা করব।'
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০