সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে শুরু হয়েছে চরম ভাড়া নৈরাজ্য। সরকারের পক্ষ থেকে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা এলেও রাস্তায় তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কিলোমিটার প্রতি পয়সার হিসাব ছাপিয়ে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পর শুক্রবার থেকেই বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন চালক ও হেলপাররা।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণপরিবহনের নতুন ভাড়া ঘোষণা করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর, আন্তঃজেলা এবং ডিটিসিএ এলাকাসহ সব ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে মহানগর ও আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া ৪ দশমিক ৪৫ থেকে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। ভাড়া সমন্বয় করে বিআরটিএ ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
তবে মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। খিলক্ষেত থেকে বনানী আসা এক যাত্রী জানান, আগে এই পথের ভাড়া ছিল ১০ টাকা, আজ নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। মালিবাগ থেকে মহাখালী আসা এক যাত্রী জানান, তার কাছেও হুট করে ৫ টাকা বাড়তি দাবি করা হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে বিশ্বরোড আসা মোহাম্মদ রবিউল নামে এক যাত্রী জানান, সরকারি ঘোষণার আগে যে ভাড়া নিত এই রুটে তার চেয়েও আজ ১৫ টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছে।
আরেক যাত্রী জানান, আমতলী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা থাকলেও শনিবার ভোর থেকে তা ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়েছে মাত্র ১১ পয়সা, কিন্তু চালক ও সহকারীরা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
বনানীর প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিদ বলেন, কাকলী মোড় থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮-১৯ কিলোমিটার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভাড়া বাড়ার কথা মাত্র ২ টাকা, কিন্তু শুক্রবার থেকে চালকরা ১০ টাকা বেশি দাবি করছেন। তারা এই সুযোগে যাত্রীদের পকেট কাটছেন।
বাসের হেল্পার ও চালকদের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে আরেক যাত্রী যাত্রী বলেন, সরকার ১১ পয়সা বাড়িয়েছে, কিন্তু তারা মুখস্থ ৫-১০ টাকা বেশি দাবি করছে। দেখা যাবে মোট ভাড়ায় ১ টাকাও বাড়েনি, কিন্তু তারা ৫ টাকাই আদায় করবে। এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই ঝগড়া শুরু হয়। এসব দেখার কেউ নেই।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে সায়েদাবাদ-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘বলাকা’ বাসের এক হেল্পার জানান, তারা দূরত্বের সঙ্গে মিল রেখেই ভাড়া নিচ্ছেন। তেলের দাম বাড়ায় সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে বলেই তারা বেশি নিচ্ছেন।
তবে ১০ কিলোমিটারে কেন ৫ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিলোমিটারের হিসাব তার জানা নেই, এভাবেই ভাড়া নিচ্ছে সবাই। সরেজমিনে বলাকা, আজমেরী গ্লোরি, গাজীপুর পরিবহন, ভিক্টর ক্লাসিক ও রাইদা পরিবহনের বাসগুলো ঘুরে দেখা যায় নেই কোনো ভাড়ার চার্ট, নেই কোনো ই-টিকিটিং ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পরিবহনের এক চালক বলেন, চার্ট আমাদের লাগে না, আমরা মিল করেই ভাড়া নিচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানির দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাসভাড়া কমানোর ঘোষণা দিলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা তা কার্যকর করেননি। ২০১৬ ও ২০১১ সালেও ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩০
সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে শুরু হয়েছে চরম ভাড়া নৈরাজ্য। সরকারের পক্ষ থেকে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা এলেও রাস্তায় তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কিলোমিটার প্রতি পয়সার হিসাব ছাপিয়ে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পর শুক্রবার থেকেই বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন চালক ও হেলপাররা।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণপরিবহনের নতুন ভাড়া ঘোষণা করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর, আন্তঃজেলা এবং ডিটিসিএ এলাকাসহ সব ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে মহানগর ও আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া ৪ দশমিক ৪৫ থেকে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। ভাড়া সমন্বয় করে বিআরটিএ ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
তবে মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। খিলক্ষেত থেকে বনানী আসা এক যাত্রী জানান, আগে এই পথের ভাড়া ছিল ১০ টাকা, আজ নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। মালিবাগ থেকে মহাখালী আসা এক যাত্রী জানান, তার কাছেও হুট করে ৫ টাকা বাড়তি দাবি করা হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে বিশ্বরোড আসা মোহাম্মদ রবিউল নামে এক যাত্রী জানান, সরকারি ঘোষণার আগে যে ভাড়া নিত এই রুটে তার চেয়েও আজ ১৫ টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছে।
আরেক যাত্রী জানান, আমতলী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা থাকলেও শনিবার ভোর থেকে তা ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়েছে মাত্র ১১ পয়সা, কিন্তু চালক ও সহকারীরা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
বনানীর প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিদ বলেন, কাকলী মোড় থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮-১৯ কিলোমিটার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভাড়া বাড়ার কথা মাত্র ২ টাকা, কিন্তু শুক্রবার থেকে চালকরা ১০ টাকা বেশি দাবি করছেন। তারা এই সুযোগে যাত্রীদের পকেট কাটছেন।
বাসের হেল্পার ও চালকদের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে আরেক যাত্রী যাত্রী বলেন, সরকার ১১ পয়সা বাড়িয়েছে, কিন্তু তারা মুখস্থ ৫-১০ টাকা বেশি দাবি করছে। দেখা যাবে মোট ভাড়ায় ১ টাকাও বাড়েনি, কিন্তু তারা ৫ টাকাই আদায় করবে। এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই ঝগড়া শুরু হয়। এসব দেখার কেউ নেই।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে সায়েদাবাদ-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘বলাকা’ বাসের এক হেল্পার জানান, তারা দূরত্বের সঙ্গে মিল রেখেই ভাড়া নিচ্ছেন। তেলের দাম বাড়ায় সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে বলেই তারা বেশি নিচ্ছেন।
তবে ১০ কিলোমিটারে কেন ৫ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিলোমিটারের হিসাব তার জানা নেই, এভাবেই ভাড়া নিচ্ছে সবাই। সরেজমিনে বলাকা, আজমেরী গ্লোরি, গাজীপুর পরিবহন, ভিক্টর ক্লাসিক ও রাইদা পরিবহনের বাসগুলো ঘুরে দেখা যায় নেই কোনো ভাড়ার চার্ট, নেই কোনো ই-টিকিটিং ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পরিবহনের এক চালক বলেন, চার্ট আমাদের লাগে না, আমরা মিল করেই ভাড়া নিচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানির দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাসভাড়া কমানোর ঘোষণা দিলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা তা কার্যকর করেননি। ২০১৬ ও ২০১১ সালেও ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।