
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:২৭
পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদী। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সুন্দরবনসংলগ্ন বরগুনা জেলায় রয়েছে অসংখ্য জেলে সম্প্রদায়। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙনসহ নানা দুর্যোগে এখানকার মানুষ অসহায়। সমুদ্র এবং উপকূল রক্ষায় বরগুনা-২ আসন থেকে নূরুল ইসলাম মনিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জনগণ।
সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দলের জেলা সভাপতি এবং একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এ অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই নূরুল ইসলাম মনি বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব পাবেন এমনটাই আশা পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের। অবহেলিত উপকূলীয় জনপদে মন্ত্রী পায়নি জনতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নূরুল ইসলাম মনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৮৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৪ জন।
জানা যায়, বরগুনা-২ আসনটি বিষখালী ও বলেশ্বর নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ। এ কারণে এখানে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে এ এলাকার মানুষের কাছে বিবেচিত। তাই নির্বাচনি ইশতেহারে নূরুল ইসলাম মনি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদের আধুনিকায়ন, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উপকূল রক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দরনগরী হিসেবে এলাকাকে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। পাথরঘাটা পৌর শহরের বাসিন্দা কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারবারের এমপি হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন। তার প্রতিদান এ অঞ্চলের মানুষ তাকে দিয়েছে। এবার আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে চাই মনিকে মন্ত্রী বানানো হোক। তাহলে বরগুনা-২ আসনের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, নদীর ভাঙছে, বসতঘর জমিজমা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাই। আমাগো এলাকার এমপি যদি মন্ত্রী হন তাহলে নদী ভাঙা আর ভূমিহীনদের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা আশা করছি নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের ছেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা জেলে, সাগরে মাছ শিকার করে পেট চালাই। সাগরে নিরাপত্তা নাই, ছেলেদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা মনি ভাইয়ের কাছে চাই।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন এটা আমাদের প্রাণের দাবি। নুরুল ইসলাম মনি একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। আমরা আশা করি, তারেক রহমান আমাদের বিমুখ করবেন না।
পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, শুধু পদ নয়—নূরুল ইসলাম মনির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় এ জনপদের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জীবন-জীবিকা ও জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, একটি ভবন যেমন চারটা খুঁটির ওপর ভর করে থাকে তেমন একটি রাষ্ট্র কয়েকটি স্তম্ভের ওপর থাকে।
ওই ভবনের একটি খুঁটি যদি না থাকে তাহলে ভবন যেমন নড়বড়ে হয়ে যায় তেমনি বাংলাদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে উপকূল অঞ্চল তা-ও নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে উপকূল অঞ্চল যদি অনিরাপদ বা হুমকিতে থাকে তাহলে গোটা দেশও হুমকিতে এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। তাই উপকূল রক্ষার্থে জন্য টেকসই বাঁধ, বনায়নসহ জেলেদের টেকসই অধিকার নিশ্চিতের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অনেক জেলে পরিবার অসহায় রয়েছে, অসংখ্য জেলে নিখোঁজ থাকায় তাদের স্ত্রীরা পারছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা, সন্তান লিখতে পারছেন বাবার নামে সাথে মৃত্যু অথবা নিখোঁজ, স্ত্রীরা লিখতে পারছেন না স্বামী নিখোঁজ বা মৃত্যু। এমনকি ওয়ারিশ সনদ সনদসহ প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে আমাদের গবেষণা আছে। বিগত সরকারের কাছে আমরা সুপারিশমালাও পাঠিয়েছিলাম। সব সবমিলিয়ে উপকূলের জেলেদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করতে আমাদের মন্ত্রী দরকার।
চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চান। দল ও সরকারের নীতির আলোকে বরগুনা-২ আসনকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তিনি কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
নূরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয় লাভ করেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।
পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদী। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সুন্দরবনসংলগ্ন বরগুনা জেলায় রয়েছে অসংখ্য জেলে সম্প্রদায়। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙনসহ নানা দুর্যোগে এখানকার মানুষ অসহায়। সমুদ্র এবং উপকূল রক্ষায় বরগুনা-২ আসন থেকে নূরুল ইসলাম মনিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জনগণ।
সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দলের জেলা সভাপতি এবং একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এ অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই নূরুল ইসলাম মনি বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব পাবেন এমনটাই আশা পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের। অবহেলিত উপকূলীয় জনপদে মন্ত্রী পায়নি জনতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নূরুল ইসলাম মনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৮৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৪ জন।
জানা যায়, বরগুনা-২ আসনটি বিষখালী ও বলেশ্বর নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ। এ কারণে এখানে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে এ এলাকার মানুষের কাছে বিবেচিত। তাই নির্বাচনি ইশতেহারে নূরুল ইসলাম মনি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদের আধুনিকায়ন, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উপকূল রক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দরনগরী হিসেবে এলাকাকে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। পাথরঘাটা পৌর শহরের বাসিন্দা কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারবারের এমপি হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন। তার প্রতিদান এ অঞ্চলের মানুষ তাকে দিয়েছে। এবার আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে চাই মনিকে মন্ত্রী বানানো হোক। তাহলে বরগুনা-২ আসনের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, নদীর ভাঙছে, বসতঘর জমিজমা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাই। আমাগো এলাকার এমপি যদি মন্ত্রী হন তাহলে নদী ভাঙা আর ভূমিহীনদের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা আশা করছি নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের ছেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা জেলে, সাগরে মাছ শিকার করে পেট চালাই। সাগরে নিরাপত্তা নাই, ছেলেদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা মনি ভাইয়ের কাছে চাই।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন এটা আমাদের প্রাণের দাবি। নুরুল ইসলাম মনি একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। আমরা আশা করি, তারেক রহমান আমাদের বিমুখ করবেন না।
পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, শুধু পদ নয়—নূরুল ইসলাম মনির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় এ জনপদের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জীবন-জীবিকা ও জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, একটি ভবন যেমন চারটা খুঁটির ওপর ভর করে থাকে তেমন একটি রাষ্ট্র কয়েকটি স্তম্ভের ওপর থাকে।
ওই ভবনের একটি খুঁটি যদি না থাকে তাহলে ভবন যেমন নড়বড়ে হয়ে যায় তেমনি বাংলাদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে উপকূল অঞ্চল তা-ও নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে উপকূল অঞ্চল যদি অনিরাপদ বা হুমকিতে থাকে তাহলে গোটা দেশও হুমকিতে এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। তাই উপকূল রক্ষার্থে জন্য টেকসই বাঁধ, বনায়নসহ জেলেদের টেকসই অধিকার নিশ্চিতের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অনেক জেলে পরিবার অসহায় রয়েছে, অসংখ্য জেলে নিখোঁজ থাকায় তাদের স্ত্রীরা পারছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা, সন্তান লিখতে পারছেন বাবার নামে সাথে মৃত্যু অথবা নিখোঁজ, স্ত্রীরা লিখতে পারছেন না স্বামী নিখোঁজ বা মৃত্যু। এমনকি ওয়ারিশ সনদ সনদসহ প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে আমাদের গবেষণা আছে। বিগত সরকারের কাছে আমরা সুপারিশমালাও পাঠিয়েছিলাম। সব সবমিলিয়ে উপকূলের জেলেদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করতে আমাদের মন্ত্রী দরকার।
চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চান। দল ও সরকারের নীতির আলোকে বরগুনা-২ আসনকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তিনি কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
নূরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয় লাভ করেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।

২৩ জুন, ২০২৬ ২২:৫৪
বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের ছকিনাখাল এলাকায় বালুবাহী জাহাজের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুসা (১৭) উপজেলার নিদ্রার চর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চান মিয়া ও পাখি বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুসা ইদুপাড়া গ্রামের শিশু জালাল উদ্দিন রুমির (৬) সঙ্গে সোনাকাটা ইউনিয়নের ছকিনাখালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর রুমি বাড়ি ফিরে যায়। তার ধারণা ছিল, মুসাও বাড়িতে ফিরে গেছে। কিন্তু রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মুসার খোঁজ করলে রুমি জানায়, গোসলের সময় মুসাকে পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ওপরে উঠতে দেখেনি। সে ভেবেছিল মুসা হয়তো অন্য দিক দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছকিনা কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলে ফারুক, জামাল, বেল্লালসহ কয়েকজন জেলে খালে জাল ফেলেন। পরে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, পানির স্রোতে মুসা জাহাজের নিচে আটকে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র জানান, খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস
বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের ছকিনাখাল এলাকায় বালুবাহী জাহাজের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুসা (১৭) উপজেলার নিদ্রার চর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি চান মিয়া ও পাখি বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মুসা ইদুপাড়া গ্রামের শিশু জালাল উদ্দিন রুমির (৬) সঙ্গে সোনাকাটা ইউনিয়নের ছকিনাখালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর রুমি বাড়ি ফিরে যায়। তার ধারণা ছিল, মুসাও বাড়িতে ফিরে গেছে। কিন্তু রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মুসার খোঁজ করলে রুমি জানায়, গোসলের সময় মুসাকে পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ওপরে উঠতে দেখেনি। সে ভেবেছিল মুসা হয়তো অন্য দিক দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছকিনা কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলে ফারুক, জামাল, বেল্লালসহ কয়েকজন জেলে খালে জাল ফেলেন। পরে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, পানির স্রোতে মুসা জাহাজের নিচে আটকে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র জানান, খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল টাইমস

২০ জুন, ২০২৬ ১৭:৩১
নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে (ক্লোজড) প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।’
নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে (ক্লোজড) প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।’

২০ জুন, ২০২৬ ১২:১১
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা। খামারিদের পালন করা প্রায় গরুই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে।
তবে সরকারিভাবে এই মুহূর্তে বরগুনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এবং ওষুধ সংকটের কারণে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা।
ফলে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর শঙ্কাসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে জুলাই মাস থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করছেন। এ বছর তার পালন করা ৬টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু মিলন চন্দ্রই নয়, একই এলাকার নাসির নামে আরেক প্রতিবেশীরও ৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে একই রোগে। আক্রান্তের এক দিন পরই তার একটি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার গরু, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হঠাৎ করে বরগুনায় গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ফলে স্থানীয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন খামারি ও পশুপালকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তার ছয়টি গরু। প্রত্যকটি গরুই গত এক মাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
আর এ কারণেই গরুগুলোকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ একমাস ধরে আক্রান্ত ওই গরুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মিলন ও তার স্ত্রী। প্রতিদিন খাবার ও ওষুধ খাওয়ানোসহ গরুগুলোকে বিশেষভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
মিলন ও তার স্ত্রী শিপু রানীর অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গরুর জন্য ভ্যাকসিন এবং কোনো ধরনের ওষুধই পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। শুধু তারাই নয় এলাকার অন্য পশুপলকদেরও এ একই অভিযোগ।
এ ছাড়া, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করি। এ বছর প্রায় ১ মাস ধরে আমার গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু আমার নয়, আশপাশের প্রায় সবার গরুই একই রোগে আক্রান্ত। পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর পেছনে সময় দিতে গিয়ে এখন অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।
মিলন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গত একমাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছয়টি গুরু অসুস্থ। আমরা গরিব মানুষ, গরুর চিকিৎসা করাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে আমাদের।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকার অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বড় গরু মারা না গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের ৩ থেকে ৪টি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসকরা গ্রামে আসেন না। তাদের কাছে গেলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয় তাও কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। বর্তমান ক্ষুরা রোগের কোনো ভ্যাকসিনই পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. নাসির নামে ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে আমার একটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এক দিন পরে আমার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে ছোট একটি গরু মারা যায়। এরপর চিকিৎসক অন্য গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিলেও সরবরাহ না থাকায় সরকারিভাবে গরুর জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
বরগুনায় হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। কোরবানির সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পশু নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ওই সময়ের পরই ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে৷ আমাদের কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।
খামারিদের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ওই পশুটিকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এ রোগে আক্রান্ত হলে বড় পশুর মৃত্যু হয় না। ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী কিছু পশুর মৃত্যু হতে পারে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই এবং ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগে ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো এবং পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এখন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংখ্যা। খামারিদের পালন করা প্রায় গরুই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে।
তবে সরকারিভাবে এই মুহূর্তে বরগুনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এবং ওষুধ সংকটের কারণে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা করাতে বিপাকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা।
ফলে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর শঙ্কাসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে জুলাই মাস থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করছেন। এ বছর তার পালন করা ৬টি গরুই ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু মিলন চন্দ্রই নয়, একই এলাকার নাসির নামে আরেক প্রতিবেশীরও ৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে একই রোগে। আক্রান্তের এক দিন পরই তার একটি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দার গরু, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হঠাৎ করে বরগুনায় গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। ফলে স্থানীয় পদ্ধতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাচ্ছেন খামারি ও পশুপালকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তার ছয়টি গরু। প্রত্যকটি গরুই গত এক মাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
আর এ কারণেই গরুগুলোকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ একমাস ধরে আক্রান্ত ওই গরুগুলোকে সুস্থ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মিলন ও তার স্ত্রী। প্রতিদিন খাবার ও ওষুধ খাওয়ানোসহ গরুগুলোকে বিশেষভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে তাদের।
মিলন ও তার স্ত্রী শিপু রানীর অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গরুর জন্য ভ্যাকসিন এবং কোনো ধরনের ওষুধই পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। শুধু তারাই নয় এলাকার অন্য পশুপলকদেরও এ একই অভিযোগ।
এ ছাড়া, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী নামক এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে গরু পালন করি। এ বছর প্রায় ১ মাস ধরে আমার গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু আমার নয়, আশপাশের প্রায় সবার গরুই একই রোগে আক্রান্ত। পশু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। গরুর পেছনে সময় দিতে গিয়ে এখন অন্য কোনো কাজও করতে পারছি না।
মিলন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শিপু রানী বলেন, গত একমাস ধরে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছয়টি গুরু অসুস্থ। আমরা গরিব মানুষ, গরুর চিকিৎসা করাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। বাজার থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে আমাদের।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকার অসংখ্য গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বড় গরু মারা না গেলেও এলাকার বাসিন্দাদের ৩ থেকে ৪টি ছোট গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চিকিৎসকরা গ্রামে আসেন না। তাদের কাছে গেলে ওষুধ লিখে দেওয়া হয় তাও কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। বর্তমান ক্ষুরা রোগের কোনো ভ্যাকসিনই পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. নাসির নামে ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রথমে আমার একটি গরু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এক দিন পরে আমার পাঁচটি গরু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যে ছোট একটি গরু মারা যায়। এরপর চিকিৎসক অন্য গরুগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দিলেও সরবরাহ না থাকায় সরকারিভাবে গরুর জন্য কোনো ওষুধ পাইনি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
বরগুনায় হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষুরা রোগ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ পশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। কোরবানির সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পশু নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ওই সময়ের পরই ক্ষুরা রোগের বিস্তার ঘটে৷ আমাদের কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।
খামারিদের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ওই পশুটিকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এ রোগে আক্রান্ত হলে বড় পশুর মৃত্যু হয় না। ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী কিছু পশুর মৃত্যু হতে পারে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই এবং ওষুধ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই। কোরবানির আগে ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো এবং পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এখন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
৩০ জুন, ২০২৬ ২৩:২৭
৩০ জুন, ২০২৬ ২২:৪৩
৩০ জুন, ২০২৬ ১৯:১৮
৩০ জুন, ২০২৬ ১৯:০৯