পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদী। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সুন্দরবনসংলগ্ন বরগুনা জেলায় রয়েছে অসংখ্য জেলে সম্প্রদায়। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙনসহ নানা দুর্যোগে এখানকার মানুষ অসহায়। সমুদ্র এবং উপকূল রক্ষায় বরগুনা-২ আসন থেকে নূরুল ইসলাম মনিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জনগণ।
সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দলের জেলা সভাপতি এবং একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এ অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই নূরুল ইসলাম মনি বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব পাবেন এমনটাই আশা পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের। অবহেলিত উপকূলীয় জনপদে মন্ত্রী পায়নি জনতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নূরুল ইসলাম মনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৮৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৪ জন।
জানা যায়, বরগুনা-২ আসনটি বিষখালী ও বলেশ্বর নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ। এ কারণে এখানে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে এ এলাকার মানুষের কাছে বিবেচিত। তাই নির্বাচনি ইশতেহারে নূরুল ইসলাম মনি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদের আধুনিকায়ন, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উপকূল রক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দরনগরী হিসেবে এলাকাকে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। পাথরঘাটা পৌর শহরের বাসিন্দা কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারবারের এমপি হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন। তার প্রতিদান এ অঞ্চলের মানুষ তাকে দিয়েছে। এবার আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে চাই মনিকে মন্ত্রী বানানো হোক। তাহলে বরগুনা-২ আসনের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, নদীর ভাঙছে, বসতঘর জমিজমা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাই। আমাগো এলাকার এমপি যদি মন্ত্রী হন তাহলে নদী ভাঙা আর ভূমিহীনদের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা আশা করছি নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের ছেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা জেলে, সাগরে মাছ শিকার করে পেট চালাই। সাগরে নিরাপত্তা নাই, ছেলেদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা মনি ভাইয়ের কাছে চাই।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন এটা আমাদের প্রাণের দাবি। নুরুল ইসলাম মনি একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। আমরা আশা করি, তারেক রহমান আমাদের বিমুখ করবেন না।
পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, শুধু পদ নয়—নূরুল ইসলাম মনির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় এ জনপদের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জীবন-জীবিকা ও জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, একটি ভবন যেমন চারটা খুঁটির ওপর ভর করে থাকে তেমন একটি রাষ্ট্র কয়েকটি স্তম্ভের ওপর থাকে।
ওই ভবনের একটি খুঁটি যদি না থাকে তাহলে ভবন যেমন নড়বড়ে হয়ে যায় তেমনি বাংলাদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে উপকূল অঞ্চল তা-ও নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে উপকূল অঞ্চল যদি অনিরাপদ বা হুমকিতে থাকে তাহলে গোটা দেশও হুমকিতে এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। তাই উপকূল রক্ষার্থে জন্য টেকসই বাঁধ, বনায়নসহ জেলেদের টেকসই অধিকার নিশ্চিতের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অনেক জেলে পরিবার অসহায় রয়েছে, অসংখ্য জেলে নিখোঁজ থাকায় তাদের স্ত্রীরা পারছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা, সন্তান লিখতে পারছেন বাবার নামে সাথে মৃত্যু অথবা নিখোঁজ, স্ত্রীরা লিখতে পারছেন না স্বামী নিখোঁজ বা মৃত্যু। এমনকি ওয়ারিশ সনদ সনদসহ প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে আমাদের গবেষণা আছে। বিগত সরকারের কাছে আমরা সুপারিশমালাও পাঠিয়েছিলাম। সব সবমিলিয়ে উপকূলের জেলেদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করতে আমাদের মন্ত্রী দরকার।
চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চান। দল ও সরকারের নীতির আলোকে বরগুনা-২ আসনকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তিনি কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
নূরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয় লাভ করেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে প্রশাসনিক দায়িত্বসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। নানা কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না কয়েকজন। ফলে কার্যত ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। এছাড়া একজন চিকিৎসক যোগদানের পর কর্মস্থলে আর ফেরেননি, একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরও চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি সপ্তাহে মাত্র একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সংখ্যা কার্যত ৬ থেকে ৭ জনে নেমে এসেছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নার্সেরও ঘাটতি। হাসপাতালটিতে নার্সের অনুমোদিত পদ ১০৯টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬৫ জন।২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে শিশু ওয়ার্ডে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে শতাধিক শিশু। ফলে শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।রোগীর স্বজন খোরশেদ আলম মামুন বলেন, 'রোগী অনেক, কিন্তু ডাক্তার খুব কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।'
চিকিৎসা নিতে আসা সোনাকাটা ইউনিয়নের শাকিল বলেন, 'সকালে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এত বড় জেলার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকা দুঃখজনক। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া দরকার।'
রোগীর স্বজন আল-আমীন বলেন, তাঁর এক বছর বয়সী ছেলে কয়েকদিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে। একাধিকবার হাসপাতালে এসেও প্রত্যাশিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'হাসপাতালে চিকিৎসকই যদি না থাকেন, তাহলে আমরা সেবা পাব কীভাবে? উপকূলের মানুষ সারা বছর নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকি। শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।'
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়বে।'
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে একদিকে রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ বরগুনায় সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
হাসপাতালে অনুমোদিত পদ রয়েছে, রয়েছে অবকাঠামোও; কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সেবার মানেও।
উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাই দ্রুত চিকিৎসক-নার্সের শূন্যপদ পূরণ, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন, মাত্র ৬ থেকে ৭ জন কার্যকর চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন সামলানো সম্ভব ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বিপুল রোগীর চাপ?

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:২৭
পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদী। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সুন্দরবনসংলগ্ন বরগুনা জেলায় রয়েছে অসংখ্য জেলে সম্প্রদায়। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙনসহ নানা দুর্যোগে এখানকার মানুষ অসহায়। সমুদ্র এবং উপকূল রক্ষায় বরগুনা-২ আসন থেকে নূরুল ইসলাম মনিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জনগণ।
সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দলের জেলা সভাপতি এবং একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এ অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই নূরুল ইসলাম মনি বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব পাবেন এমনটাই আশা পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের। অবহেলিত উপকূলীয় জনপদে মন্ত্রী পায়নি জনতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নূরুল ইসলাম মনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৮৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৪ জন।
জানা যায়, বরগুনা-২ আসনটি বিষখালী ও বলেশ্বর নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ। এ কারণে এখানে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে এ এলাকার মানুষের কাছে বিবেচিত। তাই নির্বাচনি ইশতেহারে নূরুল ইসলাম মনি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদের আধুনিকায়ন, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উপকূল রক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দরনগরী হিসেবে এলাকাকে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। পাথরঘাটা পৌর শহরের বাসিন্দা কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারবারের এমপি হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন। তার প্রতিদান এ অঞ্চলের মানুষ তাকে দিয়েছে। এবার আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে চাই মনিকে মন্ত্রী বানানো হোক। তাহলে বরগুনা-২ আসনের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, নদীর ভাঙছে, বসতঘর জমিজমা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাই। আমাগো এলাকার এমপি যদি মন্ত্রী হন তাহলে নদী ভাঙা আর ভূমিহীনদের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা আশা করছি নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের ছেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা জেলে, সাগরে মাছ শিকার করে পেট চালাই। সাগরে নিরাপত্তা নাই, ছেলেদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা মনি ভাইয়ের কাছে চাই।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন এটা আমাদের প্রাণের দাবি। নুরুল ইসলাম মনি একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। আমরা আশা করি, তারেক রহমান আমাদের বিমুখ করবেন না।
পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, শুধু পদ নয়—নূরুল ইসলাম মনির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় এ জনপদের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জীবন-জীবিকা ও জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, একটি ভবন যেমন চারটা খুঁটির ওপর ভর করে থাকে তেমন একটি রাষ্ট্র কয়েকটি স্তম্ভের ওপর থাকে।
ওই ভবনের একটি খুঁটি যদি না থাকে তাহলে ভবন যেমন নড়বড়ে হয়ে যায় তেমনি বাংলাদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে উপকূল অঞ্চল তা-ও নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে উপকূল অঞ্চল যদি অনিরাপদ বা হুমকিতে থাকে তাহলে গোটা দেশও হুমকিতে এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। তাই উপকূল রক্ষার্থে জন্য টেকসই বাঁধ, বনায়নসহ জেলেদের টেকসই অধিকার নিশ্চিতের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অনেক জেলে পরিবার অসহায় রয়েছে, অসংখ্য জেলে নিখোঁজ থাকায় তাদের স্ত্রীরা পারছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা, সন্তান লিখতে পারছেন বাবার নামে সাথে মৃত্যু অথবা নিখোঁজ, স্ত্রীরা লিখতে পারছেন না স্বামী নিখোঁজ বা মৃত্যু। এমনকি ওয়ারিশ সনদ সনদসহ প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে আমাদের গবেষণা আছে। বিগত সরকারের কাছে আমরা সুপারিশমালাও পাঠিয়েছিলাম। সব সবমিলিয়ে উপকূলের জেলেদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করতে আমাদের মন্ত্রী দরকার।
চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চান। দল ও সরকারের নীতির আলোকে বরগুনা-২ আসনকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তিনি কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
নূরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয় লাভ করেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪