বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকায় শহীদ হাফেজ মাওলানা মোঃ জসিম উদ্দিনের পরিবারের জন্য তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামে পাকা বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের এ শহীদ পরিবারের জন্য বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ও অর্থায়নে চার কক্ষ বিশিষ্ট ছাদসহ পাকা এ বসত বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে শহীদ হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিনের মা মেহেরুন্নেসা বেগম পাকা এ বসতঘর (বিল্ডিং) নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান শাহদাত, সেক্রেটারি হাফেজ মোকাম্মেল হোসাইন মোজাম্মেল, পৌর জামায়াতের আমীর কাওসার হোসাইন, সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ক্বারী আনোয়ার হোসেন, চাখার ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলাম চাখারী, জামায়াত নেতা ইসহাক খান, রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও শহীদ হাফেজ জসিমউদ্দিনের স্ত্রী সুমী আক্তার, শিশু পুত্র সাইফ ও মেয়ে জান্নাতসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ জসিমউদ্দিন ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সাহসী সন্তান।
তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও পরিবারকে সহায়তা করতে এ মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারকেও সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। প্রসঙ্গত,গত বছরের ১৮ জুলাই দুপুরে ঢাকার উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। ওই দিন রাতেই বরিশালের বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।
পরের দিন ১৯ জুলাই সকালে বাড়ির পাশে তার এক সময়ের বিদ্যাপীঠ পূর্ব সলিয়াবাকপুর দারুল উলুম হোসাইনিয়া কওমি কেরাতিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান হাওলাদের ছেলে। জানা গেছে,গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় থাকতেন হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে এমএসএ ওয়ার্কশপে চাকরি করতেন।
ঘটনার দিন ৭ নম্বর সেক্টরে ফরহাদ অটো পার্টসের দোকানে যান মাইক্রোবাসের পার্টস কিনতে। সেখান থেকে নিজ ওয়ার্কশপে ফিরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে দেখভাল করতে স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে ছিলেন জসিম উদ্দিন। সেই মাসহ স্বজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশের যাত্রী হন তিনি।

২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৩
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৯
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৫
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শিলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুইটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শিলা ইসলাম গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন।
তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শিলা ইসলামের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, কারনে অকারনে শিলার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শিলাকে মারধর করতো। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় বসে মারুফ তার মেয়ে শিলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া বাসার দরজা বন্ধ করে শিলা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

১৩ জুন, ২০২৫ ১৩:১৯
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকায় শহীদ হাফেজ মাওলানা মোঃ জসিম উদ্দিনের পরিবারের জন্য তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামে পাকা বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের এ শহীদ পরিবারের জন্য বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ও অর্থায়নে চার কক্ষ বিশিষ্ট ছাদসহ পাকা এ বসত বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে শহীদ হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিনের মা মেহেরুন্নেসা বেগম পাকা এ বসতঘর (বিল্ডিং) নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান শাহদাত, সেক্রেটারি হাফেজ মোকাম্মেল হোসাইন মোজাম্মেল, পৌর জামায়াতের আমীর কাওসার হোসাইন, সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ক্বারী আনোয়ার হোসেন, চাখার ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলাম চাখারী, জামায়াত নেতা ইসহাক খান, রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও শহীদ হাফেজ জসিমউদ্দিনের স্ত্রী সুমী আক্তার, শিশু পুত্র সাইফ ও মেয়ে জান্নাতসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ জসিমউদ্দিন ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সাহসী সন্তান।
তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও পরিবারকে সহায়তা করতে এ মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারকেও সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। প্রসঙ্গত,গত বছরের ১৮ জুলাই দুপুরে ঢাকার উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। ওই দিন রাতেই বরিশালের বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।
পরের দিন ১৯ জুলাই সকালে বাড়ির পাশে তার এক সময়ের বিদ্যাপীঠ পূর্ব সলিয়াবাকপুর দারুল উলুম হোসাইনিয়া কওমি কেরাতিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান হাওলাদের ছেলে। জানা গেছে,গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় থাকতেন হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে এমএসএ ওয়ার্কশপে চাকরি করতেন।
ঘটনার দিন ৭ নম্বর সেক্টরে ফরহাদ অটো পার্টসের দোকানে যান মাইক্রোবাসের পার্টস কিনতে। সেখান থেকে নিজ ওয়ার্কশপে ফিরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে দেখভাল করতে স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে ছিলেন জসিম উদ্দিন। সেই মাসহ স্বজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশের যাত্রী হন তিনি।
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শিলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুইটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শিলা ইসলাম গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন।
তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শিলা ইসলামের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, কারনে অকারনে শিলার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শিলাকে মারধর করতো। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় বসে মারুফ তার মেয়ে শিলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া বাসার দরজা বন্ধ করে শিলা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’