ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোলা জেলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
এর আগে ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্টদের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন এই আইনজীবী।
আবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা, যার জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন, নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করা অধিকাংশ সময়েই কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। ফলে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন, কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি ভোলা জেলার স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন সাধিত হয়নি। জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি জনস্বার্থে গভীরভাবে চিন্তা ও উদ্বেগের।
ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন এবং নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় এই জেলার জনগণের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে গিয়ে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে স্থায়ী অসুস্থতাকে জীবনের সঙ্গী করে নিচ্ছেন।
জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা ভাতা কমপ্লেক্সগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও জরুরি চিকিৎসা নিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজে পৌঁছাতে ৪/৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এছাড়াও স্থল পথে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।
এছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভোলার জনগণ এই অধিকার থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের পরিপন্থি।
এই প্রেক্ষাপটে, ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী।
আইনজীবী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পরও ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করবো।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৩
ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোলা জেলার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
এর আগে ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংশ্লিষ্টদের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন এই আইনজীবী।
আবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা, যার জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন, নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করা অধিকাংশ সময়েই কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। ফলে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন, কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি ভোলা জেলার স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন সাধিত হয়নি। জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি জনস্বার্থে গভীরভাবে চিন্তা ও উদ্বেগের।
ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন এবং নদী ও সাগরবেষ্টিত হওয়ায় এই জেলার জনগণের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। বরিশাল বা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে গিয়ে বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে স্থায়ী অসুস্থতাকে জীবনের সঙ্গী করে নিচ্ছেন।
জেলার একমাত্র সদর হাসপাতাল ও উপজেলা ভাতা কমপ্লেক্সগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, জনবল সংকটপূর্ণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও জরুরি চিকিৎসা নিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজে পৌঁছাতে ৪/৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এছাড়াও স্থল পথে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।
এছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভোলার জনগণ এই অধিকার থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের পরিপন্থি।
এই প্রেক্ষাপটে, ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী।
আইনজীবী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পরও ভোলা জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করবো।