বাকেরগঞ্জে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণঅধিকার পরিষদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৩১ মে ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাকেরগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদের উপজেলার প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি সজল মাহমুদ। তিনি জানান, আজ বিকেলে বরিশালে জাতীয় পার্টি একটি প্রতিবাদ সমাবেশ বের করে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের বরিশাল জেলার নেতৃবৃন্দ ওই মিছিলে বাঁধা প্রদান করেন।
এতে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় গণঅধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা আহত হয়। বর্তমানে আহতরা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও তিনি দাবি করেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৩
কৃষক-প্রজার অধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও গণমানুষের রাজনীতিতে অনন্য এক নাম
আজ ২৬ অক্টোবর, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলার রাজনীতির এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা বিস্তার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
‘শেরে বাংলা’ অর্থ বাংলার বাঘ। সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
শেরে বাংলার শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বে ভরা। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ছিলেন আইনজীবী এবং মা সৈয়দুন্নেছা খাতুন। শৈশবে বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর গণিতে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও মেধার এই ভিত্তি তাঁকে পরবর্তী সময়ে আইন পেশা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের দুরবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনি ঋণের বোঝা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক-প্রজার স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৎকালীন বাংলার কৃষকদের বড় একটি অংশ ঋণ, খাজনা ও জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেন সংগঠিত আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের হাতিয়ার হিসেবে।
১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। দলটির রাজনীতিতে কৃষকের ঋণমুক্তি, জমিদারি শোষণ হ্রাস এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হয়।
তাঁর সরকারের সময়ে কৃষকদের ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং মহাজনি ঋণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন, মহাজনি আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাঁকে প্রচলিত অভিজাত রাজনীতির বাইরে একটি স্বতন্ত্র জনভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও দেশভাগের রাজনীতিতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আর সেই ঘটনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দল বা একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটেরও পরিবর্তন ঘটে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ওই বছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয় পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে শেরে বাংলার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি গভর্নরের পদে ছিলেন।
তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময় এবং ঘটনাবহুল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও কৃষক-প্রজার নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাংলার রাজনৈতিক স্মৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।
শেরে বাংলার জীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। তাঁর জন্মস্থান বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রাম। আর তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে; তাঁর পরিবারের সঙ্গে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহত্তর বরিশালের এই কৃতী সন্তান পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেন। তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলো কেবল একটি ব্যক্তির শৈশবের স্মৃতি বহন করে না; এগুলো বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে শেরে বাংলা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষিনির্ভর বাংলার বাস্তবতা তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়।
তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব প্রদান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা মতবিরোধ, জোট পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিতর্কও ছিল। একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি বাংলার কৃষকসমাজের ইতিহাস, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ। তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।
কৃষক-প্রজার অধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও গণমানুষের রাজনীতিতে অনন্য এক নাম
আজ ২৬ অক্টোবর, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলার রাজনীতির এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা বিস্তার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
‘শেরে বাংলা’ অর্থ বাংলার বাঘ। সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
শেরে বাংলার শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বে ভরা। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ছিলেন আইনজীবী এবং মা সৈয়দুন্নেছা খাতুন। শৈশবে বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর গণিতে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও মেধার এই ভিত্তি তাঁকে পরবর্তী সময়ে আইন পেশা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের দুরবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনি ঋণের বোঝা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক-প্রজার স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৎকালীন বাংলার কৃষকদের বড় একটি অংশ ঋণ, খাজনা ও জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেন সংগঠিত আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের হাতিয়ার হিসেবে।
১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। দলটির রাজনীতিতে কৃষকের ঋণমুক্তি, জমিদারি শোষণ হ্রাস এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হয়।
তাঁর সরকারের সময়ে কৃষকদের ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং মহাজনি ঋণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন, মহাজনি আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাঁকে প্রচলিত অভিজাত রাজনীতির বাইরে একটি স্বতন্ত্র জনভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও দেশভাগের রাজনীতিতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আর সেই ঘটনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দল বা একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটেরও পরিবর্তন ঘটে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ওই বছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয় পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে শেরে বাংলার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি গভর্নরের পদে ছিলেন।
তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময় এবং ঘটনাবহুল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও কৃষক-প্রজার নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাংলার রাজনৈতিক স্মৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।
শেরে বাংলার জীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। তাঁর জন্মস্থান বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রাম। আর তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে; তাঁর পরিবারের সঙ্গে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহত্তর বরিশালের এই কৃতী সন্তান পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেন। তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলো কেবল একটি ব্যক্তির শৈশবের স্মৃতি বহন করে না; এগুলো বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে শেরে বাংলা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষিনির্ভর বাংলার বাস্তবতা তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়।
তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব প্রদান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা মতবিরোধ, জোট পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিতর্কও ছিল। একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি বাংলার কৃষকসমাজের ইতিহাস, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ। তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৫
বরিশালের গৌরনদীতে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে দাওয়াতে গিয়ে আটক হয়েছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মী। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, তাঁরা লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে কী কারণে তাঁদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, মহিবুল আলম খোকন, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম সরদার, মিঠুন হালদার, ওয়াসকুরনী আকন ও পলাশ হাওলাদার। আটক অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সৈকত গুহ পিকলু জানান, তাঁদের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁর অভিযোগ, সন্ধ্যার আগে বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক বাড়িতে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন। পরে তাঁরা দাওয়াতে আসা ছয়জন ও তাঁর ছোট ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতে পাঠানো হবে।
তবে পূজার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়টি এবং আটকের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, তা পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত স্পষ্ট হয়নি।
বরিশালের গৌরনদীতে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে দাওয়াতে গিয়ে আটক হয়েছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মী। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, তাঁরা লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে কী কারণে তাঁদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই সলিল গুহ পিন্টু, মহিবুল আলম খোকন, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম সরদার, মিঠুন হালদার, ওয়াসকুরনী আকন ও পলাশ হাওলাদার। আটক অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সৈকত গুহ পিকলু জানান, তাঁদের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁর অভিযোগ, সন্ধ্যার আগে বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক বাড়িতে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন। পরে তাঁরা দাওয়াতে আসা ছয়জন ও তাঁর ছোট ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতে পাঠানো হবে।
তবে পূজার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়টি এবং আটকের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, তা পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত স্পষ্ট হয়নি।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৬
মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই মাসে পুলিশের ২৭ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে নিজেদের ঘর আগে পরিষ্কার করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পুলিশপ্রধান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন কার ছেলে কী করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমবে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলাম। এতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই মাসে পুলিশের ২৭ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে নিজেদের ঘর আগে পরিষ্কার করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পুলিশপ্রধান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন কার ছেলে কী করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমবে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলাম। এতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

০১ জুন, ২০২৫ ১২:৪৪
বাকেরগঞ্জে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণঅধিকার পরিষদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৩১ মে ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাকেরগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদের উপজেলার প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি সজল মাহমুদ। তিনি জানান, আজ বিকেলে বরিশালে জাতীয় পার্টি একটি প্রতিবাদ সমাবেশ বের করে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের বরিশাল জেলার নেতৃবৃন্দ ওই মিছিলে বাঁধা প্রদান করেন।
এতে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় গণঅধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা আহত হয়। বর্তমানে আহতরা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও তিনি দাবি করেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।